লালন-সুরের নোটেশন, ফরিদা পারভিন ও হাউসের মানুষ

লালন-সুরের নোটেশন, ফরিদা পারভিন ও হাউসের মানুষ

০১।

বিখ্যাত লালন-গায়িকা ফরিদা পারভিন ফকিরের প্রকৃত সুর বিকৃত-রোধ-কল্পে আপাতত এক’শ গানের একটা নোটেশন-বহি বের করতে যাচ্ছেন, –শুনে সাধু কহিল সব্বনাশ, আমি তটস্থ। বেণুকা রেডি। ফায়ার!

অথৈ তরঙ্গে আতঙ্কে মরি
কোথায় রইলে হে দয়াল কাণ্ডারি …।

বাউল গানের কি নোটেশন হয়, সম্ভব? অভিজ্ঞতা হাতরাই, মেলে না। এই সুর যেন এক খলবল চেনা নদী,মুক্ত চরাচর,বহুরূপী বাসনা। গায়করা তাদের গায়কী ভঙ্গিমায় এরে কত না রূপে বাইন্ধাছে যুগ যুগ ধরে নব নব ভাব-রস মিশায়ে মাখায়ে, ভাবা যায়? … গায়কের এই স্বাধীনতাই বাউল সুরের ইনস্ট্যান্ট বিউটি, আসল মজা, যে পেয়েছে সেই জানে। হরদম দেখছি একই লালন-গান বিভিন্ন শিল্পীতো বটেই, একই শিল্পী একেক সময়ে একেক সুরে গায়। আবার অঞ্চল ভেদেও এ সুরের কত ফারাক। কিন্তু তারপরও, একটা ঐক্য যেন থাকে, ঘরানার ঐক্য, কুষ্টিয়া যশোর আর নদীয়া অঞ্চলের অভিন্ন ভাবান্দোলনের ঐক্য। আজ যা লালন বলে শুনছি তার সবই কি লালন ফকিরের দেয়া সুর? হলপ করে বলার উপায় নাই, ব্যাপক সংশয় থাকে। কারণ লালন ফকিরের আগের অন্যান্য মহতদের গানও এই একই সুরের কম্বিনেশনে গীত হতে দেখি। এবং এটা মিথ্যা নয় যে এখনো, অজানা নূতন অনেক লালন ও অন্যান্য মহতের গান সাধক-গাতকরা নিজ ভাবমতে সুর করছে, তাই বলে যা খুশী তা না, একটা অলিখিত আদি প্যাটার্ন আছে সুরের, মূলে সেটাই ফলো করে সবাই। না করলে টেকে না, গৃহীত হয় না সাধু-মেলে।

এখন কথা হচ্ছে, ফরিদা পারভিন যে সুরে লালন গান তা তিনি কোথায় পেলেন? কার কাছে? উৎস কোথায়? বিষয়টি বুঝতে সত্তর ও আশির দশকের গোঁড়ায় কথা জানতে হবে, যখন লালনের গান স্বনামে রেডিওতে নিয়ে আসেন মকসেদ আলি আর খোদা বক্স শাহ –- এই দুই সুগায়ক ফকির। এর মধ্যে মকসেদ আলির আবার ছিলেন একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডের, স্বাধীন-বাংলা বেতারের কণ্ঠযোদ্ধা এবং জীবনের শুরুতে গণসংগীত আর নজরুল গাওয়া লোক। স্বাধীনতার পরপরই কি মনে করে যেন লালনে মজলেন তিনি, ফকিরি ভাব নিলেন। তিনি লালন ঘরানার একজন পদকর্তাও বটে, তবে বহি নাই। করেন নাই। তার অন্তত তিরিশ চল্লিশটি নিজের গান আছে যা বিভিন্ন সাধুসঙ্গে বা মেলায় ভক্তরা এখনও গেয়ে থাকে। এভাবেই টিকে আছে , আসল জায়গায়, তাঁর মৃত্যুর এত বছর পরও। তবে সবসময় মকসেদ আলির একটাই স্বপ্ন ছিল, রেডিওর মাধ্যমে অবহেলিত লালন-গান জনপ্রিয় করে তোলা। আর তা করতে গিয়ে তিনি লালনের সুরকে শুধু একতারা বায়া আর জুড়ি নয় বরং সম্পূর্ণ হারমোনিয়াম-বান্ধব করে বাঁধতে চাইলেন বাঁশি ও তবলার সাথে, সুরের বিন্যাসে আরও কিছুটা আধুনিকতার কালোয়াতি মেলোডি আর লোক সঙ্গীতের বিচ্ছেদী রস লাগায়ে দিয়ে।

