-
অপর্ণা
অনীক ভট্টাচার্য্য
ট্রেনটা চলে যাচ্ছে, অপর্ণা দাঁড়িয়ে নিষ্পলক ভাবে চেয়ে আছে, অজান্তেই তাঁর চোখ ভিজে গিয়ে ফোঁটা দুচারেক গড়িয়ে রেলের মেঝেতে শত সহস্র ধুলিকণার সাথে মিশে গেলো ঠিক মুহুর্তেই যেমন রাব্বি দীর্ঘ ২৫ বছর পর সামনে এসে হারিয়ে গেলো, অপর্ণা তার স্বামী অর্কজীত কে বাড়িয়ে দিতে আসছিলো, অফিসের কাজে বাইরে যাবে , তাই এই শীতের রাতে অপর্ণা তার ছেলেকে নিয়ে , ট্রেনে তুলে দিতে এলো, ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার বাঁশি বাজতেই , অর্কজীতকে হাত নাড়িয়ে বিদায় দিতে দিতে হঠাৎ চোখ পড়লো, অর্কজীতের গাড়ির কামরার দরজার সামনে , কালো জ্যাকেট পড়া একটা ছেলে , ঠাঁই তার দিকে তাকিয়ে আছে, প্রথমটা চিনতে না পারলেও হটাৎ চিনতে পারলো, গোঁফ, দাঁড়িতে ভরা লোকটা আর কেউ না, রাব্বি, আজ অনেকটা বছরে অনেক কিছুর সাথে রাব্বিও বদলেছে,সেই প্যাঁকাটি মার্কা শরীর আর নেই, বেশ ওজন আর ভরিক্কি এসছে বয়েসের তাই চট করে এতো বছর পর চিনতে পারেনি,ট্রেনটা চলতে শুরু করতেই লোকটি অপর্ণার দিকে একটু মুচকি হেসে বলল ভালো আছো অপু? অপর্ণাকে রাব্বি ভালোবেসে অপু ডাকতো, কলেজের এক বছরের সিনিয়র ছিলো রাব্বি , কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গিয়ে সেখানে কথা বার্তা , আলাপ, ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব প্রেম, সব সময় কলেজ ফাঁকি দিয়ে লালদীঘির পাড়ের ডায়মন্ড এর চায়ের দোকানে বসে চা আর কাটলেট, সঙ্গে ভালো লাগা, ভালোবাসার স্বপ্ন বোনা, কখনো বা বাসে বাদুর ঝোলা ঝুলতে ঝুলতে নেভাল যাওয়া, নদী-সমুদ্রের মোহোনার পাশের রাস্তায় হাতে হাত রেখে ঘোড়া ,কতো চিঠি, একে অপরকে দিতো, চিঠি গুলোতে ভর্তি ছিলো আগামীর স্বপ্ন , শিক্ষাজীবন শেষে একটা চাকরি করে , বিয়ে করে সুন্দর ছোট্ট একটা দুজনার দুনিয়া গড়ার, সেদিন ছিলো ভ্যালেন্টাইন্স ডে, আগের থেকে সব ঠিক ঠাক করা ছিলো , সারাদিন কিভাবে কাটাবে? কলেজের সারাবছরের খরচ বাঁচিয়ে রেখেছিলো , ভালোবাসা দিবসে কিছু দেওয়ার জন্য, খুব সুন্দর লাল জামা, এক জোড়া পায়ের নূপুর, এগুলো সারপ্রাইজ পেলে অপর্ণার অনুভূতি কি হবে সেটা ভাবতে ভাবতে গভীর চিন্তায় ডুবে গেলো, অপেক্ষা করতে করতে সকাল থেকে বিকেল বিকেল থেকে সন্ধ্যা, শেষে এক বুক হতাশা নিয়ে রাব্বি চলে গেলো, বর্তমান সময়ের মতো এতোটা মোবাইল এর প্রচলন বা ব্যবহার তখন ছিলো না, যে সারা রাত চ্যাট করবে, বা তার না আসার কারন জানা যেতো, হয়তো শরীর খারাপ তাই আসেনি অথবা অনেক কারন থাকতে পারে, এর পর থেকে প্রতিদিন সেই জায়গায় এসে অপর্নার জন্য অপেক্ষা করতে থাকলো, সময় গড়িয়ে যায়, অপর্ণার আর দেখা পাওয়া যায়না, হটাৎ একদিন অপর্ণা কাঁদতে কাঁদতে এসে রাব্বিকে বলল আমার সামনে সপ্তাহে বিয়ে, ছেলে বড়ো কোম্পানী তে কাজ করে, আর রাব্বির বেকারত্বের জন্য অপর্ণার মা বাবা পছন্দ করে না, শেষ বাড়ের মতো রাব্বিকে জড়িয়ে ধরতে এসেছিলো, রাব্বি অপর্ণার বিয়েতে যায়, অপর্ণাকে বিবাহের শুভেচ্ছা দিয়ে বের হয়ে হাড়িয়ে যায় অজানায়।।।কোন বন্ধুও খুঁজে পাওয়া যায় খুঁজে পায়নি,সব অতীত স্মৃতি অপর্ণার সামনে এসে স্মৃতির অতল গহ্বরে তলিয়ে নিয়ে যায়, ছেলের হটাৎ ডাকে , সম্বতি ফিরে পাই, ট্রেনটাও রাতের আধাঁরে কুয়াশার মধ্যে হারিয়ে যেতে লাগলো, অতীত এবং বর্তমানকে নিয়ে।।।।।।
3 Comments
Friends
Md-Zahidul-Islam-Prince
@md-zahidul-islam-prince
মীর অনাবিল
@miranabil
Mohammad-Rakibul-Hasan
@mohammad-rakibul-hasan
Tahmina-Shikha
@tahmina-shikha
MD-Naimul-Islam
@md-naimul-islam
charumannan
@charumannan
Mehebub-Hasan
@mehebub-hasan
Omar Faruk Rayhan
@rayhanpoet
Arif Muslimeen
@arif-muslimeen



চরিত্রকে বোঝা চাই।