Profile Photo

মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেলOffline

  • Ashraful710
  • অ্যান্টার্কটিকা (Antarctica)
    ———————————————————————————————

    I don’t know their destination
    What their feelings
    The words of their mind
    I realize the eternal bond of their love
    An invisible power
    Heavenly relationship
    I’m fascinated to their wend
    But, they’re on their way.
    বন্য Antarctica থেকে এক রঙিন অনুপ্রেরণা নিয়ে এসেছে আপনার কাছে ৷ 💙 পৃথিবীর সর্বদক্ষিণে অবস্থিত মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকার অভ্যন্তরীণ জীবন অত্যন্ত বিরল এবং রূক্ষ ৷ কুমেরু বৃত্তের দক্ষিণে এটি দক্ষিণ মহাসাগর, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ অতলান্ত মহাসাগর সংলগ্ন দক্ষিণ মেরুদেশীয় (Antarctic) সাগর ও ভারত মহাসাগরের দক্ষিণভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত । এই মহাদেশের চারপাশেই সমুদ্র । এখানে ভৌগলিক দক্ষিণ মেরু রয়েছে । মহাদেশটি পূর্ব অ্যান্টার্কটিকা যা মূলত পূর্ব-দক্ষিণ মেরুদেশীয় এক উচ্চ বরফে আচ্ছাদিত মহাসাগরীয় মালভূমি Kerguelen Plateau বা Antarctic Plateau বা ভৌগলিক দক্ষিণ মেরু দ্বারা গঠিত- যেখানে রয়েছে Coats Land, Queen Maud Land, Enderby Land, Mac. Robertson Land, Wilkes Land, Victoria Land । পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা যা মূলত পাহাড়ী দ্বীপকে একটি বরফের চাদর দ্বারা আবৃত । পূর্ব অ্যান্টার্কটিকা বেশিরভাগ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত এবং পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার চেয়ে বড়, যা সম্পূর্ণ পশ্চিম দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত । এর স্থানাঙ্ক ৮০° দক্ষিণ ৯০° পূর্ব ।

    ইংরেজী Antarctic শব্দটি মধ্য ফরাসি Antartique / Antarctique (আর্কটিকের বিপরীতে) এবং লাতিন শব্দ Antarcticus (উত্তরের বিপরীতে) থেকে উদ্ভূত হয়েছে । অ্যান্টার্কটিকা নামটি প্রকৃতপক্ষে গ্রিক বংশদ্ভূত যৌগিক শব্দ ‘আন্তার্কতিকে’ এর রোমান রূপ । ইংরেজী Arctic শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ Arktos থেকে, যার অর্থ ‘ভালুক’ বা ‘উত্তর পৃথিবী’ । সেখানকার আকাশের উত্তর-পূর্ব কোণে দৃশ্যমান একটি নক্ষত্রপুঞ্জের আকৃতি ভালুকের মত হওয়ায় এমন নামকরণ হয়েছে । বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী গোড়ার দিক থেকেই অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ আবিষ্কার এবং অনুসন্ধানে জড়িত ছিলেন । আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০ অব্দে প্রাচীন গ্রীসে ধ্রুপদী যুগে বিশ্ববিখ্যাত গ্রিক বিজ্ঞানী, দার্শনিক, Polymath, প্রাণিবিজ্ঞানের জনক Aristotle তার আবহাওয়াবিদ্যা গ্রন্থ Meteorologica বা Meteoraতে দক্ষিণ মেরুদেশীয় (Antarctic) অঞ্চলের কথা উল্লেখ করেন । গ্রিক ভূগোলবিদ, মানচিত্রকার, গণিতবিদ, গাণিতিক ভূগোলের প্রতিষ্ঠাতা Marinus of Tyre খ্রিস্টীয় ২য় শতাব্দীতে তার বিশ্ব মানচিত্রে দক্ষিণ মেরুদেশীয় (Antartic) নামটি ব্যবহার করেন । লাতিন লেখক, পণ্ডিত Alexander Polyhistor এর ছাত্র, Caesar Augustus এর একজন মুক্ত ব্যক্তি Gaius Julius Hyginus এবং Numidian লাতিন ভাষার গদ্য লেখক, Platonist দার্শনিক, অলংকারশাস্ত্রের শিক্ষক Apuleius (খ্রিস্টীয় প্রথম-দ্বিতীয় শতাব্দীতে) দক্ষিণ মেরু বা দক্ষিণ মেরুদেশীয় অর্থে রোমানীকৃত গ্রিক পোলাস আন্তার্কতিকাস (লাতিন: Polus antarcticus) নামটিকে গ্রহণ করেন । ইংরেজ কবি, লেখক ও ইংরেজি সাহিত্য বা কবিতার জনক Geoffrey Chaucer এর লেখা একটি গ্রন্থে ১২৭০ খ্রিস্টাব্দে প্রত্যয়িত পুরাতন ফরাসি Pole antartike (আধুনিক Pôle antarctique) এবং সেখান থেকে মধ্য ইংরেজি Pol antartik প্রথম পাওয়া যায় ।

    এই মহাদেশটি Terra Australis নামে পরিচিত । প্রায় ৬৫০ খ্রিস্টাব্দেরও অনেক আগে মধ্যযুগ এবং রেনেসাঁ বা নবজাগরণের সময়ে ইউরোপীয় ভূগোলবিদরা সুদূর দক্ষিণে একটি পৌরাণিক ভূমি Terra Australis Incognita (অজানা দক্ষিণাঞ্চলীয় ভূমি) সম্পর্কে অনুমান করেছিলেন । Rarotongan মৌখিক ঐতিহ্য Ui-te-Rangiora থেকে জানা যায়, একজন Polynesian অভিযাত্রী Tamarereti যিনি Aotearoa (New Zealand) এর দক্ষিণে যাত্রা করেছিলেন এক অতি ঠাণ্ডা বরফপূর্ণ বা হিমায়িত অঞ্চলে । ইউরোপীয় অভিযাত্রীরা সম্ভবত ১৫২০ খ্রিস্টাব্দের দিকে প্রথম অ্যান্টার্কটিকার কাছে এসেছিলেন । ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে Spanish অন্বেষণকারী এবং সমুদ্র অভিযাত্রী Gabriel de Castilla অ্যান্টার্কটিকা পর্যবেক্ষণ করেন । ব্রিটিশ রাজকীয় নেভি এর একজন ব্রিটিশ অনুসন্ধানকারী, নাবিক বা সাগর-অভিযাত্রী, পোতনায়ক বা অধিনায়ক এবং মানচিত্রকার Captain James Cook FRS এর জাহাজ HMS Resolution and Adventure ১৭ই জানুয়ারি ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে, ডিসেম্বর ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে এবং জানুয়ারি ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ মেরুদেশীয় বৃত্ত অতিক্রম করে । পরবর্তীতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অভিযাত্রী, পর্যটক, নাবিক, গবেষক, ভূতত্ত্ববিদ, ভূ-পদার্থবিদ, হিমবিজ্ঞানী, জীববিজ্ঞানী এবং নানা পেশার মানুষ এখানে আসতে শুরু করেন । পর্যায়ক্রমে তারা অদম্য সাহস, শক্তিশালী প্রেরণা ও উদ্দীপনা নিয়ে বীরত্বপূর্ণ নানা প্রকার অভিযান, অন্বেষণ, আবিষ্কার, বাণিজ্য (বিশেষ করে শিকার), সমুদ্র গমনপথ সহজীকরণ, আন্তর-আকাশ (Stratosphere) এর Ozone গ্যাস স্তর অধ্যয়ন, আবহাওয়া ও উচ্চ বায়ুমণ্ডলীয় তথ্য সংগ্রহ, বরফ পাত (Ice sheet) জুড়ে চিহ্নিতকরণ, চৌম্বকীয় রূপরেখা তৈরি, জৈবিক সম্ভাবনা (স্থানীয় প্রজাতিতে দরকারী রাসায়নিক যৌগ এবং জিনের অনুসন্ধান), মানচিত্রবৎ (Cartographic) এবং প্রযুক্তিগত উন্নতির পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে দুর্দান্ত অগ্রগতি সাধন করেন । ভূতত্ত্ববিদরা প্রাথমিকভাবে Plate tectonic, উল্কাপাত, প্রাচীন মহা মহাদেশ Gondwana (Gondwanaland) এর বিচ্ছেদ, ভাসমান বরফ, মৌসুমী তুষার, হিমবাহ, বরফের পাতগুলির ইতিহাস এবং গতিবিদ্যা অধ্যয়ন করেন । জীববিজ্ঞানীরা বন্যপ্রাণী গবেষণা ছাড়াও কিভাবে এখানকার নিম্ন তাপমাত্রা ও মানুষের উপস্থিতি জীবের অভিযোজন এবং বেঁচে থাকার কৌশলগুলিকে প্রভাবিত করে- তা নিয়ে বিশদ গবেষণা করেন । Biomedical বিজ্ঞানীরা ভাইরাসের বিস্তার এবং চরম মৌসুমী তাপমাত্রায় শরীরের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এক বৈপ্লবিক বিষয় আবিষ্কার করেছেন । তাদের অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রকল্প এবং গবেষণা প্রচেষ্টাগুলি হচ্ছে: International Antarctic Glaciological Project, Dry Valley Drilling Project, Biomass (Biological Investigations of Antarctic Systems and Stocks), IceCube (South Pole Neutrino Observatory), Southern Ocean Observing System (SOOS) ইত্যাদি । এই কার্যক্রমগুলির অধীনে পরিচালিত গবেষণায় কার্যত সমস্ত ভৌত বিজ্ঞানের প্রতিনিধিত্ব করা হয় । উল্কাবিদ্যা ও গ্রহসংক্রান্ত ভূতত্ত্ব, মহাদেশীয় প্রবাহ, ভূপদার্থবিদ্যা, জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা, আবহবিদ্যা ও জলবায়ু ইতিহাস, জীববিদ্যা এবং জনসংখ্যার অধ্যয়নের মত ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রগুলিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে । জৈবিক কার্যক্রমগুলি দক্ষিণ মেরুদেশীয় বিষয়গুলির অন্তর্নিহিত আগ্রহ, বাস্তুবিদ্যা এবং সংরক্ষণে বিশ্বের অন্যত্র প্রতিফলিত করে । দক্ষিণ মেরুদেশীয় তিমি শিকারের ইতিহাস বিজ্ঞানীদের কাছে জৈবিক জনসংখ্যা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্ট করে তুলেছে এবং ৬০° S এর নিচের এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে যেখানে বৃহত্তর বা ক্ষুদ্রতর পরিমাণে প্রকৃতির মজুদ ছিল । এছাড়া সম্ভবত অন্যান্য মহাদেশের মত এখানেও খনিজ (স্বর্ন, কয়লা, চুনাপাথর) এবং Petroleum এর সম্ভাবনাকে গুরুত্বপূর্ণভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে ।

