Profile Photo

রাহেনা বেগমOffline

  • Rahena-Begum
  • Profile picture of রাহেনা বেগম

    রাহেনা বেগম

    2 years, 1 month ago

    দোলন চাঁপার কোলে,
    ভাইয়া, আপু দোলে।
    এই ছড়া বলে বলে আমার আব্বা তাঁর প্রিয় নাতী – নাতনীদেরকে দোলনায় ঘুম পাড়াতেন। বড় জন ছেলে, ৩দিনের বড়, তাঁর তিন দিনের ছোটো তাঁর বোন। দু’জন চাচাতো ভাই বোন।

    দিন যায়, মাস যায় ওরা দোলনা থেকে নেমে হাটা শুরু করে। তাঁরা সবার খুব আদরের। শুধু আমাদের না, পাড়া-পড়শি সবারই খুব প্রিয় তাঁরা দু’জন।
    বড়জন যত বড় হতে লাগলো তাঁর দুষ্টমিও বাড়তে শুরু করলো। সে বিশেষ এক প্রাণীর মত সবাইকে কামড় দিত। যাকে পেতো তাঁর সাথে কিছুক্ষণ ভালোভাবে থাকার পরেই তাঁকে কামড় দিত। শুধু যে মনের আনন্দে কামড় দেয় তা না, ভাড়া করা গানম্যান-এর মত সে হয়ে গেল ভাড়া করা কামড়ম্যান। ঘটনাটা বলি- তাঁর তিন দিনের ছোটো সেই চাচাতো বোনের বাসার সাহায্যকারী একজন মেয়ে ছিল। যে ওদের দু’জনের সাথে খেলাধুলা করতো। তাঁর বোন একদিন তাঁকে জানালো যে রোজিনা ওর কথা শুনেনা। তারপর কামড়ম্যান এবং তাঁর বোন মিলে মেয়েটাকে ওদের দোলনার রুমে নিয়ে গিয়ে যা করার তাই করলো। মেয়ে বের হয়ে এসে চুপচাপ ফুঁপিয়ে কাঁদছে। এইটা কামড়ম্যানের মা দেখে জানতে চাইলো কি হয়েছে? তারপর রোজিনা যা জানালো তা হলো – “বোন হাত ধরে রেখেছে, আর ভাই ইচ্ছেমত কামড় দিয়েছে।”

    ওর মা-এর কিচ্ছু করার উপায় ছিলনা, বকা দিলে দাদা বলতেন- বউমা language please. মার দিলে দাদা কান্নাকাটি করতেন, খাওয়া বন্ধ করে দিতেন। ছেলেটির বাবা তাঁর নাম রেখেছে – মিশুক। নিজে যেহেতু অন্যের সাথে মিশতে পারে না, তাই ভেবেছিল মিশুক নাম রাখলে ছেলে মিশুক হবে। কিন্তু দেখা গেল সে গুড়ে শুধু বালি না সিমেন্ট। ছেলে বিশেষ বিশেষ লোকছাড়া অন্যদেরকে দেখলে বমি করে দিত। আমরাতো ভীষণ লজ্জাতে পরতাম। বাড়িতে কেউ বেড়াতে এসেছে মিশুক বললো, কখন যাবে, আমার মনে হচ্ছে আজ যাবে না। আমরা বলতাম কেন কি হয়েছে? অ বলতো গায়ে গন্ধ, আমার বমি হবে এবং ও সত্যি সত্যি বমি করে দিত।

    ও বাড়িতে শুধু আমাকে ভয় পেত, কারণ আমার নামে নালিস দিলে ওর দাদা বলতেন- ভাইয়া, আমাদের দু’জনের মা-মণি হন। মা-মণিকে কিছু বললে মা-মণি কষ্ট পাবেন।

    বড় হয়ে কি হবে ওর কাছে জানতে চাইলে সে বলতো মুচি হবো। মুচি কি সুন্দর করে বলে সারাবেন..ন..ন জুতা স্যান্ডেল। এটা ওর খুব ভাল লাগতো।
    এখন সেই কামড়ম্যান, মুচি বুয়েট থেকে পাস করে বেরিয়ে lecturer হিসেবে আছে। জানি না এখন তাঁর ছাত্র-ছাত্রীকে কামড় দিতে ইচ্ছে করে কি না?
    আজ তাঁর জন্মদিন।
    শুভ জন্মদিন মিশুক।

    6
    5 Comments
    • সময়ের ভাঁজে ভাঁজে কত না সুন্দর মুহুর্ত, পড়ার সময় এক অদ্ভুত রকমের আনন্দে মনটা ভরে উঠছিল বারবার ! “কামড়ম্যান” নামটা খুব ভালো লেগেছে যদি অনুমতি দেন তো আমার কোন এক গল্পে এই নামটা ব্যবহার করতে চাই। কামড়ম্যানের জন্মদিনে তার জন্যে রইল প্রিয় গানের কিছু লাইন,
      “আজ হবে গান, হৃদয়ের কলতান
      শুভ হোক শুভ হোক আগামীর অভিযান
      এই শুভদিন, থেকে যাক অমলিন
      শুভ হোক শুভ হোক তোমার জন্মদিন”

      • ধন্যবাদ আপনাকে।অবশ