চিলমারী সিরিজ

চিলমারী সিরিজ

উপকূলে

এখানে দক্ষিণের বাতাস মন ছুঁয়ে যায়, প্রাণ ভরে দেয় বনবিবির পালা। আমাদের ঘিরে বাঘের দেশে পূজা হয়, বনদেবীর আরাধনায় পালন করি ব্রত। জলে জঙ্গলে ডাঙায় স্মরণ করি তাকে, বিপদে আপদে আমাদের হাত ধরে হাঁটে শাজঙ্গলী ভাই। আর একজন কবি চাণক্য বাড়ৈ, বন-দুর্গার নামে কবিতা পড়ি- কবিতা পড়ে আমাদের। আমাদের চোখ জুড়ে থাকে ডোরাকাটা দাগ, শেষ জন্মে স্মৃতি হয় বড়ো মামা। বাঘমামির পাঁচালি আর বড়দার পুথিকুলে জন্মায় নতুন কেচ্ছা। উপকূল হাওয়ায় এ অতিথি বাস, অ-তিথি হয়ে এলে জোয়ারে ভাসায়, বাদাবনে জিয়ে থাকে নাগরিক ঘুম।

চিলমারী

(নাহিদ হাসান নলেজ ভাইকে)

দুঃখ ভরা দিনে চিলমারী যাই- চিলের মতো ছো মেরে কারা যেন হারানো বন্দরে ভেড়ায়। কবে কে জানে এই ঘাটে ভিড়েছিল সাহেবের নাও, কে বলবে অদূরে ওই- কোন রাজার বজরা কোন দিকে যায়। কে বলবে বধূর মতো ঘোমটা ফেলা নৌকা বাতাসের উজানে কোন দিক বায়। ভাটির দিকে পাল তোলা নাও বারবার কেঁপে ওঠে কোন দিকে যায়।

এই কি সেই ব্রহ্মার পুত্র জলের আয়নায় মোর সাথোত কথা কয়। জোয়ার ভাটার অপেক্ষায়–সে কোন দিকে ডাকে ইশারায়। চোখের পলকে জল ঘোলা করে সাইরেন বাজায় চৈনিক নাবিক, আমার বুক ভর করে উঠে যায় মহাভারতের পাথুরে সৈনিক।

ঘাঘট

ঘাঘটের বার্ধক্য ঘিরে ওড়ে গাঙ ফড়িং পাখায় কালো রঙ। ভাটের আড়ালে চোখ বুজে নাকে ঘাতক ট্রাক্টরের মতন ভেকু ভেকু বোল তোলে পাড়ার ছেলে দল–খেলা শেষে মহাজনের গোলবারেই ঢোকে বল।

বলের চারপাশ ঘিরে ঘোরে কাদা-মাটি জল, ঘাঘটের অদূরে কোনো শ্মশানে ওঠে শ্লোক হরিবোল হরিবোল। মরার ঘাটে চাপে নদী, নদীর ঘাড়ে খাল খননের প্রজেক্ট। প্রকল্প-পাড়ে ওড়ে দুধের মাছি, নদী ও আমি খুব কাছাকাছি মরে যাই বলে এবার খাল হয়ে বাঁচি।

শোক উৎসব

ভীষণ জরে পুড়ে যায় সকাল

                                দুপুর কিংবা বিকেল

তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে জাগে রাত

প্রলাপের সুরে বাঁকে

                                হাত এবং পা

কবরের অন্ধকারে ডোবে চোখ

তৃষ্ণার্ত গলা ফিরে যাচ্ছে কারবালা প্রান্তর

                অস্থিরতা নিয়ে চাঁদ ডুবে যাচ্ছে

                আড়াল হচ্ছে সূর্য

                নিভে যাচ্ছে পৃথিবীর সমস্ত আলো

সমগ্র ঘরজুড়ে মৃত্যু সংগীত–

আয়োজন করছে শোক উৎসব

বদল

অবিশ্বাসে ভরে ব্যালট বাক্স

গা কেটে চলে জলপাই সাইরেন

আম আঁটির ভেঁপু বাজিয়ে চেতনার চর–

উইপোকাদের আনাগোনায় ঢেঁকি তোলে পশ্চিম-পাড়ায়

কুটকাট শব্দে গো বাবার দরবারে

হোয়াইট-স্নো সমেত জবেহ হয় দুম্বা

কুম্বাদের ভিড়ে নাফ-মুখ ফিরে নেয়

জ্যামে ঘেমে দারুণ শীতে

                পার্লামেন্ট হেসে ওঠে

দোদুল্যমান বোধে তবু– 

খোকা, তোমার মেয়ে ভুল করতে পারে না

বুকে হাত রেখে দ্যাখ-ইতিহাস বদলায়

Loading

1 Comment

  1. অপূর্ব, অসাধারণ

Leave a Reply

Skip to toolbar