-
টার্গেট।
দুপুরের কড়া রোদে, তাতিয়ে আছে পুরো শহর। তার মধ্যে দিয়ে হেটে চলেছেন উসমান সাহেব, ঘামে তার শরীর পুরো ভিজে গেছে মাথাটাও কেমন জানি ঘুরাচ্ছে একটু বিশ্রাম করে নিতে পারলে ভালো হতো, কিন্তু বিশ্রাম করার কোনো উপায় নেই, বসের দেওয়া টার্গেট টা আজকের দিনের মধ্যেই শেষ করতে হবে নাহলে বস খুব রাগ করবেন। এমনিতে উসমান সাহেব কাজের দিক দিয়ে কোনো গাফিলতি করেননা কিন্তু কয়েকদিন ধরে তার শরীর টা ভালো যাচ্ছেনা তাই কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছে।
ভেবেছিলেন রিকশায় করে যাবেন কিন্তু এই তপ্ত রোদের ঝাঝ এ কোনো রিকশাওয়ালা যেতে চাইনা, অগত্যা উপায় না পেয়ে হেটে যাওয়াই মনস্থির করেছেন তিনি।
আজকের টার্গেট টা পূরন হয়ে গেলে কয়েকদিনের জন্য ছুটি নিতে হবে, মনে মনে বললেন উসমান সাহেব। যে ধকল যাচ্ছে শরীরের ওপর দিয়ে, কবে বলে একটা বড়সড় অসুখ না বেধে যাই।
এতসব চিন্তাভাবনা করতে করতে অবশেষে পৌছে গেলেন নির্ধারিত ঠিকানাই, যাক বাবা অবশেষে পাওয়া গেলো, এই বলেই সস্তির নিঃশাস ফেললেন তিনি।
টিং টং, পর পর দুইবার কলিং বেল বাজালেন উসমান সাহেব, কিন্তু কারো দেখা পাওয়া যাচ্ছেনা, কিছুক্ষন হাত কচলা কচলি করে আরেকবার কলিংবেল বাজাতে যাবেন ঠিক এমন সময় খুট করে শব্দ হলো, বুঝলেন কেও এসেছে দরজার কাছে।
দরজা খুলে বেড়িয়ে এলো এক তরুনী, বয়েস মোটামুটি ২৩-২৪ হবে, কিন্তু দেখতে যেনো অপরুপ, এতো সুন্দর চেহারা আগে কখোনো দেখেছেন বলে মনে পরলোনা উসমান সাহেবের, কেমন যেন সম্মোহিতের মত হয়ে তাকিয়ে রইলেন তরুনীর দিকে, আহা কতইনা সুন্দর।
এই যে আপনার সমস্যা কি? একে তো এই মাঝ দুপুরে এসে দরজার কলিংবেল বাজাচ্ছেন, আবার এখন হা করে তাকিয়ে আছেন কোনোদিন কি মেয়ে দেখেননি যত্তসব, বেশ বিরক্তি ও রাগের সাথেই কথাগুলো বলে উঠলো মেয়েটি, বোঝা যাচ্ছে মেয়েটি খুব বিরক্ত।
মেয়েটির এমন ঝাঝালো কন্ঠে যেনো সম্বিত ফিরে পেলো উসমান সাহেব, কিছুটা লজ্জাই পরে গেলেন, বয়স তো আর কম হলোনা এই বয়েসে এমন ভাবে তাকিয়ে থাকার কোনো মানে হয়না।
নিজেকে কোনোরকম সামলে, মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বললেন আপনার নাম কি মিথিলা আহমেদ?
জী, আমি মিথিলা আহমেদ, বলেন কি বলবেন, তাড়াতাড়ি বলেন, ওত সময় নেই আমার, বোঝাই যাচ্ছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই আপদটাকে দূর করতে পারলেই খুশি হবে সে।
জী, আপনার জন্য একটা জিনিস আছে একটু দাড়ান, বলে উসমান সাহেব তার কাধে ঝোলানো ব্যাগটার দিকে মনোযোগ দিলেন, কিছুক্ষন হাতাহাতি করার পর, তার হাতে উঠে এলো সাইলেন্সার লাগানো একটি পিস্তল।
কোনো কথা না বলে সরাসরি মেয়েটির কপাল বরাবর গুলি চালালেন তিনি। কাটা কলাগাছের মত ধুপ করে পরে গেলো মেয়েটি।
পিস্তল টি ব্যাগ এ ঢুকিয়ে, মেয়েটির পরে থাকা মৃতদেহের নাকের কাছে আংগুল ঠেকিয়ে sure হয়ে নিলেন, হ্যা মরে গেছে। যাক বেশি গুলি খরচ করতে হয়নি, মনে মনে বললেন তিনি।
মেয়েটিকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে সে মারা গেছে, মনে হচ্ছে নিষ্পাপ শিশুর মত ঘুমিয়ে আছে, না বাবা আর বেশিক্ষন তাকিয়ে থাকা যাবেনা, বলে তিনি বেরিয়ে এলেন বাড়ির মেইন গেট দিয়ে।
আহ, কি যে শান্তি লাগছে, মনটা যেনো প্রশান্তিতে ভরে গেলো। অবশেষে বসের দেওয়া টার্গেট টা পূরণ করতে পেরেছেন বলে মুখ টা হাসিতে ভরে গেলো উসমান সাহেবের, এই কয়দিন বস যেভাবে বকাঝকা করেছে, ভয়ে ভয়ে ছিলেন উসমান সাহেব আবার তার চাকরী টা না চলে যাই।
রাস্তা দিয়ে হেটে কিছুদুর এগুতেই একটা রিকশার দেখা পেলেন তিনি, এই রিকশা যাবে নাকি বলে রিকশা কে ডাকলেন তিনি।
না স্যার যাবোনা বলেই রিকশাওয়ালা একটুও না থেমে সোজা চালিয়ে চলে গেলো।
না আজকে দেখছি ভাগ্য খারাপ, মনে মনে বেশ বিরক্তি প্রকাশ করলেন তিনি, তবে বাইরে সেটার প্রকাশ পেলোনা, তিনি মানুষটা খুব চুপচাপ।
বাসায় যেয়ে গোসল দিয়ে, শান্তির একটা ঘুম দিতে হবে, এই কয়দিন ঠিক মত ঘুমাতে পারেননি তিনি।
বাড়ির উদ্দেশ্যে হাটা শুরু করলেন উসমান সাহেব, ঘুমন্ত নগরীর মাঝে দিয়ে একা একা হেটে চলেছেন উসমান সাহেব, তার মনে আজ বড্ড প্রশান্তি।লেখা: উসমান।
4 Comments
Friends
নন্দিনী
@nandini-chowdhuri
Mahmuda Sultana
@mahmudamahi
Prithula Zaman
@prithula
Shaikh-Mohidul-Islam
@shaikh-mohidul-islam
Md Tashnim Rahman
@wire-taseen
Reza e Rabbi
@rabbi121
Mesbah-Ahmed
@mesbah-ahmed
Rafiq-Ullah
@rafiq-ullah

বেশ ইন্টারেস্টিং গল্প! ঘটনা প্রবাহ এত দ্রুত বদলে যাবে আন্দাজ করতে পারিনি। ভালো লাগলো খুব! শুভেচ্ছা নেবেন!