কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় জন্ম শতবার্ষিকী–১
কম্পিউটার স্বাগতম
আমার প্যাকেট থেকে সিগারেট অফার করায় তিনি তা আগ্রহের সঙ্গেই গ্রহণ করলেন। তাঁর মুখের সিগারেটে অগ্নিসংযোগ করলাম, তিনি আমার মুষ্টিবদ্ধ হাতে টোকা দিয়ে ধন্যবাদ দিলেন। বুঝতে পারলাম, ভদ্রতা-জ্ঞান টনটনে। গতরাতে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের বাসায় তাকে যেমনটি দেখেছিলাম,
আজকে বেশভূষায় তার সম্পূর্ণ বিপরীত—ক্লিন শেভড বিশাল এক ব্যক্তিত্ব! মনে হচ্ছে, কোনো অনুষ্ঠানের সভাপতি অথবা প্রধান অতিথি সেজে রেডি হয়ে আছেন।
বিয়ারের ফাঁকে ফাঁকে আমার প্যাকেটের সিগারেট অফার করছি আর তিনি সেটা সানন্দে গ্রহণ করছেন দেখে তাঁকে একটা নতুন বিদেশি সিগারেটের প্যাকেট উপহার দিলাম। তিনি খুশি হয়ে তা গ্রহণ করলেন।
পরে জেনেছিলাম, সুভাষ-দা নানা রকম সিগারেট খেতে ভালোবাসেন। এক ব্র্যান্ডে স্থিত থাকেন না, যদিও তাঁর কবিতায় ইন্ডিয়ান ‘চার্মিনার’ ব্র্যান্ডের উল্লেখ দেখেছি।
তিনি জানতে চাইলেন, বাগদাদে বিয়ার আছে কিনা। বললাম দুটো ব্র্যান্ড আছে, ওদের ওখানে তৈরি হয়। একটা ‘ফরিদ’, অন্যটা ‘লুলুয়া’! দুটোই জার্মান লাইসেন্সে তৈরি হয়। মুদির দোকানেই বিক্রি হয়
অবাধে। শুনে তিনি খুব খুশি হলেন। তাঁর রাশিয়া ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আর ভদকা পানের স্মৃতিচারণ করলেন।
দুজনের প্রথম বোতল দুটো শেষ হতেই সুভাষ বললেন, সোহেল চলো দেরি হয়ে যাচ্ছে ওরা অপেক্ষা করছে। আমি তাকে অনুসরণ করলাম।
হোটেল থেকে বেড়িয়ে ট্যাক্সি নিতে তিনি আপত্তি করলেও আমার আপত্তিতে সাই দিতে তিনি বাধ্য হলেন। ট্যাক্সি চললো ধর্মতলা নাকি কলেজ স্ট্রিটের দিকে সেটা মনে পড়ছে না।
পথে পথে আমরা জ্যামে আটকে থাকলাম। বিরক্তির চেয়ে বরং উপরি পাওনা হিসেবে সুভাষের অনেক গল্প শোনা হলো। ফাঁকে ফাঁকে তিনি বাংলাদেশ আর ইরাকের নানা প্রসঙ্গে আমাকে প্রশ্ন করলেন।
ট্যাক্সি বিদায় করে আমরা এবার হাঁটা শুরু করলাম। আমার তখন বিয়ার আর চরসের বকবকানি শুরু হয়েছে। সুভাষ হাঁটছে আর আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছি।
হঠাৎ সুভাষ থামলেন। বললেন, “সোহেল, আমি এই কানটায় শুনি না। তুমি যদি এপাশ দিয়ে হাঁটো, তাহলে কথা শুনতে পাবো। বলো এবার, কী বলছিলে।”
আমি তো অবাক! লোকটা এক কানে শোনে না অথচ রাস্তা দিয়ে এভাবে হেঁটে চলেছে! ওপাশ দিয়ে কোনো গাড়ি এসে তো লোকটার ভবলীলা সাঙ্গ করে দিতে পারে!
জীবনানন্দের কথা মনে এলো- তিনিও কি এরকম কানে কালা ছিলেন যে জলজ্ব্যান্ত একটা ট্রাম এসে তাঁকে পিষে দিলো! নাকি স্ত্রীর গঞ্জনায় তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন?
সে যাই হোক, আমি আর কথা বাড়াই নি। বরং মনে হলো, এতক্ষণ যা বলেছি সেগুলো যেহেতু তিনি শোনেনই নি, নতুন করে আর পুনরাবৃত্তির দরকার নেই। বেকার এতক্ষণ আঁতলামি করলাম!
