-
ফুচকা বিলাস
দাড়িয়ে আছি একটা ফুচকার দোকানের সামনে, না না আমি এসব ফুচকা টুচকা পছন্দ করিনা, আমার জীবনে খাওয়া যেসব বাজে খাবার আছে তার মধ্যে ফুচকা একটা, এখানে এসেছি আমার প্রেমিকা মিথিলার কারণে। এসেছি বললে ভুল হবে একপ্রকার জোর করেই নিয়ে এসেছে ও, আসতে চাচ্ছিলামনা তবুও কিন্তু ও মুখ টা এমন কালো করে ফেললো যে আর উপায় না পেয়ে আসতেই হলো, সে আর কিছু পারুক আর না পারুক আমাকে কিভাবে মানাতে হয় তা তার খুব ভালো করেই জানা আছে। শুধু সে না আমার মনে হয় সমস্ত প্রেমিকা জানে কিভাবে তাদের প্রেমিক দের মানাতে হয়।
এখানে এসে মেজাজ টা আরো খারাপ হয়ে গেছে, সে কখন থেকে বসে আছি অথচ শালা এখনো খাবার(ফুচকা) দিয়ে যাইনি, আর দিবে কিভাবে দোকানে এতই ভীড় যে কাকে ছেড়ে কাকে দিবে এটাই বুঝতে পারছেনা দোকানের লোকজন।
আর কাষ্টমার বলতে প্রায় সবাই মেয়ে, খুব কম ছেলেমানুষ দেখা যাচ্ছে, এই খাবার টার মধ্যে যে এমন কি আছে আমি আজ পর্যন্ত বুঝতে পারলামমা। আর ফুচকা খাওয়ার সময় একেকজনের মুখের ভংগি দেখার মতো, চোখ দুটো ইয়া বড় বড় করে, মুখটা বিশাল হা করে টুপ করে পুরে দেই মুখের মধ্যে, আর বস্তু টা মুখে যেতেই মনে হয় অমৃত খেয়ে ফেলেছে। দেখার মত বিষয়, ভাবছি এরপর থেকে ফুচকা না খেতে আসলেও, খাওয়া দেখতে আসবো।
বসে বসে এসব ভাবছি, কিছুক্ষন পর খেয়াল করলাম আমাদের পাশের টেবিল এ এসে বসেছে একটি মহিলা এবং একটি ১৯-২০ বছরের একটি মেয়ে, খুব সম্ভবত তারা মা, মেয়ে।
মা তার মেয়েকে বলছে আবার এখানে আসতে গেলি কেনো শুধু শুধু, কি দরকার ছিলো বল। মায়ের এই কথা শুনে মেয়ে বলে উঠলো, মা বেশি কথা বলোনা তো, আমি আজ জীবনে প্রথমবার টাকা ইনকাম করেছি, আর সেই টাকা দিয়ে তোমাকে খাওয়াতে নিয়ে আসছি, এখানে তো অসাভাবিক কিছু দেখতে পাচ্ছিনা, তুমি এমন করছো কেনো।
কিন্তু মা এটা তোর টিউশনির টাকা, এই টাকা টা জমিয়ে রাখলে, পরে তোর কাজে লাগতো, কতদিন হয়ে গেলো তোকে নতুন জামা কাপড় কিনে দিতে পারিনা, তুই এই টাকা দিয়ে একটা নতুন জামা কিনতে পারতি।
মা তুমি কিন্তু এবার বেশি কথা বলছো বুঝলে, কে বলেছে আমার জামা নেই, কত্ত জামা আছে আমার, আর নতুন কেনার কি দরকার মা, ওগুলো আবার ধুয়ে আয়রন করে নিলেই তো নতুন হয়ে যাই।
মা, মেয়ের এমন কথাবার্তা শুনে, আমি কিছুটা চমকে গেলাম, তাদের দিকে ভালোমত তাকাতেই বুঝলাম তাদের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নই, মেয়ের গায়ে একটা বহু বছরের পুরোনো জামা, মায়ের ও সেরকম অবস্থা।
