-
আমি কন্যা সন্তান: রক্ত বের হচ্ছে, এটা কি আমার দোষ!!
—————————————————————————–
লেখক- সামসুন নাহার
[ ভালো থাকুক, নিরাপদে থাকুক আমাদের সকল কন্যারা]১৯৮৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস, সকাল ৬:০০ টা বাজে। আমি ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে এলাম। তখনো ঘুমের ভাব কাটে নি। চোখ টিপে টিপে ওয়াশরুমে গেলাম, হাত-মুখ ধোয়ার জন্যে। হঠাৎ দেখি ঘরের সামনের জায়গাটাতে পানি। পানির রঙ ছিল অস্বচ্ছ ঘোলাটে ।
আমরা তখন টিনশেডের বাসায় থাকতাম । আমাদের বাড়ির পাশে একটি ডোবা ছিল। সেই ডোবার পানি ছিল ঘন কালো রঙের।এই কালো পানি কীভাবে সাদা ঘোলাটে হলো, আমি কি ঠিক দেখলাম! এই ভাবতে ভাবতে চোখ-মুখ ধুয়ে বাড়ির সীমানাতে এসে দাড়িয়ে পানি দেখছিলাম আর পানির রঙ বদলের কারণ বোঝার চেষ্টা করছিলাম।
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম! একি! পানি তো আমাদের ঘরের সামনে চলে এসেছে!!!😔
তারপর আমি ঘরের ভেতর গিয়ে গামছা নিয়ে মুখের পানি মুছছিলাম আর দরজার সামনে গিয়ে দাড়ালাম কি ঘটছে বোঝার জন্যে।আম্মা তখনো ঘুমাচ্ছিলেন। একবার আম্মার দিকে তাকাচ্ছিলাম, আবার ঘরের বাইরে তাকাচ্ছিলাম। আম্মাকে ডাকার সাহস হলো না। আমি রুমের ভেতরে চলে এলাম।
কিছুক্ষণ পর আমাদের এক ভাড়াটিয়া এসে আম্মাকে ডেকে বললেন, আপা বাড়ির ভেতর পানি এসে পড়েছে। এতো পানি কোত্থেকে এলো !!আম্মা তখন বাইরে গিয়ে দেখলেন সত্যি তো অনেক পানি!
আসলে ঘটনা কি! এইটা ভাববার ও অবকাশ হলো না, সকাল ৮টার মধ্যে হাঁটু পানি হয়ে গেল। পানি বেড়ে মুহূর্তের মধ্যে ঘর গুলোকে তলিয়ে দিল।
আমাদের সাথে কিছু ভাড়াটিয়াও ছিল। সবার ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে সমস্ত আসবাব ডুবিয়ে দিচ্ছিলো।
বেলা ১১টার মধ্যে ঘরের বাইরে কোমর পানি হয়ে গেল। অনেকেই আসবাবপত্র উঁচু করে ঘরে থাকার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু পানির স্রোত বয়ে যাচ্ছিলো আর দ্রুত পানি বেড়েই চলছিল।
তাই বাড়িতে কেউ আর থাকার সুযোগ পেলেন না। যে যার যার মতো করে নিজেদের আসবাবপত্র গুছিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছিলেন।তখন আমি পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি। স্বচ্ছ টলটলে নদীর পানির প্রবাহ যেন আমাকে আলোড়িত করছিল। আমার মধ্যে এক ধরণের আনন্দ অনুভুতি হচ্ছিলো। আহা! কত পানি। কি সুন্দর পানি! পানি বেড়ে আমার বুক সমান হয়ে গেছে।
বাসার সব ভাড়াটিয়া চলে গেছে। শুধু একজন ছিলেন। তিনিও চলে যাবেন বলে গোছগাছ করছিলেন।
আমাদের আসবাবপত্রগুলোকে ইট দিয়ে উঁচু করা হয়েছিল। তারপরেও একহাত পর্যন্ত ডুবে গেছে। শুধু খাটটিকে একটু বেশি উঁচু করে কোনোরকমে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
