Profile Photo

সৃষ্টিOffline

  • premdevota
  • Profile picture of সৃষ্টি

    সৃষ্টি

    3 years, 8 months ago

    মানুষ – যারা দেখতে জানেন…

    নাম তার শাহজাহান মিয়া। পেশায় ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। বাংলাদেশের প্রায় যায়গায় তিনি ব্যবসা করেছেন। আমি যখন থেকে দেখেছি তখন তার ব্যবসা ছিল জুতার। ঢাকার সিদ্দিক বাজারে।কয়েকবার গিয়েছিলাম। যতবারই গিয়েছি ,ততবারই আলু বাজারে ডাক্তার দেখিয়ে আসার সময়; আব্বুর সাথে দেখতে গিয়েছিলাম। আসার সময় তিনি আমাকে নতুন ডিজাইনের জুতা আর ১০০ টাকা দিতেন। এই ১০০ টাকা মানে ৯৬-৯৭ এ অনেক কিছু।

    যাইহোক একবার উনার সাথে আমার বাজারে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল।
    এক রিক্সায় উঠার পর, উনার বসার স্টাইল এর কারণে আমার বসার যায়গাই ছিলনা। কোনমতে দাঁড়িয়ে রিক্সা ধরেছিলাম।
    তার উপর আবার তিনি বাজার যাওয়া অব্দি, কয়েকবার রাস্তার লোকজনদের সাথে- রিক্সা দাড় করিয়ে গল্প জুড়ে দিলেন। মুখে বলছেন তাদেরকে তার তাড়া আছে;
    কিন্তু গল্পের আবহ তা বলেনা। কয়েকদফা তিনি রাস্তায় সালামের উত্তর দিতে দিতে অবশেষে আমরা বাজারে পৌছালাম।

    বাজারে পৌছে তো তিনি বাজার কিছুই কিনে না। খালি ঘুরে।
    আর কয়েকজন দোকান থেকে বসে ডাকছে, কাকা
    আবার কেউ কেউ মিয়া ভাই কয়ে।

    শাজাহান মিয়া ঝাড়ির স্বরে বলেন, মানুষ ভালা হ। এমনে করলে লোকজন ভাল করবেনা। বাড়িতে আজ ঈদ লাগছে,, দাম ঠিক কইরা ফ্রেশ দে কিছু।

    দোকানীঃ কি কন কাকা, আপনের কাছে কমাইয়া রাখি, যে কম দিয়া ২নং মাল ধরায়ে দেয় হেইডা তো কাকা বুঝেননা। চেইতেন না, ভালা ডাই দিমু।
    মজনু, কাকার সপ্তাহের বাজারটা বাইন্দা দে।

    কথা গুলো কিন্তু দাঁড়িয়ে হচ্ছেনা, হাটার মধ্যে হচ্ছে। আমি শাহজাহান সাহেবের পিছু পিছু এবার সবজির এরিয়াতে ঢুকলাম।
    তিনি সবজির দিকে, এক বয়স্ক দোকানীর কাছে গিয়ে বসল। কিন্তু কথা শুরু করল পাশের ব্লকের মাছের দোকনদারের সাথে।
    মিয়া সাহেব জানতে চাইলেন, বাজারে স্পেশাল কোন মাছ আছে আজ?

    দোকানী কোন এক মাছ ব্যবসায়ীর নাম বলল, শেষে নিজের দোকানের ফ্রেশ মাছের রিকমেন্ড করল। ভাবটা এমন করল, মিয়া সাহেব চাইলে তার দোকানের মাছটাও যেন একবার দেখে নেন।

    মিয়া সাহেব মুখ ঘুরিয়ে সবজির বুড়াকে বলল, উঠানের তরকারি কি কি আছে।
    বুড়া, মিয়া সাহেবকে বুঝাতে শুরু করল, শিমটা তার ঘরের গাছের।
    মিয়া সাহেব ঝাড়ির স্বরে বলল, মইরা যাইবি মিছা কথা ছাড়ছ না কেন।

