Profile Photo

Kaniz Fatema SazinOffline

  • KF-Sazin
  • Profile picture of Kaniz Fatema Sazin

    Kaniz Fatema Sazin

    3 years, 8 months ago

    শহরের রাস্তায়, অলিতে গলিতে, অচেনা কন্ঠে যখন ও নাম শুনতে পাই। আমার কানের কাছে সরু একটা শব্দ অনেক্ষন বাজে, মনে হয় কোথায় যেন একটা ট্রেন চলছে তার কোনো স্টেশন নেই।
    হাজার শব্দের লেখার ভীরেও অই নামের কয়েকটা অক্ষর চোখের সামনে আটকে ধরে। ওই অক্ষর কয়টি আমি বারবার পড়ি। ট্রেনের ঝাকুনি থামলে ট্রেন অদৃশ্য হয়ে যায়, কোথায় যায় জানিনা। আমার জ্ঞ্যান ফেরে।
    সুদিপ্ত, ওর নাম সুদিপ্ত। ভেতর একটু ঠান্ডা হলেই নাম খানায় একটা অদ্ভুত কালো শক্তি অনুভুত হয়।অশুভ মনে হয়। ঘোরে থাকলে হয় না।
    সুদিপ্তে দিপ্ত থাকা উচিত ছিলো,কিন্তু আমার ওমনই মনে হয়।
    একবার জিজ্ঞেস করলাম,” দিপ্ত তুমি সুটিং স্টার দেখেছ?”
    দিপ্ত উজ্জ্বল চোখে বলল সে দেখেনি। দেখেনি তাতে তার কোনো আপসোস নেই।
    সারাদিন সবাই ওকে নিয়ে ঘিরে থাকে, এক দেখায় যেকারোর মনে হবে একটা সুটিং স্টার, ও একটা অলরাউন্ডার। ওর সামনে কাউকে মন খারাপ করে বসে থাকতে হয়নি।
    আমিও খুব প্রান খুলে হাসতাম। ওর জন্যে তিনখানা কবিতা লিখেছিলাম, দেখানো হয়নি।
    ফ্লাইওভারের নিচের একটা কালো ডোবায় ফেলে দিছেছিলাম। কালো ডোবার পাশে কি অনায়েশে একটা রক্তকরবী গাছ হয়েছে। ওটা দেখেও আমার হিংসে হয়েছে প্রচুর।
    দিপ্তর একটা বান্ধবী ছিলো, অতিরিক্ত সুন্দরী ছিলো মেয়েটি। আমি মেয়েটিকে মন থেকে অপছন্দ করতাম, তবে অনেকবার বুঝাতে চেয়েছি নিজেকে যে মেয়েটি খুব সুইট। সবার প্রিয় রাই। দিপ্তের বিশেষ প্রিয় বান্ধবী রাই।
    ওদের চোখের মাঝে একটা অন্য রকম শব্দ খেলা করত, আমিই সব গুলো অনাচ্চিরিত শব্দই পড়তে পারতাম। তখনো আমার কানের কাছে ওই ট্রেন তীক্ষন শব্দ করত।
    দিপ্তের হাত ধরলাম, তখন ভর দুপুর, সামনে কালো ডোবা আর রক্তকরবী, উপরে ফ্লাই ওভার, দিপ্ত বলল, “কিরে কিছু বলবি? ”
    আমি ফেলফেল করে তাকিয়ে রইলাম। অনেক্ষন অনেক কথা বললাম আমি, মুখে নয় চোখে।
    দিপ্ত নির্ঘাত পড়েছে চোখের শব্দ গুলো, সব না হলেও কিছু পড়েছে!
    দিপ্ত বলল, ” আবার অত্যাচারিত হবি? আবার কাউকে অত্যাচার করবি? কেন করিস বল তো তুই এমন?”
    আমি বললাম,” তুই সবার সব কথাই বুঝিস তাই না?”
    দিপ্ত হতাশ শ্বাস ফেলে বলল, “আমায় শেষ করিস না প্লিজ। আমি অত্যাচার চাই না।”
    আমি অই ভর দুপুরে লেকের ধারে চিৎকার করে অনেক্ষন কাদঁলাম। দিপ্ত চোখ বন্ধ করে থাকল। আমি হাতটা ধরে না রাখলে ও কানটাও বন্ধ করে ফেলত।
    আমি জানতাম দিপ্ত আর রাইয়ের সম্পর্ক খুব বেশিদিন এগুবে না। আমি এও জানতাম দিপ্ত এই কথা বিশ্বাস করবেনা, তীব্র ভালোবাসা ওর বুকের থেকে হঠাৎ নাই হয়ে যাবে। ও শান্ত হয়ে যাবে, সুটিং স্টার থেকে কৃষ্ণগহ্বর পরিনত হবে। তখন বুকের বিশাল জায়গা পূর্ন করতে আমার এই এই অত্যাচারটির প্রয়োজন হবে। সেই প্রয়োজনও ফুরিয়ে দিপ্ত শান্ত হবে, আর আমি আবার একলা হব।
    আমি কেবল সার্কেলে ঘুরতে থাকব নিজের সাথে খুব অন্যায় হবে। এই লুপে ঘোরা ঠেকাতেই আমি কৃষ্ণগহ্বর বনে যাওয়া দিপ্তকে শান্ত হতে দেব না।
    আবার চোখের সামনে ওকে ওত ভারে নিম্নমুখী চোখে হাপাতে দেখলে আমার ভীষন অত্যাচারিত হতে হবে। ওর ফাকাঁ বুক দেখলে আমার বুক বিক্ষত রক্তাক্ত হবে, নাহ! একদম সহ্য হবে না আমার। সুটিং স্টার কে কৃষ্ণগহ্বর পরিনত হওয়া দেখতে সহ্য হবে না আমার। আমার কানের কাছে ট্রেনের সরু শব্দ স্পষ্ট, সামনে কালো ডোবা আর রক্তকরবী, উপরে ফ্লাই ওভার, বাম পাশে রেললাইনে চলন্ত ট্রেন। ডোবার এক্কেবারে সাথে ঝারের আড়ালে আমার কোলে ঠান্ডা দিপ্ত। ডোবার পানির ভেতর ওপারে একটা সুন্দর জায়গা আছে। দিপ্ত এখনি যাবে ওখানে, সময় হলে আমিও আসব। আমি ওর কথা রেখেছি অত্যাচারিত হয়নি, অত্যাচার করিও নি। কালো ডোবার ভেতরে সে এখন আমার চিঠি গুলো খুব অবসরেই পড়তে পারবে।
    – লুপ
    লেখাঃ কাজিন ফাতেমা সাজিন 🌺

    11
    4 Comments

Kaniz Fatema Sazin

Student

Skip to toolbar