-
নীলার চোখে জল
আবুল হাসান তুহিনএকঃ
পাথর ও তরুণ দুই বন্ধু, তাদের মধ্যে এত গাঢ় সম্পর্ক যা মুখে প্রকাশ করা কঠিন ।একদিন পাথর নিখোঁজ হয় ,তরুণ হাসপাতাল থানা এমন কি পাথরের গ্রামের বাড়ি পর্যন্ত খবর নেয়। শেষে মনে পড়ে পাথরের প্রেমিকা নীলার কথা, হয়তো ওরা দুজন পালিয়ে বিয়ে করতেও পারে ! নীলা ইদানিং কেমন হয়ে গেছে সচারাচর কারো সাথে দেখা করতে চায় না, মনমরা হয়ে থাকে, কম কথা বলে তবুও অনেক কষ্টে নীলার সাথে দেখা করে তরুণ জানতে পারে তাদের বিয়ে হয়নি। তাছাড়া পাথরের নিখোঁজ হওয়া সম্পর্কে নীলা কিছুই জানে না। তরুণ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় পাথরের নিখোঁজ সংবাদ ছাপায় কিন্তু কোন সুফল পাওয়া যায় না, শেষ অবধি থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করে পাথরের রহস্যময় নিখোঁজের কারণ জানিয়ে। বেশ কয়েকদিন থানায় যাতায়াতের কারণে তরুণের পরিচয় হয় ডিউটি অফিসার ছবির সাথে পাথরের ব্যাপারে খোঁজ-খবর এর উছিলায় তরুণ ও ছবির মধ্যে ভাব বিনিময় হয়। হঠাৎ ডিভি লটারি বিজয়ী হয়ে তরুণ পাড়়ি জমায় আমেরিকায় । তবুও তরুণ এবং ছবির মধ্যেকার সম্পর্ক ছেদ পড়েনি। বরঞ্চ দূরে থেকে মনের সেতু বন্ধন আরো গভীরে পৌঁছে যায়, এভাবে ধীরে ধীরে একসময় পাথরের নিখোঁজের রহস্য চাপা পড়ে ।দুইঃ
নীলাকে খুঁজে না পাওয়ার কারণ নীলা সবসময় নিজেকে গুটিয়ে রাখে, চুপচাপ থাকে, কথা বললে ঠিক জবাব পাওয়া যায়না। নীলার আকস্মিক গুটিয়ে থাকার রহস্য থাকে অজানা, হঠাৎ একটি কঙ্কাল আবিষ্কার হয়, কঙ্কালের গলায় ঝুলানো লেমিনেটিং কার্ডের ঠিকানা থেকে পরিচয়ের সূত্র ধরে খুলতে থাকে নীলার গুটিয়ে থাকা রহস্যের জট।পাথর একটি ভিসা প্রসেসিং এজেন্সি সাথে জড়িত ছিল পরশ ছিল পাথরের গ্রাম্য বাল্যবন্ধু সেই সুবাদে জাপানে যাওয়ার সব ব্যবস্থা করে পাথর। ভিসা প্রসেসিং এর কারণে পরশ নীলাদের বাড়ীতে অবস্থান করে দীর্ঘদিন। নীলা পাথর ও পরশ পড়ে যায় ত্রিমুখী প্রেমের বেড়াজালে। একদিন নীলাদের বাড়ীতে আসে পাথর, পরশ ও নীলার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু কথা শুনে ফেলে, পরশ জাপান যাওয়ার আগে নীলাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। পাথরের বুকে বিষয়টি বজ্রপাতের মত আঘাত করে। মনের ভেতর যুদ্ধ চলতে থাকে। একদিকে প্রেমিকা অন্যদিকে বন্ধুত্ব, নীলা হচ্ছে পড়শির মামাতো বোন।কী করবে পাথর খুঁজতে থাকে সমাধানের পথ। নীলার পিতা খন্দকার সাহেব ব্যবসায়ী কাজে দেশের বাইরে থাকায় নীলার সাথে পরশের বিয়ের প্রস্তাব থেমে যায় । পাথর চায় চিরদিনের মতো বিষয়টি সুরাহা হোক।সিদ্ধান্ত নেয় পরশের ফ্লাইটের দিন যেকোন উপায়ে পরশকে হত্যা করার।সবাই জানবে পরশ জাপানে গিয়ে কারো সাথে যোগাযোগ করছে না। যথারীতি পরশের ফ্লাইট কনফার্ম হয় নীলাদের বাড়ি থেকে রওনা হয় পরশ, প্লেনে উঠিয়ে দিতে সাথে যায় পাথর ও এজেন্সির বস মুরাদ সাহেব। ওরা বিদায় নিয়ে যাওয়ার পর নীলা দেখে পরশের পাসপোর্টটি ভুলক্রমে রয়ে গেছে। সাথে সাথে গাড়ি নিয়ে রওনা দেয় নীলা। দ্রুত গাড়ি চালিয়ে আসলেও নীলা দেখতে পাই পরশদের গাড়ি বিমানবন্দরের না গিয়ে নির্জন একটি গ্রাম্য রাস্তায় নেমে যাচ্ছে! পিছু নেয় নীলা ওরা দেখে ফেলার আগেই গাড়িটি বেশ দূরে রেখে ওদের অনুসরণ করতে থাকে, ওদের গাড়ি কিছু দূর গিয়ে থেমে যায়।দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে পাথরও মুরাদ সাহেব পরশকে অসাড় দেহ টেনে নামায় গাড়়ি থেকে। তারপরে নির্জন একটি ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয় পরশকে। নীলা এমন দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে যায়, মাথাাটা কেমন জানি ঝিমঝিম হয়ে আসে । ওরা নীলাকে দেখে ফেলার আগেই মনটাকে শক্ত করে গাড়ি চালিয়ে ফিরে আসে বাড়িতে। সেই থেকে নীলা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যায় , কী করবে সে, হিসাব মিলাতে পারেে না,
কংকাল আবিষ্কারের পর পরিচয় পত্রের বর্তমান ঠিকানার সূত্র ধরে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
তিনঃ
পরশকে হত্যার পর রাতারাতি ভিসা এজেন্সি বন্ধ করে মুরাদ ও পাথর নেপালে পাড়ি জমায়। প্রতারিত হয় অনেক বিদেশগামী লোকেরা ।নেপালে মুরাদের হোটেল ব্যবসা আছে। চেহারা কিছুটা পরিবর্তন এনে মুরাদ ও পাথর হোটেল পরিচালনায ব্যস্ত হয়ে যায়।ম্যানেজারের দায়িত্ব পায় পাথর। জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গোল্ডের চোরাচালান ধরা পড়ে বেশ কয়েকবার। প্রতিবার লাগেজের গায়ে হোটেল এম ইন্টারন্যাশনালের স্টিকার লাগানো ছিল। চোরাচালানের সাথে উক্ত হোটেলৈ কোন সম্পর্ক থাকতে পারে। রহস্য উদঘাটনের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইডি অফিসার সবুজের উপর। সবুজ যথারীতি নেপালে গিয়ে উক্ত হোটেলে বয়ের চাকরি নেয়। সবুজ একজন রসিক লোক সবসময় হাসি ঠাট্টা করে থাকে ভুলেও কেউ বুঝতে পারে না সবুজ একজন সিআইডি অফিসার। টেলিফোনে ঘনঘন কথা বলা দেখে হোটেল ম্যানেজার পাথরের সন্দেহ হয়। নালিশ করে হোটেলের বস মুরাদ সাহেবের কাছে। মুরাদের ও কিছুটা সন্দেহ হয় সবুজ কোনো গোয়েন্দা সংস্থার লোক নয় তো। কিন্তু সবুজের মিষ্টি কথার জালে উক্ত চিন্তা দূর হয়। সবুজ টেলিফোনে সব সময় হোটেলের কার্যক্রম সংবাদ বাংলাদেশের সিআইডির কাছে পাঠাতে থাকে। ফরহাদ একজন আন্ডারওয়ার্ল্ডের সদস্য সে নারী পাচার ,মাদক, অস্ত্র ও সোনা চোরাচালানের ব্যবসা করে।সবুজ বাংলাদেশ সিআইডির কাছে মুরাদ ও পাথরের ছবি পাঠায় যার সাথে মিলে যায় নিখোঁজ হওয়া পাথরের ছবি। নীলার স্বীকারোক্তিতে সিআইডি জানতে পারে পরশের প্রকৃত হত্যাকারীর পরিচয়। ইনভেস্টিগেশন এর দায়িত্ব পড়ে পুলিশ অফিসার ছবির উপর। মামলার প্রয়োজনে ছবিকে নেপালে যেতে হবে। অন্যদিকে তরুণ আমেরিকা থেকে দেশে আসে। কথা ছিলো ছবির সাথে বিয়ের কাজটা সেরে ফেলার। দেশে ফিরে দেখে ছবি নেপালে ইনভেস্টিগেশনের জন্য গেছে। সময় কাটে না তরুণের তাই একটি ট্যুরিজম প্যাকেজের অফার গ্রহণ করে। ভারত হয়ে নেপালে ২০ দিনের ট্যুর । ছবি নেপালে এসে ইনভেস্টিগেশন এর স্বার্থে পাথরের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে তার সুন্দর বাচনভঙ্গির কারণে ছবি একসময় সত্যি সত্যি পাথরকে মনেপ্রাণে ভালোবেসে ফেলে।
চারঃ