    বুড়া অবাক স্বরে বলে, মিয়া ভাই তুমি কি কও, বাড়ির বোগলে জলিলের চিপাটায় হইছে।

    বলতে বলতে মাপতে শুরু করল।

    মিয়া সাহেবঃ তুই আমারে যায়গা চিনাস। তোর বাড়ি ঘর আছে নি। আলা চিটারি করিস না চুদির পো। পোলায় শিখব কই থেকে? পোলা মাইয়া বে-লাইনে যাইবো না কেমতে?
    বুড়াঃ কি করতাম মাইনশের ভিক্ষার যায়গায় কাম না করলে, না খাইয়া মরা লাগব।

    মিয়া সাহেবঃ পোলায় কামদাম ছাইড়া দিছে আবার?
    বুড়াঃ সবই তো বুঝো।
    মিয়া সাহেবঃ এক কাম কর, বিয়া করাই দে। নাইলে অন্য বেডির দিকে চোখ দিব। পরে আরেক জ্বালা।
    আর তোরে মাল মাপতে কইছি? আমার ঘুষের টেকা না। এতো কিনার পয়সা নাই।
    বুড়াঃ আরে ফ্রেশ জিনিস। চাচীরে কইয়ো আমি দিছি। খাইয়া আলা দাম মন চাইলে দিও।
    মিয়া সাহেবঃ এতো দিতাছোস কে? ঘুষ দিতাছোস নি, বাড়াইয়া বাড়াইয়া। আমার আইটেম বেশি লাগব। ১০ পদ না হইলে তোর মতন ফকিন্নি লাগে। মেমান আইছে।

    বুড়াঃ রিপনে আইছে?

    মিয়া সাহেবঃ হ, বৌ লইয়া আইছে। রাতে আইয়া পরিস।
    বুড়াঃ আইচ্ছা আমুনি।
    মিয়া সাহেবঃ মাছের বাজার কেমন?
    বুড়াঃ চড়া। মাছ আহেনাই আজ।

    মিয়া সাহেব বাজার না নিয়েই উঠে পড়লেন। মাছের ব্লকে ঢুকলেন। আর আমার হাতে, খালি চটের ব্যাগ। আমি বিরক্ত হচ্ছি। কারণ তিনি একই জিনিস কয়েক দোকানে গিয়ে খোজ করছে আর না নিয়ে উঠে আসে।
    প্রায়, সবাই প্যাক করেও ফেলছে। একবার ভাবছি, একই জিনিস এতো দোকানে বলে বলে আসার মানে কি?
    আর সবাইকে কুশলাদি জিগ্যেস করছেন আবার কাউকে গালিগালাজ করছেন। অবাক করে দিয়ে প্রতিপক্ষ, হেসে উড়িয়ে দিচ্ছে। কেউ আবার মিয়া সাহেবের কাছে ফোর্স মার্কেটিং করছে।

    যাইহোক সবার প্রথমে মাছই কেনা হল। মাছ কিনতে মিয়া সাহেব প্রায় ২০ মিনিট কথোপকথন সারলেন দোকানদারের সাথে।
    এরইমধ্যে, অনেকেই মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছে।
    কিন্তু মিয়া সাহেব যেই মাছ নিয়ে দর কষাকষি করছেন এটা কেউ কিনছেনা। যদিও কয়েকজন অপেক্ষা করছে কেনার জন্য। আমি অবাক হয়ে দেখলাম রাজবংশী একটুও বিরক্ত হচ্ছেনা। সর্বোচ্চ কম মূল্যে মাছ কিনে; তিনি বড় মাছটি নিয়ে এবার সবজির দিকে ঢুকলেন।
    সবার কাছ থেকেই কমিয়ে কমিয়ে একই জিনিস, কম মূল্যে নিলেন।
    সবাই জানছেনও মিয়া সাহেবের বাজারের ব্যাগটায় কি কি যাচ্ছে! বিষয়টি ওপেন সিক্রেট যেন। যারা দোকানে প্যাকেট করে ফেলছিল, সেসব জিনিস আবার কারো থেকে কমাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার মিয়া সাহেবকে বেশি ধরিয়েও দিচ্ছেন। সেটা তিনি কখনো মেনেও নিচ্ছেন।

