Profile Photo

Anup DeyOffline

  • Anup-Dey
  • Profile picture of Anup Dey

    Anup Dey

    • 3 years, 10 months ago

    লাভ লেইনের আশ্চর্য যুবক
    ———————————————————–

    অরুণ বাবুর এখন পরিণত বয়স। তাঁর স্পট করে মনে পড়ছে সেই- ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৩ সাল অবধি তখন তিনি কিশোর বয়েসী ছিলেন।আর অন্যদিকে কয়েক বছর আগে নতুন একটা দেশের জন্ম হয়েছিলো।যখন অরুণ বাবু মাতৃগর্ভে ছিলেন তখন জন্ম নেয়া নতুন দেশটি অন্য আরেকটি দেশ ছিলো।সেই দেশের একটা অন্য নামও ছিলো।অবশ্য অরুণ বাবুর জন্ম হয়েছে পুরোনো ভূ’রাষ্ট্রের পুনরায় জন্ম নেয়া সদ্য একটি নতুন দেশে।সেই নতুন দেশের নতুন করে নাম রাখা হয় বাঙলাদেশ।যদিও জন্ম নেয়া নতুন দেশের আগের নামটি ছিলো পূর্ব-পাকিস্তান!

    আহা! এই রকম দেশ-ভূ’রাষ্ট্র;- যেনো কোনো দুর্ভাগিনী কপালের নারীর এক, দুই, তিনবার বিয়ে সম্পন্ন হবার পর একহাত থেকে অারেক হাতে হাত বদল হয়ে, পুরোনো বাদ দিয়ে নতুন বেশ-ভূষণে, অধিকারসহ কাউকে নিশ্চিত দখল লাভের পরে- নতুন ভাবে স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করবার মতো! নতুন নাম নিয়ে জন্ম হওয়া বাঙলাদেশ রাষ্ট্রের ভূখন্ড- মোগল আমলে ছিলো, ইংরেজ আমলে ছিলো, এরপর পাকিস্তানী আমল হয়ে আজকের বাঙলাদেশ!
    কিন্ত কোনো একজন নারী জীবনের জন্য নিজের একান্ত অধিকার ও শরীর মন দখলের স্বাধীনতার স্বাদ যেমনই হোক না কেনো, কিন্ত কোনো এক দেশের নতুন করে জন্ম নেয়ার সময় পূর্ব-নির্ধারিত নিয়তির মতো- যুদ্ধ, মুক্তি-সংগ্রাম, বিদ্রোহ –এই সবের মধ্য দিয়ে জন-সাধারণের জীবন উৎসর্গ; তাজা রক্ত উৎসর্গ; সম্ভ্রম উৎসর্গ; এমন কি রাষ্ট্রের সম্পদ উৎসর্গ বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে!

    ….সাধারণভাবে দেখবো- একটি নতুন দেশের জন্ম গ্রহণের প্রক্রিয়া এমনই হয়!
    আবার সব কিছুকে বাদ দিয়ে রক্তপাতহীন রাষ্ট্রের জন্ম হওয়ার ঘটনা এই দুনিয়াতে মোটামুটি একটি বিরল গল্পের ব্যাপার!
    আবশ্যিক মুক্তিযুদ্ধ ও নানা কিছুর মধ্য দিয়ে নতুন করে জন্ম নেয়া পুরোনো ভূ’খন্ড আজকের বাঙলাদেশের একটি বিভাগের নাম হচ্ছে চট্টগ্রাম।চট্টগ্রাম শহরের কেন্দ্র স্থল নিউ মার্কেট এলাকা।তখনকার নিউ মার্কেট এলাকা এটির আশপাশকে বর্তমানের সাথে তুলনা করলে আটপৌরে শহরতলীর মতো দেখাতো! নিউ মার্কেট থেকে ডান হাত হয়ে এগিয়ে অল্প দূরে বোস ব্রাদার্স। সামনে সোজা একটু কব্জি বাড়িয়ে গেলে রোম্যান্টিক সবুজ সবুজে পাহাড় ঘেরা ডিসি হিল।আরেকটু সামনে গেলে মিলবে বৌদ্ধ মন্দির এলাকা।মন্দির এলাকার চোখ সোজা বড়ো রাস্তা চলে গেছে চেরাগী নামের মোড় পার করে– এই দিকে ওই দিকে, বহু দূরে…

