Profile Photo

ডা. ফরিদ-উজ-জামান খানOffline

  • Dr-Fariduzzaman-khan
  • কোন এক কনকপ্রভা ভোর

    সেদিন ছিলো কৃষ্ণ তিথি
    সহস্র বছরের জমানো বেদনাভার নিয়ে
    দাঁড়িয়েছিলাম মুখোমুখি
    বারান্দায় হেঁসেছিলো এক চিলতে রোদ্দুর

    মৃদু কনকপ্রভা ভরিয়েছিলো দিগন্ত
    ভোরের বাতাসে কি যেনো ছিলো স্বপ্নাতুর
    আলতো ছুঁই ছুঁই জলরেখা ব্রহ্মপুত্রের তটরেখায়
    হৃদয়ে বুদ্বুদ অবিরল, কি চাই, কি চাই?

    কিছুই চাইনে আমি, কিছুই চাওয়ার ছিলো না
    সহস্র জ্যোতিষ্কের মাঝে দীপ্যমান প্রিয় মুখ
    যেন ভরা পূর্ণিমায় রুপোলী আলোর নাচন
    শিশিরের বুকে বিচ্ছুরিত প্রতিচ্ছবি।

    কতোকাল দেখা হয়নি
    আমার দুচোখে মহাকালের পারলৌকিক ক্ষুধা
    দারুণ মনন্তর পীড়িত, তবুও আঁচল বিছিয়ে রাখি
    আঁজলা ভরে করি পান অনন্ত সুধা।

    জীবনের পানপাত্র শূন্য পরে রয়
    হায়, বেলা যে ফুরায়।
    বেলা যে ফুরায়
    অবেলায় অচেনা ঘাটে ঘাটে পানশী ভিড়াই, অযতনে।

    শূন্য পানপাত্র উপচে উঠে মুহুর্তেই করস্পর্শে
    মৃদঙ্গের শব্দ কান পেতে শুনি বক্ষ মাঝে
    আমার দুচোখে নতুন আলোর নাচন
    দোয়েল, শ্যামা, ফিঙের গান, আহা।

    কতোকাল দেখা হয়নি
    সেই চেনা মুখ, চেনা করিডোর, আলতো পদধ্বনি
    আজও কান পেতে শুনি নিপুণ কারুকাজ
    বুকের মাঝে বাজে ত্রিতাল, ডম্বরু, ঝিনিক ঝিনিক।

    কলেজ গ্যালারী মুখে ঘেরা ফাউন্টেইন
    আগুনের ফোয়ারা হয়ে উথলে উঠে বুকের গহীনে
    কি ছিলো, কি নেই, কি যে পাই নি, সব তোলা থাক,
    শুধু স্বপ্নের মমী হয়ে জেগে থাক জন্মান্তর।

    তোমাকে বুকে ধারণ করে
    তোমাকে বুকে লালন করে
    কেটে গেছে চল্লিশটি বছর মনন্তরে
    তবুও এতোটুকু মলিন হয়নি ভূষণ তোমার।

    অবশেষে তুমি এলে
    ডাকলে সেই নাম ধরে, স্নেহ সুধা ভরে
    আমার পৃথিবী ভরে গেলো কানায় কানায়, ফুল সম্ভারে
    কল্পনায় নয়,স্বপ্ন নয়, হাত বাড়ালেই তোমায় ছুঁতে পারি মগ্ন চৈতন্যে।

    আমি বিস্ময়ে দেখলাম, সেই তুমি
    ছোট্ট তিতির পাখি, ভোরের নরম আলোয় দুলছে
    ব্রহ্মপুত্র, প্রাণ আমার, প্রাণ ভোমরা
    কী অবাক দ্যূতিময় চোখ, শিল্পিত বিস্ময়।

    মনে ভাবি, বিধাতা, প্রেম আমার
    ধন্য আমি তোমার দয়ার দানে।
    অক্ষম করে গড়েছিলে যদি
    এতো প্রেম কেন দিয়েছিলে আকিঞ্চনে।

    7
    12 Comments
Skip to toolbar