Profile Photo

মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেলOffline

  • Ashraful710
  • প্রকৃতির শাশ্বত সৌন্দর্য
    ———————————-
    সুন্দর, শান্ত এবং মনোরম প্রকৃতি ।
    ঐন্দ্রজালিক সংস্পর্শে তার মাঝে কি যেনো খুঁজে পাই ।
    এক অজানা আকর্ষণে হারিয়ে যাই দূর- বহুদূর ।
    এ বিশুদ্ধ সবুজ প্রকৃতি আশীর্বাদ স্বরূপ ।
    তবে, কখনো হয় অভিশপ্ত ।
    কারণ, প্রকৃতির কাছে মানুষ বিষম অসহায় ।
    তাই, প্রায়শই এটি নিষ্ঠুর এবং বেদনাদায়ক হয়!
    তবুও, প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য প্রশান্তি এনে দেয় ।
    মানব আত্মাকে শান্ত রাখে ।
    সেই অপরূপ প্রকৃতির গহীনে রয়েছে বৈচিত্র্যময় কতো কি…
    বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত জলরাশির হিমশীতল তলদেশে চকচকে রূপালি ইলিশের পদচারণা ।
    পরিযায়ী পাখিদের সুদীর্ঘ পথ পেরিয়ে এ নৈসর্গিক ভূমিতে ক্ষণস্থায়ী আগমন ।
    সাদা তুলা মেঘগুলো সুনীল আকাশের নীলিমায় মিশে যায় ৷
    বাবুই পাখি সুনিপুণ কারুকার্যে নির্মাণ করে শান্তির নীড় ।
    প্রবাহিণীর তীরে বেড়ে উঠা কলমি ফুল আগন্তুককে সাদর সম্ভাষণ করে ।
    কেটে আসা পরিচয়হীন ঘুড়ি দুর্বার গতিতে হারিয়ে যায় অজানা গন্তব্যে ।
    কদম, হিজল, বনতুলসী ও মধুমাধবী লতার মাতাল ঘ্রাণে দিশেহারা ভ্রমর ।
    ডুমুর গাছে আড়ালে থাকা ধুরন্ধর মাছরাঙার আচকা শিকার ।
    পলাশ, শিমুল, সোনালু এবং মহুয়ার অবারিত রঙের ঝলক ।
    রঙিন প্রজাপতি প্রিয়তমার সাথে উড়ে যায় সংকীর্ণ গিরিখাতের উপর দিয়ে ।
    তালগাছের ডগায় চিলের বাসার কাছেই আটকে থাকা ঘূর্ণায়মান ঘুড়ির ব্যাকুলতা ৷
    দুর্গম ঢিবির তে-মাথায় ঘন বেত ঝোপঝাড়ে ঝুলে থাকা রসালো বেত্তুইন ফলের হাতছানি ।
    কুণ্ডলী পাঁকানো মৌমাছির ঝাঁকে অশান্ত শিকারী ঈগলের হিংস্র থাবা ।
    নীলমনি, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম, অশোক এবং কিংশুকের দুর্নিবার প্রাণচাঞ্চল্যতা ।
    কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভা ও নরম স্পর্শে মন ছুঁয়ে যায় ।
    কোকিলের সু-মধুর কুহুতানে ভালোবাসার উচ্ছ্বাস ৷
    বিলের শান্ত জলে মাছ শিকারে মগ্ন চৌকষ পানকৌড়ি ৷
    বৃদ্ধ গাব গাছের মগডালে ঘুঘু পাখির গোপন অভিসার ৷
    স্রোতস্বিনী নদীতে অজোপাড়া গাঁয়ের দামাল ছেলেদের দুরন্তপনা ৷
    পাহাড়ী অরণ্য থেকে দারুচিনির সুমিষ্ট গন্ধ ভেসে আসে নির্জন সৈকতে ।
    পূবালী বাতাস মনমাতানো ঢেউ খেলে শুভ্র কাশফুল বনে ৷
    দেবদারু গাছে বাঁধা কানি বকের বাসায় বিষধর শঙ্খিনী সাপের আচমকা হানা ৷
    ধূর্ত খেঁকশিয়ালের ভয়ে আতঙ্কিত ডাহুক যুগল আত্মগোপন করে নলখাগড়ার বনে ৷
    সাঁওতাল নারীরা টিলার বন্ধুর পথ ধরে হেঁটে যায় ছোট ছোট মাটির তৈরি ঘর অভিমুখে ।
    উচ্চাকাশে ঘুরপাক খাওয়া ক্ষুধার্ত শকুন তীক্ষ্ণ চোখে তন্ন তন্ন করে খোঁজে মৃত জীবদেহ ।
    ভূতুরে ছাতিম গাছ তলার আঁকাবাঁকা মেঠো পথে শৈশবের পদাঙ্ক ।
    বাদুড় থেকে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের ভয় খেজুরের অমৃত রস পানের ইচ্ছাকে নিবৃত্ত করে ।
    সর্ষে ক্ষেতে কাকতাড়ুয়ার মাথায় বসা ফিঙের শাণিত দৃষ্টি ।
    সোনালী ফসলী জমির কাঙ্খিত ফলন দেখে উচ্ছ্বসিত রূপসী বধূ ।
    শিশির ভেজা ঠোঁটে এক চিলতে সুখের হাসি ।
    অপার সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্যময় বাংলার অনাবিল সবুজ প্রান্তর ।
    অপলক চেয়ে থাকি দিগন্ত জুড়ে ।
    পড়ন্ত বিকেল ।
    রক্তাভ সূর্যাস্ত ।
    এক মায়াবী মুহূর্ত ।
    বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ।

    3
    3 Comments
Skip to toolbar