-
Abul Hasan Tuhen is with প্রদীপ্ত লুব্ধক and 66 others
নাটক -অবাক জলপান
মূল রচয়িতা- সুকুমার রায়
বেতার নাট্যরূপ -আবুল হাসান তুহিন
কাহিনী সংক্ষেপ: রতন বাঁশি বাজাচ্ছে , মুনিয়া মামাবাড়ি বেড়াতে এসেছে , তিন রাস্তার মোড়ে এসে বুঝতে পারছেনা পলাশপুর কোন দিকে, রাস্তায় কাউকে না পেয়ে রতনের বাঁশির সুরে মুগ্ধ হয়ে মুনিয়া সামনের দিকে এগিয়ে যায়। কাছে গিয়ে দেখে রতন, আবাক হয়ে যায় মুনিয়া। রতন মুনিয়া একে অপরের পূর্বপরিচিত। রতন মুনিয়াকে রাস্তা চিনিয়ে দেয়। রতন ঠাকুরদার বাড়ি থেকে ফেরার পথে রাস্তায় পানির পিপাসা পায় , পানি পান করার জন্য বিভিন্ন লোকের কাছে পানি চাইলে, পানি নিয়ে মজাদার কিছু কথোপকথন হয়। হাঁটতে হাঁটতে পলাশপুর গ্ৰামে এসে মুনিয়ার মামার বাড়িতে এসে পানি চেয়ে বিপাকে পড়ে। পানি নিয়ে তাঁর বিস্তার গবেষণা । রতন অনেক কষ্টে রক্ষা পায়।
রাস্তায় এসে ভিস্তিওয়ালার সাথে দেখা হয়। তাঁর কাছ থেকে ঠান্ডা পানি পান করে, মুনিয়ার সাথে দেখা হয়। মুনিয়া এবং রতনের পরিচয়টা শক্ত বাঁধনের জন্য দিশা খুঁজে পায় এবং তারা বাড়ি পথে রওনা হয়।
।।চরিত্র লিপি।।
০১। রতন – ২৫ ০২।কবি -৩০
০৩। বৃদ্ধ -১ -৫০ ০৪। মুনিয়া -২০
০৫। বৃদ্ধ -২ – ৫০ ০৬। মামা – ৪৫
০৭। বিক্রেতা-৪০ ০৮। বালক (নেপথ্য)-১২
০৯। ভিস্তি ওয়ালা(নেপথ্য)-৪০
দৃশ্য।।০১।। দিন।। রাস্তা
চরিত্রঃ মুনিয়া , রতন
[মুনিয়া রাস্তা দিয়ে হেটে হেঁটে ক্লান্ত, রতন রাস্তার পাশে বসে বাঁশি বাজাচ্ছে।]
মুনিয়া : (স্বগত) সেই কবে এসেছি। রাস্তাঘাট অনেক পরিবর্তন হয়েছে।তিন রাস্তার মোড় ,কোন দিকে যাব বুঝে উঠতে পারছি না তাছাড়া রাস্তায় কাউকে দেখছি না কার কাছে জিজ্ঞাসা করব। তাছাড়া লোকজন দেখবো কেমন করে, গরম যা পড়েছে এই রোদে রাস্তা কেউ ঘোরাফেরা করে।[ বাঁশির সুর ভেসে আসছে] দূর থেকে একটা বাঁশির সুর ভেসে আসছে কোথায় কোথায় হ্যাঁ ওই যে দূরে বসে কে যেন বাঁশি বাজাচ্ছে। বাঁশির সুরে মুগ্ধ হয়ে গরমের ক্লান্তি ভুলে গেলাম। মোহনীয় বাশির সুরে যখন মুগ্ধ হলাম তখন একসাথে দুই কাজ করি, দেখি কে বাঁশি বাজাচ্ছে আর তার কাছে থেকে রাস্তাঘাটের ঠিকানাটাও জানা হয়ে যাবে। যাই দেখি[ বাঁশির সুর আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে]
এই যে আপনি শুনছেন হ্যাঁ আপনাকেই বলছি।
রতন : [বাঁশি থামিয়ে. থু থু থু বুকে থুতু দিয়ে]
কে কে কে? ভূত প্রেত নাকী ! আপনি ! মানে তুমি?
মুনিয়া : আপনি এখানে এভাবে? আপনার সাথে এভাবে দেখা হয়ে যাবে ভাবতেও পারিনি! সেই যে না বলে চলে আসলেন তারপর আর কোন যোগাযোগই রাখলেন না।
রতন : থাকনা ওসব কথা। শুধু এইটুকু বলবো, আমাকে চলে আসতে বাধ্য করা হয়েছে।
মুনিয়া : কিন্তু আমাকে বলা হয়েছে, আপনি বিয়ে করার ভয়ে পালিয়েছেন। আমার সাথে দেখা করে আসলে সত্যিটা অন্তত জানতে পারতাম।
রতন : আসলে আমাকে বাধ্য করা হয়েছে চলে আসতে। তোমার পিসি, এবং তার ছেলে নন্দন অনেক হুমকি ধামকি দিয়েছে, আমি চাইনি আমার কারণে তোমার চরিত্রে কলঙ্কের দাগ লাগুক। সেই সাথে লেখা পড়া বন্ধ হয়ে যাক।
মুনিয়া : ক্ষতি করতে কি বাকি রেখেছে !