ততক্ষণে আমরা নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছেও গেছি। একটা রংচটা পুরনো দালান ঘরের নিচে একটা চায়ের দোকান, কয়েকজন ছোকরা গোছের যুবক খুব ত্রস্ত-ব্যস্ত-ভাবে অস্থির ঘোরাঘুরি করছে। সুভাষ-দাকে দেখেই বললো, “সুভাষ-দা- সুভাষ-দা এসেছেন! বড্ড দেরি করে ফেলেছেন! সবাই তো চলে গেছে, সুভাষ-দা।”
আমি এদিক ওদিক তাকাচ্ছি, অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল বা মিলনায়তন খুঁজছি, নিদেনপক্ষে একটা ব্যানার। কোনো আলামত খুঁজে পেলাম না। বুঝলাম, আমরা আছি একটা দালানের নিচে নয়, দুটো দালানের মধ্যেকার ফাঁকে একটি চায়ের দোকানে।
আঁতেলদের আড্ডা! সুভাষ-দাকে একটা বেঞ্চে বসিয়ে দিলো ওরা প্রায় জোর করে। তারপর আরো দুটো চায়ের অর্ডার এমন ভঙ্গিতে দিলো যেন বিল্ডিং দুটো ছোকরাদের বাপ-দাদার। সুভাষ-দা আর ওদের মধ্যে যেসব আলাপ চললো তাতে প্রতীয়মান হলো যে, সেটা ছিলো কে কে এসেছিলো কে কে আসেনি তার হিসাব নিকাশ।
মাটির খুরিতে চা এলো, যেটা ছিলো আমার জন্যে খুব আকর্ষণীয়, তবে চায়ের স্বাদ মোটেও আনন্দের হলো না। আমি চা পানের অভিনয় করে সিগারেট ধরাবো বলে সুভাষ-দাকে অফার করলাম।
সুভাষ এসে গেছেন, অতএব অনুষ্ঠান শেষ- এমন একটা ভাব নিয়ে অন্যরা ভেগে গেলো। টিকে রইলো শুধু একজন। আমি তাকেও সিগারেট অফার করলাম।
ছেলেটা একটু কাঁচুমাচু করছিলো। সুভাষ উৎসাহ দিয়ে বললেন, “নাও নাও! ওর নাম সোহেল, বাগদাদে থাকে।” তারপর তারও প্রশংসা করে বললেন, “খুব ভালো ছেলে! সাহিত্য নিয়ে খুব খাটাখাটনি করে।”
আমাদের দুজনের মধ্যে দু-একটি কথাবার্তাও হলো, ভালোই লাগলো ছেলেটাকে। খুব বিনয়ের সঙ্গে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বললো, এখানে ওরা সবসময় থাকে। সময় পেলেই যেন এখানে চলে আসি। আমি জি-জাহাঁপনা করে কাটিয়ে দিলাম।
আসলে কিছুই বুঝছিলাম না—সুভাষ-দা কী দেখাতে এখানে আমাকে নিয়ে এসেছেন! তবে ব্যাপারটা বোঝা গেলো সুভাষ-দার বিদায় নেয়ার সময়। আমাকে আড়াল করে ছেলেটা সুভাষ-দার মুঠোর মধ্যে কিছু টাকা গুঁজে দিলো। সুভাষ-দা যাতে টাকাগুলো গুনতে না যান তাই বিনীত কণ্ঠে বললো, “খুব কম হয়ে গেলো সুভাষ-দা! কী করবো, সবকিছুই একা একা করতে হয়! কেউ সহযোগিতা করে না।”
কিন্তু ছেলেটি এতক্ষণ যা বললো সব ওই কালা কানটার দিকে দাঁড়িয়ে। সুভাষ-দা `কী বললে, কী বললে’ বলে ভালো কানটা ওর দিকে এগিয়ে দিলেন। ছেলেটাকে বাধ্য হয়ে কথাগুলো আবার বলতে হলো, আর তাই আমারও শোনা হয়ে গেলো।
ছেলেটির কাছ থেকে থেকে বিদায় নিয়ে আবার আমরা হাঁটতে লাগলাম। এ গলি, সে গলি, বড় রাস্তাসহ নানাবিধ চক্র অতিক্রম-শেষে একটা কাঁচের দরজা ভেদ করে পাশের একটা বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়লাম। ভেতরে সেজেগুজে ঘোরাফেরা করছে কয়েকজন কেতাদুরস্ত বাবু! প্রথমে মনে হলো কোনো প্রদর্শনী হচ্ছে। আবার মনে হলো কোনো সেমিনার হবে হয়তো।