হঠাৎ করে জানতে পারলাম আমাকেও নাকি চলে যেতে হবে আমাদের এক পরিচিতের সাথে। তিনিও আমাদের বাসায় ভাড়া থাকেন। তাকে আমরা ফুপু বলে ডাকি।শুনেছি, তিনি আমার দাদির সংসারের কাজের সহকর্মী ছিলেন। সেই সুবাদে তাকে ফুপু ডাকা। অনেক বছর ধরে আমাদের ভালো-মন্দ সবকিছুতেই তিনি পাশে ছিলেন সবসময়।
এদিকে আম্মার সাথে থাকা যাবে না কারণ এতো মানুষ এক বিছানায় জায়গা হবে না।আমার আব্বা প্রবাসী ছিলেন, আমাদের সাথে থাকতেন অনাত্মীয় এক মামা। সিদ্ধান্ত হলো, আম্মা, মামা আর আমার ছোট ভাই এই বাসাতে থাকবেন। আর আমি সেই ফুপুর সাথে চলে যাব ফতুল্লায়। সেখানে বেড়ি বাঁধ দেয়া আছে বন্যার পানি ঢুকবে না।
আমি আসলে কিছু বুঝতে পারছিলাম না, সবাই বাসায় থাকবে আর আমি কেন যাব? মনে মনে যেতে চাইছিলাম না কিন্তু আম্মার নির্দেশ তাই না গিয়ে উপায় নেই।
আম্মা আমাকে একটা ব্যাগ-এ কিছু কাপড়-চোপড় গুছিয়ে নিতে বললেন। আমি ব্যাগ গুছিয়ে তাদের সাথে চলে গেলাম ফতুল্লায়।
যেখানে গিয়ে উঠলাম সেটা একটা সরকারি কোয়ার্টার ছিল। আমি ঠিক মনে করতে পারছি না সেইটা কি কোনো আত্মীয়ের বাসা ছিল নাকি আশ্রয় কেন্দ্র ছিল।
আসলে তখন এতো ক্যালকুলেশন করতে পারতাম না। ফুপু সাথে নিয়ে গেছেন সবাই খুব আদর করেছেন, অবহেলা করেন নি। এই টুকু মনে আছে।
আজকে লিখতে গিয়ে মনে পড়লো, আমরা যেই ফ্ল্যাটটিতে উঠেছিলাম সেখানে কোনো ফার্নিচার ছিল না। ফ্লোরে ঢালাও বিছানা করে সবাই ঘুমিয়েছিলাম।
সেখানে আমার সমবয়সী কয়েকজন ছিল আবার মিনু নামের বড় একজন ছিলেন, যিনি সারাক্ষণ আমার কেয়ার করতেন। তাদের সাথে সারাদিন এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতাম।
একদিন দুপরে টলটলে জমানো পানিতে গোসল করেছিলাম। ফতুল্লার সেই সরকারি কোয়ার্টার-এর পাশে একটি ইটের ভাটা ছিল। সেখানে একটি প্লটে ছোটো পুকুরের মতো ছিল। পুকুরের পানি এতটাই স্বচ্ছ ছিল যে বুক সমান পানিতে দাঁড়িয়ে পা দেখা যেতো। পুকুরের তলানিতে লাল রঙের ইট বিছানো ছিল, কোনো কাঁদা-মাটি ছিল না।আমার খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো আরো কিছুক্ষণ পানিতে থাকার। কিন্তু দেরি করলে রিলিফ শেষ হয়ে যাবে।
তাই কোনোরকমে গোসল শেষ করে খুব তাড়াতাড়ি রিলিফ নেয়ার জন্যে লাইনে দাঁড়িয়ে গেলাম।
রিলিফ নিতে আমার কেমন যেন অস্বস্থি লাগছিল। কিন্তু কিছুই করার ছিল না। আমি যাদের সাথে সারাদিন কাটাতাম তারা সবাই হাতে প্লেট নিয়ে এমন লাইনে দাড়িয়ে ছিল।
রাতের খাবারটা আবার বাসায় রান্না করা হত। সেজন্যে বিকেলে সবাই মিলে বসে সব্জি কাটাকুটি করতাম।
নতুন জায়গা, নতুন মানুষ, নতুন পরিবেশ সব মিলিয়ে আমি অনেকটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। এভাবেই কেটে গেল আমার তিনটি দিন।
প্রতিদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই খিচুরি খেতে খুব খারাপ লাগত। কিন্তু কিছুই করার ছিল না। আমি কখনোই নিজের খারাপ লাগার কথা মায়ের সাথেও শেয়ার করি নি। সেখানে আমি কাকে বলব!!