হারমোনিয়াম ক্যান? খুবই কি জরুরী ছিল? আমি বলবো ছিল। বাঙ্গালী মধ্যবিত্ত সমাজে এই বাদ্যযন্ত্রটি শুধু বাদ্যযন্ত্র নহে — এটি একটি পরিচয়, স্ট্যাটাস, অহংকার। কালচার্ড বাঙ্গালীর ঘরে হারমোনিয়াম থাকবে একসময় তাই ছিল স্বাভাবিক। তার গানই ত শুরু হয় এই হারমোনিয়াম দিয়ে সারেগামাপাধানিসা সেধে, রবীন্দ্র-নজরুল তুলে-তুলে। এই যন্ত্রটি ছাড়া তাই সে, তার শৈল্পিক-সত্ত্বা, যেন অসম্পূর্ণ। রেডিও ঘুরে এটা যখন বুঝতে পারলেন মকসেদ আলি, ঠিক সেই সময় তিনি পিক করেন আজকের ফরিদা পারভিনকে, আহা কিশোরী ফরিদা, অসাধারণ এক র কণ্ঠ। সেদিন জহুরি রত্ন চিনতে একদম ভুল করে নাই। সেই কিশোরী আজ তাঁর গুরুর স্বপ্নকেও ছাড়িয়ে উঠে গেছে খ্যাতির শিখরে। আজ সে দেশের সম্পদ। সন্দেহ নাই ফরিদা পারভিন তার কণ্ঠ-মাধুর্য-প্রতিভায় মিডিয়া বাণিজ্য উপযোগী লালন সারা দেশে ছড়ায়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন, বাঙ্গালীকে লালন চিনিয়েছেন। বাজার গঞ্জ ঘাটে, ট্রেনে বাসে, রেস্তরায়, সিনেমায়, ক্লাব অডিটোরিয়ামে, ড্রয়িংরুম-জলসায়—কোথায় না? এমন কি বহির্বিশ্বেও, অসাধারণ তার কীর্তি। আমরা ধন্য, কৃতজ্ঞ। তাই বলে এই নয় যে আমাদের ভাবতে হবে, আপনি, ফরিদা পারভিন, যে সুরে গাহেন বা আপনার গুরু মকসেদ আলি মারফত যে সুর পেয়েছেন, সেটাই লালনের আদ্য-সুর, পারফেক্ট ফর্ম। বরং আমি বলবো কিছুটা আদি ভাব রাখতে গিয়ে খোদাবক্স শাহর সুরের ঢঙটি রেডিওতে যদিও কদর হারাইছে, কিন্তু ফকির শিষ্যদের কাছে টিকে গেছে সদর্পে।