আপনাকে সরিয়ে নন্দদাদা আমাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলে। সৃষ্টিকর্তা সহায় ছিলেন তাই রক্ষা পেয়েছি।
রতন : কি ঘটেছিল?
মুনিয়া : বিয়ের দিন তারিখ ঠিক ছিল হটাৎ মহল্লা জুড়ে কলেরার প্রকাপ দেখা দিল , এমন কোন বাড়ি নেই যে কলেরা আক্রান্ত হয়নি। ভয়ে পিসি তার ছেলেকে নিয়ে আমাদের বাড়ি ছাড়লো । কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি পিসি কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করে।আর প্রতারনার দায়ে নন্দদাদাকে পুলিশ অ্যারেস্ট করে।
রতন : পথের কাঁটা এ ভাবে নির্মূল হলো! যাক এবার বলো তুমি এখানে কি ভাবে?
মুনিয়া : মানসিক প্রশান্তির জন্য মামা বাড়িতে যাচ্ছিলাম। তিন রাস্তার মাথায় এসে থমকে গেছি। পলাশডাঙ্গায় কোন দিক দিয়ে যাব? রাস্তায় কোন লোকজন নেই আপনার বাঁশির সুর শুনে এগিয়ে এলাম।
রতন : পথ চিনিয়ে দিতে হবে এইতো। এই যে এটা হলো শিমুলতলি । এখান থেকে সোজা চলে গেলে পলাশডাঙ্গা ।
মুনিয়া : ঠিক আছে অসংখ্য ধন্যবাদ। আসি।
রতন : আসি বললে কি হবে! এতো তাড়া কিসের?আগে আমাদের বাড়িতে চলো, সেখান থেকে রেস্ট নিয়ে তারপরে রওনা দিও। এই মাঠ পেরুলেই আমাদের বাড়ি।
মুনিয়া : ফেরারা পথে ঘুরে যাবো । একবার যখন খুঁজে পেয়েছি। সহজে আর ছাড়ছিনে।
রতন : তাই বুঝি। ও হ্যা আগামীকাল ভোরে ঠাকুরদা কে দেখতে যাবো।
মুনিয়া : কোথায় ?
রতন : মোহনগজ্ঞে । এখান থেকে অনেক দূর।শহর থেকে ওষুধপত্র কিনে নিয়ে যেতে হবে। অবশ্য, আসার সময় পলাশডাঙ্গা হয়ে আসবো।
মুনিয়া : আসি।
রতন : সাবধানে যেও । মাঝে মাঝে গাছের নিচে জিরিয়ে নিও।
মুনিয়া : আচ্ছা। গ্ৰম্য মেঠো পথ ধরে হেঁটে চললাম, দিগন্তের কবিতা হয়ে, প্রকৃতির রূপ রস গন্ধ মেখে, মাতাল বাতাস যাচ্ছে বয়ে। (উভয়ের প্রস্হান)
।। পট পরিবর্তন।।
দৃশ্য।।০২।। দিন।। বাড়ি
চরিত্রঃ মুনিয়া , মামা
মামা : মুনিয়া কত দিন পর এই মামার কথা মনে পড়লো। তা লেখা পড়ায় কতদূর এগুলিরে মা?
মুনিয়া : এইতো মামা কলেজে পড়ছি। গ্রীষ্মের ছুটি তাই বেড়াতে চলে এলাম।
মামা : বাহ্ বাহ্ ,ভাগ্নিটা কার দেখতে হবে না। এসে ভালোই করেছিস, এখানে কিছু দিন থেকে যেতে হবে । জল নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছি তোকে ভালো ভাবে সেগুলো বুঝিয়ে দেবো। যা ভবিষ্যতে তোর কাজে লাগাতে পারে!