খেতে বসলেই বাসার কথা মনে পড়তো। এছাড়া তারা কি করছেন, কেমন আছেন, এরকম আরো কত ভাবনা।
রাতের বেলা যখন ঘুমাতে যেতাম তখন মেঝেতে একটা চাদর বিছিয়ে দেয়া হত। শক্ত বালিশ আর শক্ত মেঝেতে পিঠে ব্যথা লাগত। এপাশ ওপাশ করে অনেক কষ্ট করে ঘুমাতাম, আর দিন গুনতাম কবে বাসায় যাব।
ফুপু বলেছিলেন, দুদিন পরে নিয়ে যাবেন। তিনদিন পার হয়ে গেল। বাসায় নিয়ে যাবে এমন কথা আর কেউ বলছে না। আসলে সবাই তাদের নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
খুবই বাজে আতঙ্কের মধ্যে সবার সারাটা সময় কাটত। এই বুঝি বাঁধ ভেঙে গেল। মাঝ রাতে হঠাৎ চিৎকার শোনা যেত বাঁধ ছুটে গেছে। সবাই আসো, সবাই আসো। কিসের আর ঘুম! সব পুরুষেরা দৌঁড়ে যেত বাঁধ জোড়া দেয়ার জন্যে।
দেখা যেত সকালে নাশতা খাচ্ছে আবারো চিৎকার। খাবার ফেলে রেখেই ছুটতে হতো। এভাবেই রাত বিরাত বাঁধ রক্ষার এক আপ্রাণ চেষ্টা। বাঁধ রক্ষা করাটাই ছিল সবার মুখ্য কাজ।
চর্তুথদিন রাতের বেলায় আনুরি ফুপু আমাকে বলছিলেন, “মা, তোমার কি খিচুরি খেতে অনেক কষ্ট হচ্ছে? আমাদের অন্য কোনো খাবারের ব্যবস্থা করার সামর্থ নেই। তোমার ফুপা বিল পায় নি। এমন সময় আইলা তোমারে কিছু খাওয়াইতে পারতাছি না।“
আমি খুব লজ্জা পাচ্ছিলাম এই কথা শুনে। বললাম, না আমার কোনো কষ্ট হচ্ছে না।
অনেক বছর পর এই ঘটনা লিখতে গিয়ে আনুরি ফুপুর কথা মনে পড়ল। জানি না তিনি বেঁচে আছেন কি না।আনুরি ফুপুর একটা ছোট্ট পরিচয় দেই। তিনি হচ্ছেন আমি যেই ফুপুর সাথে ফতুল্লায় এসেছি তার সতিন। ফুপার দ্বিতীয় স্ত্রী।
এই মানুষগুলোর মমতার কাছে আমি আজও ঋণী। খুব মনে পড়ছে তাদের কথা। কত! কত! বছর হয়ে গেল তাদের সাথ যোগাযোগ নেই।
শুনেছিলাম ফুপা বেঁচে নেই। আনুরি ফুপু আছে কি না জানি না। মনে যেহেতু পড়ল ভাবছি খোঁজ নিবো, যদি পেয়ে যাই।
ওনাদের কথা মনে পরাতে অজান্তেই বুকের ভেতরে কেমন যেন মোচর দিয়ে উঠল। কত মানুষ কত স্মৃতি কত ঘটনা। সময়ের সাথে সাথে আমি কতকিছু ভুলে বসে আছি!
যাই হোক আবারো ফিরে আসি ১৯৮৮ সালের বন্যার সেই দিনগুলোতে।
কলোনির পাশে এক বাসার ছাদে বসে কয়েকজন মিলে গল্প করে যাচ্ছিলাম, এমন সময় কোন এক বাসা থেকে মুরগি তরকারির অনেক সুন্দর গন্ধ পেলাম। খুব খেতে ইচ্ছে হচ্ছিলো। কতদিন ভালোভাবে খাবার খেতে পারছি না। এই তরকারিটা হলে লেবু দিয়ে ঝোল দিয়ে মেখে কত মজা করেই না খেতে পারতাম!!
এখন পর্যন্ত তরকারি রান্না করতে গেলে সেই গন্ধটা নাকে আসে। সেই মুরগি তরকারিটা না জানি কত সুস্বাদু ছিল। আমার কাছে আজপর্যন্ত মুরগি তরকারি মানেই সেই গন্ধ।
গল্পের ফাঁকে পাশের বাসার একটি জানালায় চোখ পড়ল। দেখা যাচ্ছিলো আমার বয়সী একটি ছেলে এই ভর দুপুরে পড়ার টেবিলে বসে আছে। সামনেই আমাদের ফাইনাল এক্সাম, এক থেকে দেড় মাস পর। ছেলেটি সম্ভবত ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই সব দেখে আমার মনটা ছটফট করে উঠল। আমি কোথায় আর আমার বই কোথায়??