লালন ফকিরের সময় আখড়ায় কেমন গান হতো? অনেক মত, তবে এ ব্যাপারে দ্বিমত নাই যে বাদ্য যন্ত্রের ব্যাবহার ছিল খুব সীমিত, একতারা জুড়ি আর বায়া, এই। অনেকে আবার বলে বায়াও ছিল না, শুধু একতারা জুড়ি। শিষ্যরা ছিল সুগায়ক। শোনা যায়, মনে ভাব আসলে লালন বলত, ‘ ও রে পোনা মাছের ঝাঁক রে পোনা মাছের ঝাঁক’, শিষ্যরা কাছে আসত, গুরু-বাক্য তুলে নিত সুরে। কোন সুর? যে সুরে সমসাময়িক বাউলরা তখন নীলকণ্ঠ, লাল শশী, যাদু বিন্দু কিংবা হাউরে গোঁসাই গাইত, এর বাইরে তো নয়। লালন প্রচারকামী ছিল না। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁর গান আখড়ার সেই সারল্য ছেড়ে নানা ভাবধারায় চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। জানামতে লালন-গানের সুরের সবচে বড় পরিবর্তনটা আসে মূলত তিরিশ দশকের নাগাদ সাধক অমূল্য গোঁসাইয়ের আবির্ভাবে। যশোরের মহেশপুর ছিল তাঁর বাড়ি। লোকে বলত গীত-সম্রাট। তিনি দীর্ঘদিন উত্তর প্রদেশে বাস করে সেখান থেকে নিয়ে আসেন লৌকিক ভক্তি-গান ও ভজনের সুর। অসম্ভব ভালো বায়া বাজাতেন। সম্ভবত তিনিই, কাঁধে বায়া পায়ে নূপুর আর হাঁতে একতারায় নইচা নাইচা লালন গাওয়া শুরু করা প্রথম সাধক। সুরের ব্যাপক পরিবর্তন অমূল্য ঘটাইছে এমন অভিযোগ উঠলেও ধোপে টেকেনি, এই স্টাইলটিই পরম্পরায় বয়ে নিয়ে যায় শুকচাঁদ শাহ, বেহাল শাহ, নিমাই শাহ প্রমুখ পদকর্তা সাধক শিষ্যগণ। আজও সেই ধারা বর্তমান। তবে এটি শুধু একটি ধারাই। এমন আরও অনেক ধারা আছে লালন তথা বাউল গানের। যেমন পাঞ্জু শাহ, ঝড়ু শাহ, আতি খাঁ, তয়াক্কেল শাহ, আজমত ফকির প্রমুখ সাধকরা এ সুরকে জবাব-গানের ঢঙ্গে প্রয়োগ করেছেন। তাই তাদের গান শুরু হয় কথা বলার ঢঙ্গে, সুর থাকে ফ্ল্যাট, তারপর আসে মূল সুর ও তাল, বায়া আর জুড়ির খেলা এবং সমাপ্তিতে চরমে উঠে হঠাৎ থেমে যায়। কুষ্টিয়ার করিম শাহ্‌ তাকে অন্য ডাইমেনশন দিয়েছে সুর ও ভাবের ভ্যারিয়েশনে।  দাঁড়ায়ে গান করতে দেখেছি তাকে যৌবনে, সারারাত ডুগি একতারায় বাহাস করতে হেদায়েত শাহর সাথে। গানের মাঝে প্রায়ই থেমে স্রোতা বা প্রতিপক্ষের সাথে কথা বলে, ডুগির নানা বোল তুলে, আবার গানে ফিরে যাওয়ার স্টাইলটি ছিল তাঁর অসাধারণ। একই না হলেও তাঁর ঢঙটি আবার কিছুটা বদলে প্রসারিত হয়েছে শিষ্য বজলু ও মান্নান ফকিরের মধ্যে। এই দুই জনের মধ্যে আবার মিশেছে খোদা বক্সের প্রভাব।

ফরিদা পারভিন আপনি কোন সুর নোটেশনে বাঁধবেন? যে পাখি পোষ মানে নাই, মানে না, তারে কি খাঁচায় ভরা যায়? আপনি আপনার সুরটাকে গানটাকে বরং শিষ্যদের ভক্তি-আকাশে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করুন, যেন সেখান থেকে বিভিন্ন ধারায় ছড়িয়ে পড়তে পারে এর ভাব-রস। নোটেশন দিয়া লালনের সুররে গারদে পুইরেন না। ঠিক-ঠিকানা-বিহীন ছন্নছাড়া আউলা-ঝাউলা, এমনটাই থাকতে দেন। সুর-নোটেশন মানে তো সত্ত্ব তৈরি করা, একটা শৃঙ্খলার শাসনকে, এইটাই ঠিক বাকি সব বেঠিক, এমন একটা বেখাপ্পা মাপকাঠির প্রতিষ্ঠা দেয়া। ব্যাপারটা ভয়াবহ। কারণ ফরিদা পারভিন, আপনি এখন ইন্সটিটিউশন। বড় বাজার। আপনি এখন লালন কুইন অব বাংলাদেশ।

আতঙ্কে মরি!