সুভাষ-দাকে দেখে একজন এগিয়ে এলো। `নমস্কার, সুভাষ-দা, আসুন আসুন’ বলে তারা আমাদের আরো ভেতরে নিয়ে গেলো। সেখানে আরো কিছু লোক, কিন্তু সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলছে। সম্ভবত এখানকার অনুষ্ঠান শুরু হয় নি এখনো। আমরা আগেই চলে এসেছি।
সুভাষ-দা কাকে যেন খুঁজলেন। যে লোকটি সম্ভাষণ জানিয়ে আমদের এখানে নিয়ে এলেন, তিনি ব্যস্তসমস্ত হয়ে সুভাষ-দা যাকে খুঁজছেন তাকে ডেকে আনতে গেলেন। ঘরের মধ্যে যারা ছিলেন তাঁরা সবাই সুভাষ-দাকে আড়চোখে দেখছেন আর কথা বলে যাচ্ছেন। বুঝতে পারলাম, সুভাষ-দা এখানে তারকা গোছের কিছু।
এমন সময় হন্তদন্ত হয়ে একজন ছুটে এলেন। এসেই বললেন, “সুভাষ-দা, এত দেরি করে এলেন! অনুষ্ঠান তো শেষ হয়ে গেলো। আপনি থাকলে খুব ভালো হতো।”
সুভাষ-দা জানতে চাইলেন, কিসের অনুষ্ঠান হচ্ছে এখানে? ভদ্রলোক সুভাষ-দাকে সঙ্গে নিয়ে এককোণে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা একটা টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। কাপড়টা তুলে বললেন, ‘দেখুন সুভাষ-দা, এটাই হচ্ছে কম্পিউটার! ডেস্কটপ কম্পিউটার। প্রেসের কম্পোজ করার ঝামেলা আর থাকলো না। এখন থেকে এই একটা যন্ত্র দিয়ে একজন লোকই আমাদের পত্রিকার সব কাজ করে ফেলবে।”
ভদ্রলোকের মুখে তৃপ্তির হাসি আর সুভাষের মুখে ফুটে উঠলো আতঙ্কের ছাপ! সুভাষ-দা জিজ্ঞেস করলেন, “তাহলে প্রেসের কম্পোজিটরদের সবাই তো বেকার হয়ে যাবে!”
ভদ্রলোক সুভাষের কথায় মোটেও খুশি না হয়ে একটা পত্রিকার সংখ্যা এনে দেখালেন। “দেখুন সুভাষ-দা, দেখুন, কত সুন্দর ঝকঝকে ছাপা!” সুভাষ-দা পত্রিকাটা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করলেন।
আমি দেখলাম পত্রিকাটার নাম `প্রতিক্ষণ’। আমার প্রিয় পত্রিকা। একসময় কুষ্টিয়াতে নিয়মিত পড়তাম এটা। কিন্তু সুভাষ-দার হাতের সংখ্যাটি ‘দেশ’ পত্রিকার সাইজ। এটাই নাকি কলকাতায় কম্পিউটার কম্পোজ করা প্রথম পত্রিকা। আজকে এটার শুভ উদ্বোধন হলো, অনুষ্ঠান সে-উপলক্ষেই।
সুভাষ-দা এবং আমার জন্যে দুটো নাস্তার প্যাকেট দেয়া হলো। সঙ্গে দুটো পত্রিকার সংখ্যাও নিয়ে আমরা ভাঙা অনুষ্ঠান থেকে বিদায় নিলাম। কম্পোজিটরদের বেকার হওয়ার দুশ্চিন্তা সুভাষকে ছাড়লো না। তা অনুধাবন করে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবনের একটি ঘটনা মনে পড়ে গেলো।
সেটা ছিলো বাংলাদেশে কম্পিউটার বিষয়ে প্রথম একটা সেমিনার, বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউজের ছাদে সেই অকিঞ্চিৎকর অডিটোরিয়ামে। আমেরিকা থেকে `মোস্তফা জব্বার’ নামে একজন বক্তা এসেছে। আমি এসবের কিছুই জানতাম না। আমরা দল বেঁধে প্রতিদিনের মত বাংলা একাডেমিতে ঘোরাঘুরি করছিলাম। হঠাৎ একটা হট্টগোল শুরু হলো। অনেকেই ছোটাছুটি করছে এদিক সেদিক।
আমাদের দেখে একদল দাঁড়িয়ে পড়লো- তারা সবাই বাংলা একাডেমির প্রেস শ্রমিক। আমাদের সঙ্গে মুখ চেনাচেনি আছে। জানতে চাইলাম- কী হয়েছে? ওরা সমস্বরে অভিযোগ করলো, “দেখেন তো ভাই, আমেরিকা থেকে সাম্রাজ্যবাদের এক দালাল এসেছে কম্পিউটার প্রোপাগান্ডা করতে, আমাদের চাকরি খাবে।”
ব্যাপারটা বুঝে ফেললাম খুব ত্বরিতগতিতে। জিজ্ঞেস করলাম, “দালালটা কোথায়?”
