-
“শহর”
ছোট্ট একটি শহর, কিন্তু হাজারো স্বপ্নের ভিড়, জ্যামে আটকে পড়ে থাকা ছেলেটা হটাৎ ই চমকে উঠে বল্লো, মামা আর কতক্ষণ? ১০.৪৭ বাজে, ১১টায় আমার ইন্টারভিউ। সময় মত না পৌঁছাতে পারলে আমার চাকরি টা যাবে!
মামা- দেখেছেন ই তো কত্তো জ্যাম! এর মধ্যে দিয়ে যামু ক্যামনে কন তো? এইতো ২মিনিটের হাঁটা দিলে আপনি পৌঁছায়া যাবেন।!
সজল- আচ্ছা মামা কত দিবো?
মামা- ৩০টা টাকা দেন মামা।
সজল- একেই তো আগেই নামায় দিলা, তার ওপরে ১০টাকা বেশি চাও কেন? এই নাও ২০টাকা।
টাকাটা দিয়ে, সজল হাঁটা দিলো অফিসের উদ্দেশ্য।
-সজল বরিশালের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এসে, ঢাকাতে অনার্স কমপ্লিট করে চাকরির পিছনে ছুটছে।
আজ তার ৪র্থ ইন্টারভিউ। চাকরিটা তার খুব দরকার, গ্রামে তার অসুস্থ বাবা-মা, শহরে তার ভালেবাসার মানুষটিকে আটকে রাখার চেষ্টা। নিজের দিক থেকে দেখলে আসলে চাকরিটা তার নিজের জন্য যতটুকু দরকার তার চেয়ে অনেকাংশেই তার আশেপাশের মানুষ গুলোর জন্য বেশি দরকার।
ইন্টারভিউ শেষে সে বুঝতে পারলো, প্রথম ৩টার মতো এবারো সে ব্যর্থ।
মা- কি রে বাবা ইন্টারভিউ কেমন হলো?
সজল- না মা, এবারো হবে না, আর একটু সময় লাগবে হয়তোবা, তুমি চিন্তা করো না, হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
মা- দেখ বাবা একটু দ্রুত দেখ। সকালেতো মনে হয় কিছু খাস নি, খেয়ে নিস।
সজল- আচ্ছা মা, ঠিক কাছে।
ফোনটি কাটতেই ঝিলিক এর ফোন!
ঝিলিক সেই মেয়েটি, যাকে আটকানোর জন্য চাকরির পিছনে এতো ছুট।
সজল- নাহ্! এবারো হলো না মনে হয়।
ঝিলিক- তাহলে আর কি, তুমি চাকরির সাথে সাথে আরেকটি মেয়ে ও খুঁজে নিও।
কথাটি বলে ঝিলিক ফোনটি কেটে দিলো, এদিকে সজল এক গুচ্ছো হতাশা আর ক্লান্তি নিয়ে রুম এ ফিরে এসে আবার পেপার এ চাকরির খোঁজার কাজে লেগে পড়লো।
কিছু দিন হলো ঝিলিক এর নম্বরে ফোন ধরে না, সজল মাঝে মাঝে চেষ্টা করে, আবার চাকরির খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। এভাবে আরো বেশ কিছু ইন্টারভিউ দিতে দিতে হটাৎ একদিন একটি ইন্টারভিউ শেষে তার মা এর ফোন।
সজল- হ্যাঁ মা! আজ আমার ইন্টারভিউ ভালো হয়েছে, আশা করছি চাকরিটা হয়ে যাবে।
মা- বাবা তুই বাসায় চলে আয়!!
সজল- কেনো মা কি হয়েছে???
মা- তোর বাবা আর নেই!!!!
