-
আজ ১লা ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ । ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । ৩রা শা’বান ১৪৪৫ হিজরী ৷ বুধবার ৷ ষড়ঋতুর শেষ ঋতু ৷ কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় বলেছেন: “ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ বসন্ত ৷ শান-বাঁধানো ফুটপাতে, পাথরে পা ডুবিয়ে এ কাঠখোট্টা গাছ, কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে হাসছে ৷ ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ বসন্ত” ৷ ঋতুরাজ বসন্তের (Spring) প্রথম দিন । প্রাচীনকাল থেকেই পৃথিবীব্যাপী বিভিন্ন সম্প্রদায় বা জাতি-গোষ্ঠী তাদের নিজস্ব রীতি-নীতিতে বসন্তবরণ করে থাকেন । বাঙালি জাতির জীবনেও এর বিশেষ প্রভাব রয়েছে । ঐতিহ্যবাহী বসন্তবরণ আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির অংশ । বাংলাদেশে জাতীয়ভাবে ১৪০১ বঙ্গাব্দ থেকে বসন্তোৎসব পালন করা হয় । ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ কর্তৃক পহেলা ফাল্গুনে ‘বসন্ত উৎসব’ আয়োজন করে । ‘জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় এবং ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবর উন্মুক্ত মঞ্চে প্রতিবছর “জাতীয় বসন্ত উৎসব” আয়োজন করে থাকে ৷ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বোলপুর শহরে অবস্থিত শান্তিনিকেতনেও এ দিন বসন্ত উৎসব পালিত হয় । বিভিন্ন সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠন নানা আয়োজনে দিনটি পালন করে থাকে ৷ এ ফাল্গুন মাস দ্রোহের মাস ৷ ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মাতৃভাষা আন্দোলনের ফলে ২১শে ফেব্রুয়ারি (৮ই ফাল্গুন) ভাষা বীর শহীদদের আত্মোৎসর্গের ফসল হচ্ছে রাষ্ট্রভাষা বাংলার অধিকার প্রতিষ্ঠা । ফলে বাঙালি জাতির জাতিসত্তা বিকাশ ও রৌদ্রদগ্ধ চেতনাকে শাণিত করে । আত্ম অধিকার জাগ্রত করে । জেগে উঠার প্রেরণা দেয় । স্বাধীনতার বীজ বপন করে । বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে বাঙালির কপাল জুড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্ত-জয়টিকা । মহা আত্মত্যাগের বিনিময়ে অভ্যুদয় হয় ভাষাভিত্তিক স্বাধীন-সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ । একুশে ফেব্রুয়ারি আজ বিশ্বজনীন । ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালিত হয় । গর্বিত বাঙালি জাতি । আর এ ফাল্গুন মাসেই বাঙালির প্রাণের উৎসব “একুশে গ্রন্থমেলা” ৷ এছাড়া ১লা ফাল্গুন বা ১৪ই ফেব্রুয়ারি “ভালোবাসা দিবস” (Valentines Day) হিসেবেও উদযাপিত হয় ৷ এখন বসন্ত উৎসব সারাবিশ্বে প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে । বসন্তকালে বাংলার প্রকৃতিতে নব জাগরণ ঘটে । উদ্ভিদ সতেজতা ফিরে পায় । গাছে গাছে নতুন পাতা গজায় ও মুকুল আসে ৷ পাখির কণ্ঠে সুললিত সূর । প্রাণের মাঝে আগুনরাঙা উচ্ছ্বাস । নানা জাতের শস্য, মৎস্য, ফল ও ফুল ইত্যাদি উৎপন্ন হয় । বিশেষ করে বৈচিত্র্যময় রঙে অসংখ্য জাতের ফুল ফোটে । বাতাসে বয়ে যায় মোহনীয় ফুলের মধুর ঘ্রাণ ৷ পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়ায় অবারিত রঙের ঝলক । নীলমনি, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম, আকড়কাঁটা, হিমঝুরি, রক্তকাঞ্চন, চাঁপা, কনকচাঁপা, বকুল, কাঠালচাঁপা, জুঁই, গাঁদা, দোলনচাঁপা, নাগেশ্বর, মণিমালা, মহুয়া, রুদ্রপলাশ, কুসুম, জারুল, পলকজুঁই, বেলী, ঘোড়ানিম, শাল, গামারী, জংলীবাদাম, মাধবীলতা, বুদ্ধনারিকেল, মাদার, স্বর্ণশিমূল, পালাম, মাধুরীলতা, স্বর্ণচাপা, পারিজাত, দেবকাঞ্চন, অশোক কিংবা কিংশুকের উচ্ছল প্রাণচাঞ্চল্যতা । প্রকৃতি সাজে বৈচিত্র্যময় রঙে । মানুষের মনকে স্পর্শ করে । কোকিলের সু-মধুর কুহুতানে ভালোবাসার উচ্ছ্বাস ৷ প্রজাপতি রঙিন ডানা মেলে মুক্তমনে উড়ে যায় ৷ ঝাঁকবেঁধে সফেদ বকগুলোর দুরন্ত পথচলা ৷ বাসন্তী রঙা শাড়িতে অষ্টাদশীর প্রাণোচ্ছলতা ৷ নীলিমায় মিশে যায় সাদা তুলো মেঘ ৷ দারুচিনির সুগন্ধ ভেসে আসে দক্ষিণা বাতাসে আর ঢেউ খেলে কাশবন ৷ ডাহুক যুগলের গোপন অভিসার নলখাগড়ার বনে ৷ কেটে আসা ঘুড়ি হারিয়ে যায় সুনীল আকাশে দূর অজানায় । মাধবীলতার মাতাল ঘ্রাণে দিশেহারা ভ্রমর । আবহমান বাংলার ঐশ্বর্যময় প্রকৃতির এ এক অনুপম সৌন্দর্য । বসন্ত ছুঁয়ে যাক হৃদয়কে । সতেজ হোক প্রাণ । সবাইকে আগুনরাঙা বসন্তী শুভেচ্ছা!
8 Comments
Friends
মোঃ মাহফুজুর রহমান
@nnxnsnmfkfkkgmail-com
শাহ্ আলম আল মুজাহিদ
@shahalam
Md Zaker Hayat Khan [ Zaker Aditya ] [ জাকের আদিত্য ]
@md-zaker-hayat-khan
শরীফ এমদাদ হোসেন
@sharif-emdad-hossain
শায়েরুল ইসলাম
@shaerulislam
সা দি য়া (নন্দিনী)
@nandini
Mahmuda Sultana
@mahmudamahi
Arshadul Khan Tuhin
@aktuhin
Muhammad Jabed
@jabed92


ঋতুরাজ বসন্ত নিয়ে আপনার চমৎকার উপস্থাপনা খুব আনন্দ নিয়ে পড়লাম লেখকপ্রিয়! বছরের সব থেকে প্রিয় সময়টাকে ঘিরে এত এত উৎসব, আর আবেগ মিশে আছে যা প্রকৃতির সাথে আমাদের মাঝেও নতুন করে আশার সঞ্চার করে।
বসন্ত আরো রঙিন হোক আমাদের জীবনে, অনেক শুভকামনা রইল!