Profile Photo

Ruhullah Arefin (Dipto)Offline

  • Dipto
  • Profile picture of Ruhullah Arefin (Dipto)

    Ruhullah Arefin (Dipto)

    3 years, 11 months ago

    একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর থেকে খুব একটা সম্পের্কর বিচ্ছেদ ঘটে না বল্লেই চলে। যতই চটাচটি, ঝগড়াঝাটি, মুখ কালাকালি, কানাকানি হোক না কেন নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে হাই/হ্যালো চলতেই থাকে….
    ঠিক স্কুল জীবনের বন্ধুগুলো যাদের সাথে (কখনো ভোলার চর কখনো কীর্তনখোলার পার দিন রাত এক করে আড্ডাবাজি, মুভি দেখা।
    পক্ষীকূলের প্রায় সবারই তখন অফুরন্ত সময় এবং কর্মচাঞ্চল্য আড্ডাবাজির সাথে কলব্রিজ, টুয়েন্টি নাইন। সারাদিন এর পোস্টে গিয়ে বিটলামি, তো অন্য পোস্টে গিয়ে গুরুগম্ভীর কমেন্ট। তর্ক-বিতর্ক, পচানি-চেচানি-ক্ষ্যাপানি, লেখালেখির কাঁটাছেড়া, বিশ্লেষণ সবই চলতো পুরোদমে।)
    একে অপরের বিপরিত হলেও বন্ধুত্বের কোন টানাপোড়নে পরতে হত না তাদের নিয়ে ৷ হাশি,ঠাট্টায় মেতে থাকা ছন্নছাড়া, সদা উৎফুল্লে থাকা একটা বানরের দল একদিন বড় হয়ে যায় । মোটামুটি মাধ্যমিক টা পার করার পরে, আমরা প্রত্যেকেই অনেকটা দিক বেদিক হয়ে পরি;নতুন কলেজ, নতুন বন্ধু, নতুন পরিবেশ , আমদ, আহ্লাদ আর নতুন প্রিয়শী…..
    এখানে কেউ আসে প্রয়োজনে, কেউ বা আবার শ্রোতে ভাসতে ভাসতে এসে মেঘের সাথে মিলিয়ে যায়।
    কলেজ থেকে ভার্সিটির মাঝামাঝি এই সম্পর্কগুলোও সুন্দর থাকে৷ সম্পর্ক গুলোর বিচ্ছেদ ঐ ভাবে হাঁক-ডাক দিয়ে হয় না, সম্পর্কগুলো থেকেই যায়, শুধু এর আষ্টেপৃষ্ঠে লেগে থাকা ভালোবাসা কমতে থাকে ধিরে ধিরে । আর এই বয়সটাতে প্রত্যেকেই যথেষ্ট ম্যাচিউর, তাই আপনি কখনো বুঝতে পারবেন না, কে আপনাকে ভালোবাসে, কার কাছে আপনার গুরুত্ব কতটুকু । এখানে আমার মত বন্ধুসুলভ মানুষগুলোই সব থেকে বেশী ঠকে।আমারা মাত্র দু’দিনের ভালো সম্পর্ক গুলোকেও আমাদের প্রায়োরটি লিস্টের প্রথম সারিতে রাখি। আমাদের ছোটছোট পরিকল্পনা গুলোতেও আমরা তাদের রাখার চেষ্টা করি। অথচ দিন শেষে দেখা যায় তাদের কাছে আমরা শুধু মাত্র প্রয়োজন….
    তারা যে আমাদের ভালোবাসে না তা নয়, তারাও আমাদের ভালোবাসে তবে সেটা নিঃস্বার্থ নয়। তারা কখনোই শুধু মাত্র আমাদের জন্যই কোন একটা দিন হাতে রাখে না।
    এই দুদিনের সম্পর্ক গুলো ভেঙে যাওয়ার মূল কারন হলো আমাদের অতি প্রত্যাশা। আমাদের ভিত্তি টা অতি প্রত্যাশা নিয়ে গড়াতো তাই আমাদের প্রত্যাশার কোন শেষ থাকে না৷ এক্ষেত্রে জীবনের দ্বিতীয়আর্ধে এসে প্রথম সারিতে যায়গা করে নেয়া আমাদের প্রিয় মানুষগুলো যে একেবারেই আমাদের ডাকে সারা দেয় না, তা কিন্তু নয়। তবে কোন প্রকার দায়বদ্ধতা ছাড়া যদি কেউ না আসে, যদি মধ্যরাতে ফোন দিয়ে না বলে “চল কাল ভোরে হাঁটতে যাই৷” যাদের সাথে চলতে গেলে আপনার জামার ভাজের দিকে নজর রাখতে হয় তারা আপনার আমার প্রিয় হতে পারে কিন্তু আমরা তাদের কতটুকু প্রিয় হতে পেরেছি, তাদের মনে কতটুকু যায়গা দখল করতে পেরেছি সে ব্যপারে সন্দেহ না থাকলেই নয়৷
    আমরা যারা বন্ধুসুলভ এবং এক্সট্রোভার্ট মাইনডেড তারা সব যাগাতেই নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারি। সবখানেই হাসিখুশি থাকি, সবাইকে মাতিয়ে রাখার চেষ্টা করি তাই হয়তো কার জীবনে কতটুকু যায়গা দখল করে আছি তা নিয়ে কোন মাথা বেথা থাকে না৷
    কিন্তু বয়স তো আর কম হলো না, একদম বুড়ো হয়ে গেছি৷ জীবনের হালখাতা এখনো যদি খুলে না দেখি আর কবে?
    কিছু কিছু হিসেব নিকেশ এখন এমনিতেই মাথায় ঘোর পাক খেতে থাকে ।

    4
    5 Comments
Skip to toolbar