    আজকের বৌদ্ধ মন্দির মোড়কে যদি রাজপথের মাথা ধরি- তাহলে অতীতে এই রাজপথ দেহের বাম হাতের মতো চলে গিয়েছিলো এক বড়ো গলি; বৌদ্ধ মন্দির মোড়ের হৃদয় হতে জন্ম হয়ে ভালোবাসার হাতের পরশ বুলিয়ে বুলিয়ে মৃদু এঁকে বেঁকে সামনে এগিয়ে এক শাখা গলির রুপ ধারণ করেছিলো। কিন্ত সত্যি সত্যি
    এই শাখাগলির নাম লাভ লেইন! লাভলেইন বর্তমানেও আছে।এই লাভ লেইনের রয়েছে শতাব্দী পুরাতন অতীত ইতিহাস ও রোম্যান্টিক ঐতিহ্য। ভূ’-ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সময়- আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে এজেন্ট, বর্তমান চট্টগ্রাম বটতলী এলাকায় একটি বাণিজ্যিক রেলস্টেশন গড়ে তোলে। এছাড়াও ব্রিটিশরা নিজেদের প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য বর্তমান চট্টগ্রামের CRB খ্যাত পাহাড়ী এলাকা জুড়ে- বিখ্যাত সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং, পাহাড়ের এক টুকরো দর্শনীয় হাতির বিল্ডিং খ্যাত আরো নানা পাকা ভবন তৈরি করে।সেই সাথে তাদের সদর দপ্তরের কর্মচারীদের আবাসস্থল হিশেবে বর্তমান লাভ লেইন এলাকাকে ব্যবহার করা হয়েছিলো।শোনা যায়- আজকের লাভ লেইনে শাদা রঙের ব্রিটিশ দম্পতি থেকে ব্রিটিশ তরুণ তরুণীরা পর্যন্ত তাদের প্রেমের মানুষ বা প্রিয় জনের সঙ্গে রোম্যান্টিক পরিবেশে গল্প -আড্ডা -পানাহার করে একান্ত সঙ্গ উপভোগ করতো।তারা এভাবে প্রত্যক্ষ প্রেম মূখর পরিবেশে সময় কাটিয়ে ছিলো বলে পরবর্তীতে
    ওই গলি- Love Lane নাম নিয়ে লোকমুখে পরিচিত হয়ে উঠে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতে তাদের ঔপনিবেশিক শাসনকাল শেষ হয়েছিলো। পরবর্তীকালে- নয়া ঔপনিবেশিক পাকিস্তানী আমলে একিই গলি লাভ লেইনের দুই পাশে ছিলো বেশ কিছু বিখ্যাত শাহী মিষ্টিপানের দোকান।এই মিষ্টিপান তৈরির মূল রহস্য ছিলো পানের সাথে ব্যবহার করা সুপোরির মধ্যে! এই সুপোরী চিনির রসে ডুবিয়ে আগে থেকে মিষ্টি করে নেয়া হয়! এই মিষ্টি পানের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণীয় অংশ হিশেবে- বানানো পানের গায়ে জড়ানো থাকতো সূক্ষ পাতলা রুপোলী বর্ণের রাংতা, যেটি পানের সঙ্গে খাওয়া যায়।তখন Love Lane এলাকা ছাড়িয়ে চারদিকে নাম করেছে মিষ্টিপান পাতা দিয়ে বানানো- এই শাহী খিলি মিষ্টিপান!…

    সময় ঘুরে, বর্তমান বাঙলাদেশ পর্বে, এইতো কিছুকাল আগেও বলা হতো চট্টগ্রাম শহরে বাস করে যে মানুষের লাভ লেইনের মিষ্টি পান অন্তত একবার হলেও খাওয়া হয়নি-তো ও’ ব্যাক্তির চট্টগ্রাম শহরের অন্দরে বাস করার মধ্যে খুঁত রয়ে গেলো…

