Profile Photo

Fahmida-Reea-Fahmida-ReeaOffline

  • Fahmida-Reea-Fahmida-Reea
  • Profile picture of Fahmida-Reea-Fahmida-Reea

    Fahmida-Reea-Fahmida-Reea

    3 years, 8 months ago

    #সখী ভালোবাসা কারে কয়……..

    মেলার ভীড়ের মধ্যে নিজের  নাম শুনে তাকালো মিথুন।
    সামনে তাকাতেই বিস্ময়ে মুক হয়েগেলো। নিজের মনেই বললো, ” কত বছর ধরে এ ডাকটার জন্য অপেক্ষা করছি। সত্যিইতো সে? নাকি মনের ভুল।
    ততক্ষনে সানজানা ঠিক তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।
    —– মিথুন ভাই দেখোতো চিনতে পারো কিনা।
    —–  সানজানা তোকে জীবনের ওপারে গেলেও ঠিক চিনে নিবো।
    —– একটুও বদলাও নি।
    —– তাই কি হয়, বদলেছি অনেকটাই। ভালো করে দেখ, মাথায় চুল হাল্কা হয়ে কাঁচায় পাকায় হাতে গোনা। এক মুখ দাঁড়িও  সাদা কালোর সহাবস্হানে। আর এই দেখ মধ্যপ্রদেশ, ভুড়ি গজিয়েছে হা হা হা…….
    সানজানাও হাসে।  মনে মনে বলে,” বয়সের সৌন্দর্যে এখনও তুমি তেমনি  নজরকাড়া।”
    —– কি হলো, থমকে গেলি যে সানজানা। এতটা বদলানো আশা করিসনি, তাইতো?
    —– আশাহতও হই নি।  নইলে ভীড় ঠেলে তোমার এত কাছটিতে নিশ্চয়ই আসতে পারতাম না।
    মিথুন ভাই দাঁড়িয়ে কথা বলবে, নাকি কোথাও বসবে?
    —– তুই সময় দিলেতো আমি বর্তে যাই, জানিসইতো সানজানা।
    —– মিথুন ভাই, তোমার কথাগুলো শুনে মনে হচ্ছে মাঝের সময়গুলো নেই, সেই সময়ে ফিরে গেছি।
    —– নাহয় ফিরলামই, ফিরে গেলে খুব কি ক্ষতি হবে?
    —– হয়তো হবে, হয়তো হবে না।
    —– নির্দিষ্ট করে আজও বলতে শিখলি না সানজানা। সত্যি তুই বদলাস  নি।
    —– বদলাতে চাইলে কি বদলানো যায় মিথুন ভাই?

    সানজানা আর মিথুনের আচরনে সাবলীল স্বাভাবিকতা দেখে যে কারো মনে হতে পারে ওদের প্রায়শঃই দেখা হয়। অথচ তেইশ বছর পেরিয়ে গেছে এক এক করে ওদের অদর্শনের।  বছর কয়েক আগে ট্রেনে হঠাৎ করে  বন্ধু অমিতের সাথে দেখা হওয়ায় অনেক বন্ধুদের খোঁজ খবরের সাথে মিথুনেরও খবর পেয়েছিলো সানজানা। সমাজ কল্যান অধিদপ্তরে চাকরীর খবর, কন্যা নুশাইবার খবর জেনেছিলো সানজানা। এটুকুতেই স্বস্তিও পেয়েছিল খুব।  বুকের খুব গহীনে অদৃশ্য একটা কাঁটার খচখচানি থেমে গিয়েছিলো সেদিন থেকেই। মিথুন ভাইয়ের  সাথের আড়ালটাও মন থেকে ঘুচিয়ে দিয়েছিল মুহুর্তে।  সত্যি কথা বলতে কি, অনেক দিন পর মিথুনের মুখোমুখি দাঁড়াবার প্রবল ইচ্ছেটা শুরু হয়েছিল সেই থেকেই।

    বিকেলের ম্লান আলোয় চমৎকার একটা আাভা ফুটে ওঠেছে সামনের জলাধারটিতে। সিমেন্ট বাঁধানো আসনে পাশাপাশি বসে দৃষ্টিটা সামনের টলটলে জলে ছু্ঁড়ে দিয়ে মেতে ওঠলো সানজানার মন পুরনো দিনগুলোর স্মৃতিচারণে।