    উত্তর মেরু বা সুমেরু হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তরে অবস্থিত বিন্দু (৯০° অক্ষাংশ), যেটি উত্তর মেরু বা সুমেরু অঞ্চলের উত্তর মহাসাগর বা সুমেরু মহাসাগরের (Arctic sea) মধ্যভাগে অবস্থিত । উত্তর মেরু দৃশ্যতঃ কোন ভূমি নয় । এটি উত্তর মহাসাগরের উপর বরফ আচ্ছাদিত অঞ্চল । এই মহাসাগরের জল বছরের অধিকাংশ সময়ই ধবধবে সাদা সামুদ্রিক বরফে ঢেকে যায় । তবে শীতকালে মহাসাগরের অনেকটাই বরফে জমাটবদ্ধ থাকে । উত্তর মেরুর সামুদ্রিক গভীরতা প্রায় ১৩৪১০ ফুট (৪০৮৭ মিটার) । গ্রীষ্ম ও শীত এখানে দুটি ঋতু । প্রতি বছর শুধুমাত্র একটি দীর্ঘ সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত হয় । পৃথিবীর উত্তর মেরু বা ভোগলিক উত্তর মেরু অঞ্চল ১৮৭ দিন গ্রীষ্মকাল সময়টি সম্পূর্ণ দিন এবং ১৭৮ দিন শীতকাল সময়টি সম্পূর্ণই রাত থাকে । শীতকালে গড় তাপমাত্রা -৩৪ °C সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড ও প্রায়শঃ -৬৮ °C সেলসিয়াসে নামতে পারে এবং গ্রীষ্মকালে গড় তাপমাত্রা ০ °C সেলসিয়াস থাকে । গ্রীষ্মের শেষদিকে এখানে বরফ স্তর পাতলা এবং শীতকালে পুরু হয় । যদিও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে ধারণা করা হয় যে, আগামী ২০৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে উত্তর মেরু অঞ্চলে কোন বরফই দেখা যাবে না । পাতলা বরফ মহাসাগরের উত্তাপ দ্রুত হ্রাস করে পুনরায় বরফ সৃষ্টি করে ৷ এছাড়া মহাসাগরের শক্তিশালী ঢেউ এবং পানির আলোড়নের কারণেও বরফ সৃষ্টি হতে পারে ৷ সম্ভবত বরফের বিবর্তন প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যতে উত্তর মেরু সাগর আরও উত্তাল হয়ে উঠতে পারে । ফলে প্রচুর পরিমাণ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চকচকে তুষারকণাগুলি বরফ সৃষ্টি করে পৃথিবীর উত্তর প্রান্তকে আরও বেশি হিমায়িত করবে । উত্তর মেরুতে মাংসাশী হিংস্র প্রাণী শ্বেত মেরু ভাল্লুক (Polar bear), বিচিত্র কিছু প্রাণী এবং ঠাণ্ডা বরফ জলে কয়েক প্রজাতির মাছ বসবাস করে । মেরু ভাল্লুক নাম হলেও এরা এত উত্তরে আসে না । মেরু ভাল্লুককে সুমেরু অঞ্চলের Ice cap এর দক্ষিণে উপকূলীয় এলাকায় বেশি দেখা যায়, যেখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ভাল সাঁতার কাটতে পারে । এখানে সামুদ্রিক Phytoplankton, Zooplankton, অন্যান্য উদ্ভিদ, মাছ ও সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে । North Antarctic Peninsula এবং Subantarctic Island পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলসমূহে Chinstrap, Gentoo, Rockhopper, Macaroni, Ptarmigan (Rock Ptarmigan বা Willow Ptarmigan) প্রজাতির অসংখ্য পাখির আবাসস্থল । এছাড়া এখানে মেরু শিয়াল ও কস্তুরী বলদ (Muskox) বসবাস করে । উত্তর মেরুতে পৃথিবীর অন্যান্য অংশের মত কোন সময় অঞ্চল নেই বিধায় এই অঞ্চলটিতে সুনির্দিষ্ট কোন ঘড়ির সময় নেই । এখানে কোন জনবসতি নেই । উত্তরের মেরু অঞ্চল থেকে ব্যতিক্রমভাবে বরফের নিচে শুষ্ক ভূমি রয়েছে । ধারণা করা হয়, ০৬ই এপ্রিল ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্র নেভি এর কর্মকর্তা ও অনুসন্ধানকারী Robert Edwin Peary Sr সর্বপ্রথম উত্তর মেরুতে পদার্পণ করেন । উত্তরমেরু এবং Arctic অঞ্চল ০৫টি দেশ Russia, Canada, Norway, Greenland এবং Alaska দ্বারা বেষ্টিত । Arctic অঞ্চলের আশেপাশের দেশগুলি হচ্ছে Canada, Denmark, Iceland, Norway, Sweden, Finland, Russia এবং The United States । মূলতঃ এই দেশগুলিই সম্মিলিতভাবে উত্তরমেরু এবং Arctic অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে থাকে । Arctic অঞ্চলে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের বসবাস রয়েছে । অপরদিকে দক্ষিণ মেরু বা কুমেরু হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে দক্ষিণে, যেটি অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের কেন্দ্রভাগে অবস্থিত । দক্ষিণ মেরুর চারপাশে প্রায় এককেন্দ্রীয়ভাবে পড়ে থাকা অ্যান্টার্কটিকার নামের অর্থ ‘আর্কটিকের বিপরীত’ (Opposite to the Arctic) ।