০২।

ফরিদা পারভিন আপনি সাধন কী জানলেন না। খ্যাতির জৌলুষই আপনার কাল হলো। আপনি বলেন, ছেউড়িয়ার গাঁজাখোর পাগলরা উল্টাপাল্টা গায়। আপনি বলেন, নতুনরা লালন বুঝেনা, শিখে আসে না, শুধু চেঁচায়। আপনি গর্জান গীটার আর সেক্সোফোনে লালন ফিউশান শুনে। ‘মিলন হবে কতো দিনে’ গাইতে গাইতে কেঁদে ভাসিয়ে আপনি প্যাথস তৈরি করতে পারেন। আপনার ভাষ্যমতে বিদেশী অনুরাগীরা আপনার কণ্ঠে মজেই লালনে আকৃষ্ট হয়। ….  আব্দুল করিম তো বাউল না, অধার্মিক, বামপন্থি লোক-কবি। আপনি বলেন, বলতে হয়, মকসেদ আলি আপনার গুরু, অথচ মকসেদ-পদ গাইতে তো আপনাকে দেখি না, যেতে হয় হত-দরিদ্র অখ্যাত কোন আশেকান ভক্তের কাছে, নতুন মকসেদ শুনতে। আহ্, নিয়তির কী নির্মম পরিহাস! ফরিদা পারভিন, আপনি ভক্ত হইতে পারলেন না। যদি পারতেন,‘মনের মানুষ’( আমামতে হাউসের মানুষ) নামের ওই ভ্রান্ত সিনেমা, যা লালনমদ বৈদিক গ্লামার-গ্লাসে এনে বাহবা পয়সা দুই কামিয়েছে, কিছুতেই আপনার কণ্ঠ কিনতে পারত না। ওদের দরকার ছিল একটা সার্টিফিকেট। লালন-সিম্বল ফরিদা পারভিনের অমূল্য সার্টিফিকেট। আপনি পারলেন না, সস্তা দরে বিক্রি করে দিলেন।  অবশ্য ঘটনাটা ঘটে যাবার পর, মালটা খসার পর, আপনি বিনয়ের সঙ্গে বলেছেন, লালন সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি, অধিকাংশ গান বিকৃত করে গাওয়া হয়েছে, ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি এখন আরও বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, হে ফরিদা পারভিন, আপনিও কি এই রঙ্গিলা বাইস্কপে সব গান শুদ্ধ গেয়েছেন? বাণী-কাঠামো বেঠিক করেন নাই? ‘সময় গেলে সাধন হবে না’, অনেক শোনা গান, তারপরও এই গানটি অদ্ভুত বাড়তি কথার কম্পোজিশনে কি আপনি গান নাই? এ কিসের আলামত? ইহা কি শুধুই হেলা, খ্যাতির খেয়াল, বেভুল, সঙ্গদোষ, নাকি অন্যকিছু? বোঝা কঠিন। বড়ই কঠিন। ঠিক পরে না। …ফরিদা পারভিন আপনি ফকিরনী বুঝলেন না।

‘তুই এতই জানিস এই অহংকার মকসেদ রে তোর কাল হল। …আসলে নকল মিশেছে চিনে নেওয়া দায় পড়ল’। …সাবাস টুনটুন, মকসেদ কা বেটা।