    সানজানাকে অবাক করে দিয়ে মিথুন হঠাৎ  জিজ্ঞেস করে বসলো,
    —–  সেই জয়ীর খবর কি বলতো?
    মাঝে মাঝে মনে হয় জয়ীর কথায় সায় দিলেই ভালো হতো,অন্ততঃ তোকে এভাবে পুরোটা হারিয়ে ফেলতাম না।
    —– মিথুন ভাই এতগুলো বছর পরে অমন ছেলেমানুষী দর্শন আর নাই বা আউড়ালে। আমার মনে হয়, জয়ী’পা আজও তোমাকে ফিল করে। হন্যে হয়ে খুঁজে। তুমি ছিলে তার প্রথম ভালোবাসা,এটা শতভাগ ঠিক।
    —– জয়ীর প্রথম ভালোবাসা বুঝেছিলি, আমারটা বুঝিসনি কেন? নিজেকে খুব বেশি উদার দেখাতে চেয়েছিলি, মানিস সেটা?
    দু’পাশে মাথা দোলায় সানজানা। বলে,
    —– মোটেই না। এখানে আমার কোন দোষই ছিল না। পরিস্হিতির স্বীকার হয়ে আমাকে আড়াল হতে হয়েছিলো,  নাক কান বুঁজে নাকানি চুবানি খাবার সাধ তোমার হয়েছিলো, খেয়েছো , আমার কিছু করার ছিল না সেদিন, বিশ্বাস করো।
    —– সেদিন ছিলো না,কিন্তু আজও নেই তাইতো?
    —– মানে?এ বয়সে ভীমরতি ধরলো নাকি, হা হা হা………
    —– সানজানা, তুই কি করে এখনও সেই আগের মত,ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকিস বলতো? আমি তোকে সত্যিই শ্রদ্ধা করি।
    —– হুম, বয়স যে আমাদের শিক্ষাগুরু, যতই বাড়ছে, ততই শিখছি মিথুন ভাই।
    ঠোঁটের কোনের হাসিটির দিকে তাকিয়ে মিথুন তেইশ বছর আগের সানজানা মুখর দিনগুলোতে ফিরে গেলো মুহুর্তে।

    ছোট্ট শহর। পাড়ায় পাড়ায় ক্লাব ছিল না তখন। দুতিনটে পাড়া মিলে একটা ক্লাব।

    বর্ষবরন,ঈদানুষ্ঠান, পূজা পার্বন,আর একুশে ফেব্রুয়ারী এই ছিলো তখনকার দিনে ক্লাবের সমবেত হবার উপলক্ষ্য  । মাসখানেক আগে থেকে চলতো জল্পনা কল্পনা, রিহার্সেল আর সাজ সজ্জার তোড়জোড়। খেলাধুলা আর সাংস্কৃতি আয়োজনটা ছিল লম্বা সময়ের প্রস্তুতির। মিথুন গ্রামের কলেজ থেকে ইন্টার করে শহরের কলেজে গ্রাজুয়েশনের জন্য যে বছর ভর্তি হলো সানজানা তখন সবে ইন্টারের ছাত্রী। টিন এজ চপলতা চোখেমুখে। মিথুন মামাবাড়ি থেকে কলেজ যাতায়াত করতো,সানজানাদের পাশের পাড়া হওয়ায় একই ক্লাবে যোগদানের সুত্রে দেখা এবং পরিচয়।
    মিথুনের সাথে প্রথম প্রোগ্রামটাও ছিলো ডুয়েট গানের মঞ্চে।
    যেহেতু পুরনো গান তাই রিহার্সেলও একদিনেই উৎরে যাওয়া। মিথুনযে এতটা পারদর্শী গ্রামের ছেলে হয়েও, এটা সানজানার ধারনাই ছিলো না।
    ” মোরা আর জনমের হংস মিথুন ছিলাম, ছিলাম নদীর তীরে
    যুগল রূপে এসেছিগো,  আবার মাটির ঘরে”……….

