-
কর্মলগ্ন
সময়ের মূল্য রচনার মধ্যে আমরা প্রায় সবাই লিখি যে সময়ের কাজ সময়ে করা উচিত, কাজ ফেলে রাখলে পরে ভুগতে হবে।কিন্তু কোন কাজের জন্য কোন সময় টা সঠিক সেটা বিচার করতে গেলে আমরাই সবসময় ভুল করে থাকি।গড়পড়তা বাংলাদেশের সব মানুষের জীবনই এমন যেখানে স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি শেষ করে চাকরির কথা ভাবা হয়।পড়াশোনা শেষ না করতে পারলে বা নির্দিষ্ট একটা ঠিক করা সময় না হলে কাউকে আর কাজের যোগ্য ভাবাই হয় না।আবার কারিগরি শিক্ষাসহ অনেক শিক্ষাক্ষেত্র আছে যেখানে হাতেকলমে কাজ শেখানো হয় সেখান থেকে পড়া শিক্ষার্থীদের কাগজে কলমের জ্ঞান স্বল্প থাকে বলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্র ছাড়া তারা অন্য জায়গায় কাজ করতে পারে না। জ্ঞান আর কর্মদক্ষতার যে একটা সুষ্ঠু সংমিশ্রণ প্রয়োজন সেটা বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। সবচেয়ে বড় সমস্যা অন্য জায়গায়। সেটা হলো সমাজের লোক দেখানো আত্মসম্মান। কাজের সঠিক মর্ম শুধু যে টাকা আর ডিগ্রি নয় সেটা মানুষ আজ পর্যন্ত বুঝতে পারে নি।”কোন কাজই ছোট নয়” এই কথাটা শুধু বই পুস্তকেই সীমাবদ্ধ। বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগ নেই।রেস্টুরেন্টে ওয়েটার এর কাজ করা বা খাবার ডেলিভারি করা অনেকের কাছেই নিচুস্তর এর কাজ।কিন্তু ভেবে দেখার বিষয় যে রেস্টুরেন্টে ওয়েটার এর কাজ করতে গেলে একজন মানুষকে কাস্টমারদের সাথে ভালো করে কথা বলা শিখতে হবে। আচরণ এ নম্রতা ও ভদ্রতা বজায় রাখতে হবে। এতে কত কিছু শেখার আছে! খাবার ডেলিভারিতে সময়ের মূল্য যেভাবে বোঝা যায় সেটা আর কোন কাজেই সম্ভব নয়।একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার যেসব বিষয় পড়ে পড়ে বোঝে একজন গ্যারেজের মেকানিক সেটা নিজ হাতে করে বোঝে।কিন্তু সম্মান টা দুইজন এর দুইরকম।কেউ নিজের ভালো লাগা থেকে মেকানিক এর কাজ করলেও মানুষ ভাবে তার অনটন চলছে। ইচ্ছা থাকলেও সব কাজ করা যায় না শুধু মাত্র লোকে কি বলবে এটা ভেবে! দিন শেষে উপার্জন ই যেখানে মূল লক্ষ্য সেখানে এত লোকের কথা ভাবার কি আছে? পড়াশোনা শেষ করে চাকরির প্রত্যাশা তো মানুষ এইজন্যই করে যেন ভালো ইনকাম করতে পারে।সেটা যদি অল্প বয়স থেকে ছোট ছোট কাজ করে আগে থেকেই শুরু করা যায় তাহলে সমস্যা কি?প্রেসিডেন্ট এর মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও মালিহা ওবামা যদি রেস্টুরেন্টে কাজ করতে পারে শুধু কাজ শেখার জন্য তাহলে বাংলাদেশের মতো স্বল্প আয়ের দেশের মানুষের আর কোন কথা খাটে?
একটা পাখির বাচ্চা যখনই উড়তে শেখে তখনই তার মা বাবা তাকে আলাদা করে দেয়। মাংসাশী প্রাণী শিকার করা শিখে গেলেই বেঁচে থাকার লড়াই তে নেমে যায়।আর মানুষের ই কাজ করতে বছর পার হয়ে যায়!
ছেলে মেয়েরা প্রাপ্ত বয়স্ক হলেই কাজের তাগিদ দেওয়া উচিত। যেটা সম্ভব হয় সেটাই করতে বলা উচিত। মা বাবা ভালো টা ভাবতে গিয়েই দেরি করে ফেলেন বলে কর্মক্ষম মানুষ হতেও দেরি হয়। ভালো কাজ যতই অল্প টাকার হোক না কেন কিছু না কিছু শিক্ষা তাতে থাকেই।সবার উচিত কর্মের মর্ম বোঝা, টাকার প্রয়োজন সময়ের সাথে সাথে এমনিতেই বোঝা যায়।প্রাপ্তবয়স্ক হলে সবাই সবকিছু বুঝতে পারলেও সবকিছু করতে পারে না কতগুলো ভুল ভাবনার কারণে। এইসকল চিন্তা ভাবনা থেকে বের হয়ে আমাদের বুঝতে হবে যে বোঝার লগ্নই কর্মলগ্ন,সেটা যে কর্মই হোক না কেন।ভাবনা আর কাজের সঠিক প্রসারই পারে সঠিক কর্মলগ্ন চিহ্নিত করতে।2 Comments
Friends
মাহ্দী সাকিব
@mahdi-sakib
Shohag arnob
@shohagarnobgmail-com
Jannatun Nur
@jannatun-nur
Ashik Mokami
@ashikmokami
saddam raju
@saddamraju
Jawata Afnan Yasha
@jawataafnanyasha
শারমিন ইসলাম শর্মি
@sherminkabirgmail-com
রাতিন আহমেদ
@ratin2190
সেলিনা বিনতে কারীম
@selina15

সময়ের একফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।