    তারপর মোড়ে এক রিক্সার দিকে তাকাতেই নতুন এক রিক্সাওয়ালা হাত তুলে দিয়ে এগিয়ে এসে, নিজ দায়িত্বে বাজার তার রিক্সায় তুলে নিল।
    আমি চুপচাপ দেখলাম আর মিয়া সাহেব মিঠাইওয়ালার সাথে গালিগালাজ বন্ধুত্বের স্বরে কথা বলতে শুরু করল।
    বাজার রিক্সায় তুলে রিক্সাওয়ালা দাঁড়িয়ে ছিল। মিয়া সাহেব কথা থামিয়ে রিক্সাওয়ালাকে ঝাড়ি দিয়ে বলল- চুরি করবি নি?
    রিক্সাওয়ালা হেসে লজ্জা পাইল।
    মিয়া সাহেব বলল, যা বাড়িত দিয়া আয়। মায় বইয়া রইছে। মেমান আইছে। খাড়ায় রইছস কেন?
    আমি আইতাছি।
    রিক্সা ওয়ালা চলে গেল।
    আমরা আরেকটা রিক্সা ধরে মিঠাই বিনে-টাকায় নিয়ে, রওনা দিলাম।
    আসার সময়, যাওয়ার পথের এক লোক ফের রিক্সা থামিয়ে বলল- কাকা বাইরের লোক আইয়া যদি গেরামে আইসা অশান্তি করে হেইডা কি সহ্য করা যায়। ভদ্রলোক হইলে এক কথা। এইডাই মূল বিষয়। আপনেরা জানেন কি করবেন অহন।

    মিয়া সাহেবঃ বাড়িতে মেমান আইছে রাইতে আইয়া পরিস।
    লোকঃ কাকা আকিজ বিড়ি খান তো, তাইনা।
    দাদা এবার রিক্সাওয়ালাকে বলল- যা যা
    শাহজাহান মিয়া আমার দাদা হন। আমার বাবার বাবা।
    আমি বললাম- দাদা তুমি ঘুষ হিসেবে বিচারের জন্য বিড়ি নিবা?
    দাদা পকেট থেকে বিদেশি স্টাইলের লাইটার বের করে সানমুন সিগারেট ধরিয়ে বলল- এই ফকিন্নি আমারে কি খাওয়াইবো। রাতে ভাত খাওয়াইয়া বুঝায়ে দিমু। তার বাপেরেও আইতে কইছি।

    আমি জানিনা দাদা বিচারের পরবর্তী গল্প।
    তবে সেদিনের সব তরকারি গুলো বড়মা, মানে দাদার মা অনেক মজা করে তার নাত নাতি, পুতিদেরও খাওয়ালো দুপুরে।
    রাতে উঠানের বারান্দায় পানের ডাব্বা নিয়ে পান বানাতে বানাতে বড়মা দাদাকে বলতেছিল, ব্যাটারা তোরে ভালা মন্দ মিশায়ে দিছে। দেখে আনবিনা। কতগুলা সবজি সাইদের মারে দিয়া দিছি। বউ পোলাদের এটি খাওয়ানের জন্য বাইত আনছোস।
    দাদা বলতেছে, বাজারে বারো কিছিমের মানুষ। দু একটা চিটারি করেই খায়। আরেকদিন বুইজা আনুম নি।
    বড় মাঃ ছেমরাটা বিয়া করার জন্য এমন করতাছে। লগের পোলাপান বিয়া কইরা সামনে ঘুরবার লইছে হেইডা চোখে বাজে তার। এমতে মোহাব্বত আছে দিলে।
    মিয়া সাহেবঃ কইলাম তো খাওনের সময়। হুনলাই তো। আলা মাইয়া, বাপ মায় দেখুক।
    বড়মাঃ পোলার নাকি মোহাব্বত চলতেছে ।
    মিয়া সাহেবঃ তোরে কইলো কেডা? এই ফরমারটা কেডা?

