Profile Photo

বাহার উদ্দিন আহমেদ (শ্রাবণ)Offline

  • bahar3244
  • ❝আমি এমন এক শিক্ষককে চিনতাম,
    যিনি এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন এবং চমৎকার ঘর তৈরি করতে পারতেন।
    এক সাহেবকে জানতাম, তিনি চেয়ার-বেঞ্চ তৈরি করতে পারতেন।❞
    — এই উদাহরণ গুলোর মধ্যে দিয়েই বাকী লিখাটার মর্মার্থ রয়েছে।

    সংসারের কাজগুলো যদি তুমি নিজের হাতে তৈরি করতে শেখ, তাহলে তোমার
    জীবনের গুণ বেড়ে যাবে।
    হাতের কাজে যে অগৌরব নাই, এ আর বারে বারে বলে লাভ কী? অগৌরব হয়
    মিথ্যায় আর নীচতায়।
    এক ব্যক্তি একদিন আমার কাছে গৌরব করে বলেছেন— আমি কোনোদিন
    বাজারে যাই না। তিনি যে একজন অপদার্থ ব্যক্তি, একথা তোমাকে বলে রাখছি।
    বেড়ার বাঁধন ও ঘর ছাইতে জানা, ঝাড়ন, ঝাঁটা বাঁধতে পারা, এসব জীবনের গুণ।
    কাজ জান না বলে তুমি যদি গৌরব কর, তাহলে বলব তুমি একটা মূর্খ। সম্মান হয়
    কিসে? জ্ঞান, চরিত্র ও মনুষ্যত্বে। সংসারের কাজ না জানার মধ্যে সম্মান নাই ।
    তুমি রান্না করতে জান না— তোমাকে কি সেজন্য বাহাদুর বলা হবে? তোমাকে
    কি বলা হবে— তোমার মতো ভদ্রলোক আর নাই?
    তোমার অবস্থা খারাপ— তুমি সাধু, তুমি মহৎ, তুমি জ্ঞানী, তুমি সংসারের কাজ
    করতে লজ্জা বোধ কর না
    — আমি তোমাকে হীন মনে করি না ।

    কোনো এক স্কুলের ছাত্র ধান কেটে যে পয়সা পেত তা গরিব ছাত্রদেরকে দান করত ।
    —এ দৃষ্টান্ত কি খুব মহৎ নয়?
    গ্রামের ভিতর এক দুঃখীর ঘর দিয়ে বর্ষার জল পড়ে— আহা কী কষ্ট!
    তোমরা দশজন মিলে তার ঘরখানা যদি সেরে দাও, তাহলে তোমাদের সম্মান কমে যাবে না।
    কিন্তু তোমাদের সে দক্ষতা ও হৃদয়বল নাই ।
    মানুষকে পয়সা দিয়ে সাহায্য করা কি সবসময়ে সম্ভব? যদিও মৌখিক সহানুভূতির মূল্য এক পয়সা নয়।
    হীন মহৎ হতে চেষ্টা কর, অপদার্থ মানুষকে অনুকরণ করে নিজের মনুষ্যত্বকে
    কর না । শুধু অর্থ ও দালানের সামনে মাথা যেন নত না হয় ।

    একটা গল্প আছে, ❝নবাবকে বন্দি করতে শত্রু আসছে, জুতো পরানোর লোক নাই বলে তিনি পালাতে পারলেন না।❞
    — এই নবাবকে তুমি কী মনে কর?
    একবার শুনেছিলাম, পঞ্চাশ-ষাটজন স্কুলের ছেলে কোদাল-ঝুড়ি নিয়ে একটা
    জলের খাল কাটছে । এ কথা যখনই আমি ভাবি, তখনই মনে আমার প্রভূত আনন্দের
    সঞ্চার হয়।

    জনৈক মহৎপ্রাণ ব্যক্তিকে কলকাতার কুলি-মজুর শ্রেণির লোকের কাছে সুই, সুতা,
    চা বেচতে দেখেছি। স্বভাবে তাঁর কিছুমাত্র অহঙ্কার নাই— আমি এঁকে শ্রদ্ধা করি ।
    যখন তুমি স্কুলের বালক, তখন পড়বার সঙ্গে সঙ্গে সংসারের অনেক কাজ শিখে
    রাখতে পার। ছোট একটা বাক্সে একটা হাতুড়ি, একটা বাটালি, একখানা করাত তোমার বইয়ের পাশে থাকলে কোনো ক্ষতি নাই।
    বৈজ্ঞানিক নিউটন যখন বালক, হাতুড়ি
    তখন তাঁর বইয়ের পাশে হাতুড়ি করাতের স্থান ছিল। পড়তে মন চায় না,
    নিয়ে কাজ কর । প্রতি রবিবারে তুমি বাড়িতে যেয়ে একটু ছুতোরের কাজ শিখতে
    পার। তাতে তোমার সম্মানহানি হবে না।
    অপদার্থ মানুষের সমালোচনাকে ভয় করবে কারা? যারা চিরকাল ছোট
    হয়ে থাকবে ।
    তোমার বাড়ির কাছে কামারের বাড়ি। ক্ষতি কী, যদি তুমি জেনে ফেল কেমন
    করে তারা কোদাল তৈরি করে, কেমন করে পোড়ান লাল লোহার উপর হাতুড়ি পিটে
    তারা অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বের করে।
    রান্না করতে জানা, পুকুর হতে ঘড়া ভরে জল টানতে পারায় গৌরব ছাড়া
    অগৌরব নাই। পত্নীর অসুখ, চাকর আসে নাই বলে না খেয়ে ভদ্রলোক সাজতে
    যেয়ো না।
    বাবুয়ানা করে চাকর-চাকরানীর ওপর রান্নার ভার দেওয়াতে মর্যাদা নাই ।
    দাসী না রেখে নিজে কাজ চালান যদি সম্ভব হয়, তবে তাই ভালো । যার বাড়িতে
    যত দাসী, সে তত ভদ্রলোক— এই বিশ্বাস অসভ্য জাতির মাথায়ই প্রবেশ করে ।
    সংসার-যাত্রা নির্বাহের জন্য যত প্রকার কাজ শেখা সম্ভব, সে সব শিখে রাখায়
    আদৌ অমর্যাদা নাই । সত্য ও মনুষ্যত্বের ওপরই তোমার মর্যাদার ভিত্তি— একথা
    সব সময়ে যেন তোমার মনে থাকে। সংসারে চিন্তাশূন্য ব্যক্তিত্বহীন মানুষকে দেখে
    ভয় পেয়ো না । অপেক্ষা কর, মানুষ শেষে তোমাকেই অনুকরণ করবে।

    [ডা. লুৎফর রহমান স্যারের উন্নত জীবন বইটি থেকে নেওয়া।]

    2
    2 Comments

Baharuddin Ahamed Shrabon

Friends

Profile Photo
Fazilatun Nesa
@fazilatun-nesa
Profile Photo
Md.Mohsin Ali
@fivertrading007gmail-com
Profile Photo
Nipun Chandra
@nipunch
Profile Photo
Nazmul Huda Huda
@nazmul-huda
Profile Photo
Md Shahidul Islam
@shakil52
Profile Photo
Tahmidul Haque Sakif
@tahmidul-haque-sakif
Skip to toolbar