মুনিয়া : ঠিক আছে মামা । আমি এখন বাড়ির ভিতরে গেলাম।
মামা : ও আচ্ছা ঠিক আছে। অনেক পথ পাড়ি দিয়ে এসেছিস , কষ্ট একটু হয়েছে। বিশ্রাম নিতে হবে, খাওয়া করতে হবে। এটা আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। যা মা ভিতরে যা । [মুনিয়ার প্রস্থান
দৃশ্য।।০৩।। দিন।। রাস্তা
চরিত্রঃ রতন, বিক্রেতা,বৃদ্ধ -১ ,বৃদ্ধ -২ ,কবি[ক্লান্ত হয়ে রতন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। পিপাসায় গলা শুকিয়ে গেছে]
রতন : (স্বগত ) নাঃ— একটু জল না পেলে আর চলছে না । সেই সকাল থেকে হেঁটে আসছি, এখনও প্রায় এক ঘণ্টার পথ বাকি । তেষ্টায় মগজের ঘিলু শুকিয়ে উঠল । কিন্তু জল চাই কার কাছে ? গেরস্তের বাড়ি দুপুর রোদে দরজা এঁটে সব ঘুম দিচ্ছে, ডাকলে সাড়া দেয় না । বেশি চেঁচাতে গেলে হয়তো লোকজন নিয়ে তেড়ে আসবে । সূর্যের যে আগুন রাঙা তাপ! পথেও তো লোকজন দেখছি না ।‒ ঐ একজন আসছে ! ওকেই জিজ্ঞেস করা যাক । [ ঝুড়ি মাথায় এক ব্যক্তির প্রবেশ ]
রতন : মশাই, একটু জল পাই কোথায় বলতে পারেন ?
বিক্রেতা : জলপাই ? জলপাই এখন কোথায় পাবেন ? এখন তো জলপাইয়ের সময় নয় । কাঁচা আম নিতে চান দিতে পারি‒
রতন : না না, আমি তা বলিনি‒
বিক্রেতা :কাঁচা আম আপনি বলেননি, কিন্তু জলপাই চাচ্ছিলেন কিনা, তা ত আর এখন পাওয়া যাবে না, তাই বলছিলাম‒
রতন : না ভাই আমি জলপাই চাচ্ছিনে‒
বিক্রেতা : চাচ্ছেন না ? খামখা এরকম করবার মানে কি ?
রতন : আপনি ভুল বুঝেছেন‒ আমি জল চাচ্ছিলাম‒
বিক্রেতা : জল চাচ্ছেন তো ‘জল’ বললেই হয়‒ ‘জলপাই’ বলবার দরকার কি ? জল আর জলপাই কি এক হল ? আলু আর আলুবোখরা কি সমান ? মাছও যা মাছরাঙাও তাই ? বরকে কি আপনি বরকন্দাজ বলেন ? চাল কিনতে এসে চালতার খোঁজ করেন ? যত সব।
রতন : ঘাট হয়েছে মশাই । আপনার সঙ্গে কথা বলাই আমার অন্যায় হয়েছে ।
বিক্রেতা : অন্যায় তো হয়েছেই । দেখছেন ঝুড়ি নিয়ে যাচ্ছি‒ তবে জলই বা চাচ্ছেন কেন ? ঝুড়িতে করে কি জল নেয় ? লোকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে একটু বিবেচনা করে বলতে হয় ।
রতন :দেখলে ! কি কথায় কি বানিয়ে ফেললো ! যাক, ঐ একজন বৃদ্ধ আসছে, ওনাকে একবার বলে দেখি ।
[ লাঠি হাতে, চটি পায়ে চাদর গায়ে এক বৃদ্ধের প্রবেশ ]
বৃদ্ধ -১ :কে ও ? গোপাল নাকি ?
রতন : আজ্ঞে না, আমি পুবগাঁয়ের রতন‒ একটু জলের খোঁজ কচ্ছিলাম‒
বৃদ্ধ -১ : বল কিহে ? পুবগাঁও ছেড়ে এখেনে এসেছো জলের খোঁজ করতে ? ‒ হাঃ, হাঃ, হাঃ । তা, যাই বল বাপু, অমন জল কিন্তু কোথাও পাবে না । খাসা জল, তোফা জল, চমৎকা-র-র জল ।
রতন : আজ্ঞে হাঁ, সেই সকাল থেকে হাঁটতে হাঁটতে বেজায় তেষ্টা পেয়ে গেছে ।
বৃদ্ধ -১ : তা তো পাবেই । ভালো জল যদি হয়, তা দেখলে তেষ্টা পায়, নাম করলে তেষ্টা পায়, ভাবতে গেলে তেষ্টা পায় । তেমন কোন জল তো খাওনি কখনো ! – বলি ঘুম্ড়ির জল খেয়েছো কোনোদিন ?
রতন : আজ্ঞে না, তা খাইনি-
বৃদ্ধ -১ : খাওনি ? অ্যাঃ ! ঘুম্ড়ি হচ্ছে আমার মামাবাড়ি‒ আদত জলের জায়গা । সেখানকার যে জল, সে কি বলব তোমায় ? কত জল খেলাম‒ কলের জল, নদীর জল, ঝরণার জল, পুকুরের জল‒ কিন্তু মামাবাড়ির কুয়োর যে জল, অমনটি আর কোথাও খেলাম না । ঠিক যেন চিনির পানা, ঠিক যেন কেওড়া-দেওয়া সরবত !