    যেখানে শব ঢাকা…

    নিটোরের পরিচালক গনি সাহেব আমার পছন্দের লিস্টে অন্যতম। অন্যতম কারণ তিনি আমার কোন আত্নীয় বা রেফার করার মত পরিচিত জন নন। কোন এক কাজের সুবাধে মাসখানেক তার নিটোরের চ্যাম্বারে যাওয়া আসা হয়েছিল। সেই হিসেবে আমার ফোন নম্বর তার ফোনে সেভ করেছিলেন তিনি। তারপর আমার দাতের অপারেশন হল, প্রজেক্ট অন্যের হাতে অর্পণ করে আমি ইস্তফা দেই। তারপরের গল্প জানিনা।

    যাইহোক, এই স্বল্পদিনে তাকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। ঘন্টার পর ঘন্টা তার চোখের সামনে বসে থাকাই যেন মাসখানেক ধরে আমার কাজ। তিনি বাংলাদেশে অর্থোপেডিক্স এর মাথা বলতে পারেন। দেশের সব ডাক্তারকেই- গনি সাহেবকে চিনতেই হবে। নতুবা সেই ডাক্তার ভুয়া বলে ধরে নিতে পারেন।

    গনি সাহেবের যে দিকটা আমাকে বেশি ভালো লাগিয়েছে, তা হল তার বিচক্ষণ হাসি।
    ৫ ফিট ২ ইঞ্চির মানুষটি খুবই আন্তরিকতার সাথে চেনা-অচেনাদের সাথে কথাবার্তা সারেন।
    মাসখানেক যাওয়া আসার সুবাধে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় গনি মিয়াকে আমার খুবই অসহায় মনে হয়েছিল। আর কেন জানি! কথাগুলো আমাকে বাধ্য হয়েই বলেছিলেন!

    যাইহোক, একদিন সকাল ৯ টায় গিয়ে আমি বসেছিলাম তার অফিসে। তিনিই আমাকে সময় দিয়েছিলেন।
    সেদিন, করিডোর দিয়ে তাকে হেঁটে আসতে দেখে আমি ফ্লোর থেকে উঁঠে দাঁড়ালাম। ঘড়িতে তখন ১১ টা।
    দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে, হেঁটে আসতে দেখে আমার যেন শান্তি অনুভব হচ্ছিল। শুধু আমি না, তার পিএ সাহেবের কাছে জমা পরা, এক গাদা ফাইলগুলোও যেন পিএ সাহেবের হাতে উঠে বসল। তার উপর কথাবার্তায় জেনেছি ভেতরে অপেক্ষা করছে কোন এক সচিবের রেফারেন্সে আসা রোগী।
    এতো লোকজনের ভীড়ে, আমি এখন এটা ভেবে টেনশন করছি, আমি কজনের পরে সুযোগ পাব।
    গনি সাহেব খুব আয়েশী ভংগিমার হাঁটছেন। আর তাকে প্রায় চারপাশ ঘিরে আছেন হাসপাতালের তারই সহকর্মীরা। আর সিকিউরিটি গার্ড টিম তো আছেই।

    করিডোর পেরিয়ে রুমের দরজায় আসতে তিনি নিলেন পুরো ৫ মিনিট।

    গনি সাহেব ডাক্তার কম, স্কুল হেডমাস্টার বেশি। হাস্যজ্জ্বল চেহারায় বিরক্তি নিয়ে হাস্যরসের মাধ্যমে সবাইকে কাজের সমাধানের পথ বলছিলেন। কয়েকজন বিনয়ী আচরণ করে জ্বি স্যার, জ্বি স্যার খুবই অনুগতও হয়ে যাচ্ছেন। ডিসিশান যাই দিচ্ছেন তাতেই ভক্তরা মেনে নিচ্ছেন। বসের সামনে গেলে যা হয় আরকি।

    অবশেষে প্রথম দরজায় ঢুকলেন তিনি। একনজরে সবাইকে অপরাধ ধরে ফেলার মত করে রহস্যের হাসি রেখে, সবাইকে দেখে নিলেন। হুড়োহুড়ি করে সবাই দাঁড়িয়ে উঠে।
    গনি সাহেবের সংগে আসা বাকিরাও সেকেন্ড কয়েকের জন্য চুপ হয়ে একনজরে দেখে নেয় সবাইকে। ভাব খানা এমন তারাও এক্সামিনার। তারপর গনি সাহেব বলতে লাগলেন। দু’পা এগিয়ে ফের দাঁড়িয়ে ঘুরে যান, পিছু পিছু আসা লোকজন কমাতে শুরু করলেন। কয়েকজন নাছোড়বান্দা নিজেরা না গিয়ে উলটো কম গুরুত্বপূর্ণ অন্যদের বলতে লাগলো এখন যান পরে এসে স্যারের সাথে কথা বলে নিয়েন।

