ভাস্কর্য
মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে । নন্দিতাকে এই ঝড় -বৃষ্টির মধ্যেই বেরোতে হবে, উপায় নেই, আর্ট কলেজে যৌথ প্রদর্শনীর উদ্বোধন, সেখানে নন্দিতার তিনটি ওয়াটার কালার আর দুটো পেস্টাল পেইন্টিং রয়েছে । এই প্রদর্শনীটা কিছুটা ভিন্ন ধরণের , এখানে একাডেমিক শিল্পীরা নয় বরং যারা অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে আঁকা- আঁকি- করেন তাদের নিয়ে এক্সিবিশন । নন্দিতার বাবা একজন কবি ছিলেন , ছোটবেলা থেকেই বাড়িতে নানা ধরণের বইয়ের সমাবেশ , বাবার ঘরে শুধু বই আর বইও , সেখানে কি নেই? বাংলা প্রাচীন সাহিত্য থেকে শুরু করে হিন্দু মিথোলজি , লুইস হেনরি মর্গানের “এনসিয়েন্ট সোসাইটি” , ফরাসি চিত্রকলার ইতিহাস , স্টিফেন হকিন্স । তবে নন্দিতা বাবার সংগ্রহে থাকা বিচিত্রা পত্রিকার .একটি সংখ্যা দেখে চমকে উঠেছিল , সেখানে একজন ভাস্কর গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করছেন , হাতে ছেনী জাতীয় কিছু । শিল্পী নভেরা আহমেদ । নন্দিতা নভেরার চোখের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠেছিল , কি ধারালো দৃষ্টি , যেন অসংখ্য চোখ দেখছে তার চারপাশের জগতটাকে , এর পর হাসনাত আব্দুল হাই এর নভেরা উপন্যাসটা পড়ার সুযোগ হলো , নন্দিতা তন্ময় হয়ে সেই শিল্পীর জীবন নিয়ে ভাবতে থাকতো ।
এতদিনে নন্দিতা যেন নিজের একটা জগত খুঁজে পেলো । বৃষ্টির দাপটটা একটু কমছে মনে হয় । বাসার সামনে রাস্তায় প্রায় হাঁটু সমান পানি , কিন্তু নন্দিতাকে আর্ট কলেজে যেতে হবে । গায়ে একটা রেইন কোট চাপিয়ে ভরা বৃষ্টির মধ্যে নন্দিতা বাসা থেকে বের হলো , গলির ভেতরের হাঁটুপানি কোনো মতে পেরিয়ে বড় রাস্তায় উঠলো নন্দিতা , রাস্তায় লোকজন নেই বলতে গেলে । একটা মুদি দোকানের ছাউনির নিচে দাঁড়িয়ে রিক্সা বা সিএনজির জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো নন্দিতা । প্রায় বিশ মিনিট হয়ে গেলো কোনো যানবাহনের দেখা নেই, নন্দিতা অগত্যা হাঁটতে শুরু করলো , শংকর বাস স্ট্যান্ড, ছাড়িয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে গেলো, হঠাৎ পিছন থেকে কেউ একজন নন্দিতা বলে ডাকলো কিন্তু চেনা কাউকে দেখা গেলো না । পাশে এসে একটা সিএনজি দাঁড়ালো , সিএনজির ভেতর থেকেই ডাকটা আসছে, আরে স্কুলের সহপাঠী মুনির , কত দিন পর ! নন্দিতা মুনিরকে দেখে খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলো , মুনির সিএনজির ভেতর থেকে বেরিয়ে নন্দিতার কাছে জানতে চাইলো কেমন আছো? এই ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে কোথায় যাচ্ছ?, নন্দিতা বললো আজ আমার ছবির এক্সিবিশন , আর্ট কলেজে যেতে হবে , কিছুতেই যেতে পারছি না , মুনির বললো আমিতো মতিঝিল যাবো , চলো তোমাকে নামিয়ে দেই, নন্দিতা কিছু না ভেবেই সিএনজিতে উঠে বসলো , দুজনে স্কুল জীবনের অনেক স্মৃতিচারণ করতে লাগলো , ওই সময় মুনির খুব নন্দিতাকে পছন্দ করতো কিন্তু নন্দিতা মুনিরকে তেমন একটা পাত্তা দিতো না , ইন ফ্যাক্ট নন্দিতা প্রেমের বিষয়ে সব সময় একটু নির্লিপ্ত ।