এরই মধ্যে জোহরের আযান পরে গেল। সবাই মিলে গোসলের জন্যে বের হলাম। এদিকে দুপুরের খাবারের জন্যে আবার লাইনে দাড়াতে হবে। সবাই খুব তারাতারি গোসল শেষ করে খাবার সংগ্রহ করলাম। খাওয়া শেষ করে রুমে গেলাম ঘুমানোর জন্যে।আমার রুমে কয়েকজন ছোট বাচ্চা ছিল। দেখলাম ওদের মায়েরা তাদের সন্তানদের ঘুম পারানোর চেষ্টা করছে। এইসব দেখতে দেখতে আমি ও ঘুমিয়ে পরলাম।
এভাবে ঘণ্টা খানেক ঘুমিয়েছি। ঘুমের মধ্যেই আমাকে একজন এসে ডেকে বলল, চলো আমরা ঘুরতে যাব। আমি জানতে চাইলাম, কোথায় যাব? তখন বলল, বন্যার পানি নাকি অনেকে বেড়েছে। এই কলোনীতে নতুন অনেক মানুষ এসেছে, তাদের দেখতে যাব।
আমি উঠে গলাম এবং ওদের সাথে বিভিন্ন ক্যাম্পে ঘুরে ঘুরে বন্যার খোঁজ খবর নিলাম। কে কোন এলাকা থেকে এসেছে তাও জেনে নিলাম। মনে মনে আমি আমার এলাকার মানুষ খুঁজছিলাম। বন্যার পরিস্থিতি জানার জন্যে। না, আসলে তেমন কাউকে পাই নি।
একবুক হতাশা নিয়ে বাসায় ফিরলাম। গত পাঁচটি দিন যেন পাঁচ বছরের মতো কাটালাম।
সন্ধ্যা নামে নামে সময়ে দেখলাম বড়দের কয়েকজন মেহেদি বাটা নিয়ে ব্যস্ত। আমরা কি দেখে আসলাম এসব নিয়ে কথা বলছিলাম আর হাতে মেহেদি লাগাচ্ছিলাম। এভাবে গল্প কথায় সময় বয়ে যাচ্ছিলো।মাগরিবের আযান হয়ে চারপাশ অন্ধকারে লীন হয়ে আসছে। এমন সময় আমার প্রস্রাব পেলো। এদিকে হাতে মেহেদি দিয়েছি, রং মোটমোটি ধরেছে। আরো কিছক্ষণ রাখলে মেহেদির রঙটা উজ্জ্বল হতো। কিন্তু ওয়াশরুমে না গেলেই নয়। অনেকটা বিরক্তি নিয়ে বাম হাত ধুয়ে ওয়াশরুমে গেলাম।
প্রস্রাব শেষ করে যখন পানি ব্যবহার করছিলাম তখন হাতে কেমন যেন পিচ্ছিল পিচ্ছিল মনে হচ্ছিল। হাতটি তখন সামনে এনে ধরি। দেখতে পেলাম হাতের আঙ্গুল থেকে তালু পর্যন্ত লম্বা রেখার মত ডিজাইন। এত সুন্দর টকটকে লাল রং দেখে খুশিতে মনটা টগবগিয়ে উঠল। ভাবছিলাম আমার মেহদির রং এত সুন্দর হলো!!
হাতে মেহেদির টকটকে রংয়ের অনুভূতি নিয়ে বেড়িয়ে এলাম। পানির সাথে পিচ্ছিল রক্তের রেখাগুলো যে ধুয়ে অদৃশ হয়ে গেল তখনো বুঝতে পারি নি।
বাইরে এসে যখন হাতের সুন্দর রঙের দিকে তাকালাম তখন অবাক হয়ে ছিলাম, এত সুন্দর রঙ ডিজাইন সব কোথায় গেল? তাহলে আমার হাতে কি ছিলো? রক্ত!!
আমি মনে মনে ভয় পেয়ে গেলাম। আবার ওয়াশরুমে গেলাম। খুঁজে পেলাম আমার প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। ভয়ে হাত পা কাঁপছিল। কি করব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। দুরুদুরু বুক নিয়ে বাইরে বেড়িয়ে এলাম।
খুব মন খারাপ হয়ে গেল, ডান হাতে আর মেহেদি পরা হলো না। একটু পরপর অনুভব করছিলাম, কিছু বের হচ্ছে। আর ততবারই ওয়াশরুমে যাচ্ছিলাম। সবাই যে যার যার কাজে ব্যস্ত। তাই আমার দিকে কেউ খেয়াল করে নি। আর প্রতিবারই আমি খেয়াল রেখেছিলাম কেউ যেন আমাকে দেখতে না পায়, আমি যে বারবার ওয়াশরুমে যাচ্ছি।
আমি আর কারো সাথে কথা বলার আগ্রহ পাচ্ছিলাম না। আমার সাথে কি হচ্ছে কাউকে বলতেও পারছিলাম না।
হঠাৎ চুপ হয়ে যাওয়াটা কয়েকজনের চোখে পরেছিল। আমাকে মিনু আন্টি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি বাসার জন্যে মন খারাপ লাগছে? আমি কোনো উত্তর দেই নি। চুপচাপ ছিলাম।
আমার মনের ভেতর যে ঝড় বয়ে যাচ্ছিলো, শরীরে যে অস্বস্থি কাকে বলব আমার কষ্টের কথা!!