রতন : তা মশাই আপনার জল আপনি মাথায় করে রাখেন‒ আপাতত এখন এই তেষ্টার সময়, যা হয় একটু জল আমার গলায় পড়লেই চলবে‒
বৃদ্ধ -১ : তাহলে বাপু তোমার গাঁয়ে বসে জল খেলেই তো পারতে ? পাঁচ ক্রোশ পথ হেঁটে জল খেতে আসবার দরকার কি ছিল ?
রতন : যা হয় একটু দিলেই——
বৃদ্ধ-১ : এ্যাঃ, যা হয় একটা হলেই হল’ ও আবার কি রকম কথা ? আর অমন তচ্ছিল্য করে বলবারই বা দরকার কি ? আমাদের জল পছন্দ না হয়, খেও না- বাস্ । গায়ে পড়ে নিন্দে করবার দরকার কি ? হ্যাঁঃ- কথার যে শ্রী, শুধু শুধু সময় নষ্ট চলি। [ বৃদ্ধের প্রস্থান ]
রতন : নামেই তাল পুকুর, এত জলের ফিরিস্তি দিল অথচ এক ফোঁটা জল ও দিতে পারলো না।
[দূরে অন্য বৃদ্ধের হাসিমুখে প্রবেশ ]
বৃদ্ধ -২ : কি হে ? এত তর্কাতর্কি কিসের ?
রতন : আজ্ঞে না, তর্ক নয় । আমি জল চেয়ে ছিলাম, তা উনি সে কথা কানেই নিলেন না- কেবলই সাত পাঁচ গল্প করতে শুরু করলেন । তাই বলতে গেলাম অমনি রেগে মেগে অস্থির !
বৃদ্ধ -২ : আরে দূর দূর ! তুমিও যেমন ! জিজ্ঞেস করবার আর লোক পাওনি ? ও হতভাগা জানেই বা কি, আর বলবেই বা কি ? ওর যে দাদা আছে, খালিশ পুরে চাকরি করে, সেটা তো একটা গাধা । ও মুখ্যুটা কি বললো তোমায় ?
রতন : কি জানি মশাই- জলের কথা বলতেই কুয়োর জাল, নদীর জাল, পুকুরের জল, কলের জল, মামাবাড়ির জল, ব’লে পাঁচ রকম ফর্দ শুনিয়ে দিলেন-
বৃদ্ধ -২ : হুঁঃ ‒ ভাবলো খুব বাহাদুরি করেছে । তোমাকে বোকা মতন দেখে খুব চাল চেলে নিয়েছে । ভারি তো ফর্দ করেছেন । আমি লিখে দিতে পারি, ও যদি পাঁচটা জল বলে থাকে তা আমি এক্ষুনি পঁচিশটা বলে দেব-
রতন : আজ্ঞে হ্যাঁ । কিন্তু আমি বলছিলাম কি একটু খাবার জল‒
বৃদ্ধ -২ : কি বলছ ? বিশ্বাস হচ্ছে না ? আচ্ছা শুনে যাও । বৃষ্টির জল, ডাবের জল, নাকের জল, চোখের জল, জিবের জল, হুঁকোর জল, ফটিক জল, রোদে ঘেমে জ-ল, আহ্লাদে গলে জ‒ল, গায়ের রক্ত জ‒ল, বুঝিয়ে দিলাম যেন জ-ল ‒কটা হয়?শোনোনি বুঝি ?
রতন : না মশাই, গুনিনি‒ আমার আর খেয়ে দেয়ে কাজ নেই‒
বৃদ্ধ -২ : তোমার কাজ না থাকলেও আমাদের কাজ থাকতে পারে তো ? যাও, যাও, মেলা বকিও না । ‒একেবারে অপদার্থের একশেষ ! যতসব উটকো ঝামেলা। [প্রস্তান ]
রতন : নাঃ, আর জলটল চেয়ে কাজ নেই‒ এগিয়ে যাই, দেখি কোথাও পুকুরটুকুর পাই কি না । ওই তো একজন আসছে, মাথায় লম্বা লম্বা চুল, চোখে সোনার চশমা, হাতে খাতা পেন্সিল, পায়ে কটকী জুতা, এদিকে আসছে।
লোকটা নেহাৎ এসে পড়েছে যখন, একটু জিজ্ঞাসাই করে দেখি । মশাই, আমি অনেক দূর থেকে আসছি, এখানে একটু জল মিলবে ?
কবি : কি বলছেন ? ‘জল’ মিলবে না ? খুব মিলবে । একশোবার মিলবে ! দাঁড়ান, এক্ষুনি মিলিয়ে দিচ্ছি‒ জল চল তল বল কল ফল ‒ মিলের অভাব কি ? কাজল-সজল-উজ্জ্বল জ্বলজ্বল-চঞ্চল চল্ চল্ , আঁখিজল ছল্ছল্ , নদীজল কল্কল্ , খল্খল্ অ্যাঁকানল বাঁকানল, আগল ছাগল পাগল‒ কত চান ?
