-
ক্লান্ত হয়ে বসে আছি মরুভূমির বালির চূড়ার উপরে। কিভাবে এখানে এলাম, কেনই বা এলাম কিছুই আমার মনে নেই। সারা শরীরে ভীষন ব্যাথা আমার, কেন কেউ উদুম কেলিয়েছে আমাকে। যখন চোখ মেললাম দেখি ভীষন সুন্দর এক আকাশ। এত তারার মেলা আমি কখনো দেখিনি বলতে আকাশেও এত তারা কখনো একসাথে দেখা যায় আমি কল্পনা করিনি। প্রতি মুহূর্তেই যেন তারা খসে পড়ে কোথাও মিলিয়ে যাচ্ছে। কোথাও যেন শুনেছিলাম খসে পড়া তারা দেখে কেউ যদি কিছু মন থেকে চায় তাহলে নাকি সে প্রত্যাশা পূর্ন হয়। কিন্তু কি চাইবো আমি? কি প্রত্যাশা আছে আমার? ভাবতে ভাবতে চোখ বন্ধ করলাম।
ভীষন ঠান্ডা লাগছে, মনে হচ্ছে আমি কোনো সাইবেরিয়ান অঞ্চলে এখন। হাত পা জমে যাচ্ছে ঠান্ডায়, নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে। হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানি শুনতে পাচ্ছি স্পষ্ট যেন স্কুলের শেষ ঘণ্টার মত টিং টিং টিং টিং করে দ্রুত চলছে। “আচ্ছা! আমার হৃদপিন্ড তো পেশির তৈরি কোনো ধাতবের নয়। তাহলে এমন ধাতবের মত আওয়াজ করছে কেন!”
ভাবতে ভাবতে মনে হলো আমার নিচের ক্রমশ কিছু আমাকে টানছে, আমি ডুবে যাচ্ছি। আর হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানি শব্দটা টিং টিং থেকে কেমন সাইরেনের মত শুনছি আমি। সাইরেনের বলতে এম্বুলেন্স এর পো পো শব্দ নয় বরং একটাই তীব্র ধ্বনি! ভুল বললাম মনে হয় এটা সাইরেনের নয় এটা তো শিঙ্গার এর শব্দ! ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সব! দূর থেকে কানে এলো বিশাল একটা তাণ্ডবের শব্দ যেন পাহাড় ভেঙে পড়ছে!
“আমি কি মরে যাবো? পৃথিবী কি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে? পৃথিবী কি শূন্যে মিলিয়ে যাবে যেভাবে শুন্য থেকে বিস্ফোরনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছিল!”
বুকে ভীষন চাপ অনুভব করছিলাম, সহ্য করতে না পেরে ঠাস করে চোখ মেলে উঠে বসলাম। নিজেকে আবিষ্কার করলাম বারান্দায় মেঝে তে শুয়ে আছি, মেঝেটা ভীষন ঠান্ডা হয়ে আছে, কিঞ্চিৎ ভেজা। বাইরে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আমার বারান্দা থেকে ফ্লাইওভার টা দেখা যায় স্পষ্ট। ল্যাম্পপোস্টের হলুদ কমলা আলোয় ফাঁকা রাস্তাটায় একজন মানুষ কুকুরের মত বসে আছে। সোডিয়ামের আলোয় কুকুরই মনে হচ্ছিল প্রথমে কিন্তু ভালো করে দেখলে বোঝা যায় সেটা মানুষ। এই লোকটা কে আমি বুঝতে পারছি, আমি চিনি তাকে। ভয়, খুশি দুটোই কাজ করছে আমার। দেখতে পেলাম লোকটা আস্তে আস্তে দাড়িয়ে পড়ল। কথা থেকে অনেকগুলো অদ্ভুত চারপায়ের প্রাণী ঘিরে ধরছে তাকে। ফিক করে হেসে দিলাম আমি। কত প্রতীক্ষার পর সে আমার এত কাছে আসলো, আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি তার কায়া। আবছা অন্ধকার হয়ে এলো আমার চোখের দৃষ্টি, তবু আমি হাসছি।“-এই ইন্দ্র গতকাল কি স্বপ্ন দেখলে? এত হাসছিলে?
-কে তুমি?
– এ বাবা! ইন্দ্র তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে? মাথায় হাত বুলিয়ে দিব?”ভালো করে তাকিয়ে বুঝলাম নবনী দাড়িয়ে আমার পাশে আমি কোমল ফোমের বিছানায় শুয়ে। আশে পাশে তাকিয়ে দেখলাম সবকিছুই পরিচিত, আমার চেনা। আমারই তো ঘর এটা। একটু ধাতস্থ হয়ে উঠে বসলাম, বুঝলাম স্বপ্ন দেখছিলাম।
সেদিন নবনীকে তেমন কিছু উত্তর দেইনি। বিকেলে হাঁটতে বেরিয়ে দেখলাম এলাকার পাগল জামাল রাস্তার একপাশে বসে বিলাপ করছে আর বলছে “তারা!!! কত্ত তারা আসমানে!!!! আমি মইরা যাইয়াম গারে আমি মইরা যাইয়াম! ওই যে কালা কুত্তাওয়ালা বেডা টা! ওই যে……।”
তাকালাম কেউ ছিল না, পাগলা জামাল কি বলল বুঝার সাধ্য নেই আমার। রুদ্র থাকলে হয়তো কিছু উত্তর খুঁজে বের করত। আপাতত আমার গন্তব্য কান্তলালের ডেরা…3 Comments
Friends
মালিক ফাহাদ
@m-m-fahad
Drako Shajib
@drako
স্মৃতি রানী রত্না
@srratna1990
মোখলেসুর রহমান
@mokhles
Nipun Chandra
@nipunch
Arisha Chakraborty
@arisha-chakraborty
M.N. Hasan
@m-n-hasan
Mostafizur Rahman
@proloy
Mahim Masum
@mahim-masum


দারুণ তো গল্পটা! স্বপ্নের ভেতর স্বপ্ন “ইনসেপশন” এর কথা মনে করায়। তবে শেষটায় একটা ভালো টুইস্ট ছিল কিন্তু গল্পটা কি এখানেই শেষ?