শুধু ভাবছিলাম কখন বাসায় যাব!!এদিকে প্যান্টিতে একটু একটু রক্ত মেখে চটচটে হয়ে যাচ্ছে। কীভাবে এই রক্ত বের হওয়া বন্ধ হবে বুঝতে পারছিলাম না। শুধু একটা উপায় বের করতে পেরেছিলাম যে, ওয়াশরুমে যাব আর সে সময় কিছু রক্ত গড়িয়ে বের হয়ে যাবে। তাহলে আমি অন্তত কিছু সময়ের জন্যে রিলাক্স থাকব।
এভাবেই সন্ধ্যার পর থেকে চলছিলাম। রাত ৯টায় খেতে বসলাম। তখন ফুপার সাথে দেখা। ফুপা বললেন, “আজকে তোমাগো বাসায় গেছিলাম। তোমার মায় কইছে, তোমারে বাসায় নিয়া যাইতে।”
আস্তে করে মাথা নাড়ালাম। খাওয়া শেষ করে, ঢালাও করে বিছানা পাতা রুমে চলে এলাম। কাপড়-চোপড় গুছিয়ে ১০টার দিকে শুয়ে পরলাম আর ভাবছিলাম, কখন সকাল হবে!!
শুয়ে শুধু এপাশ-ওপাশ করছিলাম। বাসায় যাব এই তাড়ণা থেকে সারা রাত ঘুমাতে পারি নি। একটু ঘুমাই আবার জেগে উঠি। বারবার দেয়ালে ঝুলানো ঘড়িটির দিকে তাকাই।
রাত যেন শেষ হতে চাইছে না। ফজরের আযান শুনে চোখ মেলে চারপাশে দেখলাম। সবাই ঘুমাচ্ছিল। আমার আর ঘুম আসে নি। কিছুক্ষণ মোড়ামুড়ি করে খুব ভোর বেলায় উঠে গেলাম।
আবারও সেই পেইন। ওয়াশরুমে গিয়ে দেখি প্যান্টির অবস্থা মারাত্মক খারাপ। কোনোভাবেই পরে থাকা যাবে না। তখন এটা বদলে নতুন একটা পরে নিলাম। আর রক্তে মাখানো প্যান্টি কি করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। সেইসময় পলিব্যাগ পর্যাপ্ত ছিল না। তার উপর কারো সাহায্য নিব তাও সম্ভব না। লজ্জায় এই কথা কাউকে বলতেও পারব না।কখন বাসায় যাব আর এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাব!! বাসায় যেতে পারলেই আমার সব সমস্যার সমাধান হবে। এটাই ছিল একমাত্র ভাবনা।
আমি চুল আঁচড়ে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম কখন ফুপা এসে ডাকবেন!
একটু পর পর ওয়াশরুমে যাচ্ছিলাম যেন নতুন প্যানটি আবার নষ্ট না হয়।সকাল সাড়ে সাতটায় ফুপু হাতে করে দুটো হোটেলের পরটা আর একটু ডাল এনে আমাকে দিয়ে বললেন, মা নাস্তাটা খেয়ে রেডি হয়ে যাও। আটটার দিকে তোমার ফুপা তোমাকে নিয়ে রওয়ানা করবেন।
গত কয়েকদিন খিচুরি খেতে খেতে খিচুড়ির প্রতি চরম অভক্তি হয়েছিল! সেইদিন এই খাবার পেয়ে আমার খুশি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমি খুশি হতে পারি নি। কখন বাসায় যাব এই চিন্তায় ছিলাম।
অবশেষে ফুপার সাথে রওয়ানা দিলাম। অপেক্ষার পালা শেষপর্যন্ত শেষ হলো। প্রাণ ভরে একটা নিঃশ্বাস নিলাম।
ফুপা একটা রিকশা ভাড়া করলেন। রিকশায় বসতে গিয়ে আবার নতুন সমস্যা। মুহূর্তেই স্বস্থির নিঃশ্বাস আমার বুক চেপে ধরল।
এখন রিকশায় কীভাবে বসবো! জামাতে যদি রক্ত লেগে যায়!! তবে তো সবাই দেখে ফেলবে। লজ্জা আর ভয়ে ভেতরে ভেতরে মুষড়ে পরলাম।
তারপর বুদ্ধি করে জামাটা উঠিয়ে বসলাম। বসতে গিয়ে দেখি আরেক বিপদ! রিকশার সিটে তো রক্ত মেখে যাবে। তখন রিকশাওয়ালা যদি রাগ করেন!!
