চুমু ও চালকুমড়া

চুমু ও চালকুমড়া

অনন্তের ফ্রেমে বাঁধানো মুহূর্ত
মো: আব্দুল কাইয়ূম-কে

আমি চেয়েছি তোমার নির্দেশিত পথে আমার প্রত্যাবর্তন।
আমি একটু লেটে চলি, পিছনে হাঁটি।
পুরাতন প্রস্তর যুগের আদিম মানুষ আমি।
নিজের টাইমে ফিরতে চাই। পায়ে ঘড়ি বাঁধা আছে।
লম্বা সময় আমার কাছে কয়েক মুহূর্ত।
আমি মিনিট রাখি এবং ঘন্টা অপব্যয় করি।

চুমু ও চালকুমড়া
আল আমিন-কে

সেদিন বাজারে যাচ্ছি, বউ এসে বললো,
তোমার চোখে চালকুমড়া পড়ে না?
হায় চালকুমড়া!
এক সময় আমার বউ আমার কাছে চুমু চাইতো,
আর এখন চায় চালকুমড়া।
চালকুমড়া খাওয়া এই সংসার
নন্দনকানন হয়ে উঠতে পারলো না।

আমাদের গ্রাম
মানসী চক্রবর্তী-কে

দু ধারে ধানের ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে চলে গেছে ট্রেনের লাইন।
ইস্পাতের লাইনগুলি নক্ষত্রের রোদে
প্রাগৈতিহাসিক সরীসৃপের পিঠের আঁশের মতোই ঝিকমিকিয়ে ওঠে।
শুনশান রাস্তায় গরু চরে বেড়াচ্ছে।
কাঁচা রাস্তা দিয়ে একটা লোক সাইকেল চালিয়ে চলে যাচ্ছে।
মাটির রাস্তাটা যেন কোন মহিলার মাথার সিঁথি,
দুপাশে বিপুল কেশরাশির মতো ঘন সবুজ বনানী।
হু হু করে ট্রেনটা বাতাস কেটে এগিয়ে যাচ্ছে।
দুপাশের বিস্তীর্ণ মাঠ, জলা, খেত ক্রমশ পিছনে চলে যাচ্ছে।
ফাস্ট ফরোয়ার্ড করে দেওয়া মুভির মতো।
ছবির মতো শান্ত ঢলঢলে একটা পুকুর।
ঠিক যেন রং তুলি দিয়ে আঁকা কোন শিল্পীর নিপুণ চিত্রকলা।
আমাদের গ্রাম যেন ড্রইং খাতার পাতায় আঁকা চিত্র।
চিত্রারণ্যে মন হারায়। অনেক চিত্র যত কথা বলে, শত শব্দ দিয়ে বলা যায় না।
কাঁচা রাস্তা। মেঘ ছুঁই ছুঁই তালগাছ।
হাঁসে ভরা জলাভূমি কার্ডবোের্ড কেটে বানানো খেলাঘরের মতো।
দুপাশে কোথাও ধানক্ষেতে বিলি কাটছে খামখেয়ালি হাওয়া,
কোথাও সীমানাহীন ফাঁকা মাঠ দূরে হারিয়ে গেছে।
কৃষকরা মাঠে গোছ করে কেটে রেখে দিয়েছে ধানের আঁটি।
ফেলে আসা বাংলাদেশের দীর্ঘ আঁচল ছায়ায় গিয়েছিলাম।
ছায়াসুনিবিড় শান্তির নীড়গুলিও ক্রমে চালাকচতুর হয়ে উঠেছে।

হাতওয়ালা পাখি
শানু থিওটনিয়াস নাফাক-কে

ফাঁকা মাথা। শূন্য আকাশে একাকী পাখি খুঁজে চলি।
একা এক পাখি ডানা ঝাপটায় অনেক উঁচুতে।
পাক খেতে খেতে কখনো নিচে নামছে।
কখনো গোঁত্তা মেরে উঠে যাচ্ছে অনেক ওপরে।
খোলা চোখে পাখি ওড়া দেখতে থাকি।
মাথার ভিতর কোনো বোধ আর কাজ করে না।
নিজেকে ফাঁকা, ভারহীন বোধ হয়।
মাথাময় জেগে থাকে শুধু একা এক পাখি।
বহু দূর আকাশে ঘুরে মরা পাখি। গন্তব্যহীন, যতিহীন বিহঙ্গ।
এবারে ডানা নয়, হাতওয়ালা পাখি।
অনেক উঁচুতে নিঃসঙ্গ পাখিটা যেন দুই হাত মেলে ওড়ে।
মাঝে মাঝে তবু ভাবি দূরে কোথাও চলে যাবো।
দূর যাবার হঠাৎ বাসনা আমার।

কুকুর
শাহ্ মুহাম্মদ নূরুল আমীন মুন-কে

আমার কবিতায় একটা কুকুর ঘেউ ঘেউ করে ওঠে।
মানুষের ‘নিজের’ হয় পাঁচজনকে নিয়ে,
কুকুরের নিজের হয় একা-কে নিয়ে।
একা বেঞ্চি এবং একাকী কুকুর।
তার জিভ থেকে লালা ঝরছে।
কুকুরটি মাটি আঁচড়ায় ক্রমাগত।

Loading

1 Comment

  1. বাহ! কবিতাগুলো তো ভালোই। এটা কি আপনার বই থেকে?

Leave a Reply

Skip to toolbar