-
নীড়ের পাখি
শীতের সকাল । বেলা নয়টা কি দশটা । বেড়ার ফাঁক দিয়ে সোনালি রোদটুকু লুকোচুরি খেলছে। গায়ে লেপটা ভালোভাবে জড়িয়ে আরাম করে ঘুমুচ্ছে টুনি । ও টুনি উঠে পড় সকাল হয়ে গেছে তো। মায়ের ডাকে আড়মোড়া দিয়ে চোখ খুললো টুনি। আজ তো শুক্রবার মা আমার স্কুল বন্ধ ।
তাহলে চল তুই আমার সাথে কাজে । হাত্মুখ ধুয়ে তাড়াতাড়ি খেয়ে নে । আচ্ছা মা। আজও শুধু রুটি আর চা মা? তুমি না বলেছিলে আজকে ভাত রাঁধবে? চাল কিনতে পারিনি রে মা। এখন চা টা দিয়ে রুটি টুকু খেয়ে নে মা। অভিমানে চোখে পানি চলে এলো টুনির । কাল রাতেও সে স্বপ্নে দেখেছে
সকালে ঘুম থেকে উঠে ধোয়া ওঠা গরম ভাত খাবে । আস্তে আস্তে শক্ত রুটি চায়ে ভিজিয়ে খেতে লাগলো টুনি। মায়ের হাত ধরে রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল টুনি। দেখেছ মা রাস্তায় কত্ত কুয়াশা । ঠাণ্ডার জ্বালায় মনে হচ্ছে হাত পা জমে বরফ হয়ে যাবে। হ্যাঁ রে অনেক ঠাণ্ডা পড়েছে এইবার। গায়ে
চাদরটা ভালোভাবে জড়িয়ে নিলো মনি। এই একটা ছেঁড়া চাদরেই তার জীবনের কত শিতকাল পার হয়ে গেছে। আমার সোয়েটারটা দেখো মা কত ছোট হয়ে গেছে। হাত বের হয়ে যাচ্ছে । আমাকে একটা নতুন সোয়েটার কিনে দাও না মা। কথাটা কানে পৌঁছাতেই বুকের ভিতর খচ করে
উঠল মনির। সারাদিন মানুষের বাড়িতে কাজ করে মাসের শেষে সে কয়টা টাকা পায় । মেয়েকে নিয়ে বস্তির বাড়িতে থাকে । নিজের শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও অনেক কষ্ট করে সে কাজ করে মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছে । এই মাসের বেতনটা এখনও পাওয়া হয়নি। টাকা পাওয়ার পর ঘরভাড়া
আর মেয়েটার স্কুলের বেতন দিতে হবে। ঘরে চাল ফুরিয়ে গেছে চাল কিনতে হবে। এতসবের পর টাকা বাকি থাকবে কিনা সে জানেনা। মেয়েটার কত শখ একটা নতুন সোয়েটার পরে স্কুলে যাবে । মেয়েটার আবদার সে কিভাবে পূরণ করবে। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে চোখ ভিজে গেল মনির।
তোর মতলবটা কীরে মনি দুইদিন পর পর ডুব মারিস । তুই না আসলে আমার বাড়ির কাজগুলো কে করবে শুনি? তোকে তো টাকা দিয়ে রেখেছি । ভালোভাবে কাজ করতে চাইলে কর নাহলে বিদায় হ। ও কথা বলবেন নাগো ভাবি। সারারাত পেটের ব্যাথায় অচেতন হয়ে ছিলাম গো ভাবি তাই
সকালে উঠতে পারিনি। বারে কত রকমের অজুহাত দিতে পারিস তুই । ঘরে চাল নেই আজ কি বেতনটা দেওয়া যায় ভাবি? কাজের বেলায় খবর নেই মুখে শুধু টাকার গান। যাওয়ার সময় টাকা নিয়ে যাস। মনি কাজ শেষ করে বেতন নিয়ে টুনিকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিল ফেরার পথে বাজার করে
আনলো। টুনি মনে মনে অনেক খুশি হচ্ছিল মা বেতন পেয়েছে এখন হয়ত তাকে একটা নতুন সোয়েটার কিনে দেবে। বাড়িতে ফিরে মনি কিনে আনা চাল দিয়ে ভাত রান্না করলো । টুনি খুব আনন্দের সাথে গাপুসগুপুস করে ভাত খাচ্ছিল । মনি চোখ ভরে মেয়েটার খওয়া দেখল। রাতে ঘুমানোর
আগে মনি টাকার ব্যাগটা হাতে নিয়ে টাকাগুলো হিসাব করতে বসলো। বাড়ি ভাড়া আর মেয়ের স্কুলের বেতনের টাকা রেখে আর টাকা রইল না। মেয়ের সোয়েটার সে কিভাবে কিনে দেবে বুকের ভেতর ধক করে উঠল মনির । মায়ের বুক ঘেঁষে মাকে জড়িয়ে ধরে টুনি বললো তুমি কি কালকেই
আমাকে নতুন সোয়েটার কিনে দেবে মা। মেয়েটার হাসিমুখ দেখে চোখ ঝাপসা হয়ে গেল মনির কিছুই বলতে পারলো না সে। আমাকে একটা লাল সোয়েটার কিনে দেবে মা। বল না মা দেবে তো? মায়ের শুকনো মুখ দেখে টুনি বুঝতে পারলো মা তাকে সোয়েটার কিনে দেবে না । দুহাতে মুখ
ঢেকে হু হু করে কাঁদতে লাগলো টুনি। আমি জানতাম তুমি আমাকে সোয়েটার কিনে দেবে না আমার ক্লাসের অন্য মেয়েদের মায়েরা কত ভালো ওদের কতকিছু কিনে দেয় কত টিফিন বানিয়ে দেয় তুমি আমাকে কিছুই দাও না । তুমি ভালো মা না। পেটের ভিতর হটাৎ মোচড় দিয়ে উঠল মনির।
পেটে হাত দিয়ে গোঙাতে লাগলো মনি । গোঙানির আওয়াজ শুনে টুনি মায়ের দিকে তাকিয়ে দেখল মায়ের নাক মুখ দিয়ে গলগল করে রক্ত বের হচ্ছে । মাকে গিয়ে ধরল টুনি। যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে একসময় সারা শরীর অবশ হয়ে এলো। কাঁদতে কাঁদতে মাকে ঝাঁকাতে লাগলো টুনি।
ওমা তোমার কি হয়েছে মা… ওঠো না মা । আমি নতুন সোয়েটার চেয়েছি বলে তুমি রাগ করেছ? আমি আর কোনোদিন কিছু চাইব না মা তুমি ওঠো না মা …কথা বল না মা । কিন্তু মনি আর কখনো জেগে উঠল না…………।
(সমাপ্ত)9 Comments-
@zahidbinhikmot ধন্যবাদ😊
-
-
@abdulmojid ধন্যবাদ
-
If you set your goals ridiculously high and it's a failure, you will fail above everyone else's success.
James Cameron
Nusrat Jahan Orpi
............I love to live in a simple way.........
Friends
Anika-Rahman
@anika-rahman
আর্য
@arjo
Asif Rahman
@asifaaron62
Abul Hasan Tuhen
@abulhasantuhen
অনুভূতির ডাইরি
@onuvutir-dairi
রাহেনা বেগম
@rahena-begum
অসীম রহমান
@ashim_rahman
তুলট সম্পাদনা
@sompadona
AdabenTatali
@adabentatali




টুনির জন্য খারাপ লাগছে। শুভেচ্ছা নেবেন গল্পকার।