Profile Photo

মৈত্রী সাহাOffline

  • Maitri-S
  • Profile picture of মৈত্রী সাহা

    মৈত্রী সাহা

    2 years, 2 months ago

    #অন্তিম_পর্ব
    #গরম_মসলার_প্রেম
    #কলমে:মৈত্রী সাহা

    আদার সাথে কথার বলার পর থেকে একটা অদ্ভুত দুশ্চিন্তা এলাচ কে কুরে কুরে খাচ্ছে। দারুচিনি কি শেষ মেষ তাকে ধোঁকা দিল। সে কি তবে এখন লবঙ্গ কে ভালোবাসে। দারুচিনির মিষ্টি অথচ তেজদীপ্ত হাসিটাকে যে এলাচ ভীষণ ভাবে ভালোবেসে ফেলেছে। দারুচিনি কি আর পাঁচটা মসলার মতই শুধুই তার বন্ধু হয়ে থাকতে চায়?? এসব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে আনমনা হয়ে পরে এলাচ। হঠাৎ কৌটোর ঢাকনা খোলার শব্দে চমকে ওঠে সে। এলাচ দেখে দারুচিনি কৌটয় ঢুকছে কিন্তু সঙ্গে এটা কে? আদাদার বর্ণনা অনুযায়ী মনে হচ্ছে এটা সেই লবঙ্গ। দারুচিনি ওকে কৌটতে পর্যন্ত নিয়ে এসেছে । এতো বড় সাহস দারুচিনির হয় কি করে। রাগে বুকের ভেতরের দানা গুলো টগবগ করে ফুটতে থাকে এলাচের। হঠাৎ সে শুনতে পায় দারুচিনি বলছে, ” কি রে লবঙ্গ দাড়িয়ে রইলি কেনো তোর এলাচ বৌদিকে প্রণাম কর ” লবঙ্গ নতজানু হয়ে বসে প্রণাম করে এলাচ কে। ঘটনার আকস্মিকতায় হকচকিয়ে যায় এলাচ। লবঙ্গের গোল মাথাটায় হাত রেখে বলে, ” থাক,থাক ওসবের দরকার নেই “। দারুচিনি বলতে শুরু করে,
    দারুচিনি : জানিস তো লবঙ্গ, তোর বৌদি কিন্তু ভারী লাজুক , খুব কম কথা বলে। কিন্তু ভারী মিষ্টি গন্ধ ওর গায়ের, দেখছিস না কেমন পুরো কৌটটা ওর গন্ধে ম-ম করছে।
    লবঙ্গ: হ্যাঁ তাই তো দেখছি, বৌদি কিন্ত বেশ ভালো , তোর এক্স গার্লফ্রেন্ড তেজপাতার থেকে তো হাজার গুণ ভালো।
    দারুচিনি : আহা, আবার ওসব কথা কেনো? তেজপাতা কোনকালেই আমার গার্লফ্রেন্ড ছিলো তোর যত ফালতু কথা।
    ওদের কথা শুনে মনে মনে কিছুটা আশ্বস্ত হয় এলাচ। কিন্তু তবুও পুরো ব্যাপারটা জানার জন্য, দারুচিনি কে ডেকে নিয়ে যায় কৌটর এক কোণায়, তারপর বলে,

    এলাচ: সকাল থেকে আমাকে না বলে কোথায় উধাও হয়ে গিয়েছিলে শুনি, আমি চিন্তায় চিন্তায় মরি সেদিকে কোন খেয়াল আছে?
    দারুচিনি : আহা গিন্নি, রাগ করছো কেনো? আসলে হয়েছে কি জানো তো লবঙ্গ সকাল সকাল আমাকে ফোন দিয়ে বললো ও যে পানের দোকানে থাকতো সেখানে নাকি কিছু দুষ্টু লোক ভাঙ্গচুর করেছে, তাতে ওর কৌটোটা ভেঙ্গে গেছে, তাই বলছিল কদিন আমার কৌটতে থাকতে দিতে পারবো কি না। আমি ওর বিপদের কথা শুনে আর দেরি করি নি বুঝলে তো। তুমি তো জানো, আমি কেমন। আর তুমি তো ঘুমোচ্ছিলে, কি মায়া মায়া লাগছিল দেখতে, তাই আর ডাকিনি।
    দারুচিনির মিষ্টি কথায় মনটা গলে জল হয়ে যায় এলাচের। তাও কন্ঠে একটা কপট রাগ ফুটিয়ে বলে ,

