Profile Photo

Abul Hasan TuhenOffline

  • abulhasantuhen
  • Profile picture of Abul Hasan Tuhen

    Abul Hasan Tuhen

    3 years ago

    বর্ষা ঋতু
    গীতি নকশা :কন্যা এলো বর্ষা নিয়ে
    রচনা : আবুল হাসান তুহিন

    সঙ্গীত : নারী পুরুষ
    গ্রন্থনা :নারী পুরুষ

    গ্রন্থনা নারী
    নারী :কি হলো তুমি আকাশের মত মুখ ভারী করে বসে থাকবে?
    পুরুষ : ভাবছি………..
    নারী :কি ভাবছো, নিশ্চয়ই আমার কথা?
    পুরুষ : তুমি তো পাশেই রয়েছো,
    নারী :তাহলে তো অন্য কেউ (রাগ করে)
    পুরুষ :হতেই পারে!
    নারী :একটা মানুষ তোমার পাশে বসে আছে অথচ মনটা অন্যখানে, তুমি যাকে নিয়ে ভাবনায় মেতে আছো তাকে সাথে আনলেই পারতে, শুধু শুধু—-
    পুরুষ : হাহাহা হাসি শুধু শুধু সময় নষ্ট তাই না?
    নারী : (অভিমানের সুরে) সে বুঝি আমার চেয়ে সুন্দরী?
    পুরুষ : হ্যাঁ চেয়ে দেখো,
    নারী :কি কোথায়?
    পুরুষ :খুঁজে দেখো পেয়ে যাবে,
    নারী : আমার সাথে মজা করছ (রাগ করে)
    পুরুষ :আহ শোনো না বসন্ত কে আমরা কি বলি?
    নারী : কেন ঋতুরাজ,
    পুরুষ : কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বর্ষাই বাংলার প্রিয় ঋতু। বর্ষার রূপ যে ভাবে ধরা পড়ে অন্য ঋতুতে ততটা সুস্পষ্ট নয়।
    নারী : ও এতক্ষণে বুঝেছি।
    পুরুষ : এইজন্য তো মুরব্বিরা বলেন মেয়েরা একটু দেরিতে বোঝে।
    নারী : শোনো। নারী-পুরুষ সবাই সমান সবাই মানুষ।
    পুরুষ :মানুষ তো বটে ,যাক ওসব কথা ঋতু চক্রের গ্ৰীষ্মের পরই বর্ষার অবস্থান। আষাঢ় শ্রাবণ মাসেই বর্ষার লীলাখেলা।
    নারী :ভরা ভাদ্র পেরিয়ে আশ্বিন পর্যন্ত রূপের পসরা বর্ষা সাজায়।
    পুরুষ : আষাঢ় শ্রাবণ মাসেই ঘটে পূর্ণ প্রকাশ।
    নারী ‌‌‌‌ :এ সময় বর্ষা তার মনের মাধুরী মিশিয়ে সাজায় বাংলার প্রকৃতিকে,
    পুরুষ : সবুজে সবুজে ভরে যায় সারা বাংলাদেশ।

    নারী :বর্ষাকালে কোন লুকোচুরি নেই আকাশে নবীন মেঘের ভেলা গুরু মেঘের গর্জন এক মনোমুগ্ধ সংগীতের তালে বর্ষা নামে। মন ময়ূরী মেলে পাখা স্বপ্ন ওঠে দুলে, বৃষ্টি নামে আকাশ চোখে ছন্দ তুলে তুলে।

    গান ।। ০১।। আধুনিক ।।নারী পুরুষ

    নারী :মন ময়ূরী মেলে পাখা
    স্বপ্ন ওঠে দুলে
    পুরুষ ,নারী :বৃষ্টি নামে আকাশ চোখে
    ছন্দ তুলে তুলে।।

    নারী :বনে বনে ফোঁটে বন্ধু
    জুঁই কদম কেয়া
    পুরুষ :সুরভিত ফুলের গন্ধে
    পাগল হয় যে হিয়া
    নারী পুরুষ :তরুলতার সবুজ দ্বীপে
    পানি কুলে কুলে।।

    নারী : নদী-নালা খালে বিলে
    জলে টলমল,
    পুরুষ : শিহরণে বন্ধু তুমি
    হাওযে সু শীতল
    নারী-পুরুষ : রিমিঝিমি বৃষ্টি নাচে
    যায়রে সবাই ভুলে।।