প্রবাল হচ্ছে পরশের ভাই। তমা হচ্ছে নীলার বোন, ওরা দুজনকে দুজন দুজনাকে পছন্দ করে নীলা কদিনে মধ্যে স্বাভাবিক ও সামাজিক হয়ে ওঠে, পরশের কঙ্কাল ফরেনসিক পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ মিলে তাকে বিষাক্ত ইনজকশন এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। কঙ্কাল হস্তান্তর করা হলে নীলা তমা প্রতীক যায় প্রবাল দের বাড়িতে অর্থাৎ তাদের ফুফু বাড়ি যেখানে অবস্থান এ সুবাদে প্রতীকের নজর কাড়ে প্রেমা। গ্রামের সরল প্রকৃতির মতো বেড়ে ওঠা শিক্ষিত এবং সুন্দরী মেয়ে প্রেমা।প্রবাল ও তমা প্রতীক ও প্রেমা তাদের চারজনের প্রেমের চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ফ্যামিলিগত সিদ্ধান্ত হয় একই দিনে একই আসরে চারজনের বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে।এত আনন্দের মধ্যেও নীলার চোখে জল গড়িয়ে পড়ে তারও ইচ্ছা ছিল বধু সাজার। ওদের চারজনের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর সারপ্রাইজ দেন খন্দকার সাহেব। ওদের চারজনের হানিমুনের জন্য ভারত ও নেপাল ট্যুরের ব্যবস্থা করেন। প্যাকেজ ট্যুরে
প্রবাল তমা প্রতীক তরুণদের নতুনভাবে পরিচয় হয় তরুণকে পেয়ে ওরা আরো খুশি হয় খুব মজা পাই। ওরা সবাই জানতে পারে তরুণের সাথে আগে থেকেই ফ্যামিলিগত সম্পর্ক আছে তাদের। নেপালে এসে ট্যুরিজম প্যাকেজ দলটি এম ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে উঠে। তরুণদের সাথে ছবি দেখা হয় তবুও তরুণকে ছবি গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে পাথরের সাথে সময় কাটাতে থাকে মুখোমুখি কথা হয় তরুণ এবং ছবির। ছবি অফিশিয়াল দায়িত্বের কথা বলে এড়িয়ে যায় তরুণকে। বাংলাদেশ থেকে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয় ,চোরাচালানের হোতা মুরাদকে গ্রেপ্তারের।প্রমাণ মেলে নিখোঁজ পাথর হল বর্তমানে হোটেল ম্যানেজার পাথর। নীলার স্বীকারোক্তিতে পরশের প্রকৃত খুনি মুরাদ এবং পাথর এটা বেরিয়ে আসে। ট্রাভেল এজেন্সি বন্ধ করে মুরাদ ও পাথর কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ মেলে। এসব তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নেপালি পুলিশ এবং বাংলাদেশের সিআইডির যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করে দুজনকে বাংলাদেশের নিয়ে আসে। ট্যুরিজম প্যাকেজ শেষ করে ফিরে আসে তরুণ, প্রবাল, তমা, প্রতীক ও প্রেমা। ছবি তার অফিসিয়াল দায়িত্ব এবং ক্ষণিক মহের জন্য তরুণের কাছে ক্ষমা চায়। তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। মামলা আদালতে উঠে পরশকে হত্যার দায়ে মুরাদ ও পাথরের ফাঁসির রায় হয়। এছাড়া অন্যান্য মামলায় তাদের আরও কুড়ি বছরের সাজা হয়। এতো বড় দায়িত্ব পালনের জন্য পুরস্কৃত হন সবুজ। মামলার প্রয়োজনে নীলা ও সবুজের ঘনিষ্ঠতা হয় সবুজ নীলাকে নতুন ভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখায় নীলা কী তার ডাকে সাড়া দেবে?
।।সমাপ্ত
3 Comments

Abul Hasan Tuhen
Friends
abrar
@abrar
জামান বারভী
@zamanbarovi
MUHAMMAD TAHSEEN
@muhammadtahseen
Kokeshas King
@kokeshasking
মোরশেদ সাকিব
@morshedsakib
Ekhtiar Uddin
@ekhtiar2003
ইভান
@ivan
মো: ফারহান হাবীব
@farhan-habib
Masfi K
@masfi-mohammad


অনেক চরিত্র!