ওরা বললো, ‘ওই বিল্ডিংয়ের ভেতরে আছে।’ ওদের হাতে লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল। ভীষণ ক্ষুধ হয়ে আছে সবাই।
আমি তাদেরকে আশ্বস্ত করে বললাম, “আপনারা প্রেসে ফিরে যান। আমরা ব্যাটাকে শায়েস্তা করছি।”
ওরা আমাদের হাতে বিষয়টি ছেড়ে দিয়ে প্রেসে ফিরে গেলো। আমার মনে হয়েছিলো, একাডেমির কর্মচারী হিসেবে এ ধরণের বিশৃঙ্খলা প্রশাসনের কাম্য হতে পারে না। আমরা ছাত্র-মানুষ যা খুশি করতে পারি, ভুল হলে ক্ষমা পেতে পারি। কিন্তু ওরা তো ক্ষমা পাবে না।
এরপর বর্ধমান হাউজের ভেতরে ঢুকে দেখি অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে, উদ্যোক্তা বা শ্রোতা কেউ নেই। একটা রুমের মধ্যে পাতলা ছিপছিপে একজন আতঙ্কিত হয়ে কাঁপছেন। বাংলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদেরকেও ভদ্রলোকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন দেখলাম। আমি তাদেরকে অভয় দিয়ে ভিকটিম ভদ্রলোককে আমাদের সঙ্গে নিয়ে নিরাপত্তা দিয়ে বাংলা একাডেমির গেট পার করে দিয়েছিলাম।
ফিরে এসে প্রেস শ্রমিকদের বলেছিলাম, “সেমিনার বাতিল। দালালটাকে উত্তম মধ্যম দিয়ে বিদায় করে দিয়েছি।”
সবাই শান্ত হলো, ফিরে এলো বাংলা একাডেমির স্বাভাবিক পরিবেশ।
পরবর্তীতে সেই কম্পিউটার অ্যাক্টিভিস্ট মোস্তফা জব্বারের ক্রমাগত অগ্রগতির খবর পেয়েছি। তিনি ‘বিজয় ৫২’ নামের বহুল ব্যবহৃত বাংলা সফটওয়্যারের স্বত্বাধিকারী। কম্পিউটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আশাবাদী ছিলাম অনেক আগে থেকেই। একদিন ঘটা করে মতিঝিলের আইবিএম অফিসে গিয়ে কম্পিউটার দেখেও এসেছিলাম। কবিতাও লিখেছিলাম কম্পিউটারকে স্বাগত জানিয়ে।
সুভাষ-দা আর বাংলা একাডেমির প্রেস শ্রমিকদের সেই দুশ্চিন্তা পেরিয়ে কম্পিউটার এখন ঘরে ঘরে কম্পোজিটর তৈরি করে আরো বেশি কর্মসংস্থান করছে। সুভাষের জন্মশতবার্ষিকীতে দেখছি, সেই কম্পিউটার-নিবেদিতপ্রাণ মোস্তফা জব্বার এখন বাংলাদেশের মাননীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী!
১৯.০৮.২০১৮
কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় জন্ম শতবার্ষিকী – ১৩
আমরা ছুটে চলেছি নির্দিষ্ট একটা গন্তব্যে। সুভাষের যে কান ঠোসা আমি বসেছি সেই পাশে তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও কথা বলা হচ্ছে না। সুভাষও চুপ সম্ভবত গীতার ভয়ে, দেরী করে বাড়ী ফেরার জন্য। ট্যাক্সির জানালা দিয়ে রাতের কোলকাতা বলে তেমন কিছুই চোখে পড়ছে না। রাত আর কালো মেঘ যেন এক সঙ্গে কোলকাতাকে জাপটে ধরেছে। এত বড় নামী শহরে নেই কোন রাতের ঝলমল। হরেক রকম গতিতে ছুটছে সবাই। মনে হচ্ছে এই বুঝি একটা আরেকটাকে সজোরে ধাক্কা মেরে দেবে। তবে ধাক্কা দিলে কি হবে, যে ট্যাক্সির মধ্যে বসে আছি সেটায় ধাক্কা দিলেও কিছু হবে না সেটা নিশ্চিত। ভাবলাম ইন্ডিয়ানরা সম্ভবত পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য ট্যাঙ্কের বদলে ট্যাক্সি বানিয়েছে।