রতন : এ দেখি আরেক পাগল ! মশাই, আমি সে রকম মিলবার কথা বলিনি ।
কবি : তবে কি রকম মিল চাচ্ছেন বলুন ? কি রকম, কোন ছন্দ, সব বলে দিন‒ যেমনটি চাইবেন তেমনটি মিলিয়ে দেব ।
রতন : ভালো বিপদেই পড়া গেল দেখছি‒ (জোরে) মশাই ! আর কিছু চাইনে, ‒(আরো জোরে)sশুধু একটু জল খেতে চাই !
কবি : ও বুঝেছি।শুধু-একটু-জল-খেতে-চাই। এই তো ? আচ্ছা বেশ । এ আর মিলবে না কেন ?‒ শুধু একটু জল খেতে চাই ‒ভারি তেষ্টা প্রাণ আই-ঢাই । চাই কিন্তু কোথা গেলে পাই‒বল্ শীঘ্র বল্ নারে ভাই । কেমন ? ঠিক মিলেছে তো ?
রতন : আজ্ঞে হ্যাঁ, খুব মিলেছে‒খাসা মিলেছে‒ নমস্কার । (সরে গিয়ে ) নাঃ, বকে বকে মাথা ধরিয়ে দিলে‒ একটু ছায়ায় বসে মাথাটা ঠাণ্ডা কনে নি ।ঐ যে একটা বাড়ি বেশ ছায়া শীতল ওখানে একটু জিড়য়ে নি। কবি মশাই মিলাতে থাকুন আমি এখানে বসলাম।[একটা বাড়ির ছায়ায় গিয়ে বসবে]
কবি : ও হ্যাঁ হ্যাঁ এবার জমবে ভালো ।(খুশী হয়ে লিখতে লিখতে) মিলবে না ? বলি, মেলাচ্ছে কে ? সেবার যখন বিষ্টুদাদা ‘বৈকাল’ কিসের সঙ্গে মিল দেবে খুঁজে পাচ্ছিল না, তখন ‘নৈপাল’ বলে দিয়েছিল কে ? নৈপাল কাকে বলে জানেন তো ? নেপালের লোক হল নৈপাল । আমার কথা না শুনে লোকটা ছায়াই বসে রইল। শুধু শুধু উলুবনে মুক্তা ছড়ানো ! দুত্তোরি ![প্রস্থান]
।। সামান্য পচ।।
দৃশ্য।।০৪।। দিন।। বাড়ি
চরিত্রঃ রতন, খোকা, মামা,
[ বাড়ির ভিতরে বালক বই পড়ছে]
খোকা :‒ পৃথিবীর তিন ভাগ জল এক ভাগ স্থল । সমুদ্রের জল লবণাক্ত, অতি বিস্বাদ
রতন : ওহে খোকা ! একটু এদিকে শুনে যাও তো ?
[খোকার বাবা বাড়ি থেকে বের হয়ে ]
মামা : কে হে ? পড়ার সময় ডাকাডাকি করতে এসেছে ?‒ (রতনকে দেখে ) ও ! আমি মনে করেছিলাম পাড়ার কোন ছোকরা বুঝি । আপনার কি দরকার?
রতন : আজ্ঞে , জল তেষ্টায় বড় কষ্ট পাচ্ছি‒ তা একটু জলের খবর কেউ বলতে পারলে না ।
মামা : (তাড়াতাড়ি ঘরের দরজা খুলে) কেউ বলতে পারলে না ? আসুন, আসুন । কি খবর চান, কি জানতে চান, বলুন দেখি ? সব আমাকে জিজ্ঞেস করুন, আমি বলে দিচ্ছি । আসুন ঘরের ভিতরে আসুন।
রতন : না, না, — থাক ।
মামা : থাকবে কেন? ও হ্যা কি বলছিলেন ?
রতন : জল—-
মামা : হ্যা তো জলের কথাই জিজ্ঞেস করছিলেন ?
রতন : আজ্ঞে , সেই সকাল থেকে হাঁটতে হাঁটতে আসছি‒
মামা : আ হা হা ! কি উৎসাহ ! আপনার কথা শুনেও মুগ্ধ হয়ে গেলাম। মনে বড়ই সুখ হচ্ছে । এ রকম জানবার আকাঙ্খা কজনের আছে, বলুন ত? বসুন ! বসুন ! এই দেখুন কত নথিপত্র [ কতকগুলি ছবি, বই আর এক টুকরা খড়ি বের করে ] আপনাকে হাতে কলমে শিখিয়ে দেব।
রতন : এত কিছুর প্রয়োজন নেই, আসলে —-
মামা : এতো ব্যস্ত হবেন না! জলের কথা জানতে গেলে প্রথমে জানা দরকার, জল কাকে বলে, জলের কি গুণ‒
রতন : আজ্ঞে, একটু খাবার জল যদি‒
মামা : আসছে‒ ব্যস্ত হবেন না । একে একে সব কথা আসবে । জল হচ্ছে দুই ভাগ হাইড্রোজেন আর এক ভাগ অক্সিজেন‒ হাতে কলমে আজ শিখিয়ে দিচ্ছি। এই যে বোর্ডে লিখে দিচ্ছি। এই দেখুন।[ চক দিয়ে লিখবেন]
রতন : এই মাটি করেছে !
