-
========================স্বপ্নীল কারাগার==========================
লেখক ঃ নাদিম হোসাইন।।
পর্ব নাম্বার ০৬
——————————————————————————————————————প্রচন্ড জ্বরে ভুগছেন লোকমান সাহেব। তার জ্বরটা কিছুতেই থামতেই চাইছে না। এরমধ্যে তার পরিবারে সকলে খুব টেনশনে পড়ে গিয়েছেন। কেউ বুঝতে পারছেন না হঠাৎ কেন এত জ্বর আসলো। শানু বেগম প্রতিদিন নামাজ শেষ করে তব্জি পড়েন এবং স্বামীকে বিভিন্ন রকম ফুফা দিচ্ছেন। এছাড়া রফিক সাহেব দিনে কয়েকবার এসে দেখে যান। অনেক ওষুধ দিয়ে গেছেন কিন্তু কিছুতেই জ্বর থামতে চাইছে না। এর মধ্যে শাকিলারাও যেতে পারছে না। বাবার এমন অবস্থায় কিভাবে যাবে। শাকিলার হাজব্যান্ড আজ চলে যাবে। কারণ তার অফিসে বেশি দিন ছুটি মঞ্জুর করবে না। তাই সে শশুরের পাশে এসে বসলেন। যদিও শাকিলার হাজবেন্ডের কথাগুলো শুনতে অনেকটা কৌতুকের মতো শোনায়। আর তিনি এটা খুব ভাল করেই জানেন। তারপরও তিনি চেষ্টা করেন যতটা সম্ভব সিরিয়াসনেস ধরে রাখার জন্য। তিনি তার শশুরকে বলেছেন খুবই নম্র-ভদ্র কন্ঠে,,,
=> আব্বা।। আপনার শরীরটা কি বেশি খারাপ??
লোকমান সাহেব শান্ত গলায় উত্তর দিলেন,,
=> সেটা ডাক্তার ভালো বলতে পারবে।।
=> আব্বা একটা কথা বলি কিছু মনে কইরেন না।
=>হুম, বল।
=> আব্বা,, আমার মনে হয় আপনারে উড়পি বাতাসে ধরছে।
=>উড়পি বাতাস মানে!!
শাকিলার হাজবেন্ড একটা দীর্ঘ-নিঃশ্বাস ছেড়ে বলছেন,,
=> আব্বা,,আমরা এখনকার মানুষ। আমরা এখন এইসব বিশ্বাস করি না। তবে একটা কথা সত্য। পৃথিবীতে অনেক আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটে। সেটা আমরা হয়তো কল্পনাও করতে পারি না।
=> আমি আসলে তোমার কথার অর্থ বুঝতে পারলাম না।
=> আব্বা,, আমার মনে হয় আপনার এ জ্বিনে বা ভুতে ধরছে।
লোকমান সাহেব একটি মৃদু স্বরে হাসলেন। তারপর আবার বলছেন,,
=> তুমি কি এসব বিশ্বাস করো!!
=> আব্বা,, আসলে আমরা এখন অনেক কিছুই বিশ্বাস করতে চাইনা।। কিন্তু পৃথিবীতে এসব তো আর আমাদের বিশ্বাস-অবিশ্বাসের মধ্যে থাকে না।।
=> হ্যাঁ।। তা তুমি ঠিক বলেছ।। তুমি কি এই যুগে এমন কোন দৃঢ়ল প্রমান পেয়েছ??
সে তার চোখ দুটোকে এবার বড় বড় করে উৎসাহ নিয়ে একটু জোড়ালো কন্ঠে বলছেন,
=> জ্বে আব্বা।। এইতো সেদিন আমার অফিসের কলিগ।। আহারে বেচারা!! জ্বরে একদম শুকনা কাঠ হইয়া গেল।। কোন ঔষধ পত্রেই কাজ হইলো না।। শেষ পর্যন্ত কোন এক ফকির বাবার কাছ থেকে পানি পড়া খাইলো।। ব্যাস সুস্থ হইয়া গেল।।
=> তুমি কি বলতে চাইছো আমি কোন ফকির বা কবিরাজ দেখাবো।।
=> আব্বা,,দেখাইলে তো কোন সমস্যা নাই। চেষ্টা করতে দোষ কি।।
=> আচ্ছা,, দেখি কি করা যায়।। তা তুমি কি আজকেই চলে যাবে।।
=> জ্বে।। আমাকে আজকে যেতে হবে।। কারণ বস খুব বদ মেজাজী।।
=> হুম।। তা তুমি একাই যাচ্ছো??
=> জ্বে।। আমি একাই যাচ্ছি।। ওরা নাকি থাকবে।।
=> আচ্ছা।। কখন যাবে??
