Profile Photo

মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেলOffline

  • Ashraful710
  • আজ ১লা ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ । ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । ৩রা শা’বান ১৪৪৫ হিজরী ৷ বুধবার ৷ ষড়ঋতুর শেষ ঋতু ৷ কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় বলেছেন: “ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ বসন্ত ৷ শান-বাঁধানো ফুটপাতে, পাথরে পা ডুবিয়ে এ কাঠখোট্টা গাছ, কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে হাসছে ৷ ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ বসন্ত” ৷ ঋতুরাজ বসন্তের (Spring) প্রথম দিন । প্রাচীনকাল থেকেই পৃথিবীব্যাপী বিভিন্ন সম্প্রদায় বা জাতি-গোষ্ঠী তাদের নিজস্ব রীতি-নীতিতে বসন্তবরণ করে থাকেন । বাঙালি জাতির জীবনেও এর বিশেষ প্রভাব রয়েছে । ঐতিহ্যবাহী বসন্তবরণ আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির অংশ । বাংলাদেশে জাতীয়ভাবে ১৪০১ বঙ্গাব্দ থেকে বসন্তোৎসব পালন করা হয় । ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ কর্তৃক পহেলা ফাল্গুনে ‘বসন্ত উৎসব’ আয়োজন করে । ‘জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় এবং ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবর উন্মুক্ত মঞ্চে প্রতিবছর “জাতীয় বসন্ত উৎসব” আয়োজন করে থাকে ৷ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বোলপুর শহরে অবস্থিত শান্তিনিকেতনেও এ দিন বসন্ত উৎসব পালিত হয় । বিভিন্ন সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠন নানা আয়োজনে দিনটি পালন করে থাকে ৷ এ ফাল্গুন মাস দ্রোহের মাস ৷ ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মাতৃভাষা আন্দোলনের ফলে ২১শে ফেব্রুয়ারি (৮ই ফাল্গুন) ভাষা বীর শহীদদের আত্মোৎসর্গের ফসল হচ্ছে রাষ্ট্রভাষা বাংলার অধিকার প্রতিষ্ঠা । ফলে বাঙালি জাতির জাতিসত্তা বিকাশ ও রৌদ্রদগ্ধ চেতনাকে শাণিত করে । আত্ম অধিকার জাগ্রত করে । জেগে উঠার প্রেরণা দেয় । স্বাধীনতার বীজ বপন করে । বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে বাঙালির কপাল জুড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্ত-জয়টিকা । মহা আত্মত্যাগের বিনিময়ে অভ্যুদয় হয় ভাষাভিত্তিক স্বাধীন-সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ । একুশে ফেব্রুয়ারি আজ বিশ্বজনীন । ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালিত হয় । গর্বিত বাঙালি জাতি । আর এ ফাল্গুন মাসেই বাঙালির প্রাণের উৎসব “একুশে গ্রন্থমেলা” ৷ এছাড়া ১লা ফাল্গুন বা ১৪ই ফেব্রুয়ারি “ভালোবাসা দিবস” (Valentines Day) হিসেবেও উদযাপিত হয় ৷ এখন বসন্ত উৎসব সারাবিশ্বে প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে । বসন্তকালে বাংলার প্রকৃতিতে নব জাগরণ ঘটে । উদ্ভিদ সতেজতা ফিরে পায় । গাছে গাছে নতুন পাতা গজায় ও মুকুল আসে ৷ পাখির কণ্ঠে সুললিত সূর । প্রাণের মাঝে আগুনরাঙা উচ্ছ্বাস । নানা জাতের শস্য, মৎস্য, ফল ও ফুল ইত্যাদি উৎপন্ন হয় । বিশেষ করে বৈচিত্র্যময় রঙে অসংখ্য জাতের ফুল ফোটে । বাতাসে বয়ে যায় মোহনীয় ফুলের মধুর ঘ্রাণ ৷ পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়ায় অবা‌রিত র‌ঙের ঝলক । নীলম‌নি, রাধাচূড়া, নাগ‌লিঙ্গম, আকড়কাঁটা, হিমঝুরি, রক্তকাঞ্চন, চাঁপা, কনকচাঁপা, বকুল, কাঠালচাঁপা, জুঁই, গাঁদা, দোলনচাঁপা, নাগেশ্বর, মণিমালা, মহুয়া, রুদ্রপলাশ, কুসুম, জারুল, পলকজুঁই, বেলী, ঘোড়ানিম, শাল, গামারী, জংলীবাদাম, মাধবীলতা, বুদ্ধনারিকেল, মাদার, স্বর্ণশিমূল, পালাম, মাধুরীলতা, স্বর্ণচাপা, পারিজাত, দেবকাঞ্চন, অ‌শোক কিংবা কিংশু‌কের উচ্ছল প্রাণচাঞ্চল্যতা । প্রকৃ‌তি সাজে বৈচিত্র্যময় রঙে । মানুষের মনকে স্পর্শ করে । কো‌কি‌লের সু-মধুর কুহুতানে ভালোবাসার উচ্ছ্বাস ৷ প্রজাপতি রঙিন ডানা মেলে মুক্তমনে উড়ে যায় ৷ ঝাঁকবেঁধে সফেদ বকগুলোর দুরন্ত পথচলা ৷ বাসন্তী রঙা শাড়িতে অষ্টাদশীর প্রাণোচ্ছলতা ৷ নীলিমায় মিশে যায় সাদা তুলো মেঘ ৷ দারুচিনির সুগন্ধ ভেসে আসে দক্ষিণা বাতাসে আর ঢেউ খেলে কাশবন ৷ ডাহুক যুগলের গোপন অভিসার নলখাগড়ার বনে ৷ কেটে আসা ঘুড়ি হারিয়ে যায় সুনীল আকাশে দূর অজানায় । মাধবীলতার মাতাল ঘ্রা‌ণে দি‌শেহারা ভ্রমর । আবহমান বাংলার ঐশ্বর্যময় প্রকৃতির এ এক অনুপম সৌন্দর্য । বসন্ত ছুঁয়ে যাক হৃদয়কে । সতেজ হোক প্রাণ । সবাইকে আগুনরাঙা বসন্তী শুভেচ্ছা!

    5
    8 Comments
Skip to toolbar