বড় রাস্তায় পানি জমে গেছে , সিএনজিওয়ালা বললো ইঞ্জিনে পানি ঢুকলে গাড়ি বন্ধ হয়ে যাবে , মুনির বললো যেভাবেই হোক আমাদের আর্ট কলেজে নামিয়ে দিন । অনেক কষ্টে নন্দিতা-মুনির এক্সিবিশন হলে পৌঁছালো, মুনিরও ওর সাথে নামলো , মুনিরকে নিয়ে এক্সিবিশন হলে ঢুকতে নন্দিতার একটু অস্বস্তি লাগছিলো তবু তাকে আজ এড়ানো যাচ্ছিলো না , মুনির একদম রাত পর্যন্ত এক্সিবিশন হলে থাকলো , নন্দিতা সাংবাদিকদের ইন্টারভিউ দিয়ে বাসায় যাবার জন্য অস্থির হয়ে উঠলো , মুনির বললো চলো একসাথে ফেরা যাক , নন্দিতা বললো তোমার মতিঝিলের কাজে গেলে না? মুনির হেসে বললো তারচেয়েও বড় একটা কাজ হয়ে গেলো , মানে ? আর্ট কলেজের সামনে বসে চা খাবার সময় মুনির নন্দিতার হাতের উপর হাত রাখলো , নন্দিতা খুব অপ্রস্তুত হয়ে হাতটা সরিয়ে নিলো , হঠাৎ করে কেমন যেন একটা অস্বস্তি এসে ভর করলো মনে , এতো বছর পর মুনিরের সাথে দেখা, এখন ওর জীবন সম্পর্কে নন্দিতা কিছুই জানে না , আর এতো অল্প সময়ের মধ্যে মুনিরের ভাব -ভঙ্গির পরিবর্তন নন্দিতাকে চিন্তার মধ্যে ফেলে দিলো , কিন্তু এমন একটা অবস্থা মুনিরকে এড়ানো ও যাচ্ছে না । এতক্ষণে বৃষ্টি কমে এসেছে , একটা খালি সিএনজি দেখে মুনির শংকর পর্যন্ত ভাড়া ঠিক করলো , চায়ের দোকানের ঘটনার পর থেকে নন্দিতা কিছুটা অস্বস্তিতে ভুগছিল , মুনিরের সব কথায় হা -হু উত্তর করছিলো ।
দুজনে সিএনজিতে চড়ার পর নন্দিতা একদম চুপ হয়ে গেলো , সিএনজির এক পাশে ঘেঁষে বসার চেষ্টা করলো , মুনির পেছন থেকে নন্দিতার কাঁধে হাত রাখতে চেষ্টা করলো , নন্দিতা সামনের দিকে ঝুঁকে বসলো । মুনির হঠাৎ বললো নন্দিতা মনে হয় আমাকে ভয় পাচ্ছ? না তা কেন হবে? না তখন থেকেই দেখছি কেমন গুটিসুটি মেরে আছো । নন্দিতা এ কথার কোনো জবাব না দিয়ে একমনে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকলো । নন্দিতার বাসার সামনে সিএনজি এসে থামলে নন্দিতা ভদ্রতা করে বললো মুনির বাসায় আসো, মার সাথে আলাপ হবে , মুনির বললো আজ নয় , অন্য কোনো দিন , আজ অনেক রাত হয়ে গেছে , তোমার মোবাইল নম্বরটা বলো শেভ করে নেই , নন্দিতা নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে মুনিরের বিজনেস ফার্মের কার্ড নিয়ে গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে গেলো । এক্সিবিশন নিয়ে নন্দিতার মনে যত উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল মুনিরের উপস্থিতির কারণে তা কিছুটা দমে গেছে , বিশেষ করে শেষের দিকে মুনিরের আচরণ নন্দিতার ভালো লাগছিলো না । রাতে ফিরে নন্দিতা হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করে একটা ভালো ঘুম দিলো , সকালে