সুভাষ-দা নীরবতা ভেঙে বললো, সোহেল আমরা এখন দক্ষিণ কোলকাতা যাচ্ছি। ভাবখানা যেন উনি আমার টুরিস্ট গাইড। এতক্ষণ ঝিমুচ্ছিলেন হঠাৎ মনে হয়েছে তার পেশাদারিত্ব। আমি কোন উত্তর দিলাম না, ভাবলাম কোলকাতার উত্তর দক্ষিণ দিয়ে আমি কি কচুঘন্ট করবো? এখানে কি আমি জমির প্লট কিনবো? আমি তো এখানে এসেছি শুধু কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সাথে দেখা করতে। কিন্তু বুড়োটা আমাকে গীতার লোভ দেখিয়ে ঝুলিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। আরে বুড়োভাম, তুই গীতা সম্পর্কে কিছু বল। গীতা কি তোর বউ না কন্যা সেটাও তো বলছিস না। আমি যেচে যেচে জিজ্ঞাসা করতে পারি? আচ্ছা কেমন দেখতে হবে গীতা! সকালে যে নারীকন্ঠ শুনেছিলাম টেলিফোনে সেই কি গীতা? আমি সেই কণ্ঠ দিয়ে একটা নারীমূর্তি আঁকছি আর নিজের আচরণ কি হওয়া উচিৎ সেটার রিহার্সাল করছি মনে মনে।
এমন সময় আমাদের ট্যাক্সিটা কড়া ব্রেক কষে থেমে গেল। অন্যরাও দেখলাম থেমে আছে। ডং ডং করে একটা শব্দ এগিয়ে আসছে। ভাবলাম হয়তো কোথাও আগুণ ধরেছে। দমকলের গাড়ি যাচ্ছে, কিন্তু না ঘটমট করে একটা ময়লা ট্রেন রাস্তাকে দুভাগ করে হেলতে দুলতে বেড়িয়ে গেল। রেল লাইনটা দেখতে মাথা উঁচু করেও যুদ্ধযান ট্যাক্সি প্রযুক্তি থেকে সেটা দেখা গেল না। আঁতকে উঠলাম এখানে একটা রেল-গেট নেই কেন! আমার নড়েচড়ে ওঠার জন্য সুভাষ-দা ঘাড় বাঁকা করে আমার দিকে তাকালেন। আমি বললাম এখানে একটা রেল-গেট নেই কেন? এক্সিডেন্ট হয় না? সুভাষ-দা অবাক হয়ে বললেন রেল-গেট কেন? এখানে তো কোন রেললাইন নেই। আমি বললাম, কেন ঐ যে ট্রেন চলে গেল! সুভাষ-দা হেঁ হেঁ হেঁ করে হেসে হেসে বললেন সোহেল, তুমি বুঝি ট্রাম দেখনি কখনো! সেই যে ট্রামের চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে জীবনানন্দের মৃত্যু হয়েছিল, সেটা শোননি কখনো? আসলে তখনো যে সব শহর দিয়ে আমি ছুটোছুটি করছিলাম সে সব জায়গায় ট্রাম সার্ভিস ছিলোনা। প্রাণ ভরে ট্রাম দেখেছিলাম আর চড়েছিলাম ইতালির মিলান শহরে সেটা কোলকাতা ভ্রমণের অনেক পরে। লজ্জিত হয়ে বললাম, না সুভাষ-দা ট্রাম দেখিনি এর আগে। সুভাষ কোলকাতার ট্রাম কোম্পানি নিয়ে একটা ইতিহাসের আসর খুলে বসলেন আর সেই আসর শেষ না হতেই ট্যাক্সির ড্রাইভারকে বললেন, এবার ডান দিকে হ্যাঁ হ্যাঁ এবার সোজা। ঐ ঠ্যালাগাড়িটার পাশে রাখুন, আমরা এসে গেছি। ট্যাক্সির ভাড়া দিতে দিতে ভাবছিলাম, কি করে ট্রাম আর গাড়ি-ঘোড়ার সহযাত্রা চলে এই কোলকাতায়, সেটা স্বচক্ষে দিনের বেলায় দেখতে হবে।
আমরা একটা সরু গলিতে ঢুকলাম। কয়েক পা এগোতেই খোলা একটা জানালার শিক ধরে নৃত্যরত দু’টো শিশু ছন্দে ছন্দে চিৎকার করে উঠলো, দাদু এচেচে, দাদু এচেচে। অপেক্ষাকৃত বড়টা তার শীর্ণকায় লম্বা পা দুটো জানালার গারদের ফাঁকে বের করে দিচ্ছে কিন্তু ফুটফুটে ছোট শিশুটা সেটা করার আপ্রাণ চেষ্টা করেও পারছেনা। আমরা কাছে আসতেই দরজা খুলে গেল। সুভাষ-দার হাত থেকে সবকিছু বুঝে নিয়ে বকবক শুরু করলো এক অল্প বয়সী মহিলা। এত দেরি করে ফিরলে? তোমার আর কাণ্ডজ্ঞান হবে না। বাড়ীতে একটা ফোন করে জানাতে