দেখতে দেখতে আমাদের খাবার চলে আসলো, সাথে সাথে পাশের টেবিল এর ও খাবার চলে এসেছে। আমি অনেক আগ্রহ নিয়ে পাশের টেবিল এর দিকে তাকিয়ে থাকলাম, যে দেখি মা, মেয়ে কি করে।
মা তুমি খাচ্ছনা কেনো, বলোতো দেখো না খেলে কিন্তু আমি খুব রাগ করবো, দেখি হা করো, হা করো বলে মেয়েটি একটি ফুচকা হাতে তুলে নিয়ে মায়ের মুখে তুলে দিলো, এবার স্পষ্ট দেখলাম, মায়ের চোখে পানি, অবশ্য সে পানি কষ্টের পানি নয়, আনন্দের পানি, আর আনন্দ হবেইবানা কেনো, মেয়ে তার জীবনের প্রথম ইনকাম নিজে না খরচ করে, মাকে নিয়ে এসেছে খাওয়াতে। এর চেয়ে আনন্দের বিষয় একজন মায়ের কাছে আর কি হতে পারে।
একি মা কাদছো কেনো তুমি, এটা কিন্তু ঠিক না এত মানুষ জন এখানে আর তুমি কাদছো।
কইরে কাদছিনারে মা, কাদছিনা, বলে খুব সাবধানে, মা তার চোখের জল মুছে নিলো। বলেই মা একটি ফুচকা তুলে নিয়ে বললো নে দেখি এবার তুই খা তো দেখি কখন থেকে আমাকেই খাওয়াচ্ছিস, বলে তিনি খাইয়ে দিলেন তার মেয়েকে, এই খাওয়ানোর মধ্যে যে কি পরিমান ভালোবাসা আছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা, পৃথিবীর যে কোনো ভালোবাসার চেয়ে এই ভালোবাসা সবচেয়ে বড়।
ইস আমার ও যদি এমন মা থাকতো, জন্মের পরেই মাকে হারিয়েছি, তাই মায়ের আদর যে কি জিনিস তা কখোনো বুঝতে পারিনি, এ নিয়ে অবশ্য তেমন কোন আফসোস ও ছিলোনা, কিন্তু আজ জীবনে প্রথমবার মনে হলো, আল্লাহ যদি আমাকেও এমন একটা মা দিতো।
তাদের এমন আনন্দময় মুহুর্ত দেখে কখন যে চোখের কোনে জল এসে গেছে বুঝতেই, পারিনি। বুঝতে পারলাম প্রেমিকার ডাকে,
একি কাদছো কেনো তুমি কি হয়েছে, কোনো সমস্যা।
আমি তারাতারি চোখের জল মুছতে মুছতে বললাম, আরে না না কিছু হয়নি চোখে মনে হয় কিছু পরেছে।
জীবনে প্রথমবার মনে হচ্ছে, যে আসলেও কিছু একটা মিসিং রয়েছে, আর সেটা হলো মায়ের ভালোবাসা, কতইনা সৌভাগ্যবান তারা, যারা মায়ের আদর পাই।
এখানে আর বেশিক্ষন থাকলে হয়তো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাবে, তাই প্রেমিকা কে বললাম, তুমি খাওয়া শেষ করে আসো, আমি বাইরে দাড়াচ্ছি, বলে আর বেশিক্ষন সেখানে থাকলাম না উঠে বেড়িয়ে আসলাম সেখান থেকে। বেচে থাকুক এমন ভালোবাসা, সারাজীবন।লেখা: উসমান।
2 Comments
Friends
নন্দিনী
@nandini-chowdhuri
Mahmuda Sultana
@mahmudamahi
Prithula Zaman
@prithula
Shaikh-Mohidul-Islam
@shaikh-mohidul-islam
Md Tashnim Rahman
@wire-taseen
Reza e Rabbi
@rabbi121
Mesbah-Ahmed
@mesbah-ahmed
Rafiq-Ullah
@rafiq-ullah

গল্প হচ্ছে বাক্যের খেলা। সুন্দর। লিখে যাও।