=> এইতো আব্বা।। বিকালেই চইলা যাব।।
=> তাহলে সপ্তাহে এসো।।
=> জ্বে আব্বা।। আসবো।। আমি তালে উঠি আব্বা।।
=> উঠবে।। আচ্ছা ঠিক আছে।। সাবধানে যেও বাবা।।
=> জ্বে আব্বা।। আচ্ছা আব্বা আমি কি তাহলে কথা বলব??
=> কথা বলবে!! কি কথা??
=> ওই যে বললাম না।। আমার কলিগ জ্বরে ভুগছিল…..
লোকমান সাহেব থামিয়ে দিয়ে বললেন,,,
=> না…না.. কথা বলার দরকার নেই।। আর কিছু দিন দেখিনা।।
=> আচ্ছা আব্বা।। তবে বিষয়টা একটু ভাইবা দেইখেন।। আসি তাহলে আব্বা।। আসসালামু আলাইকুম।।লোকমান সাবেক চোখ বন্ধ করে শুয়ে ছিলেন।। বিকেলে রফিক সাহেব আসলেন।। তিনি এসে আগে প্রেসার জ্বর সবকিছু মাপলেন তারপর বলছেন,,
=> কি ব্যাপার জ্বর দেখছি কিছুটা কমেছে।।
=> হুম।। আমারও তাই মনে হয়।।
রফিক সাহেব একটু বিরক্ত হয়ে বললেন,,
=> কমেছে!! সকালে ছিল 102 ডিগ্রি আর এখন 103°।।
লোকমান সাহেব একটু হেসে বললেন,,
=> কি করি বল।। তুই মজা করলি তাই আমিও একটু মজা করলাম।।
রফিক সাহেব বলছেন,,
=> আচ্ছা তুই কি জানিস।। আমার তোকে খুব বিরক্ত লাগে।।
=> হ্যাঁ।। খুব ভালো করেই জানি।।
রফিক সাহেব আরো বিরক্ত হয়ে বলছেন,,
=> এটাতো একটা চাপা মারলি।।
=> তুই কি বলতে চাস।। আমার চুল বাতাসে পেকেছে।। আমি কিছু বুঝতে পারি না।।
=> হ্যাঁ তুই তো সবই বুঝিস।। পারলে বলতো কেন তোকে বিরক্ত লাগে।।
=> খুবই কঠিন প্রশ্ন।। শোন পৃথিবীতে সকলে শিল্পী,, কিন্তু ক’জন প্রতিষ্ঠা পায়।।
=> তোর যত্তসব প্যাচ মারা কথা।। তুই মানুষই একটা প্যাঁচের।। এজন্য তোর অসুখটা ও প্যাচের মত।।
=> হু।। তুই কিন্তু কথাটা খারাপ বলিস নি।। ঠিকই বলেছিস।। আমি তোকে সাপোর্ট করি।।
=> আশ্চর্য।। আমি যা বলব তাই কি তুই সাপোর্ট করবি।।
=> না।। আমি তো তা বলিনি।। শুধু বলেছি এই কথাটাকে সাপোর্ট করি।। তাই বলে সব কিছু নয়।।
=> ও তাই।। কোনটাতে তুই আমার দ্বিমত।।
=> তুই তো এমনিতেই খুব ক্ষেপে আছিস।। এটা বললে তুই আরো ক্ষেপে যাবি।।
=> বল তুই আমি ক্ষেপবোনা।।
=> ঠিক আছে শোন তাহলে।। আমার সবচাইতে বেশি বিরক্ত লাগে।। মানে আমি সাপোর্ট করি না তোর ডাক্তার গিরি করাটাকে।।
রফিক সাহেব এবার কিছুটা রাগান্বিত হলেন।। তিনি বললেন,,
=> আচ্ছা শোন।। আমি গেলাম।। আমার কাজ আছে।। আর ওষুধগুলো ঠিকঠাক মত খেয়ে নিস।।রফিক সাহেব উঠে চলে গেলেন। লোকমান সাহেব বুঝতেই পারলেন রফিক সাহেব যে কিছুটা রাগান্বিত হয়েছেন।। তিনি কিছুই বললেন না।। চুপ করে আবার চোখ বন্ধ করে হেলান দিয়ে শুয়ে রইলেন।।।।।
3 Comments
Friends
প্রাপ্তি রোজারিও
@praptirozario
অসীম রহমান
@ashim_rahman
Jannatun Nur
@jannatun-nur
অরিন্দম সাইফুল্লাহ
@arindam-saifullah
Syed Farah
@syedfarah
ডা.এম.এইচ.রহমান খান
@drmhrahmankhan
Alock
@alock
জে এস এম অনিক
@00anik
আজিজুর রহমান
@azizurrahman


শুভেচ্ছা!