পারতে না? মা ক্ষেপে আছে। বুঝলাম মাথায় সিঁদুর মাখা ইনি কবি-কন্যা। সুভাষ-দা মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলেন প্রদ্যুত আসেনি? বাবা আমাদের রেখে গেছে আবার নিতে আসবে, বড় শিশুটি দাদুকে উত্তর দিলো। শিশুর কথার ওভার ল্যাপিং করে কবি কন্যা বললেন, সিটানকে নিয়ে আর পারা গেল বাপু! এত করে বললাম বাবা এখনো ফেরেনি তুমি একটু অপেক্ষা করো, তা শুনলো না। ততক্ষণে শিশু দুটো প্রতিক্ষণের টিফিনের প্যাকেটে হামলা চালালো। কবি কন্যা বাঁধা দিয়ে বললো, না তোদের নিয়ে আর পারা গেল না ছাড় না বাবা। কবি মেয়েকে বললেন দে না ওদেরকে দে; ওদের জন্যই এনেছি। আমি ভাবলাম কবি বিড়ালদের জন্য প্যাকেট দুটো এনে নাতনিদের দিচ্ছে। দারুণ দুষ্ট তো বুড়োটা।
ততক্ষণে দরজার মুখে ভেতর থেকে অভিজাত এক ফর্সা রমণী এসে হাজির। চশমা চোখে সেজেগুজে সিঁদুর বিহীন কপাল নিয়ে বোকা বোকা ভাবে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন, সুভাষ ঝড়ের গতিতে গীতা শোন শোন বলে তাকে প্রায় টেনে হিঁচড়ে সরু করিডোরটায় নিয়ে গেল। পকেট থেকে সেই ছোকরাদের দেয়া টাকাটা হাতে গুঁজে দিয়ে চাপাস্বরে বললো মাত্র দু’শো টাকা দিয়েছে। কিন্তু সেই চাপা কণ্ঠের শব্দ তরঙ্গ আমার কর্ণ স্পর্শ করলো। আমি সুভাষকে অনুসরণ করছিলাম বলে গীতার সঙ্গে আমার চোখাচোখি হলো। সুভাষের কাণ্ডে গীতা বিরক্তি প্রকাশ করলো। আমিও আর না এগিয়ে পিছিয়ে এলাম, গীতা লজ্জা পাবে ভেবে। মদের থলেটা বসার ঘরের বিছানায় রেখে দিলাম। বোতলে বোতলে একটা ঠোকাঠুকির আওয়াজ হলো। বাচ্চা দুটো টিফিন প্যাকেটগুলো নিয়ে করিডোর দিয়ে দৌড় মারলো। কোথা থেকে যেন দুটো বিড়াল লাফ দিয়ে এসে মিউ মিউ করতে করতে লেজ উঁচিয়ে ওদের পিছু নিলো। এবার ছোট্ট ঘরখানি ফাঁকা হয়ে গেল। কবি কন্যা আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি বুঝি বাংলাদেশ থেকে এসেচো? তোমার নাম সোহেল? আমি বললাম, নমস্কার! জ্বী আমি সোহেল। বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাবার সঙ্গে সারাদিন কি করলে? মা বললেন তোমাদের নাকি দুপুরে এখানে খাবার কথা, তোমাদের জন্য রান্না করে বসে আচে। কবি কন্যার এসব উত্তর না দিয়ে সেই ছোট্ট ঘরটার উত্তর দক্ষিণ খুঁজতে শুরু করলাম। তাকিয়ে তাকিয়ে সবকিছু দেখার ভান করছি যেন দেয়ালে মোনালিসার পেইন্টিং ঝোলানো আছে। আমাকে বসতে বলে কবি-কন্যা ভেতরে চলে গেল। কবি কন্যার কণ্ঠ শুনে মনে হলো মুখের মধ্যে একটা মার্বেল চুষতে চুষতে আমার সঙ্গে কথা বলছে। রহস্যময় আদুরে কণ্ঠস্বর।
কোথায় বসবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। এমন সময় করিডোর দিয়ে এক অপূর্ব সুন্দরী কিশোরী এসে হাজির। বললো মা তোমাকে হাত-মুখ ধুয়ে নিতে বললো, এসো। আমি তার দিকে হা করে তাকিয়ে আছি। দেখে মনে হচ্ছে, না খেয়ে খেয়ে ডায়েটিং করা এক অপূর্ব মডেল কন্যা। আমার দিকে মাত্রাবৃত্তের কয়েকটা হাসি ছুড়ে দিয়ে আবারো বললো এসো এসো। শুভ্র দন্ত বিকশিত সেই হাসি আমাকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে রাখলো। ঘোর কাটিয়ে বললাম না, আমার হাত-মুখ ধুতে হবে না। হোটেল থেকে ধুয়ে এসেছি। কিশোরী তবুও ছাড়ার পাত্র না। বললো কোলকাতায় যা ধুলোবালি, আসো হাতমুখ ধুয়ে নাও। ঠাণ্ডা জল আছে, হাত-মুখ ধুয়ে নাও। আবার সেই হাসি। সুভাষ এসে আমাকে উদ্ধার করলো। ততক্ষণে সুভাষ স্নান সেরে ফেলেছে। চুল থেকে পানি ঝরে পড়ছে। একটা ফতুয়া পড়ে মাথা মুছতে মুছতে ইজি চেয়ারটায় বসে পড়লো। হাতের তোয়ালে কাম গামছাটা কিশোরীর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো, যা তো পাপু এটা রেখে আয়। সোহেলকে জোড় করছিস কেন ওর হাত-মুখ ধোয়া লাগবে না, গীতাকে আসতে বল। পাপু নামের কিশোরীটি আবার দুটো হাসি উড়িয়ে ভেতরে চলে গেল।
সুভাষ একটা বিড়ি ধরালো, আমাকে জিজ্ঞাসা করলো চুরুট খাবে সোহেল? আমার কাছে আছে, এক সাহেব এসেছিলো দিয়ে গেছে। চুরুটের টিনের কৌটাটা আমার দিকে মেলে ধরলো। আমার অনাগ্রহে তিনি তা আবার গুটিয়ে রাখলেন আর বললেন ঠিক বলেছো, আমাদের আবহাওয়ায় চুরুট চলে না। ঠাণ্ডা দেশে ভালই লাগে, রাশিয়াতে চুরুট টানতাম। কিউবার চুরুট! জানো তো পৃথিবীর সেরা চুরুট। তুমি ফিদেল ক্যাস্ট্রোর নাম শুনেছো? আমি বললাম শুনবো না কেন? এমনভাবে বললাম যেন ফিদেল ক্যাস্ট্রো আমার চাচাতো ভাই। সুভাষ প্রসঙ্গ সরিয়ে আমাকে এবার একটা পাতার বিড়ি অফার করলো। এটা আমাদের দেশের চুরুট, টেন্ডুপাতার বিড়ি। তোমাদের ওখানে তো কাগজের বিড়ি। তুমি যখন আবার আসবে, বাংলাদেশ থেকে আমার জন্য কাগজের বিড়ি নিয়ে আসবে। আমি টেন্ডুপাতার বিড়িটা নিয়ে ধরানোর চেষ্টা করছি। সুভাষ-দা বললেন, এদিকে এসো আমি ধরিয়ে দিই। তিনি লাইটার জ্বেলে আমার বিড়িটা ধরিয়ে দিলেন আর বললেন বিড়ি খাওয়ার কায়দা লাগে। আমি শ্রমিক আন্দোলন করতাম একসময়। ওদেরকে খুশি রাখতে বিড়ি খাওয়া শিখতে হয়েছিল হেঁ হেঁ হেঁ….। ইতোমধ্যে গীতার পুনঃআর্বিভাব ঘটেছে। ঘরে ঢুকেই গীতা রা রা করে উঠলো। সুভাষকে লক্ষ্য করে বলতে লাগলো, তুমি আসতে না আসতেই ওকে বিড়ি ধরিলে দিলে! তোমার এই হ্যাংলামো আর গেলো না। আমি বিড়িটা এস্টেটেতে রেখে গীতাকে নমস্কার জানিয়ে বিদেশি বোতলের প্যাকেটটা এগিয়ে দিলাম। গীতা অবাক হয়ে উপহারটা গ্রহণ করে আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলো। সুভাষ গীতাকে বললো, সোহেল ওটা তোমার জন্য এনেছে। ও এখনো ইন্ডিয়ান মদ খেতে পারছে না। তুমি আর সোহেল ওটা খাও, আমার জন্য রাম এনেছে। সুভাষের এসব কথায় গীতার কোন ভাবান্তর ঘটলো না। সব কিছু যেন গীতার মন মত হচ্ছে না। না বিরক্ত না খুশি এমন একটা ভাব নিয়ে পাপুকে ডেকে ফ্রিজ থেকে বরফ বের করতে বললেন।
পুঁপে বিনা আদেশেই তিনটে গ্লাস নিয়ে হাজির। গীতা পুঁপেকে তিনটে গ্লাস আনায় ফোড়ন কেটে বললো, তিনটে গ্লাস আনলে যে! তুমি খাবে না? মুখের মধ্যে সেই মার্বেল নিয়েই পুঁপে বললো সকালে স্কুল আছে আজ বেশি খেতে পারবো না। সিটানটা যে কি এখনো এলো না। কোথাও নিশ্চয় গিলছে, ওকে নিয়ে আর পারিনা, বলে আর একটা গ্লাস নিয়ে এলো ভেতর থেকে। গীতা-দীও ভেতরে গেলেন। আমি পরিত্যক্ত বিড়িটা তুলে আবার টান দিলাম কিন্তু ততক্ষণে বিড়ির আগুণ নিভে গেছে। সুভাষ-দা হেঁ হেঁ করে হেসে বললেন সোহেল, সিগারেটের মত বিড়ি এ্যাস্ট্রেতে রেখে খাওয়া যায় না। শ্রমিকদের কোন এ্যাস্ট্রে থাকে না হেঁ হেঁ হেঁ…
