Profile Photo

Md Ahsan Ullah RiponOffline

  • Ripon185
  • Profile picture of Md Ahsan Ullah Ripon

    Md Ahsan Ullah Ripon

    3 years, 8 months ago

    অদৃশ্য লাল দাগ-৩

    দেবস্মিতা বিস্ময়াভিভূত হয়ে তাকিয়ে আছে আদির দিকে।আদির চোখে মুখে বিষন্নতা। কণ্ঠস্বর অস্পষ্ট।বললো,”তোমার মনে হয়না,আমি তোমার সম্পর্কে সব জেনে শুণে তোমাকে আমার জীবনের সাথে জড়িয়েছি কি করে?কারণ আমার কাছে মানুষের পরিচয় কেবল মানুষটি।তার অতীত নয়।”দেবস্মিতা অস্পষ্ট কণ্ঠে বললো,”কিন্তু আদি,আমিতো সে অতীতটা ভুলতে পারিনা।চোখ বন্ধ করলেই আমার চোখে ভেসে উঠে সেই কালো অতীত।সেই কলঙ্কের কালো দাগ।কিই বা করার ছিলো আমার বল? “আদি দেবস্মিতাসর দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে বলে,” এটা আমি জানি দেবস্মিতা।তুমি যেমন তোমার জীবনের কালো দাগটি ভুলতে পারনা।আমিও পারিনা আমার জীবনের সেই অদৃশ্য লাল দাগ।”
    ———- নাহ্,আদি।আমি বিশ্বাস করিনা,তোমার মত একজনের জীবনে কোন দাগ থাকতে পারে।
    ———- কিন্তু আছে।এটাই সত্যি।
    ———- এটা আমার জানার কোন আগ্রহ নেই আদি।যেটা অদৃশ্য সেটা লাল হোক আর কালো,তা অদৃশ্যই থাক।
    ———- নাহ্ দেবস্মিতা।এটা তোমাকে জানতে হবে।যেমন আমি জেনেছি তোমার জীবনের কালো দাগ সম্পর্কে।
    ———- নাহ্,জাননি তুমি।জানলে আমার সাথে সংসার করতে পারতেনা তুমি।
    ———- তোমার ধারণা ভুল।আমি তোমার জীবনের সব কিাছুই জানি।তুমি রক্তিম নামের একটি ছেলেকে ভালোবাসতে।
    ———- ভীষণ,,ভীষণ ভালোবাসতাম।তাইতো সেদিন ও যখন আমাকে ওর বাসায় যেতে বললো,আমি কোন কিছু না ভেবে রাজী হয়ে গেলাম।আমি কি জানতাম,সবি ছিলো ওর সাজানো? জান আদি,আমি যখন ওর বাসায় গেলাম,ও তখন শুয়েছিলো।আমি ওর পাশে বসলাম।ঠিক তখনি আচমকা আরো তিন চারজন এসে পৌঁছালো সেখানে।আমি কিাছু বুঝে উঠার আগেই ওরা জানোয়ারের মত হামলে পড়লো আমার উপর।আমি রক্তিমের কাছে চিৎকার করে সাহায্য চাইছিলাম।কিন্তু রক্তিম তখন ব্যস্ত হয়ে পড়লো ভিডিও ধারণে।পশুগুলো একটু একটু করে আমাকে খুবলে খুবলে খেলো।ক্ষত-বিক্ষত করে দিলো আমার শরীর।আর রক্তিম নিপুন৷ কারিগরের মত সে দৃশ্য ধারণ করলো।সব শেষে ও আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো।আমার রক্তাক্ত ক্ষত-বিক্ষত শরীরকে আরো রক্তাক্ত করে আমাকে বললো,”এখানে তোকে রেপ করাবসব ভিডিও ধারণ করা আছে।এটাই হবে আমার উপরে উঠার সিঁড়ি।তোর বাবার কাছ থেকে এ ভিডিওটা পুঁজি করে লাখ টাকা আদায় করবো।সে টাকায় বিদেশে গিয়ে সুখে সময় কাটাবো।”আমার তখন কথা বলার মত অবস্থা ছিলোনা।নড়তে পারছিলাম না আমি।
    তারপর যা হয়েছে তা তো তুমি জান আদি।পুলিশের সহায়তায় সব ক’টা শয়তানকে আইনের হাতে তুলে দূিয়েছেন নীলাদ্রি আঙ্কেল।এ ঘটনায় আমি স্তব্দ হয়ে গিয়েছিলাম।মানুষের উপর থেকে সব ধরাণের বিশ্বাস হারিয়ে গিয়েছিলো আমার।দু’বছরের মত একটি মানসিক হাসপাতালে কাটিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরতেই বাবা অনেকটা জোর করে তোমার সাথে বিয়েটা দিয়ে দিলো।
    ———– এ সবই আমি জানি।দেবস্মিতা।বাবা আমাকে সব জানিয়েই তোমার সাথে সংসার করার কথা বলেন।জানতো দেবস্মিতা,আমার জীবনে এ মানুষটির কথাই আমার কাছে আদেশ।আমি সেটা মেনে নিই নিরদ্বিধায়। কারণ আমি জানি এ মানুষটি কোনদিন আমার খারাপ চাইতে পারেন না।কিন্তু তুমি কি জান? এ মানুষটি কে বাবা বলে ডাকলেও তিনি আমার বাবা নন।আসলে আমি নিজেই জানি না কে আমার বাবা? বলতে পার এটাই আমার জীবনের সেই অদৃশ্য লাল দাগ।
    ———– মানে?
    ———— বুঝতে শেখার পর থেকেই আমাকে একটা কথা হজম করতে হয়েছে তাহলো,জারজ সন্তান।এ শব্দটির অর্থ আমি জানতাম না।তাই একদিন বাবার কাছে জানতে চাইলাম।বাবা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,”এটি একটি গালি।এর অর্থ জন্ম পরিচয় হীন।যদিও জন্ম পরিচয়হীন কোন মানুষ হয় না।তবুও পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ জন্মায় যাদের জন্ম পরিচয় খুঁজে পাওয়া যায় না।

Skip to toolbar