-
একজন মা তার গর্ভে সন্তান ৯ মাস বহন করেন, আর বাবা ২৫ বছর ধরে বহন করেন।
উভয়ই সমান, তারপরও কেন বাবা পিছিয়ে আছেন তা আমরা জানি না।মা হয়তো বিনা বেতনে সংসার চালায়, কিন্তু বাবা তার সমস্ত বেতন সংসারের জন্য খরচ করেন, দুইজনের প্রচেষ্টাই সমান, তবুও কেন বাবা পিছিয়ে আছেন তা আমাদের জানা নাই।
আপনার মা আপনার যা পছন্দের খাবার রান্না করেন, আপনার বাবা আপনি যা চান তাই কিনে দেন, তাদের উভয়ের ভালবাসা সমান, তবে মায়ের ভালবাসা উচ্চতর হিসাবে দেখানো হয়েছে। জানিনা কেন বাবা পিছিয়ে।
আমরা ফোনে কথা বলার সময় প্রথমে মায়ের সাথে কথা বলি, কষ্ট পেলে মায়ের কাছে কষ্টের কথা প্রকাশ করি। অথচ বাবার সাথে অনেকের ঠিকমতো কথাই হয় না।
আপনার প্রয়োজনের সময় আপনি বাবাকে মনে রাখবেন, কিন্তু বাবার কি কখনও খারাপ লাগেনি যে আপনি তাকে অন্য সময় মনে করেন না?
ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে ভালবাসা পাওয়ার ক্ষেত্রে, প্রজন্মের জন্য, বাবা কেন পিছিয়ে আছে জানি না।
আলমারি ভর্তি থাকে রঙিন শাড়ি আর বাচ্চাদের অনেক জামা-কাপড় দিয়ে কিন্তু বাবার জামা খুব
কম, নিজের প্রয়োজনের তোয়াক্কা করেন না, তারপরও কেন বাবা পিছিয়ে আছেন।মায়ের অনেক সোনার অলঙ্কার আছে, কিন্তু বাবার একটাই আংটি আছে যেটা তার বিয়ের সময় দেওয়া হয়েছিল। তবুও মা কম গহনা নিয়ে অভিযোগ করতে পারেন আর বাবা করেন না। তারপরও প্রশ্ন থেকে যায় কেন বাবা পিছিয়ে।
প্রশ্ন থাকলো আপনাদের কাছে। উত্তরের আশায় থাকলাম।
11 Comments-
-
বাবা কিন্তু পিছিয়ে থাকে না। মায়ের সাথে সন্তানের যোগাযোগটা বেশী থাকে। আর সংগত কারণেই বাবা একটা দূরত্ব তৈরী করে সন্তানদের সাথে। বাবা মাথার ওপর ছাদ। সে তার দু’বাহু প্রসারিত করে তার পরিবারকে আগলে রাখে।
-
মায়ের সাথে পৃথিবীর আর কারো তুলনা করা চলে না। মা হলো মা। শুধু ৯মাস গর্ভে ধারণ করেন বলেছেন। জন্মের পর মায়েরা শত শত কাজের ফাঁকে সন্তানকে বুকের দুধ খাইয়েছেন। রাতের পর রাত অবুঝ সন্তান মাকে ঠিকমতো ঘুমাতে দেয়নি। কান্নাকাটি করা বিছানা নষ্ট করে দেয়া, এসব পরিস্কার মা করেন। বাবারা তখন অন্য ঘরে আরামে ঘুমান। আধাঘুম আধো জাগরণের পর সেই ভোর বেলা থেকে ক্লান্ত শরীর নিয়ে রান্না বান্নার আয়োজন করেন। বাবার প্লেটে খাবার তুলে দেন। সেই প্লেট আবার পরিস্কার করে দেন। ঘরে খাবার নেই, মা নিজে না খেয়ে সন্তান আর বাবার মুখে আহার তুলে দিয়েছেন। কঠিন অসুখ হলে রাত জেগে পাহারা দিয়েছে মা। বাবা কখনো রাত জেগে পাহারা দেয় নাই। বিনাশ্রমে একজন সন্তান ও স্বামীর জন্য মা যা করেন তা আর কোন মানুষের পক্ষে করা সম্ভব নয়। এজন্য সন্তানের বেহেস্ত তার মায়ের পায়ের নীচে ধর্মে স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে। জন্মের পর মায়েরা সন্তানের জন্য যে ভালবাসা নিয়ে শত কষ্ট হাসিমুখে বরণ করে লালন পালন করেন। তা কখনোই বাবারা করতে পারবেন না। আপনার মনে এমন প্রশ্ন উঠল কেন সেটাই অবাক করার বিষয়। কোন বাবাই কখনো বলবেন না তার স্ত্রীর চেয়ে তিনি সন্তানের উপর বেশি দায়িত্ব পালন করেন। টাকা দিলে হাটবাজার করা যায়। বাবাদের