    অ্যান্টার্কটিকা হচ্ছে বিশ্বের দক্ষিণতম এবং পঞ্চম বৃহত্তম মহাদেশ । ইউরোপের তুলনায় শতকরা প্রায় ৪০ ভাগ বড় । এটির আয়তন অস্ট্রেলিয়ার দ্বিগুণ, প্রায় ১৪২০০০০০ বর্গকিলোমিটার (৫৫০০০০০ বর্গমাইল) । এর নিকটবর্তী দেশগুলি হচ্ছে South Africa, Australia, New Zealand, Chile এবং Argentina । অ্যান্টার্কটিকার শতকরা ৯৮ ভাগ অঞ্চল যা প্রায় ৫৪ লক্ষ বর্গমাইলেরও বেশি জায়গা জুড়ে সম্পূর্ণরূপে শুভ্র বরফের এক বিশাল চাদর দ্বারা আবৃত থাকে । এই জন্য এটিকে সাদা মহাদেশ (White Continent) বলে । বরফের গড় পুরুত্ব ১.৯ কিলোমিটার (১.২ মাইল) । মহাদেশীয় বরফের পাতে প্রায় ০৭ মিলিয়ন ঘন মাইল (প্রায় ২৯ মিলিয়ন ঘন কিলোমিটার) বরফ রয়েছে, যা সারাবিশ্বের বরফের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং এর ৮০ শতাংশই স্বাদু জলের প্রতিনিধিত্ব করে । বরফের গড় বেধ প্রায় ৫৯০০ ফুট (১৮০০ মিটার) । বরফের তাক বা সমুদ্রের উপর ভাসমান বরফের পাত Ross Sea এবং Weddell Sea এর অনেক অংশ জুড়ে বিস্তৃত । এই তাকগুলি Ross Ice Shelf এবং Filchner-Ronne Ice Shelf একসাথে মহাদেশীয় কিনারার চারপাশে অন্যান্য তাকগুলির সাথে— অ্যান্টার্কটিকার প্রায় ৪৫ শতাংশ । দক্ষিণ মেরুদেশীয় উপকূলের চারপাশে তাক, হিমবাহ এবং বরফের পাত ক্রমাগত ‘Calve’ বা ‘Discharge’, সমুদ্রের মধ্যে হিমশৈল । এখানে তরল পানির অভাব । কিন্তু পৃথিবীর শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ বিশুদ্ধ পানি বা স্বাদু পানি হিমায়িত আকারে মজুত রয়েছে এই মহাদেশেই, যা গলে গেলে বৈশ্বিক সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৬০ মিটার (২০০ ফুট) বৃদ্ধি পাবে । যদিও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে এখানে বরফ গলতে শুরু করেছে । বরফের স্তর গলে যাওয়ার গতি ক্রমশই দ্রুততর হচ্ছে এবং প্রতিবছর এর উচ্চতা গড়ে ০২ সেন্টিমিটার করে কমে যাচ্ছে । তাই পশ্চিম এন্টার্কটিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিজ্ঞানীরা বেশি উদ্বিগ্ন । কারণ এখানকার হিমশৈল বা হিমবাহগুলি কয়েক শতাব্দীর মধ্যেই সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । প্রতিটি হিমবাহের উচ্চতা প্রতি বছর ০৯ মিটার করে কমে যাচ্ছে । বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বায়ু-স্রোতের মাধ্যমে মহাসাগরগুলির উষ্ণ পানি এই অঞ্চলে প্রবেশ করে হিমবাহগুলির সংস্পর্শে এসে বরফ গলে যাচ্ছে । ফলে পৃথিবীর নিম্নাঞ্চলের দেশগুলি তলিয়ে যাচ্ছে । এখানকার বরফের স্বচ্ছ স্তর পৃথিবীতে আসা সূর্য রশ্মির শতকরা প্রায় ৫০-৭০ ভাগই ফেরৎ পাঠায় মহাকাশে । উপরিভাগের বরফ গলে সমুদ্রের নিচে পৌঁছে যাচ্ছে তাপমাত্রা । এই শীতল অঞ্চল শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ সূর্যরশ্মি শোষণ করে নিচ্ছে । তাই বরফ গলার কারণে সমুদ্রের স্রোতে পরিবর্তন আসছে । বায়ুমণ্ডলে Chlorofluorocarbon এবং Ozone গ্যাস স্তর ধ্বংসকারী রাসায়নিক যৌগ Halon (Bromotrifluoromethane বা BTM, রাসায়নিক সংকেত CBrF3, স্ফুটনাঙ্ক ৫৭.৭৫ °C) নির্গমনের কারণে কড়া গন্ধযুক্ত হালকা নীল রঙের বিষাক্ত গ্যাস Ozone কে অন্যান্য গ্যাসে ভেঙ্গে দেয় । অ্যান্টার্কটিকার চরম ঠাণ্ডা অবস্থা মেরু Stratospheric cloud তৈরি করতে সাহায্য করে । আন্তর-আকাশীয় মেঘ রাসায়নিক বিক্রিয়ার জন্য অনুঘটক হিসেবে কাজ করে, যা শেষ পর্যন্ত Ozone গ্যাসকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় । Ozone গ্যাস হ্রাসের ফলে আন্তর-আকাশে প্রায় ৬ °C সেলসিয়াস (১১ °F) শীতল হতে পারে । এই শীতলকরণ মেরু ঘূর্ণিকে শক্তিশালী করে এবং দক্ষিণ মেরুর কাছে ঠাণ্ডা বাতাসের বহিঃপ্রবাহকে বাধা দেয় । যার ফলস্বরূপ পূর্ব-দক্ষিণ মেরুদেশীয় বরফের পাত মহাদেশীয় ভর কে শীতল করে । অ্যান্টার্কটিকার প্রান্তস্থ বা সীমান্তবর্তী এলাকা বিশেষ করে দক্ষিণ মেরুদেশীয় উপদ্বীপ তখন উচ্চ তাপমাত্রার শিকার হয়, যা বরফ গলে যাওয়াকে ত্বরান্বিত করে । Ozone গ্যাস হ্রাস এবং উন্নত মেরু ঘূর্ণির প্রভাবও সমুদ্রের বরফের পরিমাণ বৃদ্ধির সময়কালের জন্য দায়ী হতে পারে । বরফ তাকের প্রসাধন (Buttressing) পশ্চিম-দক্ষিণ মেরুদেশীয় বরফের পাতে (Ice sheet) ক্ষতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে । তবে পূর্ব-দক্ষিণ মেরুদেশীয় বরফের আশেপাশেও এটি পরিলক্ষিত হয় । উচ্চতর ঊর্ধ্বতার কারণে পূর্ব অ্যান্টার্কটিকা তার পশ্চিম অংশের তুলনায় শীতল । এই মহাদেশের প্রান্তে, মেরু মালভূমি থেকে শক্তিশালী Katabatic বাতাস প্রায়ই ঝড়ের শক্তিতে বয়ে যায় । গ্রীষ্মকালে নিরক্ষরেখার তুলনায় দক্ষিণ মেরুতে বেশি সৌর বিকিরণ পৌঁছায় কারণ সেখানে প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা সূর্যালোক পাওয়া যায় । অ্যান্টার্কটিকায় বৃষ্টিপাত তুষার আকারে ঘটে, যা মহাদেশকে বিশাল বরফের চাদরে ঢেকে দেয় । মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে বরফ উপকূলের দিকে প্রবাহিত হয় এবং এক সময় সাগরে চলে যায় । প্রায়শঃ বিশাল ভাসমান বরফের তাক তৈরি করে । এই তাকগুলি গলে যেতে পারে কিংবা বৃহদাকার বরফখণ্ড তৈরি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত সমুদ্রের উষ্ণ জলে পৌঁছানোর সময় বিচ্ছিন্ন বা ধ্বংস হয়ে যায় । উষ্ণ জলের কারণে বরফের তাক ঝুঁকিপূর্ণ, যার ফলে বরফের বৃহৎ তাকগুলি সমুদ্রে ভেঙে পড়ে । অ্যান্টার্কটিকাকে স্পন্দিত মহাদেশ বলা হয় । কারণ, এর মাধ্যমিক বা গৌণ বরফ-সমন্বিত উপকূলরেখার বার্ষিক নির্মাণ এবং পশ্চাদপসরণ । গবেষকদের মতে প্রায় ৪৫ শতাংশ Ice shell, ৩৮ শতাংশ Ice wall, ১৩ শতাংশ Ice stream এবং ০৪ শতাংশ Rock দিয়ে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ গঠিত । এই মহাদেশটি একটি ঠাণ্ডা শুষ্ক মরুভূমি, যেখানে পানির প্রবেশাধিকার জীবনের প্রাচুর্য নির্ধারণ করে । যদিও স্থলজ বাস্তুতন্ত্রে ১০০০টিরও বেশি পরিচিত প্রজাতির জীব রয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই অণুজীব । সামুদ্রিক অ্যান্টার্কটিকা, দ্বীপপুঞ্জ ও উপকূলগুলি অভ্যন্তরীণ অ্যান্টার্কটিকার চেয়ে বেশি জীবন সমর্থন করে এবং আশেপাশের সমুদ্র জীবন সমৃদ্ধ, যেহেতু জমি অনুর্বর বা বন্ধ্যা ।