উঠে পুরো বিষয়টাকে খুব অগুরুত্বপূর্ণ মনে হলো । এর মধ্যে অনেক দিন হয়ে গেলো , নন্দিতা নিজের স্কুল আর আঁকাআঁকি নিয়ে মগ্ন হয়ে ছিল , প্রায় তিন মাস চলে গেলো , মুনিরের কথা একরকম ভুলেই গিয়েছিলো , হঠাৎ মোবাইল ফোনে অচেনা নম্বর থেকে কল আসলো , প্রথমে কয়েকবার লাইনটা কেটে দিলো নন্দিতা , তারপর মনে হলো কোনো জরুরি ফোনওতো হতে পারে , ওইপাশ থেকে বেশ ভারী পুরুষকণ্ঠ , নন্দিতা কেমন আছো? নন্দিতা প্রথমে চিনতে পারলো না , তখন মুনির বললো , এতো দ্রুত আমাকে ভুলে গেলে ? এই সেদিনইতো দেখা হলো তখন নন্দিতা চিনতে পারলো , একটু অস্বস্তি হতে লাগলো , মনির হাসিখুশি ভঙ্গিতে বললো সেদিনতো তোমার পেইন্টিং দেখে আমি মুগ্ধ , আর আজ তোমাকে আমার একটা কাজ দেখাতে ইচ্ছে হলো , নন্দিতা জানতে চাইলো কি কাজ ? মুনির বললো আমিও একটু -আধটু আঁকাআঁকি করি , তবে তোমার মতো অতো ভালো নয় , আমি কাঠ আর মেটাল দিয়ে ভাস্কর্য তৈরি করি , মুনিরের কথা শুনে নন্দিতা চমকে উঠলো , ছেনি- বাটালি হাতে নভেরা আহমেদের বিচিত্রার ছবিটা চোখের সামনে ভেসে উঠলো ,মুনির বললো এতদিন আমি তোমাকে ফোন করিনি , কারণ একটা বিশেষ কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম , আজ তোমাকে দেখাবো বলে মনে মনে স্থির করলাম , নন্দিতা বললো এতো খুব ভালো কথা , অবশ্যই দেখবো কিন্তু আজ না , আজ বাসায় আমার কিছু গেস্ট আসবে , মুনির খুব অস্থির হয়ে পড়লো , বললো ওনারা চলে যাওয়ার পর এসো, না ওদের যেতে যেতে অনেক রাত হয়ে যাবে , রাতেই এসো, নন্দিতা মুনিরের আকুতি দেখে অবাক হয়ে গেলো , বললো না মুনির আজ সম্ভব না , তুমি আরেকদিন ফোন করো , আজ রাখি । মুনিরের ফোনের কণ্ঠে কেমন যেন একটা অসহিষ্ণুতা ঝরে পড়ছিলো । নন্দিতা ভাবছিলো বিষয়টা নিয়ে, মুনির কি আবার তার পুরানো প্রেমকে নিয়ে নস্টালজিয়াতে ভুগছে , এর পর প্রায় এক সপ্তাহ চলে গেলো , মুনির একদিন রাতের বেলায় ফোন করলো – নন্দিতা কি খবর , এইতো ভালো , তুমি .. আছি একরকম .. নন্দিতা তোমার কি কাল সন্ধ্যায় সময় হবে ? কেন বলতো ? না আমার কাজটা তোমাকে দেখতে চেয়েছিলাম .. হুম , আচ্ছা দেখি .. না না দেখি না কাল অবশ্যই এসো , আমার কার্ডের পেছনে বাসার ঠিকানা দেয়া আছে , বিকালে এসো আমি অপেক্ষা করবো , নন্দিতাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই মুনির লাইন কেটে দিলো , নন্দিতা সারারাত এপাশ-ওপাশ করলো , ঘুম হলো না , কেমন একটা অচেনা ফিলিং হচ্ছে, মুনিরের ওখানে যেতে কেমন একটা আশংকা মনে কাজ করছে , ওর ব্যবহার কেমন যেন ব্যাখ্যাতীত , আবার মুনিরকে সরাসরি এড়ানো যাচ্ছে না .. স্কুল থেকে ফিরে ঘরে শুয়ে থাকলো চুপচাপ , মা বললো কিরে শুয়ে আছিস কেন? শরীর খারাপ? নন্দিতা কোনো জবাব দিলো না , বিকাল হতেই অস্থির লাগতে শুরু করলো .. বাসা পেতে তেমন সমস্যা হলো না , কলাবাগান ডলফিনের গলিতে তিরিশ নম্বর বাসা , একটা পাঁচতলা বাড়ির চিলে কোঠায় মুনির থাকে ।