-
# নারী থেকে মানুষ (২)
আচ্ছা ৯-১০কিংবা ১১ হলেও ঠিক এ সময়ে কতটা জ্ঞান থাকে জীবন,সমাজ… বাস্তবতার? মৃন্ময়ী তখন চতুর্থ থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ তখনকার সময় বৃত্তির জন্য বাঁচাই করে বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হত।মৃন্ময়ী বৃত্তি দিবে সে অনুযায়ী খামখেয়ালি পড়াশোনা চলছে। কিন্তু সমস্যা হলো গৃহশিক্ষক, ওনি চুন থেকে পান খসলে নালিশের পর নাশিল আর মৃন্ময়ীর মায়ের কথা হলো শাসনের জন্য যা করার করতে সমস্যা নাই, কিন্তু কথা শুনতে হবে-পড়তে হবে।স্যারের কথাই শেষ কথা কিন্তু ওতো আদতে মেয়ে হলেও ডানপিটে,তৎসময়ে প্রচলিত নিয়মের উল্টো পথের যাত্রী তাই আর কি করার যা হবার তাই হলো…শাসনের কোন অধ্যায়ই বাদ পরেনি একদিন তো ছোট বোনটাকে সহ খুব ছোট বিষয়কে কেন্দ্র করে কি মাইরটা না দিল তাই স্যারের সুনাম তো হতে দেওয়া যাবে না,বৃত্তি আর পাওয়া হলো না। এত প্রতিকূলতার মাঝে বাবা তার আশ্রয়&শক্তি কিন্তু বাবা তো আসে অনেক সময় পর পর।
এরই মাঝে একরাতে জীবন নিয়ে গেলো মানুষ চিনার অনন্য অধ্যায়ে, সে রাতে ঘুমের মধ্যে টের পেল কাকা নামক ব্যক্তিটি তাকে কোলে করে মায়ের পাশ থেকে নিয়ে যাচ্ছে,আল্লাহ মহান কারিগর তাই সে টের পেয়েও ঘুমের সাগরে তলিয়ে ছিল তাই তার শরীরের স্পর্শকাতর অংশে হাতরিয়ে শেষ সময়ে কি যেন কি মনে করে সরে গেল…শেষ রক্ষা হয়েও গেল, তার জীবনের একটা সময় পর্যন্ত খুব জানতে ইচ্ছে হতো কেন সে দিন এমনটা করলো,মা কি জানতনা কি়ংবা জানলেও কেন চুপ ছিল? মেয়ে বলে কি তার নিরাপত্তা নাই? ভগ্নীপতি, আত্নীয়&অনাত্মীয় (ভাই) কতজন যে যত্নকরে হাত বুলিয়ে যেত&দেওয়ার সুযোগ খোজত। বাদ স্বাদে বরাবরই ঐবিধাতা। শেষ রক্ষাটা হয়েই যায় কিন্তু মৃন্ময়ী জিদ,পড়ার খামখেয়ালি যেন সীমারেখা অতিক্রম করছে।বাবা আসার আগে মনে হতো এবার আসলে সব বলবে কিন্তু বলা হতো না। কিন্তু বাবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ভালোবাসা যেন তীব্রতা পেল তাই শত খেয়ালিপনা স্বত্তেও পড়ত কিন্তু পরীক্ষায় লিখতেই হবে এটা তার ভালো লাগত না তাই খুব ভালো না করলেও মন্দ ছিল না।
এর মাঝে দেখা দিল নতুন সমস্যা বান্ধবী, কিছু আত্নীয় কেমন যেন তাচ্ছিল্য করত দোষ না করেও দোষের দায় সয্য করার নতুন অধ্যায়টা ভারী হতে লাগল আচ্ছা যাদের নামের পাশে বংশের নাম না থাকে তারা গেরস্ত কিংবা ছোট লোক হয়ে যায়? অথচ মৃন্ময়ীর দাদার দাদা বৃটিশ আমলের ভূমি আইন অনুসারে পিতার পূর্বে ছেলের মৃত্যু হওয়ায় শুধু সম্পত্তি নয় গ্রাম ছেড়ে চলে আসেন অন্য গ্রামে হয়ত এই কারনে গর্ব করার মত বংশ থাকা স্বত্বেও নিজে কিংবা পরের প্রজন্ম তা বলত না।যাক সে কথা…মৃন্ময়ীরা মানুষ না?
তাই না বলা যন্ত্রণাগুলি একান্ত তাদের ধীরে ধীরে অনেকের সাথে দূরত্ব যেমন তৈরি হলো একই সাথে কিছু মানুষ আপন হয়ে গেল যাদের মন থেকেই সন্মান করা যায় এই যেমন বড় খালা,মার নালিশের বিপরীতে বলত ঠিক হয়ে যাবে&বুঝিয়ে বল না মেরে কত কি…মৃন্ময়ীর ছোট বোনটা যেন দোষ ডেকে রাখার বিশাল ঢাকনা হয়ে গেল শেষ অবধি। স্কুলের বিজ্ঞানের স্যার তো অনেকটা হাতে ধরে মৃত স্বপ্নটাকে জাগিয়ে তুলতে লাগল যে জন্য শেষ হয়েও হইলো না শেষ…।6 Comments
Friends
আজিজুর রহমান
@azizurrahman
মামুনুর রশিদ
@mamun01722525933gmail-com
Syed Farah
@syedfarah
MD HAFIZUR RAHMAN
@mdhafizurrahman1
Nehal Nibir
@nehalnibir
abrar
@abrar
সায়মা নোর
@t07178341gmail-com
আলী আজম
@aliazam6663153gmail-com
আফরিন আক্তার
@afrin



নারী থেকে মানুষ (২) এর অপরাপর ঘটনাক্রম গুলো পড়ে মৃন্ময়ীর মেয়েবেলার যে চিত্র পাওয়া গেল সেটা নিতান্তই তিক্তকর এবং ন্যাক্কারজনক… পুরুষশাসিত সমাজ এবং পিতৃপ্রধান পরিবারে এসব ঘটনার আবহমানকালের সাক্ষী আমাদের আবালবৃদ্ধবনিতা… ‘চাবুক’ প্রিয় হৈমন্তিকা ‘চাবুক’ লেখা… ব্যাপকভাবে সহযাত্রী হ’লাম…