ফতুল্লা থেকে পোস্তগোলা ব্রিজ অনেক দূরের পথ। কোমরটা হালকা করে উঠিয়ে বসলাম। যেন সিটের সাথে না লাগে। ফুপা আমাকে বললেন, মা তোমার কি বসতে কষ্ট হচ্ছে? আমি বললাম না, ঠিক আছে।
তখন নারায়নগন্জের হাইওয়ে রোড মসৃণ পিচঢালা ছিল না। এদিকে বন্যার পানিসহ নানা কারণে ভাঙ্গা রাস্তা দিয়ে যখন রিকসা যাচ্ছিল, ঝাঁকিতে আমার নিতম্ব বারবার সিটের সাথে আছড়ে পরছিল।
আমি কোনভাবেই বসার কন্ট্রোল রাখতে পারছিলাম না। আর এদিকে রাস্তাও যেন ফুরাচ্ছিল না। এক ঘণ্টার পথ আমায় হাজার বছরের স্ট্রেস দিয়েছিল।
ধীর্ঘ সময়ের সেই ধীর্ঘ পথ পারি দিতে গিয়ে সে সময়ের মানসিক-শারীরিক যে লাঞ্ছনা তা আজকের লেখনীতে সেইভাবে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আর প্রকাশ পেলেও ভুক্তভুগী ছাড়া অন্য কেউ তা অনুভব করতে পারবে না।
অবর্ণনীয় কষ্টের পর যখন বুড়িগঙ্গা ব্রিজটি চোখে পড়ল তখন যেন আবারো সস্থির নি:শ্বাস ফেলতে পারলাম। আল্লাহ দয়া করেছিলেন।
হায় কপাল! ভয়ংকর যাত্রার শেষ পর্যায়ে এসেও আমার উদ্বেগের শেষ হলো না। রিকশার সিটে যে রক্ত মেখে গেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ফুফা রিকশাওয়ালাকে ভাড়া পরিশোধ করছিলেন। আমি তখনো রিকশায় বসা। কোনভাবেই রিকশা থেকে নামার সাহস পাচ্ছিলাম না।
রিকশা থেকে নামলেই তো সবাই রক্ত দেখে ফেলবে। এই চিন্তা করেই আমার হাত-পা অবশ হয়ে আসছিল।ফুফা বললেন, ’ মা, নামো না কে? আমরা তো আইসা পরছি। রাস্তা অনেক ভাঙ্গা ছিল। তোমার অনেক কষ্ট অইছে না? অহন বাসায় গিয়া, গোসল কইরা খাইয়া একটা ঘুম দিবা। দেখবা তোমার ভালো লাগতাছে।’
ফুফা যেভাবে তাড়া করছিলেন না নেমেও উপায় দেখছিলাম না। তাই এক লাফ দিয়ে রিকশা থেকে নেমে একটু আর চোখে দেখে নিলাম কতটুকু রক্ত মেখে ছিল।
এবড়ো থেবড়ো রক্তে মাখা সেই রিকশার সিটের প্রতিচ্ছবি অনেক বছর পর মনের চোঁখে ভেসে উঠল।
আমি ভয়ে ফুফার হাত ধরে সামনের দিকে তাড়াতাড়ি হাঁটা দিয়েছিলাম। রিকশাওয়ালা যদি ডেকে রক্তের কথা বলে সেইটা হবে চরম লজ্জার, অপমানের। অনেকটা পথ হেঁটে এসেও আমি পিছন ফিরে তাকাই নি। মনে হচ্ছিল, রিকশাওয়ালা আমাকে পেছন থেকে এসে ধরে বলবে, কেন তার রিকশা আমি নোংরা করেছি?
পোস্তগোলা ব্রিজ পার হয়ে আমি করিমোল্লাবাগ র্পযন্ত চলে এসেছি। তখনো ভয়ে বুকটা কাঁপছিল। তখনো পেছনে ফিরে তাকাই নি। আর সি এন গেইটের সামনে এসে ধুরু ধুরু বুকে পেছন ফিরে দেখে নিলাম রিকশাওয়ালা আমার পেছন পেছন এলো কি না।
যদিও রিকশাওয়ালাদের চেহারা বরাবর তাকাতে ভয় পাচ্ছিলাম। দেখলাম দু তিনটা রিকশা আমার পেছন দিক থেকে আসছে, যাদের আমি চিনি না। যানি না সেইদিন সেই রিকশাওয়ালার অনুভূতি কি ছিল!! হয়ত অনেক বেশি বিরক্তি নিয়ে তিনি চটকানো রক্ত পরিস্কার করেছিলেন।
আজকে আমি অনুভব করছি, আমার নোংরা রক্ত তিনি পরিস্কার করে আমাকেই ঋণী করে রেখেছেন। যানি না এই ঋণ কীভাবে শোধ হবে!!
