-
💁♀️আজকের টপিকঃ #স্বাভাবিক_জীবনে_গণিতের_খুঁটিনাটি।
🤷♀️আমাদের অনেকেরই ধারণা গণিত বিষয়টি আমাদের জীবনে তেমন একটা প্রয়োজন নেই। আপনাদের কথা বাদ-ই দিলাম, স্কুল কলেজ থাকাকালীন সময়ে আমি নিজেই মনে করতাম গণিত বিষয়টি অযথা রাখা হয়েছে। এটি বাদ দিয়ে দেওয়াই উত্তম। কারণ, তখন জানতাম না যে গণিত কথা বলতে পারে🙄। আমাদেরকে গাইড করতে পারে। আমাদের ভালো মন্দ বিবেচনা করতে পারে ইত্যাদি। আর এজন্য হয়তো গণিত বিষয়টি বিরক্ত লাগতো। ইউনিভার্সিটিতে এডমিশন নেওয়ার পরে কোনো এক অজানা আদ্যাশক্তি মহামায়া আমার ধারণাটি সম্পূর্ণরুপে পরিবর্তন করে দিয়েছে। আসলে স্কুল কলেজে থাকাকালে প্রেমে পড়ে সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করতে করতে কবি ও সাহিত্যেক হয়ে গিয়েছিলাম। আর বর্তমানে কোনো এক শক্তি আমাকে হঠাৎ একদিন কল্পনার জগতে নিয়ে গিয়ে বললো, অনেক তো সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করেছ। এবার একটু তোমার অপছন্দের বিষয়গুলো নিয়ে রিসার্চ করে দেখ না একটু। তখনই আমার সবচেয়ে বিরক্তিকর সাবজেক্টটির কথা মাথায় চলে এলো। বুঝতেই পারছেন যথারীতি গণিত নিয়ে ভাবা শুরু করে দিলাম। তারপরই আমি জেনে গেছি গণিত খুবই মজার একটা বিষয়। কেন মজার বিষয় সেটাই উপস্থাপিত করতে যাচ্ছিঃ1️⃣বায়োলজিক্যাল ম্যাথমেটিটকস
এখন বলবেন, এটা আবার কেমন সাবজেক্ট🙄। কখনো কি শুনেছেন বা জানেন গণিতে বায়োলজির ক্রোমোজোম বিদ্যমান রয়েছে? বলবেন আমার মাথা মনে হয় গেছে😜😜। আজকে মনে হয় আমি ড্রিংসটা অত্যধিক মাত্রায় গ্রহণ করে ফেলেছি🥴🤣।
আমরা জানি যে, মেয়েদের x,x এবং ছেলেদের x,y ক্রোমোজোম রয়েছে যেগুলো বংশগতির মৌলিক একক। মানে, মেয়েদের x আর ছেলেদের x ক্রোমোজোম মিলে ‘মেয়ে সন্তান(xx)’ জন্ম নেওয়ায়। আর মেয়েদের x এবং ছেলেদের y ক্রোমোজোম মিলে ‘ছেলে সন্তান(xy)’ উদ্ভব ঘটে।
এবার সেটি সংখ্যা দিয়ে বিবেচনা করে দেখি…
x=১ and y=২। মানে হলো, ১= মেয়ে এবং ২= ছেলে বুঝায়।
xx= ১×১=১(মেয়ে)।
xy=১×২=২(ছেলে)।
পশ্ন থাকতে পারে,
আমি মেয়েকে কেন ১ ধরেছি?
মেয়েকে ২ বলতেও তো পারতাম।
বাস্তবের দিকে লক্ষ করুন না একটু, ছেলেরা মেয়েদের থেকে হাইট, ওয়েটস সবকিছু দিয়েই বড় হয়। আর ১ যেতেতু ২ য়ের চেয়ে ছোট তাই ১ দিয়ে মেয়েকেই বুঝাবে। এছাড়াও, ছেলেদের ক্রোমোজোম মেয়েদের তুলনায় কিছুটা বড় হয়।
এই জন্য আমি গণিতের ১ও ২ এই সংখ্যা দুইটিকে ক্রোমোজুনাল নাম্বার বলে থাকি।
আরো অনেক বায়োলজিস্ট টপিক আমি সংখ্যা দিয়ে ব্যাখা করতে পারবো। এমনকি একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বায়োলজি বইগুলোর প্রতিটি অধ্যায় সংখ্যা দিয়ে ব্যাখা করতে পারবো। এগুলো আস্তে আস্তে জেনে যাবেন, ইনশাআল্লাহ।
আশা করছি এতক্ষণে বুঝে গেছেন, বায়েলজিক্যাল ম্যাথমেটিকস টা আসলে কি😁😁।2️⃣ট্রুথফুল নাম্বার(সত্যবাদী সংখ্যা)
অবাক হয়ে বলবেন এটা আবার কি🙄। এরকম তো আর আগে কখনোই শুনি নাই। সংখ্যা আবার সত্যবাদী হয় কিভাবে🙄।
হ্যা, আসলেই অবাক হওয়ার মতো বিষয় যে সংখ্যাও সত্য বলতে পারে।
১÷১১= ০.০৯০৯০৯০৯০৯………. পাওয়া যায়। কথা হলো সেইটা তো আমরা সবাই জানি। নতুন করে উপস্থাপনের কি আছে এতে তাই মনে পশ্ন জাগছে। ০.০৯০৯০৯০৯……. সংখ্যাটিকে দশমিক য়ের পর থেকে পড়ুন। কি দাড়ায় বলুন তো একটু। চলুন একটু পড়েই শুনাই, শূন্য নয় শূন্য নয় শূন্য নয়…………. চলছে। লক্ষ্য করুন, ১÷১১ সংখ্যাটির উত্তর টি কিন্তু সত্যি ০ না। সেটি বলে যাচ্ছে যে, আসলেও সে শূন্য নয়। মানে ০.০৯০৯…. সংখ্যাটি সত্য কথাই বলছে যে সে সত্যি শূন্য নয় বরং শূন্য থেকে বড়😁😁। আর এই জন্য ১÷১১ সংখ্যাটিকে আমি ট্রুথফুল নাম্বার বলে আখ্যা করেছি😁😁।3️⃣লায়ার নাম্বার(মিথ্যাবাদী সংখ্যা)
