রোমেনা বিলাস

রোমেনা বিলাস

চিচিংফাঁক

ফুটপাতটা এ্যাকাএ্যাকা ছিল না, ঝুলন্তশার্ট
ছিল, ছিল জিনস ও গেঞ্জি
কোথাওকোথাও ছাতা ছিল, কোথাও নাই
মানুষ মানুষের জন্য, প্রাণ প্রাণের জন্য—
পলিথিন কুচকানোমুচকানো অশ্বত্থ গাছের নীচে
ইকটু আগে মানুষের হাত থেকে
পতিত হয়েছে, নিজ অস্তিত্ব খুয়েনুয়ে আনমন—
মানুষ মানুষের জন্য, প্রাণ প্রাণের জন্য—
রেললাইনটা এ্যাকাএ্যাকা শুয়ে আছে, দারুণ রোদ
ঝিকমিক স্লিপার, সাপের ভঙ্গি
টিকেট শূণ্য, খোদাহাফেজ বাংলাদেশ রেলওয়ে
মানুষ মানুষের জন্য, প্রাণ প্রাণের জন্য—
মানুষের ইতিহাস বিকাশের ইতিহাস,মানুষ
শুধু জানে থেমে থাকা মানে
অযোনির তাৎপর্য বা নাড়িফুল খুঁজে না পাওয়া
মানুষ মানুষের জন্য, প্রাণ প্রাণের জন্য অনিবার্য নয়
যদিচ
রোমেনা আর প্রধানমন্ত্রীর মাঝে কোন পার্থক্য নাই।

অনুলিপি

অনুকরণের শেষ যাত্রায় এসে আমরা থেমে যাই —যদিবা তখনো তেলপোকা শুর দিয়ে চেটে যায় স্ত্রীর শরীর
–তুরাগ নদিতে বাজার বসে –সেতু দুইধার ঘেঁষে দাড়ায়ে থাকে ভৃত্যমতন –টুপিগুলি শুয়ে থাকে, ব্রাগুলি দাঁড়ায়ে—
আমাদের কল্পিত সত্য আমাদের ছেড়ে চলে যায়–কখনো সে ছিল আমাদের সাথে? জানালার কাচগুলি দ্রুত বন্ধ
হয়ে যায়–অফিসের চেয়ারে সন্দেহ জাগে–রাতের কুত্তাটা আজ ঘাসের ভিতর শঙ্কা দেখে —বাসায় ফিরা বাদ দিয়া মধ্যযামে কোথাও নিজের মতো জেগে থাকতে চায়—
জানি তো,ঘুমায়ে থাকা মানুষেরা কখনো ইতিহাস হয় না–না, ইতিহাস তাকে টানে, না সে ইতিহাসকে– এ্যাইসব নিয়া আমাদের কোন বিতর্ক জমে না–আমরা বুঝি ক্রমশ শীতল হয়ে উঠাটাই আমাদের অনিবার্যতা–

মরে যাওয়া মানুষের গল্প

কবে আমি মরে গিয়েছিলাম টের পাই নাই
কবে আমি
মাধূর্যবিন্যাস হারায়ে ভিতরেভিতরে দেউলিয়া
টের পাই নাই
আমি টের পাই নাই কবে দুইচোখ খুলে রেখে টেবল সাজায়ে মেহমানদের ডেকেছি আন্তরিকতায়। টের পাই নাই বাতাসের আর্দ্রতা কমেকমে তোমার চোখের মতো জলীয়বাষ্পের চলে যাওয়ার দৃশ্য। আমি টের পাই নাই কিভাবে যেন চাউলের দাম বাড়ে আর কিভাবে মেহনতিমানুষেরা ভাত খায়।
মরে গ্যাছে ত্বক
মরে গ্যাছে চামড়া
মরে গ্যাছে সংবেদনকামী
টের পাই পেটের ভিতর গুড়াকৃমিরা
গোল বাধে
সংসদ বসায়
আড্ডা খায়
গ্রেফতার চালায়
ছুড়ে দ্যায় অপক্ষিয় মুখ  তীব্রকুহকিয়ে
ভিতরবাহির বাহিরভিতর খুড়েখুড়েখুড়ে
টের পাই নাই
টের পাই না
কখন কোন তৃষিতঠোঁট আমার ঠোঁটে বসেবসে বহুদূর হেঁটে এসে আবার ফিরেফিরে যেতেযেতে  ফিরে যেতেযেতে খানিক কি ভেবে আবার জাগায়ে চলে যেতে উদ্যত।

