-
মন ভেঙ্গেছে; কী হয়েছে?
আবার রাঙবে মন!
দুখের পরে সুখ ফিরে
সাজাতে এই জীবন।ভাঙ্গার মাঝে নতুন সাজে
সাজে জীবনালেখ্য!
পুরোনোকে আঁকড়ে থাকা
নয় জীবনের লক্ষ্য!লাঙ্গলের ফলায় মাটি সাজায়
একটু একটু ভেঙ্গে।
ওলট পালট নাচে মাটি
ফসল ফলার রঙ্গে।ছোট্ট বীজ আসল চিজ
ঘটায় প্রাণের বিস্তারণ!
বীজ ভেঙ্গেই অঙ্কুর গজায়
আশ্চর্য প্রাণের জাগরণ!শস্য ভাংলে ছাতু মেলে
এ নয় হেলাফেলা!
সেই ছাতুর পিঠা-পুলি
চিবিয়ে ভেঙ্গে গেলা।জলীয়বাষ্প নয় আস্ত
কোটি কণার সৃষ্টি ।
জমাট বেঁধে মেঘের সৃষ্টি
মেঘ ভেঙ্গেই বৃষ্টি!বিন্দু বিন্দু জলে সিন্ধু
জলকণারই ছলা।
যতো বড় পাহাড় দেখি
মাটি কণার ঢেলা।বিগ ব্যাং এর বিস্ফোরণেই
মহা বিশ্বের উন্মেষ।
রোডিনিয়া-প্যানজিয়া ভেঙ্গে
কত সাগর-মহাদেশ।বাবা মা ভাই বোনের
সাধের সুন্দর পরিবার।
ভেঙ্গে ভেঙ্গে গড়ি আবার
মোদের নিজের সংসার!মানব শরীরে কিলবিল করে
শত ট্রিলিয়ন অনুজীব।
আমার আমিত্ব ভেঙ্গেচুরেই
অন্তরাত্মা হয় সজীব!রক্তকণা ভেঙ্গে গড়ে
অনবরত অভ্যন্তরে!
তা না হলে জীবন-প্রদীপ
নিভতো এক ফুঁৎকারে!একটু হেলে ভাবলে মেলে
জগৎ ভাঙ্গার খেলা।
ভাঙ্গার পরে বসবে আবার
বিচার দিনের মেলা।এ বিশ্বের যা কিছু দেখি
সবই ভাঙ্গার খেলা।
গড়তে হলে ভাঙতে হবে
এ সবই ভবলীলা!আমি আজ তাই ভাঙ্গার গান গাই
ভাঙ্গো ক্ষয়িষ্ণু সমাজ।
ধ্বংসস্তুপে ধাপে ধাপে
জাগবে স্বপ্নের সরাজকবিতাঃ ভাঙ্গার গান
কাব্যগ্রন্থঃ প্রান্তিক-প্রান্তরে
কবিঃ এ কে সরকার শাওন
শাওনাজ ভিলা, উত্তরখান, ঢাকা।
২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪3 Comments

এ কে সরকার শাওন
কবি ও সাহিত্যিক
কবি, গীতিকবি ও কথাসাহিত্যিক এ কে সরকার শাওন (দালিলিক নাম মোঃ আবদুল কাদের সরকার) ১৯৬৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব ও কৈশোরের সোনালী দিনগুলো ঝালকাঠিতে কাটানোর পর কর্মজীবনের প্রয়োজনে তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নাটোরে অবস্থান করেন এবং বর্তমানে ঢাকার উত্তরখানের নিভৃত আলয় ‘কবিকুঞ্জ শাওনাজ ভিলা’য় স্থায়ীভাবে বসবাস করে নিরবিচ্ছিন্নভাবে সাহিত্য সাধনা করছেন।
ঝালকাঠি শহরের উদ্বোধন হাইস্কুলে তাঁর শিক্ষার হাতেখড়ি এবং সেই বিদ্যালয়ে পাঠকালেই তাঁর ভেতর সৃষ্টিশীল মননের বিকাশ ঘটে, যা পরবর্তীতে তাঁকে সাহিত্যের আঙিনায় সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়। জীবনের পরতে পরতে তিনি জ্ঞানার্জনের স্পৃহাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন; অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি ইংরেজি সাহিত্য, আইন ও ইনফরমেশন টেকনোলজির মতো বৈচিত্র্যময় বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন দেশে ও বিদেশে। খাদ্য নিরাপত্তার উপর আইএফসি ও প্রান গ্রুপের যৌথভাবে প্রদেয় তিনটি অভিজ্ঞানপত্র রয়েছে তাঁর।