, ফোন দিতেই মুনির চাবি হাতে নিচে নেমে এলো , একটা লাল রঙের ফতুয়া পড়েছে মুনির , চোখে-মুখে চাপা উত্তেজনা । মুনির বললো আমি ভেবেছিলাম তুমি আসবেইনা । কেন? না এমনি মনে হয়েছিল । তুমি কি একাই থাকো ? হুম , অনেকদিন ধরে । আব্বা আম্মা কুমিল্লাতে , ও তোমার ভাই বোন ? ওরা সব আমেরিকাতে, দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকতেই একটা বেলি ফুলের সুগন্ধ ভেসে আসলো , এয়ার ফ্রেশনার । বসবার ঘরে মাটিতে বসবার ব্যবস্থা, সেলফে অনেক বই , নানারকম ভাস্কর্য চারপাশে ছড়ানো , একটা বাজ পাখি , ডানা ছেঁড়া , রক্তাক্ত , দুটি নারী মূর্তি পরস্পরকে জড়িয়ে আছে , যেন প্রেমিক-প্রেমিকা । নন্দিতা মুনিরের কাজ দেখে অবাক হলো । মুনির দু -কাপ চা বানিয়ে আনলো, সাথে পনিরের সমুচা , নন্দিতা চেয়ে চুমুক দিয়ে জানতে চাইলো তোমার সেই বিশেষ বস্তুটি কি ? ওহ আছে, অপেক্ষা করো, চাটা শেষ করো , দেখলেইতো জানা হয়ে যাবে, নন্দিতা একটা সমুচায় কামড় দিয়ে চাটা শেষ করলো, একটু অস্থির লাগছে , এখান থেকে দ্রুত চলে যেতে ইচ্ছে করছে । নন্দিতা বললো একটু তাড়াতাড়ি করো, আমার একটা কাজ আছে সেখানে যেতে হবে , দাঁড়াও যাবেতো , এখানেতো থাকার জন্য আসো নি. আর তোমার চেহারার যা অবস্থা হয়েছে ….নন্দিতা হাসার চেষ্টা করলো , না না কি হবে, একটু ক্লান্ত লাগছে …. কফি খাবে? না না আর কিছু খাবো না ….
মুনির নন্দিতাকে ভেতরের ঘরে নিয়ে গেলো , এটাকে বেডরুম কাম স্টুডিও বলা যাবে, মাটিতে মেট্রেস পেতে বিছানা , বিছানায় কয়েকটা বিয়ারের কৌটা, অ্যাশট্রে , কয়েকটা কলম , প্যাড , আর সারা ঘরে কাঠের , মেটালের নানা ভাস্কর্য । একটা চৌবাচ্চার মধ্যে নারী-পুরুষ সঙ্গমরত , একটা অচেনা প্রাণীর শুধু অবয়ব । নন্দিতা বুঝলো মুনির সাধারণ ছেলে না , তার চিন্তা ভাবনায় প্রকৃত শিল্পীর ছাপ । পাশেই একটা পাঁচ ফুটের মতো ভাস্কর্য কাপড় দিয়ে ঢাকা , মুনির তার সামনে নিয়ে নন্দিতাকে দাঁড় করলো , বললো কাপড়টা সরাও , নন্দিতা কাঁপা কাঁপা হাতে কাপড়টা সরিয়ে চমকে উঠলো , নন্দিতার নগ্ন মূর্তি , স্তনগুলো যেন নন্দিতাকে দেখছে , মুনির বললো কিছুতেই কাজটা শেষ করতে পারছিলাম না , মনে হলো তোমাকে সামনে দাঁড় করিয়ে কাজটা করলে শেষ করতে পারবো , নন্দিতা কোনো জবাব দিলো না , এক দৃষ্টিতে নিজের নগ্ন মূর্তির দিকে তাকিয়ে রইলো , মুনির পেছন থেকে এসে নন্দিতার কোমর আঁকড়ে ধরতে চেষ্টা করলো , নন্দিতা গায়ের সব শক্তি দিয়ে ছোটার চেষ্টা করলো , কিন্তু মুনিরের হাত দুটো যেন পাথরের মতো স্থির, এক চুল সরানো যাচ্ছে না , নন্দিতা জোরে চিৎকার করলো , কিন্তু মুনির সামনের ঘরে ফুল ভলিউমে গান ছেড়ে এসেছে , মুনির দ্রুত হাতে একটা দড়ি দিয়ে নন্দিতার হাত আর পা দুটো বেঁধে ফেললো , চললো পাশবিক অত্যাচার । নন্দিতা নিজেকে মুক্ত করার অনেক চেষ্টা করলো কিন্তু কিছুতেই