নতুন কলকব্জা

নতুন কলকব্জা

কারবালার মাঠে মীর মুগ্ধ

যখনি পানি দিই গাছে
ঘাসফুলগুলো হাসে টবের ওপর,
মীর মুগ্ধকে মনে পড়ে।

হায়, আমিও পান করতে পারতাম
মুগ্ধর হাত থেকে নেওয়া পানি,
মুগ্ধকে হত্যা করেছে বাংলার এজিদ বাহিনী।

মুগ্ধকে দেখেছিলাম জুলাইয়ের কারবালার মাঠে
পানি হাতে ছুটছিল শত শত হাসানের দিকে,
হাসানÑহাসানÑ হায় হাসান
মুগ্ধ গুলিবিদ্ধ।

আগামীতে জানি
চের মতো আমাদের অনুপ্রেরণা দেবে
তার বীরত্বের কাহিনী।

লোকটা

ওই যে মরে পড়ে আছে
লোকটাকে আপনরা চিনেন।
সুন্দরী প্রতিযোগীতার
কামুক বিচারক ছিলেন।

লোকটা উত্তর দিক থেকে মন্ত্রী বলা হতো
দক্ষিণ দিক থেকে আমলা
পূর্ব দিক থেকে টিভি চ্যানেলের মালিক
পশ্চিম দিক থেকে শিল্পপতি।

লোকটা আগস্টবিপ্লবের আগে
জাতির শিবলিঙ্গ হতে চেয়েছিলেন।

হাওরের কথা

মেয়েকে শেখাতে চাই জুডো,
মেয়ে শিখতে চায় নৃত্যকলা।

বৃষ্টি হলে ভরে যায়
রাস্তার ধারের পুকুর
ছেলেটাকে সাঁতার শেখাতে
নিয়ে যাই সুইমিংপুলে।

জীবনের সব লেনদেন
চিরদিন থাকে না অনুকূলে।

বর্ষায় তুমি হাওর,
শীতকালে খেলার মাঠ,
বর্ষায় তোমাকে সমুদ্র বলি,
শীতকালে স্টেডিয়াম।

জলরঙ: ৩

নদীতে জোয়ার
ভাঙা পাড়।

আকাশ ভরা
চোখ।

তারারা ডিঙ্গায়
জনস্রোত।

বাতাসে ওড়ে
পশুপালনের
পোশাক।

জলযানে
আদিম পুস্তকের
শস্যডাকাত।

চন্দ্রছাই
কৃষকের
গিঁঠে।

তীরে উঠি
রেখে পা
কুমিরের পিঠে।

নতুন কলকব্জা

নতুন গ্রহে যাই আর গ্রহের কলকব্জা খুঁজি; আকাশের ওপারের আকাশটাই শূন্যতার পুঁজি। আকাশে লোহা-খড়-মেঘ-আগুন-মাটি-পানি-বাতাসÑ যন্ত্রপাতিভরা দীর্ঘশ্বাস;

নতুন গ্রহ ফেটে ১ দিন আকাশ থেকে ঝুমঝুম তেল ঝরে; ওমাÑ ঝরে কই, তেল তো ভেসে রয়েছে আকাশেই।

তেলের নদী, পানির নদী ১দিন মুখোমুখি খুবÑ তেল-পানি মেশে না, তেল-পানিতে চলে তুমুল লড়াই। তেল কিনতে আসে নক্ষত্র বোঝাই জাহাজ, পানিতে সাঁতরাতে আসে মাছ-গাছ আর নবপ্রাণ।

চলো তেলের গ্রহে যাই, আকাশে পানি পান করে আসি; শুনি নতুন গ্রহে নতুন কলকব্জার বাঁশি।

অন্ধ ঘোড়া: ১

অন্ধ ঘোড়া তুমি, জন্মান্ধ নও
যুদ্ধে গিয়েছিলে রুপার রাস্তায়।
অন্ধ ঘোড়া, রাস্তা পেরুবে?
চলো, পার করে দিই
ওই পাড়ে দাঁড়িয়ে দন্তবিহীন বাঘ।

অন্ধ ঘোড়া: ২

যে বইগুলো পড়লে অন্ধ হয় মানুষ তাই-ই পড়ছিল ওরা।

দেখছিলাম, রিকশা-পেইন্টিংস একÑ
হাঁসের পিঠে বসে বাঘ পেরুচ্ছে যাদুর দীঘি।
নদীর ওপর চাঁদনিরাতের আগুনলাগা ব্রিজ,
হাওয়ার ভেতর বাজছে গান, অন্ধ হচ্ছে মানুষ!

মানুষ কি বেশি দিন অন্ধ থাকে?
ওহে বই, চিন্তাকে পাড়িও না ঘুম, শস্য বানাও!

অরণ্যের পাখি আজ পাচ্ছে হৃদয়চক্ষু
নক্ষত্র বানানো বাক্য পড়েই।

Loading

Leave a Reply

Skip to toolbar