    গ্রন্থনা :পুরুষ
    পুরুষ :বর্ষার সুশীতল স্পর্শে প্রকৃতি যেন প্রাণ ফিরে পায়, অবিরাম বৃষ্টির ধারায় নদী নালা খাল বিল মাঠ সব পানিতে একাকার হয়ে যায়।
    নারী : বনে বনে নানা ফুলের রূপ রস গন্ধ, আর অপূর্ব সংগীতে ভরে ওঠে বাংলার আকাশ বাতাস, প্রকৃতি।
    পুরুষ :নদীর বুকে অজস্র নৌকার ছুটি। আঁকা ডিঙ্গি নৌকায় জেলেদের মাছ ধরা, ঘনঘোর বর্ষায় ডিঙ্গি বাইয়া যায়, জাল ফেলিও নাইয়া সাবধানে।

    গান ।। ০২ ।। পল্লীগীতি ।। নারী একক।।

    ঘনঘোর বর্ষায়
    নাউ বাইয়া যাও
    জাল ফেলিও নাইয়া সাবধানে
    অথৈ-দরিয়ার পানি
    ধীরে জাল নিও টানি
    তাল সামাল দিও নিঠুর ও বানে।।

    একে তো ডিঙ্গি নাও
    দরিয়া কেমনে বাও

    উতাল পাথাল দোলে,
    আমার অবুঝ প্রাণ
    করে শুধু আনচান
    তোমার পরশে মন ভোলে,
    টেংরা পুটির লোভে
    কেন যে পরান ছোটে
    হাল ধরিও এই অভাগীর টানে।।

    একে এই বর্ষায়
    কিসের ভরসায়
    একলা থাকি ঘরে,
    গুরু গুরু ডাকে দিয়া
    ভয়েতে কাঁপে হিয়া
    তুমি হীনা চরাচরে
    তোমারে চাই কাছে
    আমারো পরান নাচে
    স্বপন ভাসায় দিছি আসমানে।।

    গ্রন্থনা : নারী
    নারী :সকাল থেকে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি ঘোলাটে আকাশ ,ঝরঝর বৃষ্টির শব্দ , পতায় পাতার মর্ম ধ্বনি। পাগলা বাতাসে গাছে গাছে কোলাকুলি লতাপাতার এক লুকোচুরি খেলা, এই এসো না আমি একা দাঁড়িয়ে বকবক করছি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে অথচ —-
    পুরুষ :এইতো এসেছি এই দেখো দেখো এক ঝাক ভেজা কাক শিমুল গাছ থেকে উড়ে এলো ওই জাম গাছটায়।
    নারী :কোলাহল মুখর জনপদ বর্ষার পরশে একেবারে নিরব নিস্তব্ধ, বর্ষার জল ধুয়ে যাবে মনের জামা কালি, হিংসা বুকে বিভেদ যত সরবে চোখের বালি।

    গান ।।০৩ ।।আধুনিক।। পুরুষ একক

    বর্ষার জলে ধুয়ে যাবে
    মনের জামা কালি
    হিংসা বুকে বিভেদ যত
    সরিয়ে চোখের বালি।।

    সবুজ ভরা বনলতা
    সতেজ বৃক্ষরাজি
    শস্য শ্যামল বাংলাদেশ
    বর্ষারই কারসাজি
    ফুলেফলে রস পেয়ে
    সাজাই সুখের ডালি।।

    নৌকা চলে পাল উড়িয়ে
    ভেড়ে ঘাটে ঘাটে

    ব্যস্ত থাকে কৃষক বধূ

    স্বামীর সাথে মাঠে
    রোপন করে শস্যদানা
    আকাশ প্রদীপ জ্বালি।।

    গ্রন্থনা :পুরুষ
    পুরুষ : বর্ষার স্নিগ্ধ মাধুর্য মনের মাঝে দোলা দেয়।
    নারী : বর্ষা বাঙালির মন কে করে সরস এবং কাব্যময়।
    নারী : এমন দৃশ্য আমাদের মনকে বিমোহিত করে, রিনিঝিনি ঝরে জল বর্ষায়
    টলমল মন থাকে না বন্ধু ঘরেতে।