সজল-।।
সজল কোনো কিছু না ভেবেই মূহুর্তে রুমে এবং রুম থেকে সোজা বাসে টিকিট কেটে বরিশাল গ্রামের বাসায়। এর মধ্যে তার আর ঝিলিক এর সাথে কথা হয়নি। হতাশা দুঃখ কাটিয়ে দু’দিন যেতেই, শেষ ইন্টারভিউ এর অফিস থেকে ফোন।
অফিস- জ্বি আপনি, চাকরিটা পেয়েছেন, আগামী পরশু থেকে আপনি জয়েন করতে পারেন।
অনেক গুলো হতাশা আর কষ্টের পরে এক গুচ্ছ ঠান্ডা বাসাত যেনো সজলের শরীর দিয়ে বয়ে গেলো! সে তার মাকে ব্যাপারটা বল্লো এবং ঝিলিক কে সব ঘটনা গুলো বলার জন্য ফোন দিলো। কিন্তু এবার ঝিলিক যে ফোনটি ধরলো না তা নয়, ফোনটি বন্ধ পেলো সজল।
সজল বেশি কিছু না ভেবে, পরের দিন মা’র কাছে থেকে বিদায় নিয়ে, মা কে শহরে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে বেরিয়ে পড়লো শহরের উদ্দেশ্য। এসে তার চাকরি পাওয়ার খবর দিতে সোজা চলে গেলো ঝিলিক এর বাসায়। বাসায় যেয়ে যা শুনলো তার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিলো না।
দারোয়ানঃ ঝিলিক আপার তো গত ৪দিন আগে বিয়ে হয়ে গেছে।
সজলঃ কি বলো এসব, আমি ঝিলিকের বাসার কারো সাথে কথা বলবো।
সেই মূহুর্তে ঝিলিকের বাবা উপস্থিত এবং শক্ত গলায় বলে উঠলো কে তুমি? আর ঝিলিক কে দিয়ে কি হবে?
সজলঃ আংকেল আমি ঝিলিকের বন্ধু, ওর সাথে অনেক দিন দেখা নাই তাই একটু খোঁজ নিতে এসছিলাম।
ঝিলিকের বাবাঃ কেমন বন্ধু তুমি যে, ঝিলিকের বিয়ে হয়ে গেছে এটা জানো না?সজল এবার ব্যাপারটা বুঝতে পারলো এবং কোনো কথা না বলে মাথা নিচু করে সেখান থেকে চলে আসলো। সে বুঝতে পরছিলো না কি করবে, এদিকে বাবা হারানোর যন্ত্রণা অন্যদিকে সাড়ে তিন বছরের সম্পর্ক বিচ্ছেদ এর প্রবল ঢেউ এ, সজল আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না, রাস্তার পাশে এক গাছের নিচে বসে মেঘের মতো গর্জন করে কান্না করতে লাগলো, বেশ কিছুক্ষণ পরে নিজেকে সামলে নিয়ে রুম এ চলে আসলো। এর পর কিছু না ভেবেই গ্রামে চলে আসলো মা এর কাছে। কারণ সে জানতো শহরকে ভালোবেসেছিলো ঝিলিকের জন্য, শহরে থাকার ইচ্ছেটাও ছিলো ঝিলিক এর জন্য, চাকরির পিছনেও ছুটেছিলো ঝিলিকের জন্য। আর সেই ঝিলিক ই যখন নেই, তখন তার আর কি প্রয়োজন থাকতে পারে শহরে।
চেনা শহর যেনো মূহুর্তেই অচেনা হয়ে উঠে। শত শত স্বপ্নের ভীড় আজও শহরে জ্যাম করে, মৃত স্বপ্নগুলো বাড়ি ফিরে আসে, নতুন স্বপ্ন গুলোকে জায়গা করে দেয়, রিকশায় চাপা স্বপ্ন গুলো গাড়ির চাকায় চাপা পড়ে যায়, স্বপ্ন গুলো চোখে বৃষ্টি হয়ে ঝরে যায়, স্বপ্ন গুলো আবার সৃষ্টি হয়ে নতুন কাউকে খুঁজে পাই।
এই শহর হেরে যাওয়ার নয়, এই শহর অপরিপূর্ণতার নয়, এই শহর জ্যাম এর শহর, ঘুম থেকে উঠে আরেকটি নতুন স্বপ্ন জ্যাম এর দিকে এগিয়ে যাওয়ার শহর।7 Comments

Rakib Joy
Friends
আব্দুর রউফ
@abdur-rouf
আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির
@anwar-parvez-nur-shishir
Md. Ziaur Rahman
@vulpotha81
Zinnat Farhana Bithi
@zinnat-farhana-bithi
Razia Rahman Rojoni
@rojoni
M-Hussain-Riane
@m-hussain-riane
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam
Md.Emamuzzaman Wahedi
@emamuzzaman
মাহ্দী সাকিব
@mahdi-sakib



কঠিন বাস্তবতা,,,, শুভকামনা রইলো