আবুল সুন্দর
আমি আনারসের ব্যবসা করি। মধুপুর থেকে শেয়ারের ট্রাকে পাইকারি আনারস আনি, ঢাকায় খুচরা বিক্রি করি। আগে টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ি থাইকা চমচম আইনা বেচতাম, লাভে পোষায় নাই। মিষ্টির ব্যবসা আমার কপালে নাই।
পোড়াবাড়ির কারিগররা বলত ওখানকার পানি নাকি কুদরতি, চমচম ভালো হয়। যদিও যমুনার চর থেকে আনা সস্তা দুধের কারণে চমচমে পড়তা ভালো থাকত, সে কথা বলত না। তবে মধুপুরের আনারসে যেমন অনেক রস, ঠিকমত সিজন বুইঝা আনতে পারলে তার লাভ পিঁপড়ায় খাইয়াও দুই চারশ টাকা পকেটে থাকে।
বছর পাঁচেক আগে একদিন নিউমার্কেটের কাছে ফুটপাতের ফলঅলার কাছ থাইকা এক প্লেট আনারস নিয়া মুখে দিছি, পরিচয় হৈল আবুল ভাইয়ের সাথে। উনি তখন মার্কেটে কিনাকাটা কইরা বাসের জন্য দাঁড়াই ছিলেন, মহাখালী যাবেন। আমারে জিগাইলেন: ওই মিয়া কয় টাকার খাইলা? আমি বলতেই আমারে ধমকাইয়া কইলেন: এই টাকায় আমার ওইখানে পুরা আনারস পাইতা! শুইনা মনটাই বেজার। এমন কইরা ধমক বহুদিন খাই না। মনে হৈল গুরু মানুষ। আমি পাছু ধরলাম। বড় ভাই আপনার দোয়া চাই!
আবুল ভাই ঠিকানা দিয়া কইলেন: পারলে আইসো, বুদ্ধি পাবা। আমারও কী হয়, পরের সপ্তায় পোড়াবাড়ি না গিয়া সোজা মধুপুরের বাসে। বিকাল নাগাদ মধুপুর থাইকা ভ্যানে জলছত্র। আবুল ভাইয়ের বাড়ি।
নিউমার্কেটে আবুল ভাইয়ের সাথে যখন দেখা, আমি তখন ছাইয়ের মতো এখানে সেখানে উড়ি। আনারসের কাটা টুকরা খাই। টুকটাক মুরগি সাপ্লাই এটা সেটা করি। কোনো কিছুর সাক্ষাৎ পাই নাই বলা চলে। আবুল ভাই আমারে আনারসের সন্ধান দিয়া যেন নতুন চক্ষু দিল।
পঞ্চান্ন বছর বয়সে হঠাৎ নাকি তার বুকে লোম গজাইতেছে। ভাবলে হাসি লাগে, কী আজব কথা। এই বয়সে কেউ নাকি বদলাইতে পারে? ওনার ছেলে মেয়েরা স্কুল কলেজে পড়ে, ১৬বিঘা কলার বাগান রানিং। ব্যাংক থাইকা টাকা নিয়া ফলের কারখানা দিতেছেন, ওনার কি এরকম হৈতে পারে? তখন উনি ওনার জীবনের একটা হিস্টোরি বলেন।
একদিন ফাদার রড্রিক হঠাৎ এক লোক পাঠায়। দেখা করলে বলে: আবুল, মার্থা আসিবে। কী করি বলেন তো!
: মার্থা কে?
: সেই যে মনে নাই, ১৯৭২ সালের কথা? শাল পাতায় মুড়াইয়া আনিয়াছিলো যোশেফ নকরেক আর সুহাষ সাংমা? নাম দিয়াছিলাম মার্থা।
: শে তো কোথায় কোন পশ্চিমা দেশে মা বাবা পাইছে।
: হা শে-ই। শে আসিতেছে, পিতামাতার খোঁজে। এক জোড়া বাবা মা চাই এখন তার জন্য। এতদূর হৈতে আসিতেছে, খালি হাতে ফিরিবে?
