টোটেম উৎসব

টোটেম উৎসব

পিঁপড়ে

পিঁপড়ে দল ফেলে দেওয়া নারিকেলে খুঁজে পেয়েছিলো
যে নিরাপদ আশ্রয় – তা-ও একদিন ভেঙে দিয়েছি পুতুল
খেলার ছলে। বুঝিনি – কীভাবে ভেঙেছিলো – পিঁপড়ে-
সংসার; কতটা অসহায় হয়েছিলো তারা – জানা নেই
কোনো পরিসংখ্যান। মানুষ বুঝতে পারে জমির
খতিয়ান, দাগ নম্বর কত। কিন্তু – পিঁপড়ে সব, জানতো
কি – মানুষের পৃথিবীতে তার – কতটুকু অধিকার? জানা
না জানা নিয়ে গবেষণাপত্র জমাই, কালো অক্ষরে
দেখি – পিঁপড়ে মিছিল। দৃশ্যপটে এঁকে যাই ছবি –
পিঁপড়েরা টেনে নিয়ে যায় মৃতদের শব, উৎসব করে
প্রকৃতি

ভূগোলবিদ

বাবা একজন ভূগোলবিদ – পাড়ার মানুষ তাকে ভূ-
বিশারদ বলেন। কৃষক ছিলেন বলে ঠোঁটে রপ্ত –
কৃষিবিদ্যা। ভূ-তথ্যও গর্ভস্থ – সযতনে বুনেছেন ফসল
বোনার মতো করে। উত্তরের পাহাড় ঘুরে এসে
জানালেন – ওখানে মানুষ নাশপাতির বন তুলেছে,
আঙুর বনে ফলিয়েছে নতুন এক ফল – নাম রাখা যেতে
পারে জলটক। টক শব্দটা বাবার ভীষণ অপছন্দ, তবু
কেনো এই নাম দিলেন – জানতে ইচ্ছে করে। জিজ্ঞেস
করতেই উদাস চোখে উড়িয়ে দেন শান্তির পাখি,
দীর্ঘশ্বাস বুকে বলেন – মৃত্যুর জন্য বড় উর্বর হচ্ছে ভূমি,
তাকিয়ে দেখ – কিভাবে রক্তে ভিজে যাচ্ছে জমিন।
খোকা, আসছে দিন – হাড়-মাংসের গন্ধে ভরবে
আমাদের ফসিল।

বাবার কথা শুনতে শুনতে পৃথিবীর মানচিত্রের দিকে
তাকাই – ভূগোল রেখায় বাবার কালো মুখ ভাসে, একটা
অদৃশ্য ছায়া গ্রাস করে পৃথিবীর ম্যাপ – ছিঁড়ে ফেলি
ভূগোল বইটা

ফুল

জুমচাষ ভুলে বাবা হাটবারে বন্দুক কিনে দিতেন।
বন্দুকে অবিশ্বাস বলে আমি, চেরিফুল ছাড়া কিছুই
বুঝতাম না। চেরিফুল – তারা মাছের কাঁটায় খেলতে
খেলতে খুন করতাম বিবিধ ফুলের ভ্রমর – ভাবলে খুনি
মনে হয় নিজেকে । অথচ – পাড়ায় রটে গেছে আমি এক
মহামানুষ, ক্রসফায়ারে দিয়েছি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের।
হয়তো কিছু ভুল ছিলো – ফুল হতে পেত। ঘুমালেই
আজকাল মৃতদের মুখ ভাসে – শিশুটাও জিজ্ঞেস করতে
শিখে যায় – বাবা তোমাদের বন্দুক দিয়ে চেরিফুল
বেরোয় না কেনো?

টোটেম উৎসব

পাহাড়ি ঝরনা—নদী পেরিয়ে পৌঁছাই টোটেম দ্বীপে,
স্বাগত জানায় সাপ্রেক্স সর্দার। যিনি মূলত নেক্রেগোত্রের
প্রধান। আমরা তাকে সম্ভাষণ করি—হ্যামিলিয়নের
ভায়োলিনে। আমাদের আপ্যায়ন করে—বাদামী ভাল্লুক,
তৃষ্ণা মেটায়—সামুদ্রিক ভোঁদড়, প্যাপল গাছগুলোর চূড়া
থেকে পুষ্প বৃষ্টি আনে—ধূপ ধূসর দাঁড়কাক সৈন্য।

কেনুডায় ঘুরে—মীন প্রজাতির প্রাণী সব, যাদের প্রসন্ন
দৃষ্টিতে ফোটে ফুল—সুশোভিত হয় প্রতিটি শিশু, হাসে
সূর্যদেব। আকাশ ছেয়ে যায় তার ছায়া—সত্য ও ত্যাগের
ভেতর মহান সেসব প্রাণ উচ্ছ্বাসে মাতে—এমন কোনো
টোটেম উৎসবে

সুন্দরবন

ফুসফুসে বায়ুবিদ্ধ সূচ খুন করে রঙিন সকাল
হ্যালোজেন রাতের ঘোমটায় ভস্ম হয়—রাষ্ট্রীয় হাড়গোড়
সুন্দরির গায়ে রঙ মেখে জ্বলতে থাকে স্বদেশ, আলোর
ফোয়ারায় মুছে দিই—মৌয়ালই সুখ, থরে থরে কাঁপে
ধর্ষিত মুখ। সত্য জপে না মন—দুঃখী হতে থাকে
সুন্দরবন

Loading

1 Comment

  1. অসাধারণ লেখনি তার সাথে টক্কর দিচ্ছে চিন্তার পরিধি

Leave a Reply

Skip to toolbar