মামা : বুঝলেন? রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জলকে বিশ্লেষণ করলে হয়‒ হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন । আর হাইড্রোজেন আর অক্সিজেনের রাসায়নিক সংযোগ হলেই হল জল ! শুনছেন ত?
রতন : আজ্ঞে হ্যাঁ, সব শুনছি । কিন্তু একটু খাবার জল যদি দেন, তাহলে আরো মন দিয়ে শুনতে পারি ।
মামা : বেশ ত ! খাবার জলের কথাই নেওয়া যাক না । খাবার জল কাকে বলে ? না, যে জল পরিস্কার, স্বাস্থ্যকর, যাতে দুর্গন্ধ থাকে না, রোগের বীজ থাকে না‒ কেমন ? এই দেখুন এক শিশি জল‒ আহা, ব্যস্ত হবেন না । দেখতে মনে হয় বেশ পরিস্কার, কিন্তু অনুবীক্ষন দিয়ে যদি দেখেন, দেখবেন পোকা সব কিলবিল করছে । কেঁচোর মতো, কৃমির মতো সব পোকা‒ এমনি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু অনুবীক্ষন দিয়ে দেখায় ঠিক এত্তো বড় বড় । এই বোতলের মধ্যে দেখুন, ও বাড়ির পুকুরের জল; আমি এইমাত্র পরীক্ষা করে দেখলুম; ওর মধ্যে রোগের বীজ সব গিজ্গিজ্ করছে‒ প্লেগ, টইফয়েড, ওলাউঠা, ঘেয়োজ্বর ‒ও জল খেয়েছেন কি মরেছেন ! এই ছবি দেখুন‒ এইগুলো হচ্ছে কলেরার বীজ, এই ডিপথেরিয়া, এই নিউমোনিয়া, ম্যালেরিয়া ‒সব আছে । আর এই সব হচ্ছে জলের পোকা‒ জলের মধ্যে শ্যাওলা ময়লা যা কিছু থাকে ওরা সেইগুলো খায় । আর এই জলটার কি দুর্গন্ধ দেখুন ! পচা পুকুরের জল‒ ছেঁকে নিয়েছি, তবু গন্ধ ।
রতন : উঁ হুঁ হুঁ হুঁ ! করেন কি মশাই ? ওসব জানবার কিচ্ছু দরকার নেই‒
মামা : খুব দরকার আছে । এসব জানতে হয়‒ অত্যন্ত দরকারী কথা !
রতন : হোক দরকারী‒ আমি জানতে চাইনে, এখন আমার সময় নেই‒
মামা : এখন তো জানবার সময় । আর দুদিন বাদে যখন বুড়ো হয়ে মরতে বসবে, তখন জেনে লাভ কি ? জলে কি কি দোষ থাকে, কি করে সে সব ধরতে হয়, কি করে তার শোধন হয়, এসব জানবার মতো কথা নয় ? এই যে সব নদীর জল সমুদ্রে যাচ্ছে, সমুদ্রের জল সব বাস্প হয়ে উঠছে, মেঘ হচ্ছে, বৃষ্টি পড়ছে‒ এরকম কেন হয়, কিসে হয়, তাও ত জানা দরকার?
রতন : দেখুন মশাই ! কি করে কথাটা আপনাদের মাথায় ঢোকাব আমি ভেবে পাচ্ছি নে। বলি, বারবার করে বলছি‒ তেষ্টায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল, সেটা কেউ কানে নিচ্ছেন না । একটা লোক তেষ্টায় জল-জল করছে তবু জল খেতে পায় না, এরকম কোথাও শুনেছেন?
মামা : শুনেছি বৈকি‒ চোখে দেখেছি । বদ্যিনাথকে কুকুরে কামড়াল, বদ্যিনাথের হল হাইড্রোফোবিয়া‒ যাকে বলে জলাতঙ্ক। আর জল খেতে পারে না‒ যেই জল খেতে যায় অমনি গলায় খিঁচ ধরে যায়। মহা মুশকিল !‒ শেষটায় ওঝা ডেকে, ধুতুরো দিয়ে ওষুধ মেখে খওয়ালো, মন্তর চালিয়ে বিষ ঝাড়ল‒ তারপর সে জল খেয়ে বাঁচল। ওরকম হয়।
রতন : নাঃ‒ এদের সঙ্গে আর পেরে ওঠা গেল না‒ কেনই বা মরতে এসেছিলাম এখেনে? বলি, মশাই, আপনার এখানে নোংরা জল আর দুর্গন্ধ জল ছাড়া ভালো খাঁটি জল কিছু নেই?