আবুল তার সদ্য পাওয়া বুকের লোমে হাত বুলাইয়া একটা অনেক দিন আগের ভালোবাসা অনুভব করে। তখনো অপার্থিব ভ্রূণশিশুদের জননীরা বেসমাজের ভয়ে তাদের লোকচক্ষুর আড়ালে বিসর্জন করিতো। কখনো আনারস বাগিচার নির্জনে, কখনো শালবনের বন্য-জন্তুদের থাবার নিচে, কখনো কূলবর্তী নদীতে। বনচর বা চাষিকুল বা কোনো সন্তানহারা ধীবর এদের দুয়েকজনকে খুঁজে পেত, কাউকে মুমূর্ষু, কাউকে বা অর্ধভুক্ত। বেশির ভাগই যাইতো শিয়াল-খাটাসের পেটে।
এমনই এক সন্ধ্যায় খবর আসে শালবনের আড়ালে এমন এক মানবাত্মাকে দেখা গেছে। দয়াবতার ফাদার তখন এইসব যুদ্ধশিশু যিশুদের কুড়ায়ে নিতেন। ফাদার অস্থির হয়ে আবুলকে বললেন: ভাই আপনি গিয়া নিয়া আসেন। আবুল রওনা দেন তখনই। সেই তারাপ্রভ রাত, কাঠুরেদের নিশানা-বিহীন পথ। পথের নির্জনতা কোনোভাবেই শিশুটির খোঁজ দিল না। কিন্তু সেই রাতে বন্যপ্রাণীরাই হয়তো তাকে মাতৃস্নেহ যদি কিছু থাকে তা দিয়েছিল। গাছের পাতা থেকে ঝরে পড়া শিশির ভিজিয়ে দিয়েছিল তার সদ্যোজাত ঠোঁট। আকাশ থেকে আল্লার দেবদূতেরা পাহারা দিয়েছিল অপদেবতাদের সাথে কুস্তি করে।
আবুল পরদিন ভোরে আবার গিয়ে খোঁজে। তখন কেবল লিচুর আলো আবছা আবছা। সারা রাত দুশ্চিন্তার চোখ মনের ভিতর। দেখে দুটি শাল পাতার ভিতর শুয়ে আছে কী সুন্দর ঈশ্বরের কন্যা! দাদীমার গল্পের আঁচল থেকে বেরিয়ে এল যেন শে। শ্যামলা লাল মোরগ ফুলের মতো। এই সামান্য আলোতেও চোখ খুলতে কষ্ট হচ্ছে তার। কন্যা আগে ছিলে কার? মায়ের? এখন কার? শালপাতার! কাল হবে কার? যার হাতে যাব তার!
ভ্রমণ করে হিরার সাঁকো, পার হয়ে তিন ধারা নদী, উজিয়ে ত্রিবেণী, দেখা পেয়েছিল মাতৃ-ডিম যে পুংবীজ, উদরপীতে বাস করে মাকে খেয়ে আজ শে কন্যা হল। তাকে যে আবার পথে পথে সাত সাগর পাড়ি দিয়ে বাস করতে হবে শাদা মায়ের কোলে। এই ছিল যেন তার নিয়তি।
ফাদার হাতের তালুতে ঐটুকু একটা ছানাকে নড়তে চড়তে দেখে বলেন: হা ঈশ্বর, তুমি এখানেও! আবুল সচক্ষে তার সাক্ষী।
কিন্তু এতদিন পরে কেমনে জানবে মার্থার মা বাবা কারা?
বাপের বৌ গর্ভধারণ করে হয় জননী, সেই জননীর রক্তে বড় হয় কন্যা, সেই কন্যা মাতৃদুগ্ধে হয় জারিত, মা-ই হয় কন্যা। কিন্তু মার্থা তো এই শর্তে মার্থা হয় নাই। চৈতন্য লাভের পর শে নিশ্চয় জিজ্ঞাসিল, তার শাদা-মা কে: মা, তোমার আর আমার গাত্রবর্ণ আলাদা কেন?
মা বলেছিল: দেখরে মেয়ে, আমাদের রক্ত তো একই বর্ণের
: আমার ত্বক কেন আলাদা?