পারলো না , সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে এলো , মুনির নন্দিতাকে আটকে রাখলো , এভাবে প্রায় পাঁচ দিন চলার পর নন্দিতা খুব অসুস্থ হয়ে পড়লো, রক্তপাত বন্ধ হচ্ছিলো না । মুনির নন্দিতাকে সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে নিচে গেটের কাছে নিয়ে একটা সিএনজিতে করে ধানমন্ডির একটা নিরিবিলি জায়গায় নিয়ে গেলো , ড্রাইভারকে বললো , সামনের অফিসে আমার একটা কাজ আছে , এক্ষুনি আসছি , সাথে রুগী , আপনি অপেক্ষা করেন , ড্রাইভার বললো রোগীর অবস্থাতো ভালো না মনে হয় , হুম ভাই হাসপাতালে নেবো তাই টাকা আনতে যা চ্ছি , ড্রাইভার গাড়ি সাইড করে দাঁড় , করালো, মুনির দ্রুত হেঁটে অন্য রাস্তা দিয়ে গিয়ে একটা রিক্সা নিয়ে চলে গেলো , সিএনজিওয়ালা অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর বুঝলো ওই লোক কেটে পড়েছে , রোগী সংজ্ঞাহীনের মতো , ব্লিডিং হচ্ছে , দ্রুত সে সামনের একটা ক্লিনিকে নিয়ে গেলো, ক্লিনিকের লোকজন বললো রোগীর সাথে কে আছে , সিএনজি ড্রাইভার বললো আমি নিয়ে এসেছি , আগে রোগীর চিকিৎসা করান , ক্লিনিকের লোকজন বললো আগে বাড়ির লোক আসুক তার আগে রোগীর এডমিশন হবে না , নন্দিতাকে অনেকক্ষণ একটা স্ট্রেচারে বারান্দায় শুইয়ে রাখা হলো , ড্রাইভার বললো আমি বাড়িতে খবর দিচ্ছি , নন্দিতার সাথে থাকা ব্যাগ থেকে মোবাইল পাওয়া গেলো , সেখান থেকে কয়েকজনকে ফোন করার পর নন্দিতার স্কুলের কলিগ আফরোজা আসলো তারপর নন্দিতাকে ভর্তি করা হলো , নন্দিতা হাসপাতালে এসেই জ্ঞান হারিয়ে ফেললো পুরোপুরি , তারপর তার আর কিছু মনে ছিল না । নন্দিতার জ্ঞান ফিরলো যখন হাসপাতালের বিছানায় মা মুখের উপর তাকিয়ে আছে , নন্দিতার বুক চেপে কান্না আসছিলো কিন্তু ও যেন কান্নার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে , শুধু শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাকলো , ডাক্তাররা নন্দিতার মাকে জানালো নন্দিতার উপর কয়েকদিন ধরে শারীরিক নির্যাতন হয়েছে , এখন সে শকের মধ্যে আছে , কথাও বলছে না তেমন , ওকে পরিচর্যা করে সুস্থ করে তুলতে হবে , পুলিশ কেস হলো , নন্দিতার কাছ থেকে তেমন কিছু জানা গেলো না , সে শুধু এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে , কোনো কিছু বলার মতো অবস্থায় সে তখন নেই , নন্দিতাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হলো । নন্দিতার মা মেয়ের সুস্থতার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো আর নন্দিতা যেন কিছুই চাই না , তার কোনো চাওয়া -পাওয়া নেই , জীবনের সব অনুভূতি যেন সে হারিয়ে ফেলেছে , নন্দিতা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে দেয়ালের দিকে , কখনো কখনো বিচিত্রায় দেখা সেই ভাস্করের মুখচ্ছবি তার মনে ভেসে ওঠে , হাতে ছেনি, বাটালি , মাথার মধ্যে ঘুণ পোকা ।
![]()