    Ross Sea এবং Weddell Sea সাগরের মধ্যবর্তী স্থানে বিস্তীর্ণ ভূদৃশ্যময় Cape Adere থেকে Coats Land পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ২১০০ মাইল (প্রায় ৩৪০০ কিলোমিটার) এলাকা নিয়ে বিস্তৃত Transantarctic Mountains পর্বতশ্রেণী দ্বারা পূর্ব ও পশ্চিম দু’টি অসমান অংশে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশকে বিভক্ত করেছে । এই মহাদেশের মূল ভূখণ্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হচ্ছে পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা এবং বাকি দুই-তৃতীয়াংশ পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার অন্তর্ভুক্ত । ক্ষুদ্রতম পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা সম্পূর্ণই বরফে আচ্ছাদিত । বরফে আবৃত সর্ববৃহৎ পর্বতশ্রেণী হচ্ছে Gamburtsev Mountain Range । এটি প্রায় ৭০ মাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত । উচ্চতা প্রায় ০৯ হাজার ফুট । অ্যান্টার্কটিকার সাগরগুলি হচ্ছে Ross Sea, Weddell Sea এবং Amundson Sea । এছাড়া দক্ষিণ মেরুদেশীয় বৃত্তের সীমানায় রয়েছে Bellingshausen Sea । মহাদেশটিতে অসংখ্য হ্রদ রয়েছে । প্রায় ৪০০টি পরিচিত Subglacial Lake এর মধ্যে বৃহত্তম হ্রদটি হচ্ছে Lake Vostok । স্বাদু জলের এই হ্রদটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৪৮৮ মিটার (১১৪৪৪ ফুট) উপরে অবস্থিত । গ্রীষ্মকালে হ্রদের প্রান্তের বরফ গলে যেতে পারে এবং তরল খাই বা পরিখা অস্থায়ীভাবে তৈরি হয় । অ্যান্টার্কটিকায় লবণাক্ত এবং স্বাদুপানির উভয় হ্রদ রয়েছে । প্রায় ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘতম নদী হচ্ছে Onyx River । পরিচিত অনেকগুলি দ্বীপ রয়েছে যেমন: Alexander Island, Berkner Island, Thurston Island, Kenny’s Island ইত্যাদি । এখানে রয়েছে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘতম হিমবাহ Lambert Glacier । প্রবল শৈত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে বেঁচে থাকতে সক্ষম এমন উদ্ভিদ ও প্রাণীরাই অ্যান্টার্কটিকায় টিকে থাকতে পারে । তুন্দ্রা অঞ্চলে স্থানীয় প্রজাতির মধ্যে রয়েছে Mite, Nematode, Crab, Emperor Penguin, Adélie Penguin, Seal, Tardigrade, Pelagic fish, শৈবাল, অন্যান্য ক্ষুদ্র অণুজীব এবং তুন্দ্রাঞ্চলীয় বিভিন্ন উদ্ভিদ ইত্যাদি । পেঙ্গুইন হচ্ছে মেরু অঞ্চলের প্রতীক । প্রায় ৩০০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদের বসবাস এই শৈত্যময় পরিবেশে ।

    মূল ভূখণ্ডে বিশেষ করে Mount Melbourne, Berlin Mountain, Mount Hampton, Muhlig-Hofman Mountain পর্বতে কয়েকটি সক্রিয় বা জলন্ত আগ্নেয়গিরি রয়েছে । বরফের খুঁতেল বা দাগযুক্ত সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলি Dot Western Ellsworth Land, Marie Byrd Land, অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপের উপকূলের অংশগুলিতে এবং Victoria Land এর উপকূলের কিছু অংশে অবস্থিত । কিন্তু আগ্নেয়গিরির প্রধান কার্যকলাপ কেন্দ্রীভূত হয় Scotia Arc এ । শুধুমাত্র একটি আগ্নেয়গিরি Gaussberg (৯০° E) পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার সমগ্র উপকূলে দেখা যায় । Mount Sidley হচ্ছে সর্ববৃহৎ সুপ্ত আগ্নেয়গিরি । এই আগ্নেয়গিরিটি Volcanic Seven Summit এর সদস্য । এর উচ্চতা ৪১৮১–৪২৮৫ মিটার । এটি একটি বিশাল- প্রধানত তুষার আচ্ছাদিত ঢাল আগ্নেয়গিরি, যা Marie Byrd Land এর Executive Committee Range এর অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি আগ্নেয় পর্বতের মধ্যে সর্বোচ্চ । এছাড়া Ross Island দ্বীপে বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষিণের সক্রিয় আগ্নেয়গিরিটি হচ্ছে Mount Erebus । প্রতিদিন প্রায় ১০ বার বিস্ফোরিত হয় । অগ্ন্যুৎপাতের ছাই আগ্নেয়গিরির গর্ত থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার (১৯০ মাইল) দূরে পৌঁছে যায় । এই আগ্নেয়গিরিটি মহাদেশের ষষ্ঠ-সর্বোচ্চ আল্ট্রা পর্বত (Ultra mountain) । মহাদেশের অপর প্রান্তে Deception Island দ্বীপের আগ্নেয়গিরিকুণ্ডটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় রয়েছে । আগ্নেয়গিরি প্রায়শঃ লাভা এর পরিবর্তে বরফের স্ফটিক (Crystal) উদগীরণ করে । এছাড়া Buckle Island, Penguin Island, Paulet Island এবং Lindenberg Island দ্বীপগুলি ছাড়াও বরফের নীচে প্রচুর পরিমাণে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যেগুলির কার্যকলাপের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে বরফ পাতের (Ice sheet) জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে । অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের উত্তর-পশ্চিমে সর্বোচ্চ শৃঙ্গ বা বিন্দুটি হচ্ছে ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ, ১৩ কিলোমিটার চওড়া এবং ১৬০৬৬ ফুট (৪৮৯৭ মিটার) উচ্চতার Vinson Massif নামক একটি বড় পর্বতমালা । এটি Ellsworth পর্বতমালার Sentinel Range এর মধ্যে অবস্থিত । সর্বনিম্ন বিন্দুটি The Bentley Subglacial Trench হচ্ছে পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার Marie Byrd Land অঞ্চলের এক বিশাল স্থান বিবরণ সম্বন্ধীয় পরিখা বা খাদ (Topographic trench), যেটি ৮০° S ও ১১৫° W অবস্থিত । খাদটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৫৫৫ মিটার (৮৩৮২ ফুট) নিচে । এটি (সংলগ্ন Byrd Subglacial Basin এর গভীরতম বিন্দুগুলির সাথে) পৃথিবী পৃষ্ঠের সর্বনিম্ন বিন্দুগুলির মধ্যে রয়েছে যা মহাসাগর দ্বারা আবৃত নয়, যদিও এটি বরফ দ্বারা আবৃত । কয়েকটি পর্বতমালা রয়েছে যেমন: Trans-Antarctica Range, Ellsworth Mountain, Sentinel Range, Queenmod range ইত্যাদি ।