    ১৯৭৯- ১৯৮৩ ইংরেজী সাল।বৌদ্ধ মন্দিরের মুখোমুখি-ওই পারের লাভ লেইনের গায়ে লাগানো এক চিকনা গলির ভিতর দিয়ে একটা বাসা ঘরে তখনকার কিশোর আজকের অরুণ বাবু ছোটবেলায় নিজের বাবা না হলে মা, নয়তো অন্য কারো সঙ্গে অনেক অনেকবার সেই বাসায় গিয়েছে।বেশ চিকনা গলিটির মুখ থেকে ভিতরে- একটু হাঁটা পথ ধরে ওই বাসায় যেতে হয়।পায়ে চলাচল চিকনা গলির একেবারে শেষ যেখানে হয়েছে, ওখানে আগে থেকে ছিলো একটি বড়ো গাছ।
    সময় হলে ওই গাছে অনেক ফুল ফুটে থাকতো। হালকা ধুসর শাদা রঙের ফুলদের দূর থেকে দেখায় বকপাখির মতো! (সেই কারণে হতে পারে মানুষের মুখে মুখে এই ফুল বকপাখি ফুল, আরো সংক্ষেপ হয়ে গিয়ে বকফুল নাম হয়ে গিয়েছিলো) কিন্ত কিশোর বয়সের অরুণ কারো কাছে না জেনে এই ফুলের নাম ভূল করে নিজের মতো ভেবেছিলো আরেক নাম করা ফুল- বকুল ফুল! এই ফুলের নাম যে বকফুল তাও জানতো না সে।তখনো পর্যন্ত– কিশোর অরুণ আসল বকুল ফুলের কোনো ছবি বইয়ের বুকে দ্বিতীয় কথা সরাসরি গাছে ফোঁটা আসল বকুল ফুলকে চোখে দেখেনি! কিশোর বয়সের অরুণ মনের মধ্যে মনগড়া সৌন্দর্য আর গন্ধ শূণ্য বক ফুলকে দীর্ঘ সময় ধরে হালকা হলুদাভ শাদা রঙের সুবাসিত বকুল ফুলই ভেবে ছিলো!…

    এই ভূলের বকুল তলে, একদিন কিশোর অরুণের সাথে পরিচয় হয়েছিলো তার রঞ্জনা মাসির বাসায় যাওয়া আসার চিকনা গলির পাশের ঘরের আরেক জন সম বয়েসি বন্ধু, –জীবন কুমার ভদ্র, মানে ছোট্ট নামে- জীবনের সঙ্গে…

    পায়ে হাঁটা চিকনা গলি ধরে যেতে যেতে অরুণ দেখতে পেতো গলির দু’পাশে পর পর সাজানো বাঁশ’বেড়ার তৈরি করা বাসা-ঘর।একবাসা ঘরের সাথে আরেকটা ঘর লাগানো ছিলো।মনে হবে এরা পাশাপাশি পিঠের সাথে পিঠ লাগিয়ে পূর্ব কথা মতো শান্তভাবে দাঁড়িয়ে থেকেছে!
    –অরুণ আরো দেখতে পেয়েছিলো এখানকার কোনো কোনো ঘরদোরের ভিতরে বাঁশ বেড়ার পার্টিশনের গায়ে আঁটা দিয়ে লাগানো হয়েছিলো বাতিল হওয়া দৈনিক খবরের কাগজ।বেশ সকাল বেলা কোনো কোনো ঘরে বেজে উঠে রেডিওর গান।একটি ঘরে খানিক অন্যরকমের গান বাজতো।বিশেষ করে সূরেলা ধরণের গান।যেই ঘরে গান বাজে ওই ঘরের দুটো ঘর পরে- অরুণের রঞ্জনা মাসির বসবাসের ঘরটা।মাসির বাসায় গেলে পাশের ওই ঘর থেকে গানের হালকা আওয়াজ ভেসে আসে।অরুণ এই রকম বহুবার শুনেছে।তবে একটা গান প্রায় ঘুরে ফিরে বাজতো। –এক পুরুষ গায়কের নাসিকা গম্ভীর কন্ঠে, অরুণ চোখ বন্ধ করলে আজো ঠোঁট মুখস্ত বলে দিতে পারবে গানের কথা ক’টি;…