০৩।

বাড়তি কথার সংযোগে লালন গাওয়ার রীতি একেবারে যে অ-গৃহীত তা বলা যাবে না। সাধারণত অসাধক, ব্যর্থ-সাধক বা বাজারি গায়কেরা এ কাজটি বেশী করে থাকে। ভাবগান যেহেতু লিখিত শাস্ত্র নয়, তাই অনিচ্ছায় হোক আর ভাবের আবেগের ধাক্কায় হোক, বাড়তি শব্দ ঢুকে যায় গানে। তবে এটাকে খুব দোষের চোখে দেখা হয় না, যদি না অর্থ বা বাণী- কাঠামতে বিভ্রাট না ঘটে। রমজান শাহ’রে একদিন বুঝাইয়া জিগাইলাম, এইটা কেন করেন, কন তো? তার উত্তরটা ছিল মজার, সাঁইজির কালামরে অলঙ্কার পরাই। সত্যি তো, নিরাভরণ সৌন্দর্য কে পুঁছে! কিন্তু খ্যাপচুরিয়াস মুস্তফা মীর মানলেন না। দিলেন ঝাড়ি: কবিতা বুঝো, ছন্দ? খালি গাইলেই হইল? কে তোমারে দায়িত্ব দিছে অলংকার পরাইতে? মিয়া, লালনরে বেইচা খাইতাছ খাও, এখন দেখতাছি গোয়াও মারতে চাইতাছ। …আমি থামাই। রমজান গান ছাইড়া ডুগি ধরে, হাসে।

এই বাড়তি কথাগুলির একটা লিস্টি যদি বানাই, দেখব: ওরে, রে, ও মন, মনরে, আমি, তুমি,আমার, আমায়, গুরু,দয়াল, ফকির, তারা, ও তার, তারে, ও সে, যদি, তাইতে, আবার, এই, যে, যে জন। …এমন অসংখ্য সহকারী বা ফিলার শব্দের সমাহার। কিন্তু শব্দগুলি সাধারণত চরণের শুরুতেই ব্যাবহার হতে দেখি বেশী, মাঝে মাঝে মধ্যে, তবে অন্তে নয়। ছন্দের এই মাত্রা বিপর্যয় সুরের কারিশমায় সহজেই পুষিয়ে নেয় সুগায়ক। ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি ক্যামনে আসে যায়, আমি ধরতে পারলে মন-বেড়ি দিতাম পাখির পা’য়।‘…এইখানে ‘আমি’ শব্দটা কিন্তু নাই, অতিরিক্ত। কিন্তু ফরিদা পারভিনসহ অনেকেই এই ‘আমি’ নিয়াই গায়, পয়ারের শুদ্ধতাকে উপেক্ষা করে। কিন্তু ‘মনের মানুষ’ সিনেমায় তিনি আরও এক কাঠি আগাইয়া দেখালেন নয়া চমক, ‘সময় গেলে সাধন হবে না’ গানটির গঠনে। চরণের শুরুতে বা মধ্যে শুধু নয় অন্তে এমনকি পদান্তেও যে বাড়তি শব্দ পরানো যায় সুরের কারিশমায়, তারই অদ্ভুত নজিরা। চলুন আমরা তাহা চাক্ষুষ করি, কুতর্কে না জড়াই।

ফরিদা পারভিন ভার্সন:

সময় গেলে সাধন হবে না।।
দিন থাকতে তিনের সাধন
কেন জানলে না তুমি।।

জানো না মন খালে বিলে
থাকে না মীন জল শুকালে।
কী হবে আর বাঁধাল দিলে
মোহনা শুকনা থাকে।।

অসময়ে কৃষি করে
মিছামিছি খেটে মরে।
গাছ যদি হয় বীজের জোরে
ফল ধরে না তাতে।।

অমাবস্যায় পূর্ণিমা হয়
মহাযোগ সেই দিনে উদয়।
লালন বলে তাহার সময়
দণ্ড রয় না তাতে।।

সম্ভাব্য শুদ্ধ রূপ:

সময় গেলে সাধন হবে না।।
দিন থাকিতে তিনের সাধন
কেনে জানলে না।।

জানো না মন খালে বিলে
থাকে না মীন জল শুকালে।
কি হবে আর বাঁধাল দিলে
শুকনো মোহনা।।

অসময়ে কৃষি করে
মিছামিছি খেটে মরে।
গাছ যদি হয় বীজের জোরে
ফল তো ধরে না।।

অমাবস্যায় পূর্ণিমা হয়
মহাযোগ সেই দিনে উদয়।
লালন বলে তাহার সময়
দণ্ডেক রহে না।।

Loading

Leave a Reply

Skip to toolbar