: কারণ তোর ত্বকের জন্ম হয় পূবে! অন্য গর্ভে।
: আমি সেই গর্ভে যাই!
ফাদার একজোড়া মা বাবা চান। যারা হয় দু:খি চেহারার, যারা শিশুকন্যার শোকে ম্রিয়মাণ ও কাতর। যারা দীর্ঘদিন পরে বিদেশ থেকে ফিরে আসা পরিণত কন্যাকে দেখার জন্য উদ্বেল।
কোথা সে বাবা মা? আবুল এখানে সেখানে খোঁজে। সারা জলসত্র খোঁজে। খোঁজে তার বাগানের কর্মীদের মধ্যে। আনারসের মরা পাতাগুলি দূরে গেলে মনে হয় খয়েরি শাড়িপরা মা খায়রুন। আধমরা সবুজ পাতাকে মনে হয় ঘিয়াপাঞ্জাবী আর চেকের লুঙ্গি। কিন্তু আনারসের ভাষা তো মানুষ বোঝে না, সে তো মানুষের মতো কানতে পারে না। তার চোখের কথা তো সবাই বোঝে না। তাই একজোড়া সত্যিকারের বাবা মা দরকার। একটু বোকাসোকা, যাকে বিদেশী চোখে মনে হবে দু:খি ও বিমর্ষ।
মার্থা এসে ফাদারকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানায়। তার গর্ভধারিণীর সাথে ক্রন্দনরত ছবি তোলে। কাছে থেকে, পিছনে দাঁড়িয়ে, গলা জড়িয়ে। শিশু যেন। বিধ্বস্ত পিতা ছুঁয়ে ফেলার ভয়ে একটু দুরে থাকতে চাইলে জোর করে তার মুখে চকোলেট পুরে দেয়। হাসিতে হাসিতে বাতাস ভরে ফেলে। কিছু বিদেশী মুদ্রা সাধে। উৎকণ্ঠায় আর ভয়ে বাবা মা আরষ্টতা কাটায়ে কিছু নেবার সাহসটুকু পর্যন্ত ফিরে পায় না। তারা এক সময় আবুলের দেয়া একটা নাকফুল মার্থাকে দেয়। মার্থা কানতে কানতে তা গ্রহণ করে ও বারবার চোখের পানিতে টিসু ভিজায়ে ফিরে যাবার কালে পথে ফিরে ফিরে চায়। ফাদারের হাতে আলাদা করে কিছু মুদ্রা রেখে যায় গোপনে, তার বাবা মার ভবিষ্যৎ দুশ্চিন্তায়। ফাদারকে বলে যায় এই আশ্রমের কাছে ও চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবে। বারবার আসবে।
কিন্তু আবুল ১৬বিঘার আনারস বাগানে এখন কলা রুয়েছে। কলায় পরতা বেশি। বাগানেই ডাবল দামে বিক্রি হয়। পাইকাররাও ট্রাকে ওঠানোর আগে রাস্তার পাশে স্তূপ করে সবুজ রংয়ের কলার ওপর ওষুধ মারে, ঢাকা যেতে যেতে পাকতে শুরু করে। কোথাও কোনো টেনশন নাই। চোখময় আনারস ছেড়ে চোখহীন কলার চাষে বেশি লাভ।
জলছত্র জায়গাটা আমার ভালোই লাগে। যদিও আগের মতো বন-টন আর নাই। আবুল ভাই বলে: সব চাষের জমি হৈয়া গেছে। আমার ১৬বিঘাই তো ছিল গজারি বন। আমি জানি আবুল ভাই যতই ১৬বিঘা বলুক না কেন, তার জমির কোনো সীমা পরিসীমা নাই। উনি ওনার সব জায়গাকেই ১৬বিঘা বলেন। এই ব্যাপারে ওনার কোনো গরিমা আমি দেখি নাই।