মামা। : আছে বৈকি! এই দেখুন না বোতলভরা টাটকা খাঁটি ‘ডিস্টিল ওয়াটার’‒ যাকে বলে ‘পরিশ্রুত জল’ ।
রতন : (ব্যস্ত হয়ে) এ জল কি খায়?
মামা : না, ও জল খায় না‒ ওতে স্বাদ নেই‒ একেবারে বোবা জল কিনা, এইমাত্র তৈরি করে আনল‒ এখনো গরম রয়েছে।
রতন : [ হতাশ ভাব ] এবার পাগলের পাল্লায় পড়েছি।
মামা : কিছু বললে মনে হয়,
রতন : না, নোংরা জল আছে কিনা তাই।
মামা : হ্যাঁ, তারপর যা বলছিলাম শুনুন‒ এই যে দেখছেন গন্ধওয়ালা নোংরা জল‒ এর মধ্যে দেখুন এই গোলাপী জল ঢেলে দিলাম‒ বাস, গোলাপী রঙ উড়ে সাদা হয়ে গেল । দেখলেন তো ?
রতন : না মশাই, কিচ্ছু দেখিনি‒ কিচ্ছু বুঝতে পারিনি‒ কিচ্ছু মানি না‒ কিচ্ছু বিশ্বাস করি না।
মামা : কি বললেন ! আমার কথা বিশ্বাস করেন না?
রতন : না, করি না। আমি যা চাই, তা যতক্ষণ দেখাতে না পারবেন, ততক্ষণ কিচ্ছু শুনব না, কিচ্ছু বিশ্বাস করব না।
মামা : বটে ! কোনটা দেখতে চান একবার বলুন দেখি‒ আমি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছি‒
রতন : তাহলে দেখান দেখি । সাদা, খাঁটি চমৎকার, ঠাণ্ডা, এক গ্লাস খাবার জল নিয়ে দেখান দেখি । যাতে গন্ধপোকা নেই, কলেরার পোকা নেই, ময়লাটয়লা কিচ্ছু নেই, তা দিয়ে পরীক্ষা করে দেখান দেখি । খুব বড় এক গ্লাস ভর্তি জল নিয়ে আসুন ।
মামা : এক্ষুনি দেখিয়ে দিচ্ছি‒ ওরে খোকা, দৌড়ে আমার কুঁজো থেকে এক গ্লাস জল নিয়ে আয় তো।
[ পাশের ঘরে দুপদাপ শব্দে খোকার দৌড় ]
নিয়ে আসুক তারপর দেখিয়ে দিচ্ছি । ঐ জলে কি রকম হয়, আর এই নোংরা জলে কি রকম তফাৎ হয়, সব আমি এক্সপেরিমেন্ট করে দেখিয়ে দিচ্ছি।
[ জল নিয়ে খোখার প্রবেশ ]
খোকা : এই যে জল।
মামা :রাখ এইখানে রাখ।
[ জল রাখা, মাত্র রতন আক্রমণ‒ মামার হাত হতে জল নিয়ে এক নিঃশ্বাসে চুমুক দিয়া শেষ ]
রতন : আঃ ! বাঁচা গেল !
মামা :(রেগে ) এটা কি রকম হল মশাই?
রতন : পরীক্ষা হল‒ এক্সপেরিমেন্ট ! এবার আপনি
নোংরা জলটা একবার খেয়ে দেখান , কি রকম হয়?
মামা : (ভীষণ রেগে) কি বললেন ! আমার সঙ্গে —
রতন : আচ্ছা থাক, এখন নাই বা খেলেন‒ পরে খবেন । এই গাঁয়ের মধ্যে আপনার মতো আনকোরা পাগল আর যতগুলো আছে, সব কটাকে খানিকটা করে খাইয়ে দেবেন । তারপর খাটিয়া তুলবার দরকার হলে আমাকে খবর দেবেন‒ আমি খুশী হয়ে ছুটে আসব‒ঠিকানা পুবগাঁও।আপাতত বিদায় হোলাম।
মামা : যান মশাই, হতভাগা জোচ্চোর কোথাকার !
(প্রস্হান)
।।সামান্য পচ।।
দৃশ্য।।০৫।। দিন।। রাস্তা
চরিত্র: রতন, ভিস্তিওয়ালা, মুনিয়া
[ গলিতে সুর করে হাঁকতে থাকবে]
ভিস্তি ওয়ালা: দিল যদি ঠান্ডা চান আমার কাছে এসে যান। এটা হবে জীবনের অবাক জলপান। অবাক জলপান, অবাক জলপান।
রতন : ‘ভিস্তি’ওয়ালা ভাই । ও ভিস্তিওয়ালাভাই। এইতো এদিকে।
ভিস্তি ওয়ালা: বরফের মতো ঠান্ডা পানি আছে। কয় গ্লাস দেবো বাবু?