    গান ।।০৪ ।।পল্লীগীতি ।।নারী একক

    রিনিঝিনি ঝরে জল
    বর্ষায় টলমল
    মন থাকে না বন্ধু ঘরেতে,
    লোকে করে কানাকানি
    হয়ে গেছে জানাজানি
    মরি আমি প্রেমের জ্বরেতে।।

    রোদ বৃষ্টি করে খেলা
    ভাবনায় কাটে বেলা
    মন্দ বলুক যতই পরেতে।
    বুক করে আনচান
    কেন তুমি হলে পষান
    স্বপন দিলে তবু চোখেতে।।

    গুরু গুরু মেঘের ভেলা
    বিরোহে কাটে বেলা
    বসে আছি বন্ধুর আশাতে।
    রঙ জমেছে মনে মেলা
    কেন তুমি করো হেলা
    দোলা দাও অবুঝ প্রাণেতে।।

    গ্রন্থনা :নারী
    নারী :বর্ষার মেঘমেদুর আবহাওয়া, অবিরল বৃষ্টির ধারা টাপুর টুপুর শব্দ মানুষের মনকে দারুন ভাবে প্রভাবিত করে, উদাসে দৃষ্টিতে জল পতনের দৃশ্য দেখে ।
    পুরুষ : বর্ষাকে আমরা অন্তর থেকে স্বাগত জানাই।
    নারী : এ সময় মানুষ হারানো অতীতকে রোমান করে।
    পুরুষ :পুরাতন স্মৃতিগুলো একের পর এক ভেসে ওঠে তার মানুষ পটে।
    নারী : দু’চোখে গড়িয়ে পড়ে শ্রাবণেরই ধারা, বাঁচবো আমি কেমন করে বন্ধু তোরে ছাড়া।

    গান।।০৪।। আধুনিক।। পুরুষ। একক। পৃষ্ঠা -০৪

    দু’চোখে গড়িয়ে পড়ে
    শ্রাবনেরই ধারা
    বাঁচবো আমি কেমন করে
    বন্ধু তোরে ছাড়া।।

    # দুঃখ আমার বুকের মাঝে
    স্বপ্ন নিলি কেড়ে
    তোর বিহণে একলা ঘরে
    কেন গেলি ছেড়ে
    কি দোষ ছিল বন্ধু আমার
    করলি পথ ও হারা।।

    কালো মেঘের ভেলা এসে
    আঘাত করে বুকে
    আমায় ফেলে দূরে গিয়ে
    আছিস বড়ই সুখে
    স্মৃতি গুলো মন গহিনে
    করে শুধু তাড়া।।

    গ্রন্থনা পুরুষঃ
    পুরুষ :বর্ষা গ্রামের মানুষের জীবনে আনন্দের সঙ্গে দুঃখ এবং কষ্ট বয়ে আনে।
    নারী : এসময় অবিরাম বৃষ্টির ফলে রাস্তাঘাট কর্দমাক্ত হয়ে যায় নদীতে আসে বান কৃষকের আবাদি ফসল গবাদি পশু কেড়ে নেয় সর্বনাশা বানে।
    পুরুষ : ঘরবাড়ি ডুবে যায় পানির উপর ভাসতে থাকে মানুষ তাদের গবাদি পশু।
    নারী : পায়ে হেঁটে চলাচল করা যায় না ডিঙ্গি নৌকা কলার ভেলা হয়ে যায় একমাত্র বাহন।
    পুরুষ :নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অত্যাধিক বেড়ে যায়
    নারী : গ্রামের বহু লোক এ সময় অনাহারে অধ্যাহারের দিন কাটাতে হয়
    পুরুষ :বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়, ডায়রিয়া আমাশয় ভুগে বহু লোকের মৃত্যু হয়। অনেক সময় রোগগুলো মহামারী আকার ধারণ করে।
    নারী : বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এসব রোগ ছড়িয়ে পড়ে বেশি।
    পুরুষ :বর্ষাকাল পুরোপুরি আশীর্বাদ নয় । একদিকে বড়লোকদের আরামে দিন কাটার উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল, কিন্তু গরিবদের জন্য বর্ষাকাল যথেষ্ট দুর্ভোগের কারণ।
    নারী :দেখা দেয় বন্যা বানভাসি মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে ভিড় করে ,তারা বলে সর্বনাশা বানে আমার স্বপ্ন নিলো কাড়ি, ক্ষেতের ফসল কাইড়া নিল ডুবলো ঘর বাড়ি।

