Profile Photo

অভিমানী মনOffline

  • ovimanimon
  • Profile picture of অভিমানী মন

    অভিমানী মন

    3 years, 11 months ago

    ঈদ মুবারক

    দুপুর বেলায় হঠাৎ ফোন পাই—নীচে আয়; আমি নূরুর দোকানে।
    পঁচিশ বছর আগের কন্ঠ; চিনতে তবু ভুল হয় না।শার্ট চাপিয়ে নিচে নেমে আসি ।
    নূরুরও বয়স বেড়েছে। থুতনিতে একমুঠো পাকা দাড়ি।
    রায়হান বলে—এইতো আমি; টাক্লু; চিনবি কী করে!
    ছিপছিপে রায়হানের ছিল একমাথা ঝাকড়া চুল। দিন যায়; মানুষ বদলায়।
    আমি বলি—তুই না কানাডায় থাকিস?
    হ্যাঁ পরশু এলাম। মা করনায় মারা গেছে। খবর পাস নি?
    না। কেউতো বলে নাই।
    দুইযুগ পর দুই বন্ধু শেষ রোজার দুপুরে পর্দা টাঙ্গানো মহল্লার চা দোকানে বসে চা সিগারেট খাই। রায়হান বলে—এখানে পোষাবে না। চল, শাকুরায় যাই।
    বাসায় বলে আসি নি তো।
    যা বাটা; ফোন করে দে।
    ছোটোবেলা থেকে রায়হান নাছোড় বান্দা। আমার উপর ওর যত হম্বিতম্ব।
    যেতে যেতে মান্নানকে ফোন করি।
    তিনবন্ধু ছিলাম কলা ভবনের ডানপিটে ছেলে। আমি কবিতা লিখতাম; রায়হান ছবি আঁকতো; মান্নান তুখোড় ছাত্রনেতা—প্রগতির ঝান্ডা উড়াবেই উড়াবে!
    আর এখন! পঁচিশটা বছর যেন কর্পুরের মতন উবে গিয়ে শেষ রোজার বিকেলে আমাদেরকে মদের দোকানে নিয়ে আসে।এই গরমে আমরা ভদকা নিয়ে বসি।
    রায়হান বলে—কিরে মান্না, তোর গায়ে মুজিব কোট কেন!
    মান্নান হাসে—জানিস না! আমিতো এখন সরকারি দলের নেতা।
    রায়হান ফিক করে হেসে ফেলে—ভাল; জামাতে যে যোগ দিস নি; এইটাই শুক্রিয়া।
    ছাত্র জীবনের পর বহুদিন আমরা ছিলাম বদ্ধ বহেমিয়ান।
    রায়হান ভ্যানগগ হতে চেয়েছিল।সেইমতে রাস্তার পাসে ক্যানভাস টাঙ্গিয়ে ছবিও আঁকতো। বিক্রিও হতো টুকটাক।চুমকি হঠাৎ বিদেশে যাওয়ার বায়না ধরে। আমরা বুঝাই—যা, বিদেশে ছবির কদর বেশি…।
    ওরা কানাডায় যায় বটে; রায়হান কসাইখানায় শুয়োর কাটার কাজ নেয়।চুমকি পায় মেড সার্ভেন্টের চাকুরি। এরপর দুজনের আর দেখা হয়নি!
    মান্নান মাতাল হয়ে জানতে চায়—চুমকি গেল কই?
    গোল্লায়। তুই যেমন বিপ্লব ছাইড়া গোল্লায় গেছস…।
    চাঁন-রাইতে ভরপুর মদ খেয়ে নব্য আওয়ামি নেতার গাড়িতে চড়ে বাসায় ফিরতে ফিরতে আমাদের উপলব্ধি হয়—বৃহৎ-চিন্তাগুলো ক্ষুদ্র স্বার্থের কাছে হেরে যায়। আর আমরা গিনিপিগ হয়ে যাই!
    নিরবতা ভেঙ্গে মান্নান বলে—তুই ঠিক আছস, খোকন; আগেও কবিতা লিখতি, এখনও লিখস; চালায়া যা…।
    শব্দ আর বাক্যের প্রেমে পড়া এই আমিওযে আটচল্লিশ বছর বয়সে এসে তেল-নুন-মরিচের হিসাব-নিকাশের কাছে ধরা খেয়ে গেছি—এই কথা ওদের বোধগম্য হয় না।
    গলির ভিতর ঢুকতেই ঝমঝম করে বৃষ্টি নামে।
    রায়হানবলে—নাম। তোর বাসা এসে গেছে।যে পরিমান টালটক্কর হয়া আছস, যেতে পারবিতো?
    নেতা বলে কথা; মান্নান হাজার টাকার চারটা নোট আমার হাতে দিয়ে বলে—করনার মধ্যে দেখা করাওতো কঠিন। ভাবিকে দিস। ওকে, বাই। ঈদ মুবারক, বন্ধু।

    20
    5 Comments
Skip to toolbar