Profile Photo

মাহমুদ হাফিজOffline

  • Mahmud-Hafiz
  • মা,মৃত্যু, মিরাকল।। শূণ্যতার হাহাকার না আকাশজোড়া আনন্দ!

    প্রিয় জননী কি আসলেই আমাদের ছেড়ে পরপারের লম্বাপথ পাড়ি দিয়েছেন, নাকি জুড়ে আছেন বৃহৎ পরিবারে সকলের সত্ত্বা জুড়ে? সে সম্বিত এখনও ফেরেনি কোন সহোদর ও পরবর্তীপ্রজন্মের। দোয়া-খায়েরের জন্য এতিমদের খাওয়ানো হবে কোন এতিমখানায়, কতোজনকে- আনমনে বলে উঠছি মায়ের কাছে শোনা যাক। এলাকার মসজিদ, গোরস্থান ঈদগাহে অর্থ দেয়া হবে- কোন মসজিদে কতো- বলে যাচ্ছি মায়ের কাছে শোন। চিরবিদায়ে যারা এসেছিল দূরান্ত থেকে, যাওয়ার সময় তারাও সম্পর্ক অনুসারে বলেছে মা, খালা, চাচী, মামী, ফুপু, নানী, দাদীকে ডাকো, ফিরে যাচ্ছি, তাঁকে বলে যাই। মায়ের নাতি আবদুল্লাহ, পুত ফুয়াদ, তাসনিয়া অবুঝ,কিছু বোঝে না। তাঁরা কান্না ধরেছে-চলো সবাই, বড় মা’র লাঠি দিয়ে আসি। অন্তিমশয়ানকর্মের পর সবাই গেছে চলে,আমি এখনো মাতৃস্পর্শের ব্যবহৃত সামানা সকাশে।যাবো।চারদিকের গভীর শূণ্যতায় কোথায় যাবো?কেন যাবো? নাকি মায়ের পথ চেয়ে বসে রবো? যেমনটি থেকেছি শৈশব-কৈশোরে কতশত দিন?
    মাতৃপ্রয়াণ কাছে থেকে দেখেছি ক’দিন হতে চললো, তাঁর আত্মা আরশে আজিমে চলে গেছে। দেহখাচা পড়ে আছে কবরমৃত্তিকাগৃহে। মৃত্যুর পর কেউ কোনদিন ফিরে আসেনি, বলেনি কোন অভিজ্ঞতা। মৃত্যুত্তোর জীবন সম্পর্কে বিজ্ঞান, স্মার্ট প্রযুক্তি, সনাতনী মিথ বা মানুষ ধারণাহীন। তবু বার বার ছুটে যাচ্ছি কবরস্থানে, যদি মা তার জঠরে ধরা নিজের রক্তে জন্মা সন্তানের পদশব্দ বুঝতে পারেন। যদি স্রষ্টার কাছে সন্তানের দোয়া পৌঁছায়।
    দুনিয়াদারির এই কুহেলিকা, এই ঘোর, এই মায়া, এই আসা- যাওয়া, জন্মমৃত্যু কিছুই মাথায় ঢুকছে না আমার। মা আসলে কোথায় হারিয়ে গেলেন? কিসের নাম যশ, খ্যাতি, অর্থ, বিলাসিতার দৌড়, তোড়জোড়?

    ভরজীবন নিজের সংযমী, জীবন আদর্শের মাধ্যমে মা আমাদের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। মৃত্যুর মধ্য দিয়েও জীবনাবসানের এক আশ্চর্য ও মোজেজাময় বার্তা দিয়ে গেলেন। যে বার্তা সম্পর্কে তাঁর সন্তান ও নাতিপুতিগণ কেউই অবগত ছিল না। মৃত্যু পরবর্তী দেখা গেল কিছু আলামত, যা স্রষ্টার প্রিয়ভাজন বান্দার মোজেজা বলে বিশ্বাস করতেই মন চায়।
    সহোদরদের মধ্যে আমার সৌভাগ্য হয়েছে ওমরাহের মাধ্যমে আল্লাহর ঘর তাওয়াফের। কয়েকবছর আগে মা’র এই মৃত্যুদিনে আমি মক্কাশরীফে তাওয়াফরত ছিলাম। ইচ্ছে ছিল আল্লাহ’র ঘর ছুঁয়ে আনা ইহরামের কাপড়কে মায়ের কাফনের কাপড় হিসাবে ব্যবহারের। সে পরিকল্পনায় ঢাকা থেকে ধোপদুরস্ত কাপড় বাড়ি এনে আলমিরার মধ্যে সযত্নে রেখে দিই। যিনি অন্যের জন্য সবকিছু প্রস্তুত করে দিয়েছেন সারাজীবন, তার প্রস্তুতি করবে কে?
    মায়ের মরদেহ বহনকারী এ্যাম্বুলেন্স বাড়িতে পৌঁছামাত্র কাফনের কাপড়ের খোঁজ যখন পড়লো- জানা গেল,নিজের কাফন নিজেই কিনে রেখে গেছেন, অন্তত তা আটবছর আগে। এমনকি এজন্য তিনি স্বামী-সন্তানের উপার্জিত অর্থের ওপরও নির্ভর করেননি। পৈত্রিক সম্পত্তির নিজস্ব অংশের একাংশ দিয়ে কাপড় কিনে রেখে গেছেন ভ্রাতৃহেফাজতে। বারান্দায় আব্বার মরদেহ যেখানে শায়িত হয়েছিল বহুবছর আগে, সেখানে শুইয়ে দেয়া হয়েছে মার নিথর দেহখানি। কাফনের কাপড় না এলে গোসল করানো যাচ্ছে না। মার অনুজ ডা. আবুল কাশেম এর হেফাজতে সেই কাফনের কাপড়। আমি ভাবি , মামা থাকেন আট দশ কিলোমিটার দূরান্তে। তিনি নিজে অসুস্থ। বৃষ্টিবিঘ্নিত দিনে কাপড় কীভাবে পৌছাবে? ভাবনামাত্রই তাকিয়ে দেখি সৌম্য চেহারার মামা সুদৃশ্য এক ব্যাগ হাতে বাড়িতে প্রবেশ করছেন। অতএব কাফনের কাপড় প্রস্তুত।
    মাইয়েতকে গোসল করানোর জন্য অস্থায়ী গোসলখানায় নামানো হবে। বাড়িতে মা’র নিত্যসহচরী মাহফুজার মা চাচাতো ভাই মান্নানের সহধর্মিনী আমাকে চুপি চুপি বললো, ভাই, চাচী-আম্মা তাঁর মৃত্যুর পর গোসল করাতে কে কোন দায়িত্বে থাকবে তার অসিয়ত বা নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। আমার দায়িত্ব পড়েছে পানি গরম করার। আর যার যার নাম সে উল্লেখ করলো,তাতে দেখা গেল মূল গোসলে নিয়োজিত থাকবে একমাত্র কন্যা ফরিদা বেগম, গ্রামের আবদুল আজিজের স্ত্রী আমার এক বড় আপা মিসেস আজিজ তথা নীহারের মা, আম্মার ছোটবোন তথা আমার ছোটখালা, মাঠপাড়ার মুয়াজ্জিন আবদুল গণির স্ত্রী বা নুরনবীর মা। প্রমাদ গুণলাম, কারণ ছোটখালা বহুদিন থেকেই অসুস্থ। খালু মারা যাওয়ার পর তিনি আরও ভেঙে পড়েছেন। থাকেন দশকিলোমিটার দূরের বশিগ্রামে, তাঁকে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। আবদুল আজিজ তথা কানাইপচা দুলাভাইয়ের স্ত্রী আমাদের বু স্ট্রোকে আক্রান্ত ও বিছানাগত স্বামীর পরিচর্যায় নিয়োজিত সারাক্ষণ, তাঁকে ডাকতে গেলেও বৃষ্টিবাদলে স্বামীকে একা রেখে আসবেন কিনা সন্দেহ। বহু আগে শুনেছিলাম, আবদুল গণির স্ত্রী বাপের বাড়ি পরাণপুরে চলে গেছে। কেবল উপস্হিত আছে আমার বোন ফরিদা ।
    মিরাকল হচ্ছে, মা’র অসিয়ত অনুসারে কোন না পাওয়া আমার ভাবনাজনিত বিভ্রান্তিমাত্র। বৃষ্টির মধ্যে বিভিন্ন ঘরের বারান্দায় নারীকূলের ভিড়ের মধ্যেই দেখতে পাই, নীহারের মা বু উপস্থিত, মিসেস আবদুল গণির স্ত্রী খবর শুনেই হাজির। ফরিদাওআছে। আহা, যদি খালা থাকতেন তাহলে অসিয়তের কোরাম পূর্ণ হতো ! ভেবে মাত্র মাথা তুলেছি, দেখি বাড়ির আঙিনা দিয়ে ক্রন্দনরতা ছোটখালা বাড়ির দিকে ত্রস্তপায়ে ছুটে আসছেন। তাঁর চেহারায় অসুস্থতার লেশমাত্র নেই। খালাকে দেখে আকাশের দিকে মুখ তুলে অসীম মহানপানে তাকিয়ে ডুকরে কেঁদে ফেলি।
    গোসলকারীগণ প্রস্তুত, এখন চাই পানি গরম করা ও গোসল করানোর বাসনকোসন। মাহফুজার মা’ই খবর দিলো, চাচী মা বলে গেছেন সবকিছু আছে চাতালে। মা যে ঘরে থাকতেন, রাজ্যের বিস্ময় আর কৌতুহল নিয়ে গ্রামের নারীকূল ঘরের চাতালে তালাশ করতে গেল। পাওয়া গেল নতুন বাসনকোসন। পানি গরম করার ডেকচি, পানি তোলার বড় গামলা, গায়ে পানি দেয়ার মগ ও বদনা। অকুস্থলের সবার চোখ অশ্রুসিক্ত। মা আমার ছোট্ট পানির মগটি পর্যন্ত কিনে রেখে গেছেন। একজন নারী কতোটা দূরাভিসারী হলে তাঁর মৃত্যুদিনের এমন নিখুঁত আয়োজন করে যেতে পারেন-তা তথাকথিত উচ্চশিক্ষালয়ের। সনদধারী গর্বিতমস্তকরা কি ভাবতে পেরেছি কোনদিন?
    ৩.
    বিস্ময় অপেক্ষা করছিলো আরও। গোসল হয়ে গেছে। সাদাকাফন পরিয়ে মার মরদেহ খাটিয়ায় শুইয়ে রাখা হয়েছে বারান্দায়। ভাতুস্পুত্র মারুফ ও মুন্নাফ পাশে বসে পবিত্র গ্রন্থ থেকে তেলাওয়াত করছে। আকস্মিক কাফনের মুখমন্ডলের দিক থেকে খুলে আমাকে ডাক দিয়ে বললো, কাকু, দেখুন দাদী হাসছে। ধমক দিলাম, মৃত মানুষ হাসছে, দাদীশোকে তোদের কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? দৌড়ে বারান্দায় গিয়ে মৃত মায়ের মুখের ওপর ঝুঁকে পড়লাম। দেখি, যে ঠোঁট দিয়ে জন্মের পর আমাকে অজস্র চুমু দিয়েছেন সত্যি সত্যি হাসির রেখা ফুটে উঠেছে সে ঠোঁটে। হাসপাতালে শুধু নাক দিয়ে খাওয়ানোয় মুখমন্ডল শুকিয়ে চোয়াল ও কপালপ্রান্ত খোড়ল হয়ে গিয়েছিল, দেখি তা ভরাট । বিজ্ঞান বলবে, মৃতদেহে জৈবিক প্রক্রিয়ায় ফুলে উঠেছিল। পুরো মুখমন্ডলে যে নূরানী আলোক-আভা ও ঔজ্জ্বল্য দেখেছি, তার কোন ব্যাখ্যা বিজ্ঞানে আছে কী না আমার জানা নেই।
    আমাদের এলাকার মানুষ জানেন, আমার আব্বার মৃত্যুর পর তার কফিন থেকে আল্লাহ আল্লাহ জিকির হয়েছিল। মানুষ যখন কফিনের কাছে যাচ্ছিল, তখন তা বন্ধ হচ্ছিল, আবার একটু দূরে আসছিল, তখন আবার আল্লাহ আল্লাহ রব উঠছিল। এলাকায় বলা হতো, এক জীবন্ত মোজেজাধারী বুজর্গ ইহলোক ত্যাগ করলেন। মায়ের ক্ষেত্রেও নানা ব্যাখ্যাহীন পরাবাস্তবতার ব্যতিক্রম হয়নি।
    বৃষ্টি ভরদিনই ঝরছে। মাগরিব বাদ জানাজা নামাজের জন্য ঈদগাহে নিয়ে যেতে হবে কফিন। বৃষ্টির জন্য কফিনের ওপর দু’পরত পলিথিন মুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, সে পলিথিনের আর প্রয়োজন ছিল না। পাঁচ ভাই খাটিয়া কাঁধে বারান্দা থেকে উঠোনে নেমেছি যখন, অমনি বৃষ্টি উধাও। জানাজা ও দাফন পর্যন্ত বৃষ্টির কোন দেখা ছিল না। ভরদিনের বৃষ্টি প্রশান্তি মেনেছিল ।
    খাটিয়া-কাঁধে রাস্তায় নামার সময় আমার হাতে থাকা ছাতা কোন একজনের হাতে দিই, পথে কাদা থাকতে পারে বলে স্যান্ডেল খুলে ফেলি। নানাকিসিমের লোকজনের হৈ হট্টগোলে মৃতবাড়িতে সচরাচর এসব জিনিস খোয়া যায়। আমার আশা ছিল না, তা আর ফিরে পাবো। কিন্তু যেখানকার মাল সামান রক্ষা করে অলৌকিক শক্তি, তা আর খুইয়ে যায় কী ভাবে? যথারীতি দুটোই পাই।
    অভিজ্ঞতা বলছে, এ জগতে ভালোবাসাময় দম্পত্তি প্রায় কাছাকাছি সময়ে বা তারিখে পৃথিবী ছাড়েন। আমার আব্বা মৃত্যুবরণ করেছিলনে ৯মে, মা শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করলেন ১০ মে। বহুবছরের হেরফের হলেও দু’জনের মৃত্যুদিন স্বামীর পরের দিন স্ত্রীর। ভাগ্য গণকদের কাছে এই সংখ্যা খুব গুরুত্বপূর্ণ এক হিসাবের সূত্র।
    ৪.
    যারা জানেন, তাদের ভাল করে জানার কথা, বিশ্বের যে কোন গোলার্ধে অভিবাসনযোগ্যতা আমার ছিল ও আছে। যোগ্যতা ও পেশাগত সুবিধায় সহজ সুযোগের হাতছানিও এসেছে এন্তার। সেসব সুযোগের কোনটি গ্রহণ করলে অভিবাসীজীবনে পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষা ও পড়াশুনা হতো সহজ, সুখকর ও সাফল্যমন্ডিত। অভিবাসিত না হওয়ায় প্রজন্মের কাছ থেকে কথাও শুনতে হয়েছে। নিজে শেকড়ে থেকেই উচ্চাকাঙ্খাময় সময়ের কাছে হার মেনে সন্তানদের উড্ডীন করার চেষ্টা করেছি, করে যাচ্ছি। চাকচিক্যময় জগতকে কোনদিন নিজের করিনি, কিন্তু কেন? কারণ তৃণলগ্নতা থেকে উন্মুল হতে চাইনি। শেকড় আঁকড়ে থাকার প্রবল আগ্রহ লালন করে গেছি। শেকড়চ্যূত না হতে চাওয়ার তীব্র বাসনা পুষেছি। যে কর্দমাক্ত তৃণময় গ্রামের কাদা মেখে নাগরিক অহমিকা ও অন্ত:সারশূণ্য জগতে প্রবেশ করেছি, সেই কর্দমাক্ত পা কখনো নাগরিক করে তুলতে চাইনি। অভিবাসী তো নয়ই। মনে পড়ে, বিভুঁইয়ের সাময়িক সফরের হাতছানিতে একদা আব্বাকে চিরবিদায় জানাতে পারিনি মৃত্যুকালে। সে বেদনা ভরজীবন তাড়িয়ে বেড়ায়। তাই মাকে ছেড়ে কোথাও যেতে চায়নি মন।
    এবারও ছিল অনিবার্য পারিবারিক সিডিউল। মার্চে হাঁটুর চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ্য মাকে যখন ছেড়ে ঢাকা ফিরি, তখন তিনি জানতেন সেই বহি:গমনের আদ্যপান্ত। বলেছিলেন, ঢাকা গিয়ে খোজ রাখবা, আমার কখন কী হয় ! অনিবার্য পারিবারিক সিডিউল বাতিল করতে নির্দেশ দেননি তিনি। জেনেছি, যে ক’য় প্রতিবেশির কাছে তিনি মনের কথা বলতেন- একজনকে বলেছেন, আমার দিন আর বেশি নেই। ও আমার বিদায় দিতে পারবে কী না জানি না !
    শেষমার্চে নিজের সময় আর বেশিদিন নেই বলার দু সপ্তাহের মধ্যে মধ্যএপ্রিলে তিনি স্ট্রোকে বাকরুদ্ধ হন। বলা, শোনা ও বোঝার উর্ধ্বে গিয়ে বেঁচে রইলেন মাত্র ২৫ দিন।
    ৫.
    মা, তুমি কী জানো, ভরজীবন মা ময়, শেকড়ময় ছিলাম বলে বিদেশে থিতু হতে চাইনি। তোমাকে ছেড়ে দূরে থাকার আশঙ্কায় ঝামেলাময় জীবনকেই মেনেছি নিজের ভবিতব্য। শেষসময়ে সব যাত্রা বাতিল করে তোমার কাছে ফিরে এসেছি। দূরদ্রাঘিমার গন্তব্য ছেড়ে গন্তব্য করেছি তোমার শিয়র। জীবনের প্রান্তবেলায় নির্বাক তাকিয়ে, চোখ ঘুরিয়ে তুমি কী তা বুঝেছিলে ? এখন যেখানে আছো, বুঝতে কী পারছো, তোমার সমাধিপ্রান্তে দাঁড়িয়ে শোককাতর সন্তান আকাশবিদীর্ণ করা কান্নায় জেরবার ! আগের মতো ফেরার তাড়া আজ আর যেন নেই তার।
    বলতে না পারো, জীবনের প্রভাতবেলার মতো অন্তত স্বপ্নে দেখিও !!

    7
    6 Comments

Friends

Profile Photo
ayan
@ayan
Profile Photo
Md. Ashraful Islam
@ashrafulku-bd
Profile Photo
Agustin Shields
@agustin56p3543
Profile Photo
Yana
@yana20
Profile Photo
Elsa Andronicus
@elsaq07094264
Profile Photo
Yohann-Sacapuntasez
@yohann-sacapuntasez
Profile Photo
Tania Akther Koli
@iamtaniakoli
Skip to toolbar