    এলাচ : তাহলে এতো দেরী করলে কেনো? আর ফোনটাই বা ধরলেনা কেনো? বলো, বলো

    দারুচিনি : ফোনে একদম চার্জ নেই, চার্জে বসাতে হবে, তুমি নিজেই দেখো। আর দেরী হলো কারণ লবঙ্গ কিছুতেই কৌটয় আসতে চাইছিল না।ও ভাবছিল আমরা নতুন বিয়ে করেছি, হঠাৎ ওকে নিয়ে কৌটয় হাজির হলে তুমি যদি রাগ করো বা কিছু মনে করো তাই। আমিও বলেছি আমার এলাচ অমন মেয়েই নয়,এলাচ হতে পারে একটু চাপা স্বভাবের কিন্তু ওর মনটা বড়। এসব কথা বলতে বলতেই দেরী হয়ে গেল, বুঝলে। তুমি ওকে একটু দেখে রেখো এলাচমনি। যতই হোক পাড়ার মেয়ে, ছোটবেলা থেকে আমায় দাদা বলে ডাকে, রাস্তায় তো ফেলে আসতে পারি না বলো।

    এতোক্ষণে এলাচের মনের কোণে জমে থাকা মেঘটা অনেকটা কেটে গেছে । ওর মনের ওপর থেকে যেনো বড় কোন বোঝা নেমে গেলো। ও মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে দারুচিনি কে বললো, ” তুমি কিচ্ছু ভেবো না,আমি সব সামলে নেবো “। দারুচিনি তখন পরম নির্ভরতায় এলাচ কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। এলাচ লজ্জা পেয়ে বলে উঠলো,” আহ্ ছাড়ো কি করছো, লবঙ্গ দেখতে পাবে। ”
    এরপর থেকে লবঙ্গ, এলাচ আর দারুচিনি বেশ কিছুদিন এক কৌটয় থাকলো। লবঙ্গের সাথে এলাচের দারুণ একটা বন্ধুত্ব হয়ে গেল। পানের দোকান ঠিক হওয়ার পর লবঙ্গ যখন চলে যায় এলাচ আর লবঙ্গ দুজনেই খুন মন খারাপ করেছিল। এলাচ লবঙ্গকে বলেছিল, ” মাঝে মধ্যে এসে বৌদিকে দেখে যাবে কিন্তু বুঝলে। ” লবঙ্গও মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়েছিল। লবঙ্গ চলে যাওয়ার পর এলাচ মনে মনে একটা সিদ্ধান্ত নেয়, সেটা হলো, যত যাই হয়ে যাক সে আর কখনো আদার সাথে কথা বলবে না। লোকটা বড্ড মিথ্যেবাদী। কত্ত মিষ্টি একটা মেয়ে লবঙ্গ অথচ সেদিন কত মিথ্যে কথাই না বলেছিল আদা তার নামে।

    সমাপ্ত

    বি:দ্র: অবশেষে দীর্ঘ বিরতির পর নিয়ে এলাম শেষ পর্ব। সবার কেমন লাগলো জানাবেন। ধন্যবাদ।

    7
    5 Comments
    • দারুণ মজা পেলাম!

    • পুরো গল্পটা অনেক আনন্দ নিয়ে পড়লাম সাথে চমৎকার একটা উপলদ্ধি হল! এমন মশলাদার গল্প আরো চাই লেখিয়ে! অফুরান শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা রইল!

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 20 April 2024 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

    • ভালো লেগেছে।

Skip to toolbar