Profile Photo

মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেলOffline

  • Ashraful710
  • দাম্পত্য জীবন
    ———————————————————
    স্বামী-স্ত্রী’র সম্পর্ক পবিত্র । একে অপরের পরিপূরক । এক সুতোয় গাঁথা । দু’টি হৃদয়ের প্রতিশ্রুতি । দু’জনের দেহ দু’টি হলেও তাদের আত্মিক সম্পর্ক অভিন্ন । যদিও দু’জন জিনগতভাবে (Genetically) আলাদা ৷ বিপরীত দুই প্রান্তের । ভিন্ন সত্তা ৷ তবুও, দু’জনের মধ্যেই ভালোবাসার শাশ্বত দৃঢ় বন্ধন ৷ এক অদৃশ্য শক্তি ৷ এক ঐশ্বরিক সম্পর্ক ৷ এই বৈবাহিক সম্পর্কের মাঝেই বসবাস । নারী-পুরুষ দু’জনই এর অংশীদার । আস্থা, ভালোবাসা, বিনয়, সততা এবং কর্মের মাধ্যমে সুখী ও শান্তিময় মধুর সম্পর্কের দাম্পত্য জীবন গড়ে উঠে । একটি সুন্দর পরিবার গঠিত হয় । উত্তম আদর্শে জীবন রচিত হয় । মান-অভিমান, সুখ-দুঃখ এবং হাসি-কান্না নিয়েই পথচলা । বিবাহিত দম্পতিকে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করেই চলতে হয় । রীতিনীতি, অধিকার ও বাধ্যবাধকতার নিয়ম মেনেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হয় । কখনও, দু’জনের মতের ভিন্নতা পারস্পরিক সম্পর্কে তিক্ততা সৃষ্টি করে । ধীরে ধীরে এর অবনতি ঘটে । বৈবাহিক সম্পর্কের স্থায়িত্ব হুমকির সম্মুখীন হয় । এক সময় দু’জনের মতানৈক্যের চূড়ান্ত পরিণতি বিবাহ বিচ্ছেদ! একক বা উভয়ের সিদ্ধান্তেই এটি হতে পারে । পক্ষ-বিপক্ষের মাঝে তৈরি হয় এক বিশাল মহাপ্রাচীর । অনাকাঙ্খিত, জটিল ও দুঃখজনক এই সমস্যার সমাধান করে মহামান্য আদালত । জয়-পরাজয় থেকে কোন এক পক্ষ সন্তুষ্ট হলেও প্রত্যক্ষভাবে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এমনকি রাষ্ট্রের উপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে । সুস্থ, সুন্দর, সুখী, পরিশীলিত, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ জীবনের জন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ বৈবাহিক ব্যবস্থা বা কাঠামো দুর্বল হয়ে যায় । পরোক্ষভাবে উভয়েরই ক্ষতি হয় । সর্বোপরি ভালোবাসা পরাজিত হয় । রচিত হয় জীবনের এক ভিন্ন অধ্যায় । দু’জনের দুই দিক । একান্ত কাছের আপনজন অন্তড়ালে চলে যায় । দৃষ্টিসীমা থেকে দূর, বহুদূরে… । হয়তো, সে কখনও ফিরে আসবে না । বিরহের বীভৎস দাবানল হৃদয়কে দগ্ধ করে । না পাওয়ার এক তীব্র বেদনা মনের উপর একচ্ছত্রভাবে প্রভাব বিস্তার করে । নিদারুণ মর্মব্যথা! অন্তর গহীনে দীর্ঘকাল ধরে সুপ্ত স্মৃতিগুলি পুনর্জাগরিত হয় । তরতাজা বিচিত্র ভাবনাগুলি আলোর গতির চেয়েও দুর্দান্ত গতিতে বিচরণ করে এই অপার বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে । আত্মপোলব্ধিকে শাণিত করে । শুরু হয় হিসাব-নিকাশ । এতে করে মানুষ আবেগপ্রবণ, হতাশাগ্রস্ত, বিপর্যস্ত, দায়িত্বজ্ঞানহীন বা অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উদার মন কিংবা মহান ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয় । তবুও, সেই প্রিয়জনের দূরত্ব বা অপ্রাপ্তির মাঝে থাকে প্রগাঢ় আকর্ষণ । স্পর্শকাতর অনুভূতি । শাশ্বত ভালোবাসা । অন্তহীন প্রেরণার উৎস । তাই, তাকে কাছে পাওয়ার অদম্য বাসনা জাগে । আর সেই পাওয়ার মাঝেইতো রয়েছে আত্মতৃপ্তি, শান্তি এবং মাহাত্ম্য । এক স্বর্গীয় সুখ । কিন্তু, সেই অভিলাষ কখনও পূরণ হয় না । তবে কি- অপ্রাপ্তি বা ব্যর্থতার মাঝেও রয়েছে আলাদা এক পরম সুখ, কে জানে?

    5
    4 Comments
    • সত্য ও বাস্তবতা একইসাথে বহমান… দাম্পত্য জীবন আসলেই একটি জটিল রসায়ন… মলিকিউলার লেভেলে এর ইক্যুইলিব্রিয়াম না ঘটলে, স্ট্যান্ডার্ড টেমপারেচার ও প্রেশারেও এটা রিভার্সে গিয়ে ঠিক ইনডিভিজুয়াল রিয়্যাকটেন্টে বিভক্ত হয়ে যাবেই…

      • আণবিক বিজ্ঞান (Molecular Science) বিশেষ করে আণবিক জীববিজ্ঞান (Molecular Biology) এবং জীনতত্ত্ব (Genetics) তথাপি বংশাণুসমগ্র (Genome) থেকে আমি যতটুকু জানি যে: জীব প্রজাতির আণবিক স্তরে ভারসাম্যপূর্ণতা, স্বাভাবিক বৃদ্ধি-শরীরবৃত্তীয় কাজ-প্রজননের জন্য প্রাণীর পুষ্টি উপাদান বিশেষতঃ বৃহৎ জৈব অণু আমিষের (Protein) তারতম্য, পরিবেশগত বা চাপ-তাপমাত্রার পার্থক্য, প্রভাবক বা অনুঘটকের উপস্থিতি, বিশিষ্ট জৈব যৌগের জৈবরসায়ন বিক্রিয়া কিংবা বংশাণু (Gene) এর বৈশিষ্ট্যগত ক্রিয়াকলাপ ইত্যাদি এর জন্য দায়ী ।

      • আপনার তথ্যনির্ভর বিশ্লেষনের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই প্রিয়… প্রথম কমেন্টে একটা Terminology আমি সঠিকভাবে প্রয়োগ না করতে পারায় মনের মধ্যে অস্বস্তি লাগছিল সেটা ঠিক করে দিলাম… তবে একথা Scientifically সত্যি যে পরিবেশগত বা চাপ ও তাপমাত্রার পার্থক্য না হ’লেও প্রজনন সংক্রান্ত পুষ্টি উপাদান, জৈবিক প্রভাবক বা অনুঘটকের অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিক্রিয়ার কারণে সংসারে এমন অঘটন হ’য়ে থাকতে পারে…

Skip to toolbar