Profile Photo

অভিমানী মনOffline

  • ovimanimon
  • Profile picture of অভিমানী মন

    অভিমানী মন

    4 years, 11 months ago

    হিজল তলার গান

    কিছু ছেলে আছে, প্রশ্রয়কে ভাবে প্রেম। এরপর ঘর করার স্বপ্ন দেখতে থাকে।
    কামালের হইছে সেই দশা।
    সেঁজুতি যতই বোঝায়–তুই হইলি একটা নেশাখোর ভবঘুরে…।
    কামাল নির্বিকার বলে যায়–আমরা কী একসঙ্গে থাকবো না?
    সেঁজুতি তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে–ওরে আমার চান্দু, পাশে বসতে দিছি, এখন শুইতে চাও! কোথায় শোয়াবি! পার্কের বেঞ্চে?
    কেন! আমরা ফ্লাট ভাড়া নেবো।
    সেঁজুতি লাঠি নিয়ে তেড়ে যায়–কানারে হাইকোর্ট দেখাস! যা সর। দৃরে গিয়া মর…।
    হৈমন্তী পার্কে সন্ধ্যা নামে। হিজল তলায় নেশার ধুম লেগে যায়।
    বন্ধুুরা বলে—কামাল, ডিস্টার্ব করিস না। অন্যদিকে যা।
    কামাল তবু ঠ্যাটার মতন দাঁড়িয়ে থাকে।
    সেঁজুতি কামালকে যে পছন্দ করে না, তা নয়; কামালতো দূরের কথ, কাউকে সে বিয়ে করবে না। এককী একটা জীবন উপভোগ করতে চায়।
    এজন্য লেডিস হোস্টেলে থাকে; রেস্টুরেন্টে খায়; পার্কে আড্ডা মারে।
    দিনের বেলাটা ব্যস্ততায় কাটে সেঁজুতির। কর্পোরেট অফিসে প্রকিউরমেন্টের কাজ সহজ না। টর্চ লাইটের মতন কম্পিউটারে চোখ লাগিয়ে রাখতে হয়। এখানেও কম ঝামেলা হয় না।
    বস বলে–আমার সঙ্গে কোথাও যেতে সমস্যা কী!
    সেঁজুতি বলে–আমার দিকে তাকায়েন না, স্যার। আমি ভালো না। ঠাস করে সংসারটা ভেঙে যাবে।
    ভয় দেখাও! চলো, শেরাটনে গিয়ে ড্রিংক করে আসি।
    সেঁজুতি হাসে–স্যার, আপনাকে এ্যলেন পোঁর বই পড়তে দেবো।
    বস রেগে যায়–দেইখো, যেকোনো সময় তুমি ফায়ার হয়ে যাবে।
    দেন ফায়ার কইর। এখনতো সন্ধ্যায় আড্ডা দিই। চাকরি গেলে কামাইল্লার সঙ্গে পার্কে পইড়া থাকবো।
    বস বলে–আমিও পার্কে যাব।
    চলেন যাই।
    বস এসে প্যারিস রোডে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কামাল-সেঁজুতির ঝগড়া দেখে হাসতে হাসতে বলে–তোমরা কল্কি খাচ্ছ, আমাকে ডাকবে না!
    বস কল্কি খেতে জানেনা। কামালের হাতে দুই-তিন টান খেয়ে কাশতে কাশতে উঠে দাঁড়ায়।
    হিজল তলার নিবিড় আঁধারে গিয়ে বস আর সেঁজুতি এম্পুল ভেঙ্গে হাফ ডোজ করে প্যাথেড্রিন নিয়ে বেঞ্চে এসে ঠোঁটে সিগারেট ঝুলিয়ে বসে থাকে কিছুক্ষণ। তখন ওদের কথা হয় না।
    বস হঠাৎ ব্যস্ত হয়ে উঠে দাঁড়ায়–এই সেঁজুতি, আমার একদম টাইম নাই। আমি চললাম। বাই।
    এই সুযোগে চুপচুপ করে কামাল এসে সেঁজুতির পাশে বসে মৃদুস্বরে বলে–কবিতা শুনবি?
    হুঁ। শুনতেতো চাই।
    কামাল শোনায়–চাঁদ নেমে আসে ঘাসের ডগায়/ মানুষ চাঁদ হয়ে যায় আকাশের…।
    সেঁজুতি জানতে চায়–সারাদিন কিছু খাইছিস?
    কামাল বলে–আমি তোকে ভালোবাসি।
    সেঁজুতি উঠে দাঁড়ায়—চল যাই; আগে হোটেলে গিয়ে পেট ভরে ভাত খেয়ে আসি।
    হিজল তলায় ছেলেমেয়েরা তখন গিটার বাজিয়ে গান গায়।

    22
    7 Comments
Skip to toolbar