তাঁর কর্মজীবন অত্যন্ত বর্ণাঢ্য ও গৌরবোজ্জ্বল। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে সুদীর্ঘ ১৮ বছর দায়িত্ব পালনকালে তিনি এয়ারম্যান ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (ATI) অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে টানা ১০ বছর সফল প্রশিক্ষক হিসেবে নতুনদের গড়ে তুলেছেন। বিমান বাহিনীর পাট চুকিয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীতে প্রশাসনিক ও উচ্চ ব্যবস্থাপনা পদে কাজ করে একজন দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কঠিন পেশাগত জীবনের মাঝেও সাহিত্যের প্রতি অনুরাগে তিনি কখনো ভাঁটা পড়তে দেননি। তাঁর লেখনীতে রোমান্টিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চমৎকার মেলবন্ধন ঘটেছে, যা পাঠক হৃদয়ে আলাদা স্থান করে নিয়েছে।
সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর রয়েছে বিপুল ও বৈচিত্র্যময় সৃষ্টি। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'কথা-কাব্য', 'নীরব কথোপকথন', 'আপন-ছায়া', কাব্যধর্মী উপন্যাস 'অতল জলে জলাঞ্জলি' এবং অটোফিকশন উপন্যাস 'শাওনাজ আইল্যান্ড' সুধী মহলে সমাদৃত হয়েছে। প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে কসমিক ফিকশন 'মস্তিষ্কে মহাকাশ' (ও এর ইংরেজি সংস্করণ 'Metacosm Of Mind'), উপন্যাস 'বাঁশফুল', ইংরেজি রোমান্টিক উপন্যাস 'Layla: The Modern Ruth', এবং 'চেয়ার ও চোর', 'প্রণয়-প্রলাপ', 'প্রলয়-প্রলাপ', 'সজনী', 'আলো-ছায়া', 'প্রান্তিক-প্রান্তরে', 'ঋতুরং', শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ 'বাঁকা চাঁদের হাসি', গল্পগ্রন্থ 'মেকাপ-বক্স', ও 'মোমের শেষ শিখা', ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ 'Songs of Insane' সহ বেশ কিছু গ্রন্থ। বর্তমানে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে লিখছেন তাঁর ৮০ পর্বের বৃহৎ আত্মজীবনী 'আমার জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে'।
সাহিত্যের পাশাপাশি দৃশ্যশ্রাব্য মাধ্যমেও তাঁর অবদান অনুস্বীকার্য। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে তাঁর রচিত জনপ্রিয় টেলিফিল্ম 'শুটিং', 'আদর্শ-লিপি' ও 'পরিবর্তন'। গান রচনায় তাঁর দক্ষতা প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ বেতারে এবং ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে গান সম্প্রচারের মাধ্যমে। শুধু লেখালেখিই নয়, সঙ্গীতচর্চায়ও তিনি শৌখিন শিল্পী হিসেবে বেশ জনপ্রিয় এবং স্টারমেকার প্ল্যাটফর্মে বেশ উপরের সারিতে স্থান করে নিয়েছেন। সাহিত্য ও শিল্পকলায় এই অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২১ সালে তিনি কলকাতার মর্যাদাপূর্ণ ‘বাংলা এক্সপ্রেস পুরস্কার’-এ ভূষিত হন।
ব্যক্তিজীবনে ১৯৯১ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্য সমালোচক নাজমা আশেকীন শাওনের সাথে, যিনি ষাটের দশকের নন্দিত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব এ কে এম জহিরুল হক ইব্রাহিমের (চলচ্চিত্রে আশেক জহির) দ্বিতীয় কন্যা। এক সফল ও রত্নগর্ভা দাম্পত্যে তাঁদের ঘর আলো করে এসেছে তিন রাজকন্যা, যাঁরা বর্তমানে নিজ মেধা ও যোগ্যতায় যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া ও ভারত সরকারের পূর্ণাঙ্গ স্কলারশিপ (Full-funded Scholarship) নিয়ে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়ন করছেন।


শব্দে -ছন্দে জম্পেশ একটা কবিতা পড়লাম। আর খুব সুন্দর একটা ইতিবাচক অনুভূতি হলো মনে।