বাচ্চা দু’টো এর মধ্যে কয়েক পাক এঘর ওঘর ছুটে বেড়ালো। বিড়াল দু’টোও ওদের অনুসরণ করছে যথারীতি। ছুটোছুটির ফাঁকে ছোট শিশুটা সুভাষ-দার গায়ে গা ঘষে যাচ্ছে। সুভাষ-দাও ওর সঙ্গে আদর বিনিময় করছেন আর কি যেন লেখা শুরু করলেন তিনি।
বরফ, সালাদ, বাদাম, সবকিছু এসে ঘরের মধ্যে আদর্শ মদ্যপানের পরিবেশ তৈরি করে ফেললো। মনে হলো আমরা যেন কোন রাষ্ট্রদূতের বাসায় ফর্মাল ড্রিঙ্কসের আসরে। পাপুর আসা যাওয়ার ছন্দে ছন্দে বিজ্ঞাপনের হাসিটা যেন শেষই হলো না।
![]()
1 Comment
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.
Manik Kumar Sanjowal
আদাব / নমস্কার! স্বাগত জানাই JOY BEST ONLINE- প্রতিষ্ঠান থেকে…
প্রিয় সুধী,
আমি Manik Kumar Sanjowal, আপনাদের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত। প্রযুক্তির এই যুগে আপনার দৈনন্দিন জীবনের জটিল কাজগুলোকে সহজ ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে আমি এবং আমার প্রতিষ্ঠান JOY BEST ONLINE কাজ করে যাচ্ছি।
আমি নওদাবাস হাট, হাতিবান্ধা, লালমনিরহাট থেকে আপনাদের জন্য অফলাইন এবং অনলাইন—উভয় মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় সকল সেবা প্রদান করছি।
আমার বিশেষ সেবাসমূহ:
অনলাইন আবেদন: সরকারি-বেসরকারি চাকুরির আবেদন, বিভিন্ন ভাতা (বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী), এবং পাসপোর্ট-ভিসা প্রসেসিং, BMET।
ভূমি ও টেক্স সেবা: ই-নামজারি, খতিয়ান উত্তোলন, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান এবং আয়কর রিটার্ন দাখিল।
গ্রাফিক্স ও প্রিন্টিং: পাসপোর্ট/স্ট্যাম্প সাইজ ছবি, ফটোকপি, ল্যামিনেটিং এবং আকর্ষণীয় স্বরণিকা, ব্যানার, ভিজিটিং কার্ড, স্কুল-কলেজের পরিচিতি কার্ড, পোস্টার, নিমন্ত্রণ কার্ড ইত্যাদি তৈরি।
আইটি ও প্রশিক্ষণ: ৩/৬/১২ মাস মেয়াদী কম্পিউটার ও ডিজিটাল মার্কেটিং প্রশিক্ষণ (সার্টিফিকেটসহ)।
সার্ভিসিং: ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রিন্টার এবং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সার্ভিসিং ও সফটওয়্যার সাপোর্ট।
সৃজনশীল কাজ: যেকোন লেখকের নিজের লেখা ছোটগল্প, কবিতা বা উপন্যাস, অন্যান্য বই আকারে প্রিন্টিং এবং টাইপিং-এর সুব্যবস্থা।
এছাড়াও আমরা ই-টিকিট (ট্রেন, বাস, বিমান), অনলাইন পেমেন্ট এবং প্রফেশনাল সিভি/চুক্তিপত্র তৈরির কাজ করে থাকি।
“সঠিক সেবা, দক্ষ সমাধান — আমার অঙ্গীকার।”
ঠিকানা: নওদাবাস হাট, হাতিবান্ধা, লালমনিরহাট।
যোগাযোগ: 01774010880
ই-মেইল: [email protected]
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন এবং আপনার প্রয়োজনীয় যেকোনো সেবার জন্য সরাসরি যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ!