Profile Photo

আবির হাসান সায়েমOffline

  • Abir-Hassan-Sayem
  • #ধারাবাহিক
    একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১৭)
    ~ আবির হাসান সায়েম

    সারাদিন শুয়ে থাকতে ভালো লাগে না। শরীরটাতে তেমন শক্তিও নেই যে বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসব। জ্বর সেড়ে গেছে কিন্তু রেখে গেছে একহ্রাস দুর্বলতা।
    সকালে ফরিদ বই খাতা নিয়ে এসে খানিক্ষণ পড়ে যায়। ছেলেটা দারুণ মেধাবী। আধ ঘন্টায় কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘বিদ্রহী’ কবিতাটির আট লাইন মুখস্ত করে ফেলল। আর দুইদিনের মধ্যেই হয়তো পুরোটা মুখস্থ করে ফেলবে।
    শিলা গত দুইদিন ধরে আসে না। তার জায়গায় এখন আসে নাবিলা। একটু ঘন ঘনই আসে। তিনবেলা খাবার দিয়ে যায়। মাঝে মাঝে বিকেলে গল্প করতে আসে। সেটা সমস্যা না। কিন্তু মেয়েটা প্রায়ই রাতে আমার ঘরে এসে চেয়ারে বসে থাকে।
    একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ঘুমন্ত আমার দিকে। একদিন হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙে গেলো। আমি চেয়ে দেখি একটা মূর্তি বসে আছে চেয়ারে। প্রথমে ভেবেছিলা শিলা। কিন্তু শিলার অবয়ব তো এইরকম না। আমার বুকটা ধক করে উঠল। অবয়বটা যদি না বলত,
    ‘আপনি ভয় পাবেন না। আমি নাবিলা। আপনাকে দেখতে এসেছিলাম। ‘
    তাহলে হয়তো চিৎকার দিয়ে উঠতাম৷ এরপর আরো দুইদিন ঘুম থেকে উঠে দেখি নাবিলা বসে আছে। চোখে চোখ পরতে একটি মিষ্টি হেসে উঠে চলে যায় ।
    যখন গল্প করতে আসে তখন কি স্বাবলিলভাবে কথা বলে যায়। মেয়েটার গলার সুর মিষ্টি। আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি, যে সব মেয়েরা গান করতে পারে না তাদের গলা ভারী মিষ্টি হয়।
    শিলার সাথে নাবিলার ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলা দরকার। ফরিদকে দিয়ে আজ সকাল খবর পাঠিয়েছি। আজকে বিকালে নাকি আসবে।
    আমি ইজি চেয়ারে জানালার দিকে মুখ করে বসে আছি। দিনের শেষ আলো এসে পরেছে গায়ে। কি ম্লান-স্নিগ্ধ আলো। উজ্জ্বল কিন্তু চোখে লাগে না, গরম কিন্তু গা পোড়ে না। দরজায় টোকা দিয়ে শিলা ভিতরে ঢুকল। তার হাতে একটা ব্যাগ।
    শিলার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বললাম,
    “কিরে চশমা পরা শুরু করলি কবে থেকে? ”
    ” আরে চোখে ঝাপসা দেখি তাই চশমা নিলাম। এই নে এইটা তোর জন্য। ”
    “কি এইটা? ”
    ” পাঞ্জাবী। দেখ পছন্দ হয় কি না! ”
    আমি ব্যাগ থেকে পাঞ্জাবী বের করলাম। একটা না দুইটা পাঞ্জাবী।
    “দুটো পাঞ্জাবী কেনো?”
    “ফিরোজা রঙেরটা গায়ে হলুদে পরবি আর বাদামীটা বিয়েতে। পছন্দ হয়েছে? ”
    “হ্যা হয়েছে।”
    “কোনটা বেশি পছন্দ হয়েছে? ”
    ” ফিরোজা রঙেরটা। ”
    ” ফিরোজাটা নাবিলা পছন্দ করেছে। আর আমি বাদামীটা। ”
    “ওহ আচ্ছা। বাদামীটা যে কম পছন্দ হয়েছে তেমনটা না.. ”
    শিলা মুচকি হেসে বলল,
    “হ্যা বুঝেছি। ”
    ” আচ্ছা শোন তোর সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। বস এইখানে। ”
    শিলা একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসল।
    “আজ তোর সাথে অনেক্ষন কথা বলব। গত দু’দিনের হিসেব চুকিয়ে নিবো। বল কি বলবি। ”
    “আসলে কিভাবে যে বলি। নাবিলা প্রতিরাতে আমার রুম এসে বসে থাকে। আমার ধারণা, আমি ঘুমিয়ে গেলেই সে আসে আর ভোর হলে সে রুমে চলে যায়। ”
    শিলার মুখভঙ্গি কিছুটা পরিবর্তীত হলো। কপালের চামড়া ভাজ করে বলল,
    ” প্রতিরাতেই আসে? ”
    “আমার ধারণা তাই। আমার ঘুম রাতে যতবার ভেঙেছে ততবারই একই দৃশ্য দেখেছি। রকিং চেয়ারটাতে বসে আমার দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে আছে। ”
    “আমি ওর সাথে কথা বলব এই ব্যাপারে। ”
    “রাগারাগি করিস না ওর সাথে। বুঝিয়ে বলিস। ”
    “আচ্ছা। ”
    কিছুটা ইতস্তত করে শিলা উঠে পরল। আমি বললাম,
    ” কি হলো উঠে যাচ্ছিস কেনো। বস কিছুক্ষণ কথা বলি। ”
    ” মাথাটা ঝিম ধরে গেছে৷ কথা বলতে ইচ্ছে করছে না৷ ”
    শিলা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।
    আজ সকালে নিজের বাসায় চলে এসেছি। পাচ দিন পর শিলা’র গায়ে হলুদ। আত্মীয়-স্বজন আসছে শুরু করেছে। এর মধ্যে একটা ঘর দখল করে থাকাটা মোটেই ভালো দেখায় না। শিলা আসতে দিতে রাজি হয় নি, শরীরটা এখনো পুরোপুরি ঠিক হয় নি। নিজে রেধে খাওয়ার মতো শক্তি নেই। আমিও এই ব্যাপারে খানিকটা চিন্তায় পরে গিয়েছিলাম। শেষে সিদ্ধান্ত হয়, ফরিদ তিন বেলা গিয়ে ওই বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসবে।
    ঘর একদম চকচক করছে। শিলা, আমার আসার আগেই লোক পাঠিয়ে পরিষ্কার করিয়ে রেখেছে। ফজলুল সাহেব বিকেলে এসে খোজখবর নিয়ে গেছেন। মামা আর কাদেরের সাথেও কথা হয়েছে। কাদেরের পরীক্ষা চলছে। আর তিনটা বাকি।

    চলবে…

    4
    5 Comments
    • সুন্দর হচ্ছে। চলুক।

    • অনেকদিন পর গল্প ও গল্পকারকে খুজে পেলাম। কেমন যাচ্ছে দিনকাল বন্ধু?

    • বিদ্রোহী কবির জন্মদিন আজ। তার স্মরনে “বিদ্রোহী” কবিতার শেষ দুটো লাইন আপনার জন্যে,
      “আমি চির-বিদ্রোহী বীর –
      বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির!”

    • নীল ত্রিপুরা আপু, ভালো আছেন? আমি বেশ আছি!

    • আপু বানিয়ে দিলেন দেখি। আপু বলেন ক্ষতি নাই, আরো ভালো গল্প চাই।

Skip to toolbar