আর সি এন গেইট অতিক্রম করে যত সামনের দিকে আগাচ্ছিলাম ততই পানি বাড়ছিল।
রিকশা নেয়ার কোন উপায় ছিল না। এত বেশি পানি ছিল যে রিকশার চাকা ডুবে যাচ্ছিল। আমি মনে মনে অনেক খুশি হয়ে ছিলাম। যদিও ফুপা আমার জন্যে কষ্ট পাচ্ছিলেন।যতোই সামনের দিকে আগাচ্ছি আস্তে আস্তে আমার কোমর পর্যন্ত ডুবে গেল। এভাবে ফরিদাবাদের গলিতে চলে এলাম। এটাই আমাদের বাসার গলি। বাসার কাছেই চলে এলাম।
পানির মধ্যে এভাবে হাঁটতে খুবই লজ্জা লাগছিল। ডানে-বামে তাকাচ্ছিলাম কেউ দেখছে কি না!
দু-একটা পরিচিত মুখ, চোখে পড়ল। কি জানি, কি ভাবছিল আমাকে দেখে।অনেকটা না দেখার ভান করে বাসার দিকে আগাচ্ছিলাম। অবশেষে, নিজের ঘরে ফিরলাম। ঘরের মধ্যে তখন হাঁটু পানি। আসবাবপত্র ইট দিয়ে আরো উচুঁ করা হয়েছিল।
বাসায় ফেরার আনন্দে আমার যে রক্ত বের হচ্ছিল তা ভুলেই গিয়েছিলাম। এদিকে আমাকে দিয়ে ফুপা খুব দ্রুতই চলে গেলেন। ব্যাস, অনেক শান্তি!তখন বেলা ১২ টা বাজে। আম্মা মুরগি ভুনা আর ঢেঁড়স ভাজি করেছিলেন। দুটোই আমার প্রিয় খাবার। কখন গোসল করে ভাত খাব মনে সেই তাড়না কাজ করছিল।
আমি গত ছয়দিন খাওয়ার যে কষ্ট করেছিলাম তা আম্মাকে বলছিলাম। কি কি হলো, কার কার সাথে দেখা হলো, জমানো সব কথা। আমার যে রক্ত বের হয়েছিল তা পুরোই ভুলে গেলাম।
আম্মাও কষ্ট পাচ্ছিলেন। বললেন, বাসায় তো ভাল খাওয়া-দাওয়া হচ্ছিল, তোমাকে ওখানে পাঠানো আমার ঠিক হয় নি। সেই মুর্হুতে আমি গত কয়েকদিনের সকল কষ্ট ভুলে যাই। আম্মা আমাকে মিস করেছিলেন এটা শুনেই ভাল লাগছিল।অবশেষে আমাদের ঘরের সামনে দিয়ে বয়ে চলা বুড়িগঙ্গার টলটলে পানিতে গোসল করে নিলাম। বাইরের দরজার সামনেই একটি টেবিল পাতানো ছিল। সেই টেবিলে বসে মগ দিয়ে পানি ঢেলে গোসল করেছিলাম।
এবার খাওয়ার পালা। আমার অনেক ক্ষুদা লেগেছিল। ঢেড়স ভাজি আর মুরগি ভুনা দিয়ে খুব মজা করে ভাত খাব অনেক দিন পর।
হঠাং অনুভব করলাম আমার নতুন প্যান্টি ভিজে গেছে। সাথে সাথে বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। আবার ও সেই যন্ত্রণা। এসব কেন বের হচ্ছে???
মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। ভাত আর খেতে পারছিলাম না। আম্মার কাছে গিয়ে বসলাম। খুব আস্তে করে বললাম, আমার একটা সমস্যা হয়েছে। আম্মা জানতে চাইলেন কি হয়েছে?