আবুল ভাইরে বলি: ভাইজান একটুকরা জমি পাইলে ঘর বানাইতাম। আমার খুব পছন হৈছে এই এলাকা। কেমুন সুমসাম। অনেক রকম বুদ্ধি খেলেতেছে এখানে আইসা। তারপর আবার আপনার মতো মুরুব্বি আছে মাথার উপর। আছে নাকি কোনো জানাশোনা, জংলাটংলা সাফ কইরা গণ্ডা-কয়েক জমি? কম-টমের মইদ্দ্যে। আবুল ভাই জিভ কামড়াইয়া কয়: ছিঃ ছিঃ কিযে কও না। তোমার আবার কিনতে হব নাকি। আমার কত জমি, এককোণয় বাড়ি বানাইয়া থাকনা, কে মানা করছে।
আবুল ভাই ‘৭১এ কামালপুর না কৈ যেন মুক্তিযুদ্ধ করছেন। এলাকায় শুনি খুব সুনাম। নিজেও বলে: আমি কোনো ঘোর প্যাচে নাই। জংগলের আশেপাশে কতখানে তার জমিদারি। এদানিং আবার ফ্যাক্টরির পিছে খুব খাটাখাটনি করেন। আনারসের মোরব্বা আর কলার চিপসের মেশিন, বিরাট গুদামঘর। বাড়ির পিছনে গোবর দিয়া গ্যাস হয়, সেই গ্যাসে নাকি রান্নাঘরে চুলা জ্বালে। বাড়ি ভরা গাছগাছালি। বিদেশী কত রকমের ফলপাকুর। সে এক এলাহি কাণ্ড। মাথা ভর্তি বুদ্ধি। আমার মাথায় সবটা ধরে না। তবে ওনার কথায় ফোর্স আছে। যা বলেন সুন্দর কইরা মিলাইয়া দিতে পারেন।
বুঝলা ঐ যে খেরেস্তানগো চার্চ আছে না, ঐখানে কত ফাদার দেখলাম। কতদূর থাইকা অরা আইসা এখেনে মানুষের উপকার করতেছে। আমারে খুব স্নেহ করে। আমি তো দেখছি ফাদারগো—কাউরে সাপে কাটছে, ঘোর গাদলায় একটা ছাতি নিয়া ৪/৫ মাইল হাইটা গেছে রোগী নিয়া। ওষুধ দিয়া বইসা থাকছে। দরকার হৈলে রোগীরে আইনা নিজেগো হাসপাতালে ভর্তি করাইছে। তবু কাউরে মরতে দেয় নাই। তবে অগো সবই ভালো, শুধু খেরেস্তানি নিয়মটাই ভালা লাগে না। আমার খুব ইচ্ছা একটা ইসলামি নিয়মে ঐ রকম চার্চ বানামু। আমি চাইলে মান্দি কও হিন্দু মুসলমান কও সবাই আইসা যাবো। কিন্তু বুঝলা, শিক্ষিত মানুষ ছাড়া একলা কিছু করা যায় না। ফাদারগো মইদ্দে কত ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার আছে জান? সব ছাইড়া এইখানে আইসা পইড়া থাকে, নিজের পরিচয়টা পর্যন্ত ভুইলা যায়। মানুষরে বুদ্ধি দেয়, আবার বিপদে আপদে পাশে থাকে। শুধু বুদ্ধি দিলে তো হৈব না, সাথেও থাকতে হবো। বুঝলা, কেউ শহর ছাইড়া আসতে চায় না। খালি বুদ্ধি দিবার চায়। আইসা চইলা যায়, খালি বলে এইটা করেন, ওইটা করেন। কিন্তুক যখন সাপে কাটে তখন কে থাকবে কাছে? বিদ্যুৎ না থাকলে কে সেচের বুদ্ধি দিবে?
