Profile Photo

সঞ্জিত তির্কী কাব‍্যিকOffline

  • SonjitTirkyPronob
  • দ্রোণের কুটিল নীচতা
    আমি এক ব‍্যাধের ছেলে।
    ইচ্ছা ছিল অস্ত্রবিদ‍্যা শেখার।
    দ্রোণাচার্যের নাম ডাক শুনে গিয়েছিলাম হস্তিনাপুরে।
    দ্রোণাচার্যকে প্রণাম করে বললাম, ‘গুরুদেব,
    আমি বড় আশা নিয়ে আপনার কাছে এসেছি।
    কৃপা করে আমাকে অস্ত্রবিদ‍্যা শিক্ষা দিন।
    গুরু দ্রোণ বলল, ‘আমি ব্রাহ্মণ আর ক্ষত্রিয় ছাড়া অন্য জাতিকে অস্ত্রবিদ‍্যা শেখায় না!
    যাও, এখান থেকে চলে যাও।’
    বুকের ভিতর দুঃখ চেপে রেখে চলে গেলাম গভীর বনে।
    সেখানে শুরু করলাম কঠিন সাধনা।
    ঘেউ ঘেউ শব্দে আমার ধ‍্যান ভেঙ্গে গেল।
    একটা বাণ মেরে কুকুরটার মুখ বন্ধ করে দিলাম।
    কোন আঘাত না করে মুখের স্বর বন্ধ করলাম,
    এ দেখে বিস্মিত রাজকুমারগণ!
    পান্ডুপুত্র,অর্জুন জিজ্ঞাসা করলেন,কুকুরটার এ দুর্দশা কে করল?
    আমি বললাম, ‘গুরুদেবের ধ‍্যান ভেঙ্গে দেওয়া শাস্তি দিয়েছি।’
    পান্ডুপুত্র অর্জুন অভিমান করে বললেন, ‘গুরুদেব’
    সমস্ত অস্ত্র বিদ‍্যা ত আমাকে দেওয়ার কথা ছিল।
    কেমনে রপ্ত করল এই বিদ‍্যা যা আমি এখনো শিখিনি?
    কূটবুদ্ধি দ্রোণাচার্য বললেন,তুমি আমাকে গুরু মানচ্ছ?
    আচার্যকে প্রণাম করে বললাম, ‘হ‍্যাঁ গুরুদেব।
    দ্রোণ বললেন, গুরু দক্ষিণা দিতে পারবে?
    আমি বললাম,যা চান তাই দেব।’
    গুরু দক্ষিণা হিসাবে আমার ডান হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুল অর্পণ করলাম।
    সেই ক্ষণে বুঝেছিলাম যে, ধনুকধারী হিসাবে
    আমার জীবন দ্রোণাচার্য ইতি টানলেন।
    আমার গুরু ভক্তি এবং দ্রোণের কুটিল নীচতা
    ইতিহাস কখনও ভুলবে না।
    বিশ্বাসী কখনও ভুলবে না।

    9
    5 Comments
    • চমৎকার লেখা। অভিনন্দন।

    • সুন্দর লিখেছেন। একলব্যের এই গল্পটি আমিও পড়েছিলাম। খুব খারাপ লেগেছিল তার জন্য সে দিন। তবে তার সম্পর্কে এর বেশি কিছু জানা যায়নি। এরপর কি হল সেই ধনুকধারীর আজ জানতে ইচ্ছে হয়। লেখক যদি জেনে থাকেন জানাবেন।

    • আমি এই কাহিনি পড়িনি আগে । কবিতাটি পড়ে বিস্তারিত জানতে ইচ্ছা করছে । আপনার জানা থাকলে জানাবেন । ধন্যবাদ ।।

    • শুভেচ্ছা !

Skip to toolbar