    –‘চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে,
    —অন্তরে আর দেখবো যখন আলোক নাহি রে–
    —ধরায় যখন দাও না ধরা-হৃদয় তখন তোমায় ভরা;
    —-এখন তোমার আপন আলোয় তোমায় চাহিরে’…

    [..অরুণ অবশ্য দীর্ঘদিন পরে, বড়ো হয়ে ওই গান, গানের গায়কের নামটি জানতে পেরেছিলো।ওটা ছিলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের লেখা এক গান।এই গানকে আমরা রবীন্দ্র সংগীত নামে জানি। অনেক নাম করা একজন আধুনিক গানের গায়ক ওই রবীন্দ্র সংগীত গেয়েছেন- নাম শ্যামল মিত্র।]

    রঞ্জনা মাসির বাসার উদ্দেশ্যে–
    লাভ লেইন দিয়ে- অরুণ তার বাবার সঙ্গে রিক্সায় বসে যেতে যেতে এক অদ্ভুত ব্যাপার দেখতো।লাভ লেইন গলির অল্প দূরে কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে, নয়তো গলি রাস্তার কিনার ধরে হাঁটতে।যাকে অরুণ দেখেছে সে একজন যুবক,
    যে কি না দেখতে অবিকল না হলেও প্রায় তার মতোন দেখতে! শুধু পার্থক্য বলতে
    দু’ জনের অসম বয়স! অরুণ হবে বয়সে ছোট আর সে যাকে দূর থেকে দেখতে পাই- ওই আশ্চর্য যুবক তার থেকে কিছু বছরের বড়ো হবে…

    অরুণ দেখেছিলো আশ্চর্য যুবক তার রঞ্জনা মাসির বাসার চিকন গলির ভেতরে অন্য এক বাসা ঘরে যাতায়াত করতে।পরে পরে অরুণ নিজে গরজ করে যুবককে যতোটা পারে চোখে চোখে রাখার জন্য মনে মনে সংকল্প করেছিলো।অবশ্য দূর হতে দেখে শুনে যুবককে চোখের আড়াল না করার।অরুণ দেখতো কেমন যেনো-ওই যুবকের দাঁড়িয়ে থাকায় লজ্জা ছিলো, হাঁটা চলাতে আড়ষ্টতা, চোখের চাউনি তে সংকোচ আর কথা বলতো অল্প অল্প।লাভ লেইনের লম্বা গলি পথের ধার ঘেঁষে যুবক পায়ে পায়ে পায়চারী করে হয়তো অপেক্ষা করতো কারো জন্য। যুবকের অধীর অপেক্ষার জন্য ছটফটানির হাবভাব ফুটে উঠতো মুখের আয়নায়; চেপে রাখা অস্থিরতা শেষে ঢেউ হয়ে ছড়িয়ে যেতো- হাঁটার সময় মৃদু কেঁপে উঠা তার সারা শরীরে;—
    এইভাবে বহুদিন গেছে।অরুণ যতোবার কারো না কারো সঙ্গে লাভ লেইনে মাসির বাসায় গিয়েছিলো ততোবার তার দু’চোখ খুঁজে বেড়িয়েছে সেই আশ্চর্য যুবককে!
    বলা যাবে- ওই যুবক কিশোর অরুণের ভবিষ্যৎ বড়োকালের প্রতিরূপ!
    অরুণের বয়স বেড়ে আঠা ঊনিশ বছরের যুবক হয়ে উঠলে এই আশ্চর্য যুবকের মতোই হয়তোবা দেখতে দেখাবে।এটা হবে এক বিস্ময়কর ব্যাপার! অরুণ খানিক বিস্ময়বোধ করে- নিজের চোখের সামনে সে কি কোনো অাগাম দূরের ভবিষ্যতের ছবি দেখতে পাচ্ছে?…