বলবেন মায়েরা চাকুরী করুক আর বাবারা সন্তানের লালন পালন, রান্নাবান্না, হাগুমুতু ধুয়ে দেয়া রান্না ঘর ঝাড়ু দেয়া, কাপড় কাচা এসব বাবারা করুক। আপনিও চেষ্টা করে দেখতে পারেন। তাহলে মর্মে মর্মেিউপলব্ধী করতে পারবেন মায়েদের কাজগুলো কত শ্রম কষ্ট আর মমতা লুকিয়ে আছে। বিয়ে করে থাকলে ভাল, না করে থাকলে বিয়ের পর মায়ের কাজগুলো একটু নিজে করে দেখুন কত সহজ না কঠিন কাজগুলো। এক সপ্তাহ করলে বাড়ী ছেড়ে পালাবেন। টাকা থাকলে হয়তো হোটেলে খেতে পারবেনকিন্তু মায়ের মমতা আর স্নেহ কখনো পাবে না। সমস্ত পৃথিবীর মায়েদের জন্য বিনম্র শ্রদ্ধা রইল।
-
আপনি আমার লেখাটি বুঝেন নি তাই এমন উত্তর দিয়েছেন। বাংলাদেশেই এমন বাবা আছেন যিনি নিজেই একজন প্রকৌশলী, যিনি তার চাকরি ছেড়ে দিয়ে তার স্ত্রী কে চাকরি করার সুযোগ করে দিয়েছেন এবং তিনি তার বাচ্চাদের দেখাশুনা করছেন। তিনি হলেন প্রকৌশলী নাভিদ মাহবুব এবং তার স্ত্রী জারা মাহবুব।
আমি বলতে চেয়েছি মায়ের অবদানের সাথে বাবার ও অবদান রয়েছে। মাকে সবাই সাহস করে সব বলতে পারে,অথচ বাবা কে সব কিছু শেয়ার করে না।
আমি আমার মায়ের সাথে সকল চাওয়া-পাওয়া,অনুযোগ-অভিযোগ প্রকাশ করলেও বাবাকে ভয় করি বিধায় শেয়ার করি না। কিন্তু বাবা রা তো এমনটা সবাক্ষেত্রে নয়।অনেক বাবা মায়ের থেকেও সহজ।
-
-
মা সবকিছুতে এগিয়ে থাকলেও বাবাই অভিভাবক, মায়ের পায়ের নিচে যেমন জান্নাত ঠিক বাবাও তার সন্তানের দিকে চেয়ে হাসলে জান্নাতের দরজা খুলে যায়। দু’দিকই ভারী বরং মা সংসার&সন্তানের পরিচর্যা কারি বাবা অভিভাবক 🥰
-
Friends
আর্য্য সপ্ত দর্শী
@nandini
Drako Shajib
@drako
সৈয়দ মোহাম্মদ জামান
@sayedzaman
Ismail Mozumdar
@ismail-hossain-mozumdar
Asif Rahman
@asifaaron62
তুবা
@zariyaat
Abul Hasan Tuhen
@abulhasantuhen
G M Harun Rashid
@g-m-harun-or-rashid
Md Zaker Hayat Khan [ Zaker Aditya ] [ জাকের আদিত্য ]
@md-zaker-hayat-khan



প্রিয় মোঃ আশেক এলাহী, আপনি যে বিষয়ে অভিযোগটি করেছেন সেটা ক্ষুদ্রতর পরিসংখ্যানগত পরিসীমায় নিতান্তই আপেক্ষিক তবে একটি সংসারের সমস্ত নির্বাহ সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয় বহনের পর’ও বাবার স্থানটি মায়ের স্থানের কাছে ম্লান হওয়ার বেশ কিছু নির্দেশক রয়েছে… সমস্ত কারণ এই সীমিত পরিসরে আলোচনা করা সম্ভব না হলেও দুটি কথা বলতে চাই…
ভুমিষ্ট হওয়ার পর থেকে নিয়ে ন্যুনতম প্রাথমিক শ্রেণি পর্যন্ত একটি শিশু তার মায়ের সাথে সর্ব্বোচ্চ সময় অতিবাহিত করে… মায়ের সাথে শিশুর যে মনো-দৈহিক বিনিময়, যদি বায়োলোজিক্যাল এবং থিও-কালচারাল অ্যানালিসিস বাদ’ও দেয়া হয়, তারপরেও ব্যবহারিক আচরণের পেলবতা ও কোমল মমতা তুলাদন্ডে ‘মা’-এর একজন বাবার চেয়ে গ্রহণযোগ্যতা বেশি… এছাড়া শুধু একটি সার্বজনীন কারণ এখানে যথেষ্টই হবে – সন্তানের সুন্দর ও সাবলীল ভবিষত্যের কথা সর্বাধিক আমলে রেখে একজন মা যেভাবে একটি আপাতঃ অসম্ভব সংসার প্রায় সারাজীবনের জন্যে করার ব্রত নেন তা পরিণতবয়স্ক তরুণ প্রজন্ম অচিরেই অনুধাবন করতে সমর্থ হয়ে থাকবে… শুভ হোক সকলের…