বললাম, গতকাল সন্ধ্যা থেকে আমার রক্ত বের হচ্ছে। কথা বলাও শেষ করতে পারি নি। আম্মা আমার উপর রেগে আগুণ হয়ে গেলেন।এতটাই ক্ষিপ্ত হলেন যেন আমি বড় ধরনের কোনো অপরাধ করে ফেলেছি। তখন আমার অবস্থাটা যে কি! মাথা থেকে মন সবকিছু কেমন স্তব্দ হয়ে গেল। বুকের ভেতর একধরণের চাপ অনুভব করলাম। হৃদয়টা কয়েক হাজার খন্ডে বিভক্ত হলো।
বিষণ্ণতায় ছেয়ে গেল সারাটা মন দেহ। রক্ত বের হয়েছে এটা অনেক বড় অপরাধ হয়েছে। এই দোষের বোঝা মাথায় নিয়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে, কথার শক্তি হারিয়ে ফেললাম। ভাতগুলো কোনোরকমে গিলে পেটে পাঠিয়ে দিলাম।
আম্মা দুই টুকরা কাপর আমার গায়ে ছুরে দিলেন, খুব রেগে রেগে বললেন, কীভাবে কাপরটি প্যান্টির ভেতরে সেট করব।
আমি শুধু এটাই বুঝতে পারছিলাম না আমার দোষ কোথায়? খুব মন খারাপ নিয়ে কেটে গেল বিকেল আর রাত।
পরদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠি। দেখলাম কাপরটি রক্তে ভিজে গেছে। রক্তমাখা কাপরটি ধুয়ে শুকাতে দিতে হবে। আম্মা বলেছিলেন, এই কাপড়টি ধুয়ে আবার ব্যবহার করতে হবে।
বাইরের সেই টেবিলে বসে নদীর পানিতে চেপে চেপে কাপড়টি ধুয়ে নিচ্ছিলাম। আমার প্রতি চাপে রক্তের প্রবাহ মুষ্টি করা আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে নিঙড়ে বের হচ্ছিল আর সেই রক্তের আঁশটে গন্ধ এখনো নাকে লেগে আছে।
সাবান দিয়ে ভালভাবে ঘষে ঘষে কাপড়ের টুকরা ধুয়ে নিলাম। ঘরের চারপাশে এবং বাইরে সবজায়গায় পানি। এই এক টুকরো কাপড় মেলার কোনো জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আম্মাকে জিজ্ঞেস করার সাহস নেই। বাইরে টেবিলের একপাশে মেলে দিয়েছিলাম।
প্যান্টির ভেতরে গুজে নিলাম নতুন একটি কাপড়ের টুকরা। কাপড়টি এত বেশি অবাধ্য ছিল ওকে কোনোভাবেই কেন্দ্রে রাখতে পারছিলাম না। দুপায়ের উরু দিয়ে কাপড়টি চেপে চেপে বাইরের টেবিলে গিয়ে বসলাম। ঘরের ভেতরে সবাই ঘুমাচ্ছে।
চারপাশে সকালের নিরবতার গন্ধ আমি অনুভব করছিলাম। মুক্ত আকাশের নিচে পা দুলিয়ে বসে বসে, স্নিগ্ধ সকালের কোমল রোদে, ঝিরিঝিরি ইষদ ঠান্ডা হাওয়ায় গা এলিয়ে দিলাম।
আর ভাবছিলাম আমার কেন এমন হলো। আমি তো কোন অপরাধ করি নি। আম্মা অনেক কষ্ট পেয়েছেন। কিন্তু আমার কি দোষ? কেন রক্ত বের হয়!!!আম্মা বলেছেন, আমার নাকি বয়স কম। এত কম বয়সে কারো মাসিক হয় না। আমার মাসিক হয়েছে। এটা নাকি অনেক লজ্জার ব্যাপার। এই কথা কাউকে বলা যাবে না। বারবার আম্মার মলিন চেহারাটা চোখে ভাসছিল।
একমসয় খেয়াল করলাম আমার দুচোখ গড়িয়ে পানি পড়ছে। আটকাতে পারছিলাম না। গাল বেয়ে পানির ফোঁটা নদীর পানিতে মিশে গেল।
১৯৮৮ সালের বন্যায় এত বেশি পানি হয়েছিল যে লোকালয়ে নদীর পানির স্রোত পাওয়া গেছে।
বয়ে চলা মৃদু স্রোতের সাথে আমার কষ্টের বারি বিন্দুগুলো মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল।
কতসময় এভাবে কেঁটেছিলো মনে নেই। হঠাৎ আমার চোখরে দৃষ্টি পানিতে আটকে গেল। দেখলাম হালকা সবুজ রেখার মতো কতগুলো লম্বা লম্বা সারি সারি দাগ।আরো ভালভাবে খেয়াল করলাম, আর বিস্মিত হলাম! এগুলো ছিল কাইক্কা মাছের ঝাঁক।
একঝাঁক মাছ, নদীর মাছ। সাঁতরে আমার পায়ের নিচ দিয়ে চলে গেল।আম্মার ডাক শুনতে পেলাম। মনে হলো আম্মা ঘুম থেকে জেগেছেন। আমি আসছি বলে, উঠে দাড়ালাম।
অবাধ্য কাপড়টিকে ঠিক রাখার জন্যে পা চেপে চেপে রুমের ভেতরে গেলাম।
আম্মা আমার দিকে তাকিয়ে রুক্ষ মুখে এক ধমক। এভাবে হাঁটতেছিস কেন?7 Comments
Friends
নন্দিনী
@nandini-chowdhuri
Hijbullah hiju
@hijbullah
Amena Anwar
@amena507
আদিল আফসার
@adilafsar
Tahsan-Ekush
@tahsan-ekush
মোঃ রিদওয়ান আল হাসান
@mridwanalhasan
Wafy Abrar
@wafy2710
Drako Shajib
@drako
Abdullah Bin Siddique
@abdullah12


হু