    অরুণ জানতে পেরেছিলো যুবকের কিছু পরিচয়।তার রঞ্জনা মাসির ঘর বাদ দিয়ে
    দুইটা ঘর পরের ঘরের একজন যুবতীর উদ্দেশ্যে অরুণের দেখা আশ্চর্য ওই যুবক, এখানে বৌদ্ধ মন্দির এলাকাই লাভ লেইনে আসতো। এটাই নাকি মূল কারণ! সে এইসব খবরাখবর যোগাড় করতে পেরেছিলো তারই সমান বয়েসের আরেক কিশোর বন্ধু জীবনের কাছে শুনে।জীবন মোটামুটি এক ইঁচড়েপাকা কিশোর।পেটে তার কতো যে খবর আর বেখবর-কোনোটি কারো গোপন খবর, চাপা খবর, জলন্ত খবর, জীবন্ত খবর, গন্ধ খবর!…

    বন্ধু জীবনই প্রথম অরুণকে সংবাদটি দিয়েছে- সে যাকে খুঁজে সেই যুবক দেখতে অনেকটুকু বড়োকালের অরুণের মতোন দেখতে! জীবন এও বলেছে তার কাছে এই যুবকের গোপন কিছু খবরও আছে।যুবকের নাম হলো- অনুপম।যুবকের পুরো নাম ধাম্, যুবকের কোথায় বাসা, ঘরবাড়ি জীবন এখনো অতোসব জানতে পারেনি।তবে লাভ লেইনে যুবক অনুপমের আসবার একমাত্র কারণ হচ্ছে- এখানে আছে যুবকের একজন ভালোবাসার মেয়ে মানুষ।এই জন্যে যুবককে এখানে বেশি বেশি ঘোরাফেরা করতে সবাই দেখে!

    এই ব্যাপারে– অরুণ আরো কিছু জানতে আগ্রহ প্রকাশ করলে, পেটের ভেতর থেকে খবর উগড়ে দিতে নিবেদিতপ্রাণ জীবন হড়বড়িয়ে বলতে শুরু করে- যুবক অনুপমের ভালোবাসার মেয়ে হলো জীবনের বর্তমান প্রাইভেট মাষ্টার যতীন স্যারের তিনঘর পরের ঘরের বিন্দু দিদি।যখন জীবন স্কুল থেকে ফিরে প্রাইভেট মাষ্টারের কাছে পড়তে যায়, সেখানে সে কানাঘুষায় অনেক কিছু শুনতে পাই- তারই মতোন প্রাইভেট পড়তে আসা বড়ো ক্লাসের ছাত্রদের ফিস্ ফিসানো কথা বার্তায়।বিন্দু দিদি নাকি ওই যুবক অনুপমকে পরীক্ষা করার জন্য বলেছে- যদি যুবক নিজের হাতের আঙ্গুল কেটে দেখাতে পারে, তবে বিন্দু দিদি যুবকের সঙ্গে কথাবার্তা বলবে।অরুণ কিন্ত এই কথা শুনে চমকে উঠলো।
    জানতে চাই- তারপর সত্যি কী হয়েছিলো? অরুণের অগ্নুৎপাতের মতো আগ্রহ টের পেয়ে কথা বলা, কথা বলতে পারায় অক্লান্ত- কথাগুরু জীবন বললো- বিন্দু দিদির ওই ঘটনা থেকে অনেক কান্ড ঘটনা হয়েছিলো!
    যুবক ও বিন্দুদিদি দুজনের সম্পর্কের ঘটনা সবার কাছে জানাজানি হয়ে যাওয়ার পরে- যুবককে এলাকার পূজো কমিটির বড়ো সদস্যরা ক্লাব ঘরে ডেকে যুবককে বুঝিয়েছে- নিজের আঙ্গুলের ডগাফগা এমন করে কেটে ফেলা তার উচিত হয়নি।যুবকের আঙ্গুল কাটার কান্ড কারখানার সেই ঘটনাটি, পানির ছোট ধারার মতো গড়িয়ে গড়িয়ে পুলিশের কান পর্যন্ত পৌঁছে শেষে- থানা পুলিশ হয়ে আরো জটিল কান্ড ঘটতে পারে।তাই যুবক অনুপমকে লাভ লেইনে কোনো দিন না আসার জন্য বলা হয়েছে। আর বিন্দু দিদির পরিবারকে বলা হয়েছিলো তারা যেনো শীঘ্রই এখানের ঘরদোর তাড়াতাড়ি বদলিয়ে অন্য কোথাও চলে যায়।
    …তারপর থেকে যুবককে এই লাভ লেইনে কেউ আর দেখতে পায়নি!