    Neoproterozoic যুগের শেষ থেকে Cretaceous যুগ পর্যন্ত অ্যান্টার্কটিকা ছিল মহা মহাদেশ Gondwana এর অংশ । আধুনিক অ্যান্টার্কটিকা গঠিত হয়েছিল যখন Gondwana ১৮৩ Ma এর দিকে ধীরে ধীরে ভেঙে যায় । Phanerozoic যুগের একটি বড় অংশের জন্য অ্যান্টার্কটিকায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বা নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু ছিল এবং এটি জঙ্গলে ঢাকা ছিল । অ্যান্টার্কটিকা উদ্ভিদ জীবনের বিস্তৃত বৈচিত্র্য দেখেছে । অ্যান্টার্কটিকার বেশিরভাগ প্রজাতি লক্ষ লক্ষ বছর আগে সেখানে বসবাসকারী প্রজাতির বংশধর বলেই মনে করা হয় । যেমন, প্রজাতিগুলি অবশ্যই একাধিক হিমবাহ চক্র থেকে এবং বিচ্ছিন্ন উষ্ণ অঞ্চলে অত্যন্ত ঠাণ্ডা জলবায়ুর সময়কাল থেকে বেঁচে আছে । তাই কুমেরু বৃত্তের বাইরে Antarctic Peninsula এবং এর আশেপাশের এলাকাগুলিতে তাপমাত্রা বেশি থাকায় এই পরিবেশে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা সহ্য করার ক্ষমতা আছে এমন সকল Moss, Algae এবং বিভিন্ন ধরনের Lichen জাতীয় উদ্ভিদ রয়েছে । যদিও এরা প্রচণ্ড শীত বা ঠাণ্ডায় সুপ্ত অবস্থায় থাকে এবং অনুকুল পরিবেশে আবার জীবন্ত হয়ে উঠে । অ্যান্টার্কটিকায় মোট প্রায় ৮০০ প্রজাতির গাছের মধ্যে ৩৫০টি প্রজাতিই হচ্ছে Lichen । এই যৌগিক জীব Lichen ধীর গতিতে বর্ধনশীল, বিশেষ করে অ্যান্টার্কটিকায় বেঁচে থাকার জন্য ভালভাবে অভিযোজিত । তারা সুপ্ত অবস্থায় দীর্ঘ উচ্চ-চাপ সহ্য করতে পারে এবং অবস্থার উন্নতি হলে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সালোকসংশ্লেষী হয়ে উঠে । Lichen এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে, তাদের উপাদান জীবের থেকে আলাদা । এখানে প্রায় ১০০ প্রজাতির Bryophyte (Moss, Hornwort এবং Liverwort) রয়েছে । এগুলি উপকূলীয় এবং সামুদ্রিক অঞ্চলে বেশি প্রাধান্য পায় । তবে আশেপাশের এলাকাগুলিতেও দেখা যায় । এরা শুধুমাত্র শ্যাওলা নিয়ে গঠিত, বৈশিষ্ট্যগতভাবে আকারে সীমিত এবং আর্দ্র বাসস্থান পছন্দ করে । যদিও তারা শুষ্ক পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে । প্রায় ২০০০০ উদ্ভিদ প্রজাতি নিয়ে গঠিত এবং আবদ্ধ প্রজনন কাঠামো তৈরি করে (Gametangia এবং Sporangia) । কিন্তু এরা ফুল বা বীজ উৎপাদন করে না । Bryophyte এককোষী অজৌন জননাঙ্গ (Spore) দ্বারা যৌন প্রজনন এবং অযৌনভাবে বিভাজন দ্বারা বা Gemmae উৎপাদনের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে । এই দক্ষিণ মেরু দেশে অসংখ্য প্রজাতির Mold, Yeast, Fungi, Diatom, Plankton, মিঠা পানির Algae এবং Bacteria ইত্যাদি উদ্ভিদ বা প্রাণী রয়েছে । যদিও এই অঞ্চলের মৃত্তিকা মূলত Humic ধরনের নয় এবং সাধারণত জীবাণুমুক্ত হয় না । মাটিতে ব্যাকটেরিয়া বা বিভিন্ন ধরণের নীল-সবুজ শৈবালের (Blue-green algae) মত অণুজীব থাকতে পারে । নীল-সবুজ শৈবাল Nostoc স্থানীয়ভাবে মাটিতে ক্ষুদ্র জৈব যৌগ যোগান দেয় । দক্ষিণ মেরুদেশীয় অঞ্চলের হ্রদগুলিতে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক বাস করে । প্রায় ১১৫০ প্রজাতির ছত্রাক তালিকাভূক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭৫০টি প্রজাতি অ-লাইকেন (Non-lichen) গঠনকারী । কিছু প্রজাতি চরম পরিস্থিতিতে বিকশিত হয়ে ছিদ্রযুক্ত শিলাগুলির মধ্যে কাঠামোগত গহ্বরে উপনিবেশ স্থাপন করেছে । McMurdo Dry Valley এবং পার্শ্ববর্তী পর্বত শৈলশিরাগুলির শিলা গঠনে অবদান রেখেছে । এই ধরনের ছত্রাকের Simplified morphology তাদের অনুরূপ জৈবিক কাঠামোসহ বিপাক ব্যবস্থা খুব কম তাপমাত্রায় সক্রিয় থাকতে সক্ষম এবং জীবনচক্র হ্রাস করে ও তাদের এই ধরনের পরিবেশের জন্য উপযুক্ত করে তোলে । পুরু-প্রাচীরযুক্ত এবং দৃঢ়ভাবে Melanised কোষগুলি তাদের অতিবেগুনী বিকিরণ (UV) প্রতিরোধী করে তোলে । Algae এবং Cyanobacteriaতে একই বৈশিষ্ট্যগুলি লক্ষ্য করা যায়, যা পরামর্শ দেয় যে তারা অ্যান্টার্কটিকায় বিরাজমান অবস্থার সাথে অভিযোজিত । এর ফলে মঙ্গল গ্রহে জীবন বা প্রাণের অস্তিত্ব হয়তো অ্যান্টার্কটিক ছত্রাকের মতই ছিল, যেমন Cryomyces antarcticus এবং Cryomyces minteri । ছত্রাকের কিছু প্রজাতি রয়েছে যেগুলি দৃশ্যত অ্যান্টার্কটিকার স্থানীয় । এগুলি পাখির বিষ্ঠা বা গোবরে বাস করে এবং বিবর্তিত হয়েছে । তাই তারা অত্যন্ত ঠাণ্ডা গোবরের ভিতরে বৃদ্ধি পেতে পারে । তবে উষ্ণ রক্তের প্রাণীদের অন্ত্রের মধ্য দিয়েও যেতে পারে । আন্টার্কটিকার দ্বীপ বা উপ-দ্বীপগুলিতে বিভিন্ন লতা যেমন: Deschampia, Deschampia elegantula, Colobanthus crassifolius এবং ঘাস যেমন: Poa annua পাওয়া যায় । বরফের নিচে ৮০০ মিটার (০.৫০ মাইল) গভীরে Bacteria পাওয়া গেছে । মনে করা হয় যে, Lake Vostok হ্রদের ভূগর্ভস্থ জলাশয়ের মধ্যে একটি স্থানীয় Bacteria সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব রয়েছে । বরফের অনেক গভীরে জল-বরফ ভূত্বকের (Water-ice crust) নিচে সম্ভাব্য পানিতে প্রাণের অস্তিত্ব বৃহস্পতি গ্রহের চাঁদ Europaতে জীবন বা প্রাণ থাকার সম্ভাবনার পক্ষে যুক্তিকে শক্তিশালী করে বলে মনে করা হয় । এছাড়া Lake Untersee হ্রদের অত্যন্ত ক্ষারীয় জলে Extremophile bacteria এর একটি সম্প্রদায় বিদ্যমান । এই ধরনের আতিথেয়তাহীন বা আতিথ্যবিমুখ এলাকায় অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক বা স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তী প্রাণীর (Highly resilient creature) প্রসার আরও ঠাণ্ডা মিথেন সমৃদ্ধ পরিবেশে বহির্জাগতিক জীবন বা প্রাণের পক্ষে যুক্তিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে । প্রচণ্ড ঠাণ্ডা দক্ষিণ মেরুদেশীয় সমুদ্রে উদ্ভিদ-প্ল্যাংকটন (Phytoplankton) এবং প্রানী-প্ল্যাংকটনের (Zooplankton) প্রাচূর্যতা রয়েছে । ৭০০ প্রজাতির শৈবালের (Algae) মধ্যে প্রায় অর্ধেকই সামুদ্রিক Phytoplankton । বহু রঙের তুষার শৈবাল বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচুর দেখা যায় । এখানে বিভিন্ন প্রজাতির Krill, Euphausia superba, Penguin, Seal, Squid, Whale ইত্যাদি প্রাণী বসবাস করে থাকে । নিকটবর্তী অঞ্চলের সমুদ্রের তলদেশের প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে Sessile hydrozoan, Coral, Sponge, Bryozoan, Pycnogonid, Isopod, Annelid worm polychaeta, Echinoid, Sea star (Starfish) এবং বিভিন্ন ধরণের Crustacean, Mollusk ইত্যাদি । দক্ষিণ সমুদ্রে মাছ দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি পাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে । প্রায় ৩০০০০ আধুনিক প্রজাতির মাছের মধ্যে দক্ষিণ মেরুদেশীয় অভিসরণের দক্ষিণে সমুদ্র থেকে প্রায় ১০০টিরও বেশি পরিচিত মাছ পাওয়া যায় না । সমুদ্র তলদেশের ৯০ প্রজাতির মাছের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই Antarctic Perches Superfamily Notothenioidea এর অন্তর্গত । Zoarcidae (Eel-pout), Liparidae, Macrouridae, Gadidae (Cod), Barracuda, Lantern এবং বিরল প্রজাতির Nonbony ধরনের Hagfish ও Skate মাছ রয়েছে এই গহীন সমুদ্রে । দক্ষিণ মেরুদেশীয় মাছগুলি ঠাণ্ডা জলের সাথে ভালভাবেই অভিযোজিত হয়ে থাকে । মাছগুলি অত্যন্ত স্থানীয় এবং শতকরা ৯০ ভাগ প্রজাতি অন্য কোথাও পাওয়া যায় না । এখানকার বিভিন্ন জৈবিক এবং ভূতাত্ত্বিক প্রমাণকে সমর্থন করে যে, অ্যান্টার্কটিকা খুব দীর্ঘ সময় ধরে বিচ্ছিন্ন ছিল । Ross Sea এবং Weddell Sea সাগরের বরফ তাকের (Ice shelf) মধ্যে ঠাণ্ডায় জমে যাওয়া বড় বড় মাছ পাওয়া গেছে । কার্বনের তেজষ্ক্রীয় রূপভেদ নির্ণয় বা প্রত্নবস্তুর বয়স নির্ধারণকারী Radiocarbon dating (Carbon-14 dating) করে জানা যায় যে, এই মাছগুলির বয়স প্রায় ১০০০ বছরেরও বেশি । [উল্লেখ্য যে: Radiocarbon dating হচ্ছে কার্বনের একটি তেজস্ক্রিয় Isotope, Radiocarbon এর বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে জৈব উপাদান ধারণকারী বস্তুর বয়স নির্ধারণের একটি পদ্ধতি ।] ধারণা করা হয়, মাছগুলি সমুদ্রের খুব গভীরে পৌঁছেছিল এবং এক সময় বরফের মধ্যে আটকা পড়ে যায় । পরবর্তীতে বরফের তাকগুলি ক্ষয় হয়ে যাওয়ার কারণে মাছগুলি বরফের উপর উঠে আসে । পৃথিবীর বিরান এবং হিমশীতল এই মহাদেশে সবুজের চিহ্ন নেই । মশা, পিঁপড়া এবং সরীসৃপের কোন অস্তিত্ব নেই বললেই চলে । Ice fish নামক এক প্রকার বিচিত্র মাছ রয়েছে । যার রক্ত লাল নয়, স্বচ্ছ জলের মত । এখানে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে কিছু মাছের শরীরে বিপাকক্রিয়া (Metabolism) বিলম্বে ঘটে । এছাড়া Dissotichus mawsani এবং Trematomus প্রজাতির মাছের মধ্যে এক অবিশ্বাস্য ক্ষমতা রয়েছে যে, প্রচণ্ড ঠাণ্ডায়ও রক্ত জমাট বাঁধে না । কারণ, এদের রক্তে এক প্রকার Antifreeze ক্ষমতা রয়েছে । এই মহাদেশে আছে নানা ধরণের কীটপতঙ্গ বা পোকামাকড়, পরজীবী এবং এক প্রকার পাখাবিহীন মাছি । যেমন: স্থানীয় স্থলজ (Antarctic microfauna) সম্পূর্ণরূপে অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে Heliozoan, Rotifer, Tardigrade, Nematode, Ciliate protozoan ইত্যাদি । প্রধান Arthropod গোষ্ঠীগুলির মধ্যে রয়েছে Acarina (Mite), Mallophaga (Biting lice), Collembola (Springtail), Anoplura (Sucking lice), Diptera (Midge), Siphonaptera (Flea) ইত্যাদি । দুই প্রজাতির Beetle রয়েছে এবং এরা সম্ভবত অস্থানিক, Antarctic Peninsula এর কাছাকাছি দ্বীপ থেকে পরিচিত । আজকের অনুর্বর অ্যান্টার্কটিকার প্রাকৃতিক ভূচিত্রের সাথে প্রাচীন Paleozoic এবং Mesozoic যুগের প্রাকৃতিক ভূচিত্রের পার্থক্য অনেক । Antarctic glaciation সম্ভবত ৫০ মিলিয়ন বছর আগে শুরু হয়েছিল । সমস্ত সংবহনতান্ত্রিক বা রসনালীতে পূর্ণ (Vascular) উদ্ভিদ (Fern, Conifer এবং ফুলের গাছ) উত্তর দিকে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছিল । শুধুমাত্র Nonwoody প্রজাতি উপ-দক্ষিণ মেরুদেশীয় অঞ্চলে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং খুব কম প্রজাতিই দক্ষিণ মেরুদেশীয় অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করেছে । অ্যান্টার্কটিকার বিপরীতে, দক্ষিণ মেরুদেশীয় অভিসরণের দক্ষিণে, উপ-দক্ষিণ মেরুদেশীয় উদ্ভিদসংক্রান্ত অঞ্চলের অভিসরণের উত্তরে অবস্থিত— South Georgia, Crozet, Kerguelen, Macquarie Island দ্বীপগুলিতে অনেক প্রজাতির Vascular উদ্ভিদের প্রাচুর্যতা রয়েছে । শুধুমাত্র South Georgia তে অন্তত ৫০টি প্রজাতি চিহ্নিত করা হয়েছে । এখানে বীজগুটি বা এককোষী অযৌন জননাঙ্গ (Spore) দ্বারা পুনরুৎপাদনকারী উদ্ভিদগুলি অ্যান্টার্কটিকার বৈশিষ্ট্য । বীজ উদ্ভিদগুলি প্রধানত উপ-দক্ষিণ মেরুদেশীয় অঞ্চলগুলির বৈশিষ্ট্য । দক্ষিণ মেরুদেশীয় এবং উপ-দক্ষিণ মেরুদেশীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রকে মানুষ ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে । যেমন: তিমি শিকার ঘাঁটিতে Vascular উদ্ভিদের পরক বা অস্থানিক (Alien) প্রজাতির প্রবর্তন করা হয়েছে, যার ফলে নিঃসন্দেহে সমস্ত দক্ষিণ মেরুদেশীয় ঘাঁটির কাছে অনেক অস্থানিক অণুজীব বিদ্যমান । স্থানীয় নয় এমন তৃণভোজী প্রাণী প্রধানত ভেড়া এবং খরগোশ অনেক উপ-দক্ষিণ মেরুদেশীয় দ্বীপের উদ্ভিদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছে । এছাড়া পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা অ্যান্টার্কটিকার ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলছে ।