রতন : আপাতত এক গ্লাস, (মুনিয়ার প্রবেশ)
মুনিয়া : আমাকেও এক গ্লাস।
রতন : আরে মুনিয়া, তোমার মামা বাড়ি—
মুনিয়া : ঐ তো ঐ বাড়ি।
রতন : মানে ঐ পানি গবেষক তোমার মামা!
মুনিয়া : হ্যা। উনি আমার মামা।
রতন : এতক্ষণ ওনার পাল্লায় পড়েছিলাম।
ভিস্তিওয়ালা : এই নিন পানি ।
মুনিয়া : বাহ্ এত শীতল জল। (পানি পান করবে)
রতন : এইযে ভাই, পয়সা রাখো।
ভিস্তিওয়ালা : দিন, আসি বাবু সালাম। (প্রস্থান)
মুনিয়া : এত শীতল জল উনারা কিভাবে রাখে।
রতন : ওই যে উনার কাঁধে যে ব্যাগ, ওটার নাম হলো ভিস্তি।ছাগলের চামড়া দিয়ে তৈরি এই বিশেষ থলেকে আবার‘মশক’ও বলে। এতে জল ঠান্ডা থাকে ।আর স্বয়ং জলদাতা হয়ে এই ভিস্তির জল যারা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয় তাদের বলা হয় ভিস্তি ওয়ালা।
মুনিয়া : তাহলে ভিস্তি হল এক ধরনের বস্তার মত দেখতে ব্যাগ। এটা সম্পর্কে আরেকটু বলুন না।
রতন : আচ্ছা যতটুকু জানি ততটুকুই বলবো।
এই ভিস্তিওয়ালাদের সঙ্গে রয়েছে ইতিহাসের যোগ।
কথিত আছে, মুঘল নবাব হূমায়ুন একবার জলে ডুবে যাচ্ছিলেন। তখন নবাবকে বাঁচিয়েছিলেন এক ভিস্তিওয়ালা। এমনকি এই ভিস্তির উপর ভরকরেই সাঁতরে উঠেছিলেন হূমায়ুন।কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সেই ভিস্তিওয়ালাকে একদিনের জন্য তার আসনেও বসিয়েছিলেন তিনি।
মুনিয়া : ওনারা মহৎ কাজ করেন।
রতন : সারা ভারতজুড়ে জল বিলোনোর কাজ করেন এই ভিস্তিওয়ালারা।কাঁধে জল ভরতি চামড়ার ব্যাগ নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন মুসলিম সম্প্রদায়ের এই মানুষগুলো।মুনিয়া : সচরাচর এমন পথে ওনাদের দেখা যায় না,আচ্ছা ওনাদের বাসস্থান কোথায়?
রতন : দিল্লিতে ভিস্তির চল বেশি।বহুযুগ ধরে দিল্লির সাক্কে ওয়ালি গলিতেই ভিস্তিওয়ালাদের বাস।
শুনলে তো ভিস্তি ওয়ালাদের কাহিনী। তো এবার আমি উঠবো।
মুনিয়া : আ হা আর একটু দম নিন, দুচারটে কথা না শুনলে যে নয়। সারাদিন মামা জল নিয়ে বকবক করতেই থাকে আমি নিতে পারছি না। আপনার সাথে যখন দেখা হলো তখন দুজনে একসাথেই বাড়ি ফিরবো ।
রতন : বাড়ি থেকে যখন একবার বেরিয়েছো তখন আর বাড়ি ফিরে কাজ কি?
মুনিয়া : তা যা বলেছেন !
রতন : এই যে, আজ হাতটা যখন ধরেছি আর ছাড়ছিনে , সারা জীবনের মতো আমাদের বাড়িতে নিয়ে যাবো।
মুনিয়া : আইডিয়াটা চমৎকার কিন্তু এভাবে বললে তো যাওয়া যাবে না মশাই। মানসম্মান বলে কথা। সানাই বাজাতে হবে, পালকিতে চড়ে , বউ সেজে ,তবেই আপনার র ঘরে যাবো।
রতন : ঠিক আছে আপাতত এই হাত ধরলাম চলো এক ঘন্টার পথ হাঁটতে হবে।
মুনিয়া : পথের সাথী যখন পেয়েই গেছি তখন আর কিসের এত ভয় ? ভালোবাসার ভেলায় চড়ে ভয়কে করবো জয়।।
রতন : বাহ্ । ও হ্যাঁ ( হাসি) হা হা হা চলো।
।। সমাপ্ত।।
১৭/০৭/২০২৩-আবুল হাসান তুহিন
গীতিকার নাট্যকার নাট্য শিল্পী
বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভ

Abul Hasan Tuhen
Friends
abrar
@abrar
জামান বারভী
@zamanbarovi
MUHAMMAD TAHSEEN
@muhammadtahseen
Kokeshas King
@kokeshasking
মোরশেদ সাকিব
@morshedsakib
Ekhtiar Uddin
@ekhtiar2003
ইভান
@ivan
মো: ফারহান হাবীব
@farhan-habib
Masfi K
@masfi-mohammad