    গনি সাহেব ফাঁক দিয়ে আমাকে দেখিয়ে অন্যদের উদ্দেশে বলতে লাগলেন, এই যে ছেলেটা প্রতিদিন এসে এসে ফিরে যাচ্ছে। ভাই তার কাজটাও তো আমাকেই বুঝায়ে দিতে হয়। কত একটা ইম্পোর্টেন কাজ তোমরা ভাবতেও পারবানা।
    কি যে নাম তোমার?
    আমিঃ স্যার!
    গনি সাহেবঃ রিয়াজ। আহামাদ রিয়াজ।
    বলেই হেসে দিলেন।
    যেন আমাকে অবাক করে হারিয়ে দিলেন। আমিও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে হেসে জবাব।

    গনি সাহেব সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যাও বাবা পরে আসো। আমার হাতে অনেক কাজ। পিএ সাহেব খুব তরিগরি করে এবার রুমে অপেক্ষা করা কয়েকজনকে উদ্দ্যেশ করে বললেন। আপনেরা লাঞ্চের পর আসেন। ভিতরে ইম্পোর্টেন্ট মিটিং আছে। গনি সাহেব এবার পিএ সাহেবকে এটেনশান দিলেন। পিএ সাহেব, দরজা খুলতে খুলতে নিচু স্বরে গনি সাহেবকে সচিবের আত্নীয়ের কথা জানালেন। এবং অর্থমন্ত্রণালয়ের কোন এক সচিবের অফিস থেকে ফোন দিয়েছে অলরেডি দু’বার। ২০ মিনিট ধরে বসে আছে। রমজান মাস তাই কিছু খায়নি। অফার করাটা তার ভুল হল কিনা সেটা নিয়ে তিনি দুঃচিন্তায় পড়েছেন। রাবেয়াকে বসায়ে রাখছে তাদের খেদমতে।

    গনি সাহেব বিরক্তভাব হাল্কা এনে ফের হাসিমুখে আমাকে ভিতরে ঢোকার ইশারা দিলেন। কারো একজনকে বললেন, আমায় কফি দিতে।
    আমি বুঝে গেলাম আমায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

    গনি সাহেব এবার সচিবের আত্নীয়ের দিকে বসতে বসতে মননিবেশ করলেন। আগুন্তুক ভদ্রলোক ও ভদ্রমহিলা একটু হাসার ভংগিমায় গনি মিয়ার দিকে এটেনশান নিলেন।
    গনি মিয়াঃ আসসালামু আলাইকুম, ভাই।
    ভদ্রলোকঃ ওয়ালাইকুমুস সালাম। ওয়ার্কিং ডে, যানজটের কথা ভেবে, সকাল সকাল চলে এলাম।
    গনি মিয়াঃ কাজের লোকের কাছে যানজট কি আর? ফজরের নামাযের পর নিজের মত করে, ৫ টা মিনিট পাইনা। অফিসের সবার আগে এসে হাজিরা দিতে হয়। গোয়েন্দাগিরি ভাই, বুঝলেন।

    ভদ্রলোক এবার মজা পাওয়ার ভংগিতে হাসলেন। কথাগুলো বলতে বলতে গনি মিয়া চেয়ারে বসলেন।
    ভদ্রমহিলাঃ ভাইকে দেখেই মনে হয়না, ভাইয়ের বয়স এতো।

    গনি মিয়া মজা পেলেন বিষয়টি নিয়ে। তাই হেসে বললেন, আর বলবেন না আপা। আমরা যদি এখনো বেচে না থাকি, কর্মসংস্থানে সরকার ভর্তুকি দিতে দিতে দেউলিয়া হয়ে যাবে।
    তাই, ফিট না থাকলে বাকি সব ফিটফাট রাখব কেমনে?
    — চলমান গল্প —

    1 Share
    6
    4 Comments
It’s not how much you have but how much you enjoy that's makes happiness.

সৃষ্টি

সৃষ্টি

গল্পকার, চিত্রনাট্যকার ও ভিডিও সম্পাদক

ফিল্মমেকার

Skip to toolbar