আমি আবুল ভাইর কথা শুইনা খুব মন খারাপ কইরা বইসা থাকি। মনে হয় আমার যদি লেখাপড়া থাকত, বড়সড় একটা পাশ থাকত তাইলে সব ঝাইড়া ঝুইড়া আবুল ভাইর সাথে থাইকা যাইতাম। নিজের কাছে লজ্জা লাগে, কেমন স্বার্থপরের মতো এখানে আইসা খালি আনারস কিনা চইলা যাইতেছি, খালি লাভের হিসাব করতেছি।
এইবার চিটাগাংয়ের আনারসে পড়তা ভালো। পাহাড় থাইকা যারা আনতে পারে অরা তো লাল। যারা আনারস খায় তাগো চৌখের দিকে তাকাইলে দেখি কেউই এইসব ব্যাপারে চোখ খোলে না। এই যে চারদিকে মানুষ ৪/৫গুণ দাম দিয়া তরকারি খায়, বেশি দামে জিনিস পত্র কেনে, কই কেউ কোনো রাগ করে না তো।
আগে আমার বাসা ছিল মোহাম্মদপুরের কাটাসুর। এখন পিছাইতে পিছাইতে বছিলা বেড়ীবাঁধের কাছে নিছি। দুইটা রিকসা ভ্যানে ফলফলাদির খুচরা ব্যবসা করি। দুইটা পোলা রাখছি, অরাই চালায়। আনারসের সিজন শেষ হইলে পেয়ারা, তারপর আমড়া আর কদবেল চালামু ইচ্ছা আছে। শীতে ভাপা পিঠা।
ব্যবসা তো হাজার রকম আছে, কিন্তু লাইগা থাকাটা আসল। আবুল ভাইয়ের বুকে এই বুরা বয়সে লোম উঠতাছে শুইনা প্রথম হাসি পাইছিল। কিন্তু শীতকালে পিঠার ব্যবসা করমু এইকথা ভাবতে ভাবতে মনে হৈল একটা কথা: উনি কি আগে পাষাণ আছিলেন, অখন মায়া জন্মাইতেছে ওনার বুকে? শুনছি সীমারের পাষাণ বুকে কোনো লোম ছিল না! একাত্তরে যুদ্ধে গেছিলেন, কত পাক হানাদার রাজাকার মারছেন। এখন মায়া জন্মাইতেছে। একদিন রাস্তার পাশে বইসা টং-দোকানে চা খাইতে খাইতে দোকানি খালারে বলি এই কথা। খালা বলে: মানুষরে চিনতে আবার সময় লাগে নিকি! এই যে আপনে আমার দোকানে চা খাইলেন কয়দিন, এখন কি আপনেরে আমার চিনা হৈল না? একটা মায়া পইড়া গেল না? এখন যদি আপনে রাস্তা পার হৈতে গিয়া গাড়ির নিচে পড়েন, আমি কি একটু কান্দুম না?
খালা বেশ শক্তপোক্ত মানুষ। যেভাবে সারা দিন টংয়ের ভিতর গুটলি পাকাইয়া বইসা থাকেন, বোঝার উপায় নাই খালার ভিতর কত পাষাণ আটকা আছে। একদিন খালারে জিগাইছিলাম: আপনার পোলারে দেখি না যে? খালা চায়ে আধা চামচ চিনি বেশি দিতে দিতে বলে: অরে মাইরা ফালাইছে! কারা? খালা তার চামচ ধরা হাতে ঐ দিকে দেখাইয়া বলে: ঐ কালা পোশাক পড়া ব্যাডারা। র্যাব! বুঝলাম সে বুঝি সন্ত্রাসীগো দলে নাম লেখাইছিল।
বুঝলেন বাবা, আমার এখন পুঁজি দরকার। এই টংয়ের আয়ে আর পোষাইতেছে না। সিক্রেড বেইচা আর কত আয় হয়। পোলার সংসার আবার ঘারে।
আবুল ভাইরে বলব নাকি খালার কথা। নিশ্চয়ই উনি একটা ব্যবস্থা কইরা দিব। উনি নাকি বিনা সুদে কোটি টাকার লোন নিছেন। খালার তো অত লাগবে না। হাজার দশেক হইলে নিশ্চিত টিক্কা যাইবে এইবার।
সন্ধ্যা হইতেছে। বাসায় ফিরব। যাবার সময় নামাবাজার হৈয়া যাব। দশ টাকার বটভুড়ি আর মুড়ি নিয়া যাব। ভালো পাকা তাল পাইলে একটা নিতে পারি। বছরকার ফল। আগে গ্রামে থাকতে কত খাইছি।
![]()