    নতুন জুটির এই ডুয়েটটা খুব গ্রহনীয় হয়েছিলো খুব, দর্শকদের কাছে। “ওয়ান মোর” “ওয়ান মোর”ধ্বনিতে মুখরিত চারপাশের কোলাহলে স্ক্রিনের আড়াল থেকে মিথুনেরর এ্যানাউন্সমেন্ট ভেসে এসেছিল, সুপ্রিয় দর্শক মন্ডলি ক্ষমা করবেন, আপাততঃ আর জনমের সাথীর সাথে আর কোন গান  আপাতত ঝুলিতে নেই। আগামীতে এ জনমের সাথী হয়ে নিশ্চয়ই গাইবো আপনাদের দোআ পেলে।
    হৈ হৈ সাড়া পড়েছিলো দর্শকদের সারিতে। সানজানা আচমকা পরিস্হিতে কিছুটা বিব্রত হলেও মিথুনের হাত জোড় ভঙ্গিমা সামনে দেখে হেসে ফেলেছিলো তখনই। পরে সানজানা সহ সবাই বুঝেছিল কথায় কথায় রসিকতা করা মিথুনের  নিত্য অভ্যাস। আর তাই খুব অল্প সময়েই সবার সাথে সখ্যতা হয়ে গিয়েছিলো মিথুনের। সানজানা তার থেকে বয়সে ছোট বলে প্রথম দিন থেকেই নির্দ্বিধায় তুই তুকারির সম্পর্কে  সহজ আর সাবলীল ছিল মিথুন।  সানজানাও স্নেহের পাশাপাশি বন্ধুত্বের বাঁধনে জড়িয়ে পড়লো স্বভাবতই, খুব দ্রুত সুন্দর বোঝাপড়ার সম্পর্ক  তৈরি হয়ে গিয়েছিলো। যেন কতকালের আত্মীয়তা ওদের।

    এরপরে যখনই দেখা হয়েছে কলেজ কিংবা ক্লাবে মিথুন ডেকেছে জনসম্মুখেই, ” পূর্ব জনমের সখি”। রাখ ঢাক সম্পর্ক ছিল না বলে ওদের নিয়ে কারো আড়ালও ছিলো না কখনও।

    ছোট মামার বিয়েতে সব আত্মীয়রা যখন নানা বাড়িতে জড়ো হলো সেবার,সানজানার এক  কাজিন জয়ী আপু মিথুনের গল্প শুনে সানজানাকে রসিকতা করে বললো,  ” আমি তোর মিথুনের জন্য খুব দিওয়ানা বোধ করছি,  আমার মনটা তোর মাধ্যমেই তার কাছে পাঠাতে চাই। পৌঁছে দিবি সানজানা?
    হৈহৈ করে ওঠলো সানজানা, আরে ব্যস। মনি কাঞ্চন যোগ। তোমার পাশে একমাত্র মিথুন ভাইই পারফেক্ট। একবার চলে এসো আমাদের শহরে।এক্কেবারে সযতনে সঠিক স্হানে পৌঁছে দিবো জয়ী’ আপু।
    দারুন হবে কিন্তু।
    শুরুটা এভাবেই হাল্কা কথায়।
    জয়ীর ফোনে চিঠিতে, সানজানাও এসবের জবাবে চালিয়ে যায় দুষ্টুমির ধারাবাহিকতায়। ক্লাবে মিথুনের সাথে জড়তাহীন  সখ্যতা সানজানার। জয়ীকে গল্পের মাঝখানে রেখে দিব্যি ওরা পার করে দেয় কটা মাস, গড়ায় বছরও। বন্ধুত্ব হয় নিঃস্বার্থ। মাঝে মাঝে হেসে গড়িয়ে পড়ে সানজানা, বলে  ” আচ্ছা মানুষতো বাপু,  তুমি। গল্প শুনে জয়ী’পার সাথে প্রেম করছো। যাও একবার ঢাকা গিয়ে নিজ চোখে দেখে এসো। চোখে চোখটা অন্ততঃ রেখে এসো। হা হা হা……
    কখনও জয়ীকেও বলতো ফোনে ” মিথুন ভাইয়ের  ফোন নাম্বার, ঠিকানা দিচ্ছি মানুষটার একটিবার দর্শন করো।  আমি মধ্যবর্তীনি থেকে পদত্যাগ করতে চাই। ডাইরেক্ট এ্যাকশনে প্রেম পর্ব তোমরাই চালাও বাপু। আমাকে নিস্তার দাও।