    আন্টার্কটিকা ও কুমেরু বৃক্তের বাইরে দক্ষিণে মহাদেশের দ্বীপগুলিতে পরিচিত প্রায় ৪৫ প্রজাতির পাখি বাস করে । এদের মধ্যে Snow petrel (Pagodroma nivea), Antarctic petrel (Thalassoica antarctica), বিপন্ন প্রজাতি ও হিংস্র শিকারী আন্টার্কটিকার বাজ বা ঈগল জাতীয় পাখি South polar skua (Stercorarius McMormic), Fulmer বা Giant Antarctic petrel (Macronectes giganteus), Cormorant (Phalacrocorax atriceps), Diving petrel, পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম আকাশ ভ্রমণকারী (১০ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ৩৪ গ্রাম ওজন) ক্ষুদ্রতম পাখি Storm petrel (Oceanites oceanicus), Pintail, Gull, Tern, Sheathbill এবং Pipit ইত্যাদি । পাখিগুলি সামুদ্রিক খাবারের উপর নির্ভরশীল । বেশিরভাগ পাখি প্রতি শরৎকালে মহাদেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যায় এবং উত্তর দিকে বরফ গাঁটরি বা ফেটি (Ice pack) তৈরি হওয়ার সাথে সাথে অ্যান্টার্কটিকার ‘Secondary’ উপকূলরেখা অনুসরণ করে । এক গবেষণায় দেখা যায় যে, কিছু দক্ষিণ মেরুদেশীয় পাখি সারা বিশ্বে ভ্রমণ করে । মহাদেশের অভ্যন্তরে, এমনকি দক্ষিণ মেরু ছাড়িয়েও Skua এবং Petrel পাখিগুলি মাঝে মাঝে মহাদেশ অতিক্রম করতে পারে । উড়ন্ত পেঙ্গুইনসহ দক্ষিণ মেরুদেশীয় পাখিদের স্বগৃহে প্রত্যাবর্তনের এক শক্তিশালী সহজাত প্রবৃত্তি এবং চমৎকার Navigational ক্ষমতা রয়েছে । তাদের এক উচ্চ বিকশিত বা বেশ উন্নত Sun-azimuth orientation system এবং জৈবিক ঘড়ি প্রক্রিয়া (Biological clock mechanism) রয়েছে, যা দ্বারা পাখিগুলি ক্রমাগত উচ্চে থাকা সত্ত্বেও এমনকি সূর্যের সাথে কাজ করে । Adélie পেঙ্গুইনগুলি তাদের বাসা থেকে ১৯০০ মাইল পর্যন্ত পথ মুক্তভাবে উড়ে যায় এবং এক বছরের মধ্যে পুনরায় ফিরে আসে । Antarctic Peninsula এর উত্তর প্রান্তে Seymour Island এবং আরও কয়েকটি স্থানে পাওয়া জীবাশ্ম (Fossil) পরীক্ষা করে প্রায় ৪০ মিলিয়ন বছর আগে Eocene যুগে এই উড়ন্ত পাখিদের বিবর্তন ইতিহাস পাওয়া গেছে । এই মহাদেশের শুকনো উপত্যকা (Dry valley) অঞ্চল হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্কতম অঞ্চল । এখানে টকটকে লাল পানির রক্ত ঝর্না বা জলপ্রপাত রয়েছে । পানির সাথে প্রচুর পরিমাণে Iron oxide থাকার কারণে এই পানি লাল দেখায় । বিস্ময়কর ও মজার বিষয় হচ্ছে যে, প্রচণ্ড শীতল এবং তুষারমণ্ডিত এই অ্যান্টার্কটিকায় পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তের চেয়ে নক্ষত্র পতনের দৃশ্য সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ।

    ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বরে The International Council for Science (ICSU) দক্ষিণ মেরুদেশীয় গবেষণা সংক্রান্ত একটি বিশেষ কমিটি Special Committee on Antarctic Research (SCAR) গঠন করে । এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে অ্যান্টার্কটিক চুক্তি (The Antarctic Treaty) সম্পন্ন হয় । অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের মালিকানা কারো দখলে নেই । তবে বেশ কয়েকটি দেশ এর বিভিন্ন অংশের উপর নিজেদের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব বা মালিকানা দাবী করলে ০১লা ডিসেম্বর ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে ১২টি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ‘অ্যান্টার্কটিক চুক্তি’ স্বাক্ষর করার পর শাসিত হচ্ছে এই শীতল মহাদেশটি । ১২টি দেশ হচ্ছে: Argentina, Australia, Belgium, Chile, France, Japan, New Zealand, Norway, South Africa, Russia (The Soviet Union), The United Kingdom, The United States । দক্ষিণ মেরুদেশীয় (Antarctic) চুক্তিটি রাজনৈতিক কূটনীতিতে এক অভূতপূর্ব বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে, এটি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য সমগ্র মহাদেশটিকে সংরক্ষণ করে । এই চুক্তির ফলে অ্যান্টার্কটিকাকে বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র-মুক্ত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং একটি উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে আঞ্চলিক দাবির বিষয়টি নিয়ে কাজ করে । বর্তমানে ৪৮টি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে । ফলে এখানে সামরিক কার্যকলাপ, খনিজ সম্পদ খনন, পারমানবিক বিস্ফোরণ এবং পারমানবিক বর্জ্য নিষ্পত্তি ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হয়েছে । মহাদেশটিকে আন্তর্জাতিক নানা বিরোধের বিষয়বস্তুতে পরিণত না করে মানবজাতির কল্যাণের জন্য সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে সহায়তা এবং এই মহাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ, সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্রকে (Biodiversity and Ecosystems) সুরক্ষিত করা হয়েছে । অধিকন্তু দূরপাল্লার বিমান, রকেট, স্যাটেলাইট নজরদারি এবং যুদ্ধের পরিবর্তিত প্রকৃতির ক্রমবর্ধমান সামর্থ্যের কারণে ২১ শতকে কৌশলগত সামরিক অবস্থান হিসেবে অ্যান্টার্কটিকার গুরুত্ব হ্রাস পেয়েছে । অ্যান্টার্কটিকার জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রথম আন্তর্জাতিক চুক্তি ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে গৃহীত হয় । অতিরিক্ত Krill (একটি প্রাণী যা দক্ষিণ মেরুদেশীয় বাস্তুতন্ত্রে এক বড় ভূমিকা পালন করে) মাছ ধরার ফলে এর উপর একটি প্রবিধান প্রণয়ন করে । The Convention for the Conservation of Antarctic Marine Living Resources (CCAMLR) একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে কার্যকর হয় । যা মৎস্য চাষ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত বা বাস্তুসংস্থানগত সম্পর্ক রক্ষার লক্ষ্যে । দক্ষিণ মেরুদেশীয় খনিজ সম্পদ নিয়ন্ত্রণের জন্যেও ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে একটি প্রবিধান গৃহীত হয়, যা ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে কার্যকর হয় । মহাদেশটিকে একটি বিশ্ব উদ্যান (World Park) হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য Greenpeace ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত Ross Island দ্বীপে একটি ঘাঁটি স্থাপন এবং ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করে । ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিক তিমি Commission দ্বারা ‘দক্ষিণ মহাসাগর তিমি অভয়ারণ্য’ প্রতিষ্ঠিত হয় । এটি ৫০ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার (১৯ মিলিয়ন বর্গ মাইল) জুড়ে এবং সম্পূর্ণরূপে দক্ষিণ মেরুদেশীয় (Antarctic) মহাদেশকে ঘিরে রয়েছে । অঞ্চলটিতে সমস্ত বাণিজ্যিক তিমি শিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যদিও জাপান গবেষণার উদ্দেশ্যে এই এলাকায় তিমি শিকার অব্যাহত রেখেছে । এই সুরক্ষা সত্ত্বেও, অ্যান্টার্কটিকার জীববৈচিত্র্য এখনও মানুষের কার্যকলাপের কারণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে । বিশেষভাবে সুরক্ষিত এলাকার শতকরা ০২ ভাগেরও কম এলাকা জুড়ে প্রাবরণ করে এবং প্রাণীদের জন্য ভাল সুরক্ষা প্রদান করে । সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকার চেয়ে বেশি ভূ-সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে । স্থানীয় এবং বৈশ্বিক হুমকি দ্বারা বাস্তুতন্ত্র প্রভাবিত হয় । বিশেষ করে দূষণ, অ-স্থানীয় প্রজাতির আক্রমণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রভাবে ।

    পৃথিবীর হিমঘর অ্যান্টার্কটিকা একটি মনোরম স্থান, এই অঞ্চলে পর্যটকরা ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে সফর করছে । বেশিরভাগ ভ্রমণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত International Association of Antarctica Tour Operators (IAATO) এর সদস্য, যেটি একটি স্ব-নিয়ন্ত্রক শিল্প সংস্থা এবং অ্যান্টার্কটিক চুক্তি ব্যবস্থার সাথে যোগাযোগ বিন্দু বা সম্পর্কযুক্ত । এখানে প্রায় ৮০টি স্থায়ী গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে । বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অসংখ্য বিজ্ঞানী নানা বৈজ্ঞানিক গবেষণা কাজে নিয়োজিত রয়েছেন । এন্টার্কটিকা ( দক্ষিণ মেরুদেশীয় অভিসরণের দক্ষিণে অবস্থিত অঞ্চল) অঞ্চলের প্রথম আধা-স্থায়ী বাসিন্দারা ছিলেন ব্রিটিশ এবং আমেরিকান সীল-শিকারী, যারা ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে দক্ষিণ জর্জিয়ায় এক বছর বা তার বেশি সময় কাটাতেন । তিমি শিকারের যুগে, যা ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল । সেই সময় দ্বীপের জনসংখ্যা গ্রীষ্মকালে প্রায় ১০০০ জনেরও বেশি (কখনও ২০০০ জনেরও বেশি) থেকে শীতকালে প্রায় ২০০ জনে নেমে যেত । ব্রিটেন থেকে ক্রমবর্ধমান অনুপাতিক হারে বেশিরভাগ তিমি-শিকারী ছিলেন নরওয়েজিয়ান । অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে কখনও স্থায়ী বাসিন্দা ছিল না । যদিও কিছু কর্মী দ্বারা গবেষণা কেন্দ্রগুলি ক্রমাগত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় । সাম্প্রতিক সময়ে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ এবং এর নিকটবর্তী দ্বীপ ও গবেষণা কেন্দ্রগুলিতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, অন্যান্য কাজ পরিচালনা এবং সমর্থনকারী প্রায় ৫০০০ লোকের বসবাস রয়েছে গ্রীষ্মকালে, যা শীতকালে প্রায় ১০০০ লোকসংখ্যায় নেমে আসে । নরওয়ের অধিবাসী Roald Amundsen হচ্ছেন প্রথম মানুষ যিনি ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই ডিসেম্বর অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছেন । দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে জন্ম নেয়া প্রথম শিশুটি Solveig Gunbjørg Jacobsen একজন নরওয়েজিয়ান (Norwegian) মেয়ে, যিনি ০৮ই অক্টোবর ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ জর্জিয়ার Grytviken এর দক্ষিণ মেরুদেশীয় অভিসরণের দক্ষিণে জন্মগ্রহণ করেন ও বেড়ে উঠেন । Emilio Marcos Des Palma Morella একজন আর্জেন্টাইন (Argentine), যিনি ৬০তম সমান্তরাল দক্ষিণের দক্ষিণে এবং দক্ষিণ মেরুদেশীয় মূল ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণকারী প্রথম নথিভুক্ত ব্যক্তি । দূরবর্তীতা সত্ত্বেও মানুষের নানাবিদ কার্যকলাপে দূষণ সৃষ্টি, Ozone গ্যাস হ্রাস বা নিঃশেষকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মাধ্যমে এই মহাদেশটিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে । যদিও ভ্রমণ নিয়ন্ত্রিত, ব্যয়বহুল এবং অত্যন্ত কঠিন । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিখ্যাত Heavy metal rock band ‘Metallica’ এর জনপ্রিয় গান ”Freeze ‘Em All” এর চিত্রায়ন করা হয় এই সফেদ তুষার দেশে । এখানে United States Antarctic Research Station বা পরিবেশ বান্ধব পারমাণবিক চুল্লি ‘McMurdo Station’ এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে । এই শীতলতম স্থানে ০৭টি গির্জা, ০১টি ATM যা ১০১৩২৫ bar বা ১০১৩২৫ pascal এবং ০১টি পানশালা রয়েছে । Internet জগতে অ্যান্টার্কটিকার নিজস্ব Web domain হচ্ছে .aq । এখানে শীত এবং গ্রীষ্ম দু’টি ঋতু । গ্রীষ্মকালে সূর্য কিরণ থাকলেও শীতকালে প্রায় চার থেকে ছয় মাস সূর্যের মুখ দেখা যায় না । অঞ্চলটির বৈশিষ্ট্য এমনই যে, ঝকঝকে দিনের আলোয় ক্ষণিকেই তুষার ঝড়ের তাণ্ডবে প্রকৃতি তার বৈচিত্র্যময় রূপের আত্মপ্রকাশ করে । শৈত্য প্রবাহ, তুষার ঝড়, আদ্র বাতাস, ঘূর্ণিঝড়, মেঘলা এবং কুয়াশাপূর্ণ আবহাওয়া বিদ্যমান । বৃষ্টি প্রায় অচেনা । প্রায়শঃ আকাশ জুড়ে রামধনুর সাত রঙের উজ্জ্বল আলোর মেরুজ্যোতি (Aurora) দেখা যায় । অ্যান্টার্কটিকার জলবায়ু হচ্ছে পৃথিবীর শীতলতম জলবায়ু । মেরু মালভূমিতে প্রতি বছর প্রায় ২ ইঞ্চি (৫০ মিলি মিটার) গড় বৃষ্টিপাত হয় । যদিও উপকূলীয় অঞ্চলে ১০ গুণ বেশি বৃষ্টিপাত হয় । এছাড়া মেরু ঘূর্ণি (Polar vortex) মেঘের সৃষ্টি হয় । এই গ্রহের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে এখানে সবচেয়ে বেশি বাতাস প্রবাহিত হয় । তীব্র ঝড়ো বাতাসের গতিবেগ প্রতি ঘন্টায় প্রায় ২০০ মাইল । অ্যান্টার্কটিকায় শীতকালীন তাপমাত্রা −১২৮.৬ °F (−৮৯.২ °C), যা বিশ্বের সর্বনিম্ন নথিভুক্ত তাপমাত্রা । সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি −৭৬ °F (−৬০ °C) । তাপমাত্রা স্থানভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয় । শীতলতম মাসের গড় তাপমাত্রা হচ্ছে উপকূলে −৪ °F থেকে −২২ °F (−২০ °C থেকে −৩০ °C) এবং অভ্যন্তরীণ অংশে −৪০ °F থেকে −৯৪ °F (−৪০ °C থেকে −৭০ °C) । গ্রীষ্মের মাঝামাঝি তাপমাত্রা দক্ষিণ মেরুদেশীয় উপদ্বীপে ৫৯ °F (১৫ °C) পর্যন্ত পৌঁছতে পারে । পৃথিবীর সকল মহাদেশের মধ্যে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭২০০ ফুট (২২০০ মিটার) গড় উচ্চতায় অবস্থিত এবং সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে শীতল, শুষ্ক ও সর্বাধিক ঝটিকাপূর্ণ । বেঁচে থাকার জন্য অ্যান্টার্কটিকা কঠিন জায়গা ৷