    গান ।।০৫ ।।পল্লীগীতি ।।পুরুষ একক

    সর্বনাশা বানে আমার
    স্বপ্ন নিল কাড়ি
    ক্ষেতের ফসল কাইড়া নিল
    ডুবলো ঘরবাড়ি।।

    থাকতে হবে অনাহারে
    পাব কোথায় ঠাঁই
    অথৈ জলে ভাইসা গেছে
    সম্বল কিছু নাই
    অসুখ-বিসুখ চারিধারে
    হচ্ছে মহামারী।।

    পানির উপর থাকি তবু
    গলায় শুকিয়ে যায়
    তৃষ্ণা মিটাই কেমন করে
    খাবার পানি নাই
    একটু রহম করো বিধি
    শোনো আহাজারি।।

    গ্রন্থনা নারী:
    নারী :বর্ষার প্রভাবকে কোনোক্রমেই আমরা অস্বীকার করতে পারি না, যদি বর্ষা ঋতু না থাকতো তাহলে আমাদের এদেশ মরুভূমিতে পরিণত হতো।
    পুরুষ :বর্ষার কারণেই আমাদের দেশ সুজলা-সুফলা শস্য শ্যামলা।
    নারী : নদীমাতৃক বাংলাদেশের যে অপরূপ প্রাকৃতিক নিসর্গতা তা বর্ষারই অবদান।
    নারী :তবুও বর্ষা ঋতুর উপকারের মাত্রা এত বেশি যে আমরা এর বিরূপ প্রভাবের কথা চিন্তা করি না তাই বর্ষা আনে শান্তি ও পরিতৃপ্তি আরামের স্নিগ্ধ পরিবেশ।

    কবিতা।। আবৃত্তি পুরুষ।। একক

    কন্যা এলো বর্ষা নিয়ে খুলে সজীব দ্বার,
    স্নিগ্ধ কোমল রূপের প্লাবন সবুজ অঙ্গ তার।
    গল্প করে আকাশ মাটি হাসে আলো আঁধার,
    সম্ভাবনার দুয়ার খুলে মানবে না কেউ হার।।

    রিনিঝিনি ছন্দ তুলে বাজায় পায়ে মল,
    নদী নালা খালে বিলে দেয় ভরিয়ে জল।
    বিজলী চমক অঙ্গ জুড়ে মুখটা করে ভার,
    যায় না চেনা একুল ওকুল যায় না চেনা পাড়।

    যাবে ধূয়ে মনের কালি হিংসা বিভেদ যত
    বৃষ্টি ধারা পরশ বুলায় জুড়ায় বুকের ক্ষত।
    অলস সময় জলকেলিতে করে অভিসার,
    সন্ধ্যা সকাল যায় গড়িয়ে নেই যে হিসাব তার।

    রিমঝিম বৃষ্টিধারা সতেজ করে মাটি,
    তাল তমলের সবুজ বনে সাজায় পরিপাটি ।
    মেঘের কোলে রোদ লুকিয়ে সময় করে পার,
    শস্য শ্যামল ফুলে ফলে ভরায় সম্ভার।

    রচনা কাল :২২/০৪/২০১৭।
    গীতিকার ও নাট্যকার বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন
    মোবাইল ০১৯১১৮০১৪৬১

    2
    2 Comments
    • অত্যন্ত ঋদ্ধ, উদ্বেলিত ও বিস্ময়বিমুগ্ধ হ’লাম আপনার রচনার সম্ভারে প্রিয় লেখক… আপনার মত গুণী মানুষের সান্নিধ্যে যদি কখনও আসতে পারতাম তবে অবশ্যই নিজেকে ধন্য মনে করতাম… আমার কিছু লেখালেখি নিয়ে আপনার সাথে কোনোদিন সময় কাটাতে পারলে খুব ভালো লাগতো, অনেক কিছু আপনার কাছ থেকে শেখা হয়ে উঠতো… আপনাকে আন্তরিক শুভাশীর্বাদ ও অভিনন্দন জানাই প্রিয়…

Abul Hasan Tuhen

Friends

Skip to toolbar