যেতেতু মিস্টার সংখ্যা মামা সত্য বলতে পারে সেহেতু মিসেস সংখ্যা মামানি মিথ্যার আশ্রয় নিবে সেটা মেনে নেওয়া কোনো দিক থেকেই অন্যায় হবে না। চলুন সেই মিথ্যাবাদী সংখ্যাটি জেনে আসি। ১০০÷৯৯=১.০১০১০১…….. আগের মতোই পড়ে দেখুন সংখ্যাটি ‘শূন্য এক শূন্য এক…… ‘ বলেই যাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন এটি সঠিক নয়। ১.০১০১০১….. কখনোই শূন্য এক হতে পারে না। বোঝাই যাচ্ছে এটি মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। তাই ১০০÷৯৯ সংখ্যাটিকে আমরা মিথ্যাবাদী সংখ্যা বলে মেনে নিতে পারি😁😁।4️⃣ গ্রেডী নাম্বার(লোভী নাম্বার)
আমরা যেমন ভালো কিছু দেখলে তার লোভে পরে যাই ঠিক তেমনি সংখ্যার মধ্যেও কিন্তু লোভী সংখ্যা আছে। ২÷১১= ০.১৮১৮১৮১৮….……। এবার উক্ত সংখ্যাটিকে ঠিক এভাবে ” এক আট এক আট এক আট………. ” খুবই দ্রুত পড়তে থাকেন। দেখবেন এটি শুধু ‘টেকা টেকা টেকা……’ করছে মনে হবে। যেই সংখ্যা টেকা টেকা করে সেটি লোভী সংখ্যা ছাড়া আর কি হতে পারে!🤣🤣।5️⃣ব্যাড নাম্বার(খারাপ সংখ্যা)
আমাদের মধ্যে ভালো খারাপ থাকবে কিন্তু সংখ্যার মধ্যে থাকবে না সেটা কি মেনে নেওয়া যায়!!
৪৫÷৯৯=০.৪৫৪৫৪৫……… সংখ্যাটিকে খুবই দ্রুত ঠিক এভাবে পড়ুন, চার পাঁচ চার পাঁচ চার পাঁচ…………. দেখবেন মনে হবে সংখ্যাটি পাচার পাচার বলছে🥴🥴। যে সংখ্যা পাচার পাচার বলছে সেই সংখ্যা তো মারাত্মক খারাপ ছাড়া কিছু হতে পারে না🥴🤣।6️⃣এ্যাউয়ার নাম্বার(সচেতন সংখ্যা)
৫৪৯÷৯৯৯=০.৫৪৯৫৪৯৫৪৯……………. এই সংখ্যাটিকে এভাবে ” পাঁচ চার নয় পাঁচ চার নয়…….’ অনেক দ্রুততার সাথে পড়লে মনে হবে সংখ্যাটি পাচার নয় পাচার নয়….. বলছে😁😁। তার মানে সংখ্যা আমাদের সচেতন করছে আমরা যেন কাউকে পাচার না করি। এটিকে ভালো সংখ্যা দিয়েও আখ্যা করা যায়। এটিকে আবার গার্ডিয়ান কিংবা এ্যাডভাইজার নাম্বার বলাও ভুল হবে না। যেতেতু এটি আমাদের সচেতন করছে খারাপ কাজ করা থেকে সেতেতু এটি অবশ্যই সচেতন নাম্বার।7️⃣চারপাশ নাম্বার
৪৫÷৯৯=০.৪৫৪৫৪৫৪৫……… সংখ্যাটি পড়লে বুঝা যায় এটি চারপাশ চারপাশ বলে চিলাচ্ছে। এটিকে উপকারী সংখ্যাও বলা যাবে।➡️এরকম আরো অনেক বিষয় (পদার্থ, সাহিত্য) আমি গণিত দিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারবো। আপনারা একটু চিন্তা করলেই পারবেন। আজ এ পর্যন্ত থাক। পোস্টটি এমনিতেই অনেক বড় হয়ে গেছে😁😁।
🤷♀️অবশেষে অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন গণিত আসলেই অনেক মজার একটা বিষয়। যেটি আমাদের মানবসমাজের পরিপূরক। যেটি আমাদের জীবনের সাথেই মিলে যায়। আমাদের চলাফেরা কে মেনে নিয়ে চলে সেটি অবশ্যই মজার হওয়ারই কথা। কিন্তু ভুলবশত আমরা না-বুঝে গণিতকে অহেতুক অপ্রয়োজনীয় মনে করি। তাই এখন থেকে গণিত করার সময় চিন্তা করে মজা নিয়ে স্টাডি করবেন।
4 Comments
Friends
শাহাদাতুর রহমান সোহেল
@sr-sohel
আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির
@anwar-parvez-nur-shishir
Md.Emamuzzaman Wahedi
@emamuzzaman
মাহ্দী সাকিব
@mahdi-sakib
Ranuka Ranoo
@ranoo
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam
আবির রাইয়ান সামি
@abir-raiyan-sami
Mohammad Saidur Rahman
@msrsayed2004gmail
Mohammad Salimuzzaman
@md-salimuzzaman-salim


অভিনন্দন।