 

২০ মাঘ। ১৪২৪। সন্ধ্যা ৬টা।

অন্ধকার ঘোড়া হয়ে আসে

অন্ধকার প্রথমে এ্যাকটা বৃত্ত, ক্রমে প্রসারিত
ল্যাপ্টানো শব্দের মতো ক্ষুর তুলে আর দ্রুত আগায়–
দৃশ্যত,পাগলি
আরো পরে খন্ডিতখবর
উড়ন্ত, পোশাকি, বেপরোয়া
গ্রহচ্যুতমানুষিক–অনুশীলনবর্জিত
অপেক্ষারত মৃত্যু
নগরপতন
ফুলকপির হলুদবর্ণ
ফসলের চিৎকার
বিচ্ছিন্নবোধের মাত্রা
আষ্টেপৃষ্ঠে আসক্ত
উচ্ছিষ্ট উচ্চারণ
ওয়ারিশ ওড়না
খোশামোদ খোয়ারি
ভরিয়া উঠিতেছে, চারিপাশ থেকে—

আমার অন্য কোন পরিচয় নাই

সম্পর্কটা এমন না যে ওটা কোন সম্পর্ক তথাপি মানবিক নির্যাস ও গুঞ্জরিত ভ্রমণ টুকটাক করে কাছে আনাকে ব্যাকুল ও অনিবার্য করে তুলে–যৌথতা তৈরি আরকি।
যৌথতা কি যৌনতার পূর্বপোশাক, যা তুমি ইচ্ছা করলেই খুলে দেখতে পারো? কবিরা অনেকবেশি যৌনকাতর অথবা বলা যায় অনুগ্রহপ্রবণ, নয় কি? আমাকে এ্যাই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তুমি সম্পর্কের দিকে হাত বাড়াও—আহা ! হাত রাখো তুমি সম্পর্কের উপর-সম্পর্ক টের পায় না। টের পায় না শরীরিকভাষা আর বাঙলাঅভিধান।
বটগাছের নিচে শুয়ে থাকে আমাদের শরীর!!

 

লালমাটিয়া। ১৬ মাঘ। সন্ধ্যা।

খুন

চরমমুহূর্তে কনডমটা ফাইটা যায়। কনডমের ফাটা অংশ খুঁজতে গিয়া দুইজনেই ঘামে পিচ্ছিল। বিব্রত।বায়োলজিক্যাল সংকট, আহা !
ফাটা’ শব্দের সাথে আমার ক্যান জানি–সুধীন্দ্রনাথের ‘ফাটা ডিমে তা দিয়ে আর কি লাভ হবে’ এর মিল মাথায় ঘুরে। অদ্ভুত ! মিলনের আগে মিলখুঁজার বাতিক!
পরিস্থিতি অন্যদিকে চলে যাইতেছে–টমেটোগুলা ঝুড়িতে আপেলের গল্প জুড়াতে চায়
দাড়িকমা উঠেই যাচ্ছে–আবেগের কোন কেন্দ্র নাই
ভয়তাড়িত সন্ধ্যা দ্রুত আসে–পোকামাকড়ের মতো আবার জেগে উঠবে হস্তমৈথুন
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ’র (উপমা, একটি তুলসীগাছের কাহিনী ) কয়েকটা উলঙ্গ বাল্বের আলোয় মৃত মানুষের অধিক
—আমার জেগে থাকা ততোধিক আদিম —

 

৯ মাঘ। ১৪২১ বাঙলা।

Loading

Leave a Reply

Skip to toolbar