Profile Photo

Fatema UrmeOffline

  • Fatema-Urme
  • Profile picture of Fatema Urme

    Fatema Urme

    3 years, 5 months ago

    রিয়্যাল লাইফ অভিজ্ঞতা – (০৩)
    ভূতুরে বাসা-

    সরকারি কলোনি তে থাকি। একটা পরিবারের সাথে সাবলেট থাকছি । বাসা টায় উঠার পর থেকেই আমার সাথে খুব অদ্ভুত কিছু ঘটনা ঘটতে শুরু করল। এই ধরনের ঘটনা তে,আমি তেমন গুরুত্ব দিইনা সাধারণত।
    কিন্তু, গত ২ দিন আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা আমাকে ভাবতে বাধ্য করল। ঘটনাটা আমাকে এক এক করে বিগত দিনে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো মনে করিয়ে দিল ।
    প্রথম যেদিন আমি এই বাসাটায় উঠি , সেদিন- ই রাতে, আমার জুতা জোড়ার একটি হারিয়ে গেলো । মাত্রই দুপরে, আমি এই বাসায় এসে উঠলাম । আর এখন সন্ধ্যায় আমার জুতা খুঁজে পাচ্ছিনা । ঘরের সবকিছু গুছিয়ে, ভাবলাম জুতাটা বাইরে আছে , ঘরে নিয়ে আসি । দরজা খুলে যেই বাইরে গেলাম আর জুতার দিকে তাকালাম হাতে নিবো – ওমা ! আমার আরেকটা জুতা গেলো কই ? পুরো বারান্দা চোখ দিয়ে চষে ফেললাম । কী আশ্চৰ্য , জুতা একটা আছে আরেকটা নাই । আমার তো , পুরাই মাথা নষ্ট অবস্থা । সিঁড়ী দিয়ে নীচে নেমে একদম গেইট এর বাইরে পর্যন্ত একটা চক্কর দিয়ে আসলাম । কিন্তু নাহ, কোথাও নেই । ভাবলাম , হয়ত বাচ্চারা কেউ দুষ্টামি করে জুতা সিঁড়ীর গ্রিল দিয়ে সানসেটে ফেলে দিয়েছে । আমি তাই বাইরের সানসেটে খোঁজার চেষ্টা করলাম । নাহ – পেলামনা । এইবার বাধ্য হয়ে বাড়িওয়ালী কে ডেকে বলতে হল । আপু বলল, অনেক সময় কুকুর এসে কিছু না পেলে , জুতা নিয়ে যায় । নিচে গিয়ে দেখো আর নয়তো , পিছনের বাগানে পুলাপান মনে হয় ফেলে দিয়েছে । আমি তার কথা শুনে , নিচে নেমে গেলাম । নিচে নেমে অনেক খুঁজলাম কিন্তু পেলামনা । একটা কুকুর ও নেই আশে পাশে । তারপর গেলাম , পিছনের বাগানে । সেখানেও অ….নেক খুঁজলাম কিন্তু পেলামনা । ছাদে গিয়ে খুঁজে আসলাম তাও পেলামনা । নেই তো নেই – ই । আর খুঁজেই পেলামনা । আমি মাত্রই কিছুদিন আগে জুতা জোড়া টা কিনেছি । তখন ভাগ্যিস কোরোনার জন্য লোকডাউন চলছিল বলে অফিস যাওয়ার ঝামেলা ছিলোনা।
    এইটা তো গেলো প্রথম ঘটনা।
    তার কিছুদিন পর, আমার মাত্র দেড় বছর হওয়া নতুন তোষোকটা তে হটাৎ করে ছারপোকা ধরে ফেললো। আর কোনকিছুতে না। স্রেফ তোষোকটা তে। টানা এক সপ্তাহ রোদে দিয়ে। ওষুধ দিয়ে। ২ মাস ধরে চেষ্টার পর ও আমি ছারপোকা তাড়াতে পারলামনা। শেষ পর্যন্ত আর টিকতে না পেরে তোষোকটা বাতিল করে দিতে হলো। এরমধ্যে, ঘর মুছতে গিয়ে দরজার চৌকাঠে পা পিছলে আমার পায়ের আঙুলের হাড় টা মচকে গেলো। আজ প্রায় আড়াই বছর হতে চললো , এখনো এই ব্যথাটা ভোগায়।
    তারপরের ১ মাসের মধ্যে , আমার এত শখ করে মালয়েশিয়া থেকে কিনে আনা, আইফোনটা এক্সিডেন্ট করে ভেঙে গেলো।
    আমি সবসময় অল্প করে বাজার করি , যেন নষ্ট না হয়। অপচয় আমার খুবই অপছন্দ। কিন্তু সেই অল্প জিনিস ও আমার খুব দ্রুত নষ্ট হতে লাগলো। অথচ গত ২/২.৫ বছরে আমার এমন হতোনা যতটা এখন হচ্ছে। খরচ যেন হটাৎ করে এমন বেড়ে গেলো- আমি কুল খুঁজে পাইনা কোথায়, কিভাবে খরচ হয়ে যাচ্ছে। অথচ আমি একা মানুষ। আমার এত খরচ হয়না। যেকোনো জিনিস-ই কিনিনা কেন , সেটা খুব দ্রুত নষ্ট হচ্ছিলো।
    প্রতি মাসেই আমি কোনো না কোনো বিপদে পড়ছিলাম।
    এই তো গত মাসে, ওয়াশরুমের পানির কল টা ভেঙে গেলো। তাও আবার যেন-তেনো ভাঙা নয় , একদম ভেঙে গেলো। আর পানি যেন স্রোতের গতিতে গড়িয়ে পড়ছিলো। কিছুতেই বন্ধ হচ্ছিলো না। তার উপর, বাসায় কেউ নেই। ছাদে গিয়ে যে ট্যাংকির চাবি বন্ধ করে এসব সেটাও পারছিনা। ছাদে লাগানো হয়েছে সরকারি তালা। চাবি নাই আমার কাছে তখন। বাড়িয়ালীকে ফোন কল করলে আজ পর্যন্ত কোনো দিন তাকে পাওয়া যায়নি। তারপর ও যোগাযোগ করে ব্যর্থ হয়ে, শেষ পর্যন্ত গেটের দারোয়ানকে বলে -কয়ে মিস্ত্রি ডাকা হলো। আমার বাড়তি টাকা , সময় , নামাজ সবকিছু সেদিন নষ্ট হলো।
    আর সাম্প্রতিক ঘটনা হলো এই সেদিন। ছাদে গাছে পানি দেয়া হয় সপ্তাহে ২/৩ দিন। কোনোদিন সকালে যাই , আবার কোনোদিন সন্ধ্যায়। সাধারণত দিনের অন্য সময়ে আমি ছাদে যাইনা। কিন্তু , সেদিন শুক্রবার। মাথায় কি ভুত চেপেছিল জানিনা। দুপুর বেলা রেডি হয়েছি ছাদে যাওয়ার জন্য। এমনিতে বাইরে গেলে সবসময় আগে মেইন দরজার চাবি আমি হাতে নেই। কিন্তু সেদিন আমি ছাদের চাবি নিয়েছি ঠিকই অথচ , ঘরের দরজার চাবি নেইনি। এতটাই আনমনা ছিলাম যে , হাতে ছাদের চাবি নিয়েছি , বালতি নিয়েছি , তাড়াতাড়ি করে দরজার লকে চাপ দিয়ে দরজা বন্ধ ও করে ফেলেছি।
    ছাদের দরজার কাছে গিয়ে মনে হলো – নাহ ! অনেক লোকজন দেখা যাচ্ছে ছাদে। এখন তাহলে যাবোনা। সন্ধ্যার পরেই আসবো নাহয়। নিচে নেমে আসলাম। এসে যখন দরজার লকে হাত দিলাম অমনি আমার কলিজায় চাপ লাগলো। মুহূর্তের জন্য, হার্টবিট বন্ধ হয়ে গেলো। যা ভয় পেয়েছি তাই হলো। এখন পাশের বাসার লোকজন ও নেই। অনেক সময় ওদের কাছে এক্সট্রা চাবি রাখা হয়। সেটা তো পেতে হলে, রাত ১০ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই শীতের মধ্যে এইভাবে তো দরজার বাইরে অপেক্ষা করাও সম্ভব না। এখন উপায়? কাউকে যে ফোন করবো, সেটাও তো সম্ভব হচ্ছেনা। আমার ফোন ও তো ঘরের ভিতরে। শেষ পর্যন্ত, আবারো যেতে হলো গেইটের দারোয়ানের কাছে। গিয়ে বলে আসা হলো লোক নিয়ে আসতে। মিস্ত্রি এসে দরজা খুলে দিলো। তারপর আমি ঘরে ঢুকলাম। অপেক্ষার সময়গুলো তে আমার কান্না আসছিলোনা। আমি অবাক হয়ে ভাবতে লাগলাম ! আমার কান্না পাচ্ছেনা কেন ? আমার ভাবনায় শুধু, যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে আমার সাথে সেসব একের পর এক চোখের সামনে দিয়ে ভেসে যাচ্ছিলো। প্রতিটি দুর্ঘটনা ঘটেছে যখন বাসায় আমি একা থাকি তখন। দুর্ঘটনাগুলো ও ছোটোখাটো নয়। বেশ বড়সড়।
    এই রকম কি শুধু আমার সাথেই হচ্ছে ? নাকি আমার আগে যারা ছিল তাদের সাথেও হয়েছে ? আমার জানা নেই। জানার উপায়ও নেই। এইরকম আরো কিছু ঘটনা আছে। সব বলতে গেলে আরো বড়ো হয়ে যাবে লিখা।
    বাসা টা রীতিমতো আমার কাছে এখন ভুতুড়ে লাগছে।

    #সবাইকে ধন্যবাদ ধৈর্য্য ধরে আমার লেখা পড়ার জন্য।

    4
    3 Comments
Skip to toolbar