    Snow petrel (Pagodroma nivea) #snowpetrels পাখি হচ্ছে Pagodroma গোত্রের একমাত্র সদস্য । এটি প্রায় একটি কবুতরের আকার, খাঁটি বা সম্পূর্ণ সাদা (Pure white fulmarine), কয়লা কালো চোখ, একটি ছোট ঠোঁট এবং নীলাভ ধূসর চরণযুগল রয়েছে । এর বংশ নামটি প্রাচীন গ্রিক শব্দ Pagos, যার অর্থ ‘তুষার’ (Frost) বা ‘সমুদ্র-বরফ’ (Sea-ice) এবং Dromos শব্দের সাথে একত্রিত হয়েছে যার অর্থ ‘দৌড়বাজ’ (Racer বা Runner) । নির্দিষ্টভাবে বিশেষণটি লাতিন শব্দ Niveus থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘তুষার-সাদা’ (Snow-white) । ‘Petrel’ শব্দটি Peter the Apostle এবং তার জলের উপর হাঁটার গল্প থেকে উদ্ভূত হয়েছে । Snow petrel পাখির দু’টি উপ-প্রজাতি রয়েছে যেমন: P. n. nivea (Forster, G, 1777) এবং P. n. major (Schlegel, 1863) । এই পাখিটি ঘন ঘন দিক পরিবর্তনের সাথে অস্থিরগতিতে উড়ে । প্রায় সম্পূর্ণরূপে ঠাণ্ডা Antarctic জলে সীমাবদ্ধ থাকে । ঝাঁকে ঝাঁকে বিশেষভাবে হিমশৈল (Iceberg) এর উপর এদেরকে বসে থাকতে দেখা যায়। প্রধানত মাছ, কিছু Cephalopod, Mollusk, Krill, মৃত/মৃতজাত সীল, সীল এর গর্ভফুলের গলিত মাংস, তিমি এর মৃতদেহ এবং মৃত পেঙ্গুইন ছানা খেয়ে থাকে । শীতকালে এরা বরফ রাশি, ভাসমান তুষারস্তর এবং উন্মুক্ত সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে । দক্ষিণ মেরুদেশীয় (Antarctic) মহাদেশ এবং এর বিভিন্ন দ্বীপে বসতি বা উপনিবেশগুলিতে প্রজনন ঘটায় । বাসা বাঁধার মৌসুমে Snow petrel পাখিগুলি দূরবর্তী উঁচু Queen Maude Land পাহাড়ের উপরে বাসা বাঁধতে কয়েকশ মাইল পথ উড়ে যায় ৷ এদের অংশীদাররা (Partners) সারা জীবনের জন্য বিশ্বস্ত (প্রায় ২০ বছর) । খাদ্যের জন্য তাদেরকে কয়েক দিন পর পর সমুদ্রে কঠিন যাত্রা করতে হয় এবং এক সময় ছানাগুলির জন্য খাদ্য নিয়ে ফিরে আসে ৷ এই রকম ককর্শ বা কঠোর পরিস্থিতিতে জন্মগ্রহণ কেমন হবে তা কল্পনা করা খুবই কঠিন ৷ সহনশীলতা এখানে বেঁচে থাকার পূর্বশর্ত ৷

    উল্লেখ্য যে: আন্তর্জাতিক চিত্রগ্রাহক Keith Ladzinski (@ladzinski) সুদূর অ্যান্টার্কটিকা থেকে Snow petrel পাখির এই চমৎকার ছবিটি (চিত্রে) ২০১২ খ্রিস্টাব্দে এখানে তার ৫০ দিনের আরোহণ ও অন্বেষণ Assignment এর সময় National Geographic Travel (@natgeo) এর জন্য ধারণ করেন ৷ অ্যান্টার্কটিকা হচ্ছে পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি এবং বিশ্বের নথিবদ্ধ ইতিহাসে সর্বশেষ আবিষ্কৃত অঞ্চল ৷ এটি এমন একটি জায়গা যা আপনাকে সমস্ত কিছুর জন্য কাজ করতে তৈরি করে তোলে । এই Snow petrel পাখি’রা কিভাবে বংশ বৃদ্ধির মধ্যদিয়ে যায়- তা দেখে মুগ্ধ করার কোনও কমতি ছিল না ৷ এই রকম রূঢ় ও দুর্গম জায়গায় চিত্রগ্রাহকের (এবং তার সাথে অন্যরা) একমাত্র সঙ্গী ছিল এই পাখিগুলি এবং পৃথিবীর অচেনা বা অস্পষ্ট অংশে এটি পেয়ে সে কৃতজ্ঞ ৷

    আমিও বিস্ময়করভাবে এবং মুগ্ধ নয়নে চেয়ে থাকি ছবির পাখিগুলির দিকে ৷ অনুভব করি তাদের জীবন, চলার পথ, স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, খাদ্য অন্বেষণ, আবাস, বংশবৃদ্ধি, সহনশীলতা (অভিযোজন ক্ষমতা) এবং #Antarctica কে ৷ এটি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে । সত্যিকার অর্থেই, অজানা রহস্যেঘেরা প্রকৃতির এ এক অপরূপ সৌন্দর্য ৷ হয়তো, পৃথিবীর এই অচেনা/অজানা অংশে ওখানে যাওয়া আমার পক্ষে কখনও সম্ভব হবে না!

    তাই আমিও আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ চিত্রগ্রাহক Keith Ladzinski এর কাছে । কারণ, তার মাধ্যমে এই অসাধারণ সুন্দর ছবিটি দেখতে পেয়েছি ৷ তা-না হলে, এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে বৈচিত্র্যময় পৃথিবীর অনেক অজানা/অদেখা’র মধ্যে এটিও অপূর্ণ রয়ে যেত ৷
    Sohel. https://muhammadashrafulalam.wordpress.com/2022/10/26/%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-antarctica/

    6
    2 Comments
    • ছোটবেলা থেকে যতবার অ্যান্টার্কটিকা নিয়ে পড়েছি ততবার মনে হয়েছে আমাদের জন্য রিজার্ভ রাখা আরেকটি পৃথিবীর নাম অ্যান্টার্কটিকা! ভালোবাসা নেবেন লেখকপ্রিয় !

      • অনেকের ধারণা পৃথিবীর আদিরহস্য লুকোনো আছে ঐ তুষার ঢাকা নিরেট বরফের নিচে।

Skip to toolbar