Profile Photo

Md. Nur Alam (এইচ. এম নুর আলম)Offline

  • nuralam
  • বৃদ্ধাশ্রম— অশ্রুভেজা চেখে মায়ের চিঠি

    অনেকদিন পানি দেওয়া হয়নি শিউলি ফুলে,
    শুকিয়ে মৃত প্রায় রয়েছে ক’টি ডাল ঝুলে—।
    সকালে গাছগুলোতে পানি ছিটাচ্ছিল খোকা,
    এমন সময় দেখল তার পাশে দাঁড়িয়ে একা—
    ডাকপিয়ন। হাতে তার চিঠি, মোড়ানো একটি
    হলুদ রঙের খামে। অদ্ভুৎ চোখে— এক দিঠি—
    তাকিয়ে বলল খোকা! এই খামে চিঠি কার?
    প্রেরক ছিল “তোমার মা”, পিয়ন,—আপনার।

    খোকার পাশে দাঁড়িয়ে ছোট্ট মেয়েটি বললো—
    বাবা চিঠিখানি কার? কেন হতভম্ব হয়ে পড়লে?
    চিঠিখানি নিয়ে ছোট্ট খুকী পড়তে লাগলো—।
    ‘কেমন আছিস খোকা, আজকাল?—
    শরীর ভালো আছেতো, ভালো আছে
    আমার ছোট্ট দাদু?
    এখনও রাত জাগিস নাকি? বিকাল
    —সন্ধায় ঘুমাস এখনও? বলিনি মিছে—
    আমার সোনা যাদু।

    আমার আর একা ভালো লাগেনা
    তুই নাই পাশে— মোর,
    মনে পড়ে! ছোট বেলায় পড়তিনা,
    পাশে বসে থাকতাম তোর।

    মনে পড়ে খোকা, একদিন খুব জ্বর—
    হয়েছিল। আমার কোলে মাথা রেখে
    ঘুমিয়েছিলি। জেগেছিলাম রাতভর।
    কোল থেকে মাথা সরাইনি, ছিলাম জেগে।

    অনেক আবদার করতিস ছোটবেলায়—
    ভীষণ জেদী ছিলি। একদিন সন্ধ্যাবেলায়
    বায়না ধরলি, ও পাড়াতে বেড়াতে যাবি—
    তুই জাদু আমার। তাই ও পাড়াতে তোকে
    ঘুরে নিয়ে আসলাম। জিদ ভাঙলো সবি
    একটুকু কষ্ট লাগেনি আমাকে।—

    ছোটবেলায় মিষ্টি পছন্দ করতিস তুই
    সামর্থ না থাকা সত্বেও কিনে দিয়েছি
    তোর পড়াশুনার টাকা যোগাতে রেখেছি
    বন্দক দুইখানি ভুঁই।

    আমার হাতের বালা বেঁচে তোর পরীক্ষার
    ফি দিয়েছি। ভাবছিলাম, ভুলবিনা আমাকে
    বাবা হওয়ার পরও বুঝলি না তুই ‘ভার’—
    এতদিনেও। তুই পারবি আলাদা করতে
    তোর খুকীকে?

    যখন তুই বড় হলি, চাকুরি নিলি—
    এখন তুই মস্ত অফিসার, খুব বড়—
    তাই মা’র কথা সহজে ভুলে গেলি?
    এখন কাছে লাগেনা মাকে আর?

    আমি কেমন আছি, জানতে চাইবিনা
    খোকা আজ?
    কতদিন হলো মাকে দেখতে আসিসনা
    পথপানে কাটে সকাল—সাঁঝ।

    এখানে অনেক লোক আসে, কিন্তু তুই নাই—
    আমার ছোট্ট দাদুও আমার পাশে নাই।
    আমি ভালো আছি তবু তুই, বউমা, দাদুছাড়া—
    দিন কাটলেও রাত কাটে বিষন্নে ভরা।

    মনে পড়ে, ছোটবেলায় আমার চোখে—
    পানি দেখতে পারতিস না তুই। কেঁদে
    একশেষ হয়ে যেতিস। ভাঙা তোর বুকে
    কষ্ট জমতো। খাওয়াতিস সেঁধে সেঁধে।

    শুনেছি,— কিছুদিন আগে নাকি খুব জ্বর হয়েছিল—
    দোয়া করেছিলাম করজোড়ে। খবর দিয়েছিল
    একজন অনেক পরে। এখনও সহ্য হয়না কষ্ট
    আমার বুকে।—খুব—ই দেখতে ইচ্ছে করে,স্পষ্ট।

    তুই আমার খোঁজ না রাখলেও আমি
    সব রাখি বাবা! তোর মা তো আমি—।
    কেমনে ভুলবো। কভু ভোলা যায় খোকাকে?
    অব্যক্ত কষ্ট বুকে, ভারি করবনা জীবনটাকে?

    জানিস! এখানে অনেক সুবিধে— নেই কোনো
    অসুবিধে—খাবার কিন্তু তবু খাঁ খাঁ করে যেনো।
    দাদুকে পিঠে নিয়ে খুব ঘুরতে ইচ্ছে করে—
    কতদিন থেকে দেখিনা আমার মিষ্টি দাদুরে!—

    তোকে পাঁচখানা চিঠি লিখেছি; কিন্তু পাইনি
    এর কোনো উত্তর বা দেখাও তুই করিসনি—
    একনজর। এইতো গেল রোজা,কোরবানী ঈদে
    আমি পথপানে চেয়েছিলাম আশায় বুক বেঁধে।

    কিন্তু তুই এলিনা। বাবা, এখন হাত খরচ দিতে
    পারিনা বলে আমি এত বোঝা হয়ে গেছি এতে?
    আমারও মন চায় এখনও তোকে নিজের হাতে
    পিঠা—পুলি খাওয়াতে। বড় টুকরাটি পাতে দিতে।

    যে বউমার কথায় আমাকে রেখেছিস এখানে
    তার জন্যও দোয়া করি; তার দোষ নাই কোনো।
    হয়তো আমার পান—সুপারী লাগতো— আর,—
    চা খেতাম। তাই সাশ্রয়ের জন্য এ কাজ—বউমার।
    বিশেষ করে তুইওতো বুঝলিনা, কষ্টটি আমার।

    বাবা, একটিবারও কি মনে পড়েনা মায়ের কথা?
    বুঝবিনা হয়তো কোনদিনও মা’র প্রসব— ব্যথা।
    পারলে দেখে যাস একদিন। খুব দেখতে ইচ্ছে করে
    শুনেছি, বড় অফিসার হয়েছিস। সবাই শ্রদ্ধা করে ।

    আমার দাদুকে মানুস করিস, মানুষ এমন—
    যেন আমার মতো তোরা কষ্ট না পাস,
    আসতে হয়না যেন এখানে তোকে যেমন;
    সেভাবে মানুষ করিস সঠিকভাবে, সোনা।

    জানিনা, —আমি মন হয় তোকে সঠিক—
    শিক্ষাটা দিতে পারিনি, হয়তো বেঠিক
    ছিল। বাবা,বুঝবিনা কাছের মানুষ ছাড়া
    জীবন কত অসহায়! বুঝবি সন্তান দ্বারা।

    অনেক কথা বলার আছে, একবার দেখা হোক
    আমার দোয়া রইলো সবসময়। ভালো থাক—।
    দাদু,বউমা, সবার যত্ন নিস; বিশেষ করে তোর
    যেখানেই থাকিনা কেন, চোখের মনি তুই মোর।

    1 Share
    6
    11 Comments
Skip to toolbar