    মিথুনও পাল্টা জবাব দিয়েছে বরাবরের মত হেঁয়ালি করে, শুনে হাসিতে যোগ দিয়েছে সানজানা সরল মনেই। জয়ীর কাছেও পৌঁছে  দিয়েছে বাড়তি দুষ্টুমিসহ।
    বছর ঘুরে আসার আগেই সানজানার নিস্তার পর্ব সত্যিই এসে গেলো। বিয়েটা হুট করেই ঠিক হয়ে যায় প্রবাসী পাত্রের সাথে।
    অন্যান্য বন্ধুদের সাথে মিথুনকেও খবরটা দেয় সানজানা।বলে,
    —— বি সিরিয়াস মিথুন ভাই,  আর ফাজলামু নয়। তুমি জয়ী’পুর সাথে কিভাবে যাগাযোগ করবে আমি না থাকলে। এসো ফোনে আলাপটা হয়ে যাক।
    মিথুন সত্যি সিরিয়াস হয়,  হেসে উড়িয়ে দেয় না আগের মত। বলে,
    —— সবার কথা ভাববার চাকরীটা তোকে কে দিয়েছিলো বলতো? কখনও কখনও নিজের কথাও ভাবতে হয়। ভাববি আজ থেকে, এই মুহুর্ত  থেকে, আমার সবটুকু ভালোবাসা বুঝার অক্ষমতা নিয়ে তুই অন্যের হয়ে যাচ্ছিস। তোর এই ব্যার্থতা বয়ে বেড়াতে হবে আমাকে আজীবন।
    তারপর এক মুহুর্তও দাঁড়ায়নি মিথুন। কিছু বুঝে ওঠবার আগেই হাওয়া। হাওয়াতো হাওয়াই।

    সানজানা ভ্রু কুঁচকে থাকে কিছুক্ষন। ভাববে কি? ভাবার সময় পেলেতো।
    পাত্র পক্ষের  তাড়া থাকায় চটজলদি বিয়েটাও হয়ে যায় ছোট খাটো আয়োজনের মধ্যেই।

    নতুন জীবনের উচ্ছলতায় সাগর পাহাড় বেড়িয়ে সানজানার বর উড়াল দিলো মাস খানেক পর। কাগজপত্র পাঠালো আরও দ্রুত। সানজানা যাবার আগে ব্যস্ততার ভীড়ে মিথুনকে খুঁজে বের করার সময়ই পেলো না। আবার অভিমানও হলো। শেষ মুহুর্তে এসব অন্তরের সংলাপ আউড়ানোর কি দরকার ছিলো? জয়ী’পু বিয়েতে এসে কতবার জানতে চেয়েছে মিথুনকে নেমতন্ন করেছি কিনা। আসলে জয়ী’পু  ভেতরে ভেতরে বেশ দূর্বল হয়ে পড়েছিলো মিথুন ভাইয়ের ওপর,  সানজানা বুঝতে পেরে  নিজের ওপরই রাগ হলো। আহারে জয়ীপুকে স্বপ্ন দেখাতে গেলো কেন অমন ঠাট্টাচ্ছলে? এখন যে চুরমার হলো মিথ্যে আশ্বাস।  মিথুন ভাইএর ওপরও খুব রাগ হলো।  যদি মনে এই ছিলো তবে এতটা সময় কেন জয়ী’ পার গল্পে তাল ঠুকলো। জয়ী’পা  বেচারী  সানজানার বিয়ের আসরে এসে বেশ কবারই জানতে চেয়েছে মিথুনের খবর, ঠিকানা। নেমতন্ন করেছি কিনা ঠিক ঠিক, জিজ্ঞেসও করেছে। সানজানা  মাথা নেড়েছে শুধু। বলতে পারে নি, জয়ী’ পা তোমাকে মধ্যবর্তীনি করে মিথুন ভাই আমার অন্তরেই ঢু মেরেছে এতটা সময়। বিশ্বাস করো আমি জানতে পারি নি তা। অনুভব করিনি  কখনো নিজের ভালো লাগাটাও। তুমি স্বপ্ন বুনেছো মিথুনকে নিয়ে, আর মিথুন ভাই স্বপ্ন দেখেছে ভুল জায়গায়। তুমি আমাকে ভুল বুঝোনা জয়ী’পা,কখনও যদি মিথুন ভাইয়ের অন্তরটা দেখার সুযোগ হয়ে যায়, ক্ষমা করো আমাকে।

    সানজানার অব্যক্ত এই কথাগুলো জয়ী না জানলেও সানজানার হাবভাবে এমন কিছু অনুমান করেছে যে, যথেষ্ট সন্দিহান হয়ে নিজেই খোঁজ করে হতাশ হয়েছে এ নামটার অস্তিত্ব না পেয়ে। তবে কি সবটাই সানজানার মজার গল্প? তা কি করে হয়?
    এত কথকতা, এত সংলাপের পিঠে সংলাপ, সৌম্যকান্তি, দীর্ঘদেহী সুদর্শন চেহারার বর্ণনা এত জীবন্ত হয় কি করে? তবে মিথুন কোথাও নেই কেন?