    –কিশোর অরুণের খুব মনে চেয়েছিলো- বন্ধু জীবনকে জিজ্ঞেস করে, -শেষ পর্যন্ত বিন্দু দিদিরা কোথায় চলে গেছে- এখন বিন্দু দিদির কি রকম অবস্থা?

    ——————————–

    পরিণত বয়েসে এসে, — অরুণ বাবুকে বহুদিন পর্যন্ত বিষয়টি ভাবিয়ে ছিলো;-
    যেমন তিনি নিজের কিশোর জীবনে দীর্ঘদিন পর্যন্ত ভূল ভেবে মনগড়া বকফুলকে- বকুল ফুলই জেনেছেন! ঠিক্ তেমনি- লাভ লেইনের ওই আশ্চর্য যুবকও কি সেই বিন্দু দিদির মধ্যে প্রকান্ড কোনো সিন্ধু-সাগরের সন্ধান করেছিলো– কে, জানে?

    ************************
    গল্প লেখা:
    ১০/১১/২০২২ ইং

    5
    4 Comments
    • কবি আপনাকে ধন্যবাদ জানাই

    • প্রিয় গল্পকার,
      প্রেম, ট্রাজেডি, বা হাস্যরস ছাড়াও যে গল্প পাঠক মন ছুঁয়ে যেতে পারে তা আপনার কাছ থেকে জানলাম! মনে অদ্ভুত সুন্দর পেলব অনুভূতি ছড়িয়ে গেল এই গল্পখানি! সুন্দর বর্ণনায় চট্টগ্রাম শহরটাকে বেশ নান্দনিক লাগলো! আর প্রতিটি শহরেই বোধহয় লাভ রোড নামের একটি রোড থাকে যেখানটায় কিছু ভালোবাসার গল্প ঘুরে বেড়ায়। আমার শহরেও একটা লাভ রোড আছে তাই বললাম।
      পুরো গল্পটি মনে হল আপনার বেশ কিছু স্মৃতিকে ঘিরে বেড়ে উঠেছে! আচ্ছা, এই গল্পের অনুপম কি আপনি ছিলেন? জানতে ইচ্ছে করছে খুব! আরো অনেক কিছু নিয়ে বিস্তর আলোচনা করার ইচ্ছে রয়েছে। আশা করি, সময় নিয়ে একদিন বসা যাবে। শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নেবেন!

    • 🙂/ প্রিয় সজীব তোমাকে শুভেচ্ছা ও অনেক ভালোবাসা।
      ….গল্পের অভ্যন্তরে –আমি? ব্যাপারটি তুমি নোটিশ করেছো। বাহ! দারুণতো, হ্যাঁ, দুটি গল্পে আমি অংশ নিয়েছি। ১/ নগর পতিতা আম্রপালী ও আমি অনুগত দাস, ও ২/ লাভ লেইনের আশ্চর্য যুবক। বলা যাবে, নিজের মনোজ ছায়া প্রতিকৃতির মুখোমুখি হতে চেয়েছি। প্রতিদিনের স্নানের পর আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব অভ্যাস মতো দেখে দেখে মন উচ্চাটন হয়ে উঠেছিলো। দেখতে চেয়েছিলাম সত্তারূপী নিজ’কে গল্পের শরীরে– শব্দ বাক্য দিয়ে গড়া কোনো মূর্তিমন্ত চরিত্র হয়ে!

অনুপ দে।

লেখালেখি: / লেখার ধরণ- প্রগতিশীলতা; আধুনিকতা।

  • লেখক জীবন আমাকে খুব টানে!
  • লেখালেখির মনটা, ব্যাক্তি জীবনে সবাই খুঁজে পাই না!
  • আমি গল্পের মানুষ, গল্প লিখে সুখ পাই।গল্পে নিজেকে তুলে ধরা যায়।
  • একটা গল্পে অনেকগুলো চরিত্র থাকে, --কথক কিন্ত একজন! সব চরিত্রই গল্প-কারের ভেতর থেকে উৎসারিত!  মজা হচ্ছে,- গল্পকার সব চরিত্রকে ছুঁয়ে দেখেন, চিনেন!

Email : [email protected]

Skip to toolbar