Profile Photo

Nazmul Huda ParvezOffline

  • nibadito
  • Profile picture of Nazmul Huda Parvez

    Nazmul Huda Parvez

    4 years ago

    মধ্যরাতের কবিতা-
    “ সুখী হও তুমি”
    – নাজমুল হুদা পারভেজ
    সময়ঃ-রাত তিনটা ৫ মিনিট
    তারিখঃ-২১-০৫-২০২২ইং।
    স্বজনদের আহাজারি, লবানের গন্ধে বিদগ্ধ পৃথিবী
    কোরআন তেলাওয়াত হচ্ছে ঘরে সুরেলা কণ্ঠে-
    বড়ই পাতার গরম জলে মশারির ভিতর-
    শবদেহটাকে পবিত্র করা হচ্ছে ধর্মীয় তন্ত্রে।
    আত্নার মৃত্যু নেই বলেই দেখছি আয়োজন
    বিদায়বেলা বিষন্ন বদনে আমাকে দেখছে স্বজন,
    আমি দেখছি ওদেরকে,আমাকে দেখছেনা ওরা
    আমার শবদেহের সামনে কাঁদছে আপন জন।
    বন্ধু-শত্রু, গ্রামবাসীরাও অমাকে দেখতে এসেছে
    সকলকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি- বিধির লিখন,
    বন্ধুদের বুকে আপনজনদের মতোই কষ্টের দীর্ঘশ্বাস
    শত্রæদের মনের কথাগুলো,পড়তে পাচ্ছি এখন।
    একী ফাল্গুনী ? দেখতে এসেছে? বড্ড অবেলায়
    বুকের ভিতরে ক্ষয়ে যাচ্ছে কষ্টের কান্না,
    আমার অন্তর্ধানের খবর শুনে এসেছে ও-
    শত চেষ্টাতেও চোখের জল আটকাতে পারছেনা।
    পরনে নীল শাড়ি,কপালে নীল টিপ
    নীলকে পছন্দ করতাম জেনেই এ ভূষণে
    আমাকে শেষ বিদায় জানাতে ফাল্গুনী এসেছে
    বলেছিলাম ওকে কষ্ট পেওনা আমার মরণে।
    ওর বাড়ির সামনে দিয়ে নেবে গোরস্থানে
    যাবার সময় শেষ দেখাটা দেখতে পেতো,
    তবুও কেন কাছে থেকে দেখতে আসা?
    তবে কি সত্যিই ও আমাকে ভালোবাসতো?
    আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছি
    একই পাড়ায় বসবাস, ছোট থেকেই মাখামাখি,
    ক্যাম্পাসে হাতে হাত রেখে ঘুরে বেড়াতাম.
    দু’জনায় বুকে স্বপ্নের বাসা বাঁধতাম আঁকিবুকি।
    আমি আমির আলী হলে ও সামছুন্নাহার হলে
    আমার অসুস্থতার খবর পেলেই ছুটে আসতো
    অস্থির ফাল্গুনী, কেন জ্বর এলো সুধাতো
    আমার মাথা কোলে নিয়ে পাশে বসতো।
    জ্বরে শরীর পুড়ে, প্রশ্নে পোড়ে মন
    বলেছিলাম তোমার কোলেই যেন হয় মরণ.
    মুখে হাত চেপে বলেছিল, বলতে নেই
    এসব কুলক্ষুনে কথা বলতে করেছিল বারণ।
    বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে আসার পর বদলে গেছে
    আমি গরিব ছিলাম,কৃষকের সন্তান বলে
    ওর অভিভাবকরা অমাদের ভালোবাসা মেনে নেয়নি
    পিতৃতান্ত্রিকতায় অসহায় ফাল্গুনী ,ছেড়ে গেল চলে।
    সময়ের ব্যবধানে ফাল্গুনী অনেক বদলে গেছে
    নীল শাড়িটা বদলিয়েছে কতো শত বার
    বদলাতে পারিনি আমি,সাদা রং বদলায়না
    সাদা কাপড়ে চলে যাচ্ছি, ফিরবোনা আর।
    আমার নিকট আজ উপেক্ষিত ফাল্গুনীর অশ্রু
    আমার মা,স্ত্রী, সস্তান- কাঁদছে যারা,
    পৃথিবীকে জানাচ্ছি চিরবিদায়, ছেড়ে যাচ্ছি একা
    দগ্ধ হৃদয়ে অচিনপুরে, যাচ্ছি সকলকে ছাড়া।
    জানাজা শেষে আমাকে খাটলিতে তোল হলো
    চার কাঁধে, ওরা বলছে, গোরস্থানে চলো-
    বিদায় স্বজন , বিদায় হে প্রিয় ধরা
    পথে ফাল্গুনীকে দেখলাম, চোখে অশ্রু ভরা।
    আমার প্রিয় নীল শাড়ি জড়িয়ে এসেছিলে
    বিদায় জানাতে নাকি উপহাস করতে আমায়?
    সুখে থেকো ফাল্গুনী, অনেক সুখী হবে তুমি
    তিরোধানে যাবার প্রাক্কালে আশীর্বাদ করে গেলাম।

    7
    6 Comments
Skip to toolbar