    এ জবাবতো সানজানা আর মিথুন ছাড়া জানা নেই কারো। মিথুন যে সানজানার হংস মিথুনেরই অংশ বিশেষ।  সর্ব সাধারনের মাঝে এ নামের অস্তিত্ব নেই। পোশাকি পিতৃপ্রদত্ত নামে স্বাভাবিক পরিচিতি তার। শুধু প্রথম ডুয়েট গানের রেশ ধরে সানজানা মিথুন নামের আবরণে ঢেকে রেখেছিলো তাকে। জয়ীপুর কাছে সানজানার দেয়া মিথুন নামেই তাই ধীরে ধীরে কল্প পুরুষ হয়ে ওঠেছিলো মিথুন জয়ীর প্রভাবিত মনটায়।

    সানজানা উড়াল দিয়েছে রহস্য রেখেই। জয়ী’পা  কষ্ট পেয়েছিল খুব। আর তাই নিজ বিয়ের খবরটাও জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি এক সময়ের সবার প্রিয় কাজিন সানজানাকে। সানজানা লোকমুখে  জেনেছে, অবাক হয় নি। বরং অপরাধবোধে মিইয়ে থেকেছে। আর মনে প্রাণে প্রার্থনা করেছে, সুখি হও জয়ী’পা, অনেক সুখি।

    ছুটিতে দেশে এলেও প্রথম প্রথম জয়ী’পার সামনে পড়েনি নিজ সন্তর্পন চলাচলে। পরে অবশ্য একটু আধটু দেখা হয়েছে। ঢাকা পড়ে গেছে মিথুন পর্ব সময়ের ধুলোয়।

    সানজানা বর্তমানে ফিরে মিথুনের ডাকে
    —— যাবি আমার নীড়ে?
    সানজানা মিথুনের বলার ভঙ্গিমায় একটু চমকে ওঠে,পরক্ষনেই হেসে সায় দেয়। বলে,
    —— নুশাইবা আর ওর মায়ের সাথে আলাপের লোভেতো যেতেই চাই। তবে আজ নয় আর একদিন।
    —– বেশ খবর রাখিস দেখি।  তবে পুরোটাই বলি, নুশাইবার মায়ের সাথেতো আলাপ হবে না। নুশাইবার মা নেই রে।
    চমকে তাকাই,বিস্ময়ের ঘোর লাগা কন্ঠে বলি,
    ——- কবে মারা গেছেন তোমার স্ত্রী?
    সামনের  শান্ত জলাধারে ছোট একটা ঢিল ছুঁড়ে ওঠে দাঁড়ালো মিথুন হঠাৎই, একরাশ নীরবতা সাথে নিয়ে সানজানাও  এক পা দুপা করে এগোতে লাগলো মিথুনের সাথে সাথে।
    মেলার গেটটা ক্রশ করতে গিয়ে  মিথুন বললো এতক্ষনে,
    ——আজ তবে এটুকুই। এবারতো দুজনের দুটি পথ দুদিকে…..
    সানজানা একটু যেন অপ্রস্তুত হলো, বললো
    —— মিথুন ভাই, আমি তোমাকে কষ্ট দেবার জন্য নুশাইবার মায়ের প্রসংগ তুলিনি।
    মিথুন এবার হেসে ওঠলো সশব্দে
    —— আরে ধ্যাত, ওসবে আমার দুঃখ হতে যাবে কেন? আমি নিজেইতো জানি না নুশাইবার মা কবে মারা গেছে। ও আসলে পিতৃমাতৃহীন, পরিচয়হীনও। সোজা কথায়, আমরা দুজন দুজনের ওপর নির্ভরশীল পিতা আর কন্যার মোড়কে সাজানো সংসারের বাসিন্দা।

    ——তার মানে তুমি বিয়েই করনি মিথুন ভাই?
    প্রশ্নটা মিশে গেলো বাতাসে। কারন সানজানা চেয়ে চেয়ে দেখলো মিথুন ভাই ততক্ষণে অনেকটাই এগিয়ে গেছে পিছনে দাঁড়ানো সানজানাকে রেখেই।

    ************

Skip to toolbar