Profile Photo

মীর রাফিদ হোসেনOffline

  • rafid567@
  • স্পিরিচুয়ালিজম দিয়ে কি আসলেই মৃত আত্মা ডাকা সম্ভব?
    (লেখা শুরুর আগে একটা জিনিস ক্লিয়ার করে নেই পার্সোনাল ভাবে আমি কোনদিন কখনোই এই স্পিরিচুয়ালিজম সমর্থন করি নাই আর আমাদের ইসলামে এই স্পিরিচুয়ালিজম পুরোপুরি নিষিদ্ধ )
    নেটফ্লিক্স এর লাস্ট ৬ মাসের মুভি সিরিজ যদি আপনি এনালাইসিস করেন তাহলে খেয়াল করবেন বেশিরভাগ জায়গায় কোন না কোন ভাবে এই স্পিরিচুয়ালিজমকে ঢুকানো হয়েছে। গত মাসে এক তামিল সিনেমায় স্পিরিচুয়ালিজম এর ভয়াবহতা লক্ষ্য করলাম আমি পুরো সিনেমায় প্লানচেটকে কেন্দ্র করে বানানো হয়েছে।
    ও আচ্ছা, সবার জন্য একবার স্পিরিচুয়ালিজম ব্যাপারটা ক্লিয়ার করে নেওয়া যাক। মৃত ব্যক্তিদের আত্মার সঙ্গে যোগাযোগ করার চর্চাকে বলে স্পিরিচুয়ালিজম। এটির জন্ম হয়েছিল ১৮৫৯ সালে। আবার ফিরে আসা যাক তামিল সিনেমার কথায়, আমার লিখা যাদের নিউজফিডে আসে তারা খুব ভালোমতো জানেন আমি প্রচন্ড লেভেলে মুভিখোর একজন মানুষ। নেটফ্লিক্স থেকে শুরু করে আসামের মুভি সব কিছুই আমি আমার ছোটখাটো এই ব্রেনে রাখার চেষ্টা করি। আমার জানামতে গত কয়েক মাসে স্পিরিচুয়ালিজম নিয়ে কনটেন্ট এর কাজ বেশ ভালোমতো বাড়ছে তাই হঠাৎ করে নিজের পুরোপুরি মতের বিরুদ্ধে এসে হালকা-পাতলা পড়াশোনা শুরু করলাম এই স্পিরিচুয়ালিজম নিয়ে। এত কথাবার্তা পেঁচিয়ে আর কাউকে বিরক্ত না করে এবার মেইন কথায় আসা যাক,”স্পিরিচুয়ালিজম দিয়ে কি আসলেই মৃত আত্মা ডাকা সম্ভব?”
    এর উত্তর জানতে আমি আপনাদের সাথে দুটো জিনিস শেয়ার করব।
    ১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চরম লেভেলের স্পিরিচুয়ালিজমে বিশ্বাসী ছিলেন
    “১৯২৯ সালে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে পরলোকচর্চা বা প্ল্যানচেটের একটি আসর বসেছিল। আসরের মধ্যমণি ৬৮ বছর বয়সী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এ রকম আসর মাঝেমধ্যেই বসত। রবীন্দ্রনাথ তাঁর মৃত আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের আত্মাকে নামিয়ে আনতেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলতেন।
    ১৯২৯ সালের ৬ নভেম্বরের ওই আসরে ছায়া ছায়া অন্ধকার ঘরে যাঁর আত্মাকে ডেকে আনা হয়েছিল, তিনি সত্যজিৎ রায়ের বাবা সুকুমার রায়। বছর সাতেক আগে ৩৬ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সুকুমার রায়ের আত্মার সঙ্গে অনেক বিষয়ে কথা হয় রবীন্দ্রনাথের। সত্যজিৎ রায়কে নিয়েও কিছু আলাপ হয়। যেমন সুকুমার রায় অনুরোধ করেন, সত্যজিৎ রায়কে যেন রবীন্দ্রনাথ তাঁর বিশ্বভারতীতে স্থান দেন ছাত্র হিসেবে। এক জায়গায় রবীন্দ্রনাথ একটা অদ্ভুত বিষয়ে জানতে চান সুকুমার রায়ের কাছে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ‘আর্থার কোনান ডয়েল শুনলুম পরলোক থেকে বার্তা পাচ্ছেন, কথা সত্যি?” সুকুমার রায় জবাব দেন, ‘সত্যি।
    ২. এখান থেকেই শুরু হবে দুই নাম্বার ফ্যাক্ট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যার কথা জিজ্ঞেস করেছিলেন তার নাম হয়তো অনেকের অজানা হতে পারে কিন্তু তার সৃষ্টি কারো কাছে অজানা নয়। তিনি শার্লক হোমসেরের স্রষ্টা আর্থার কোনান ডয়েল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই ভদ্রলোকের লেখা দেখে কোন না কোন ভাবে আন্দাজ করছিলেন তিনি কঠিনভাবে স্পিরিচুয়ালিজম চর্চা করছেন।এটা খুবই অদ্ভুত ব্যাপার যে শার্লক হোমসের মতো এমন যুক্তিনির্ভর, বিজ্ঞানমনস্ক একটি চরিত্রের স্রষ্টা কোনান ডয়েল পরলোকচর্চায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। কিন্তু ডয়েল শুধু এর চর্চাকারীই ছিলেন না, তিনি ইউরোপজুড়ে এ আন্দোলনের রীতিমতো নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। এ নিয়ে বিস্তর বইপত্র, প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছেন, আসরে আসরে বক্তৃতা দিয়ে বেরিয়েছেন। আর এসব করে তিনি তাঁর সুনাম যথেষ্ট পরিমাণে খুইয়েছেন। লোকে অবাক হয়েছে।
    কাহিনী দুটি হয়তো আপনাদের মাথার মধ্যে একটু বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে কিন্তু ঘটনা এখানে শেষ নয়। আরো অনেক বেশি রহস্য জড়িয়ে আছে সব কিছুর সাথে যা হয়তো আমারও জানার বাইরে। এই পর্বে স্পিরিচুয়ালিজম দিয়ে কি আসলেই মৃত আত্মা ডাকা সম্ভব এর উত্তর আমি দিবো না। ফেসবুকে এতক্ষণ ধরে নিউজফিড স্ক্রলিং বাদ দিয়ে আমার লেখাপড়ার জন্য সবাইকে অনেক ধন্যবাদ জানাই আরো বেশি ধন্যবাদ জানাবো যদি
    স্পিরিচুয়ালিজম নিয়ে আমার পরবর্তী লেখাটি পড়েন।

    পর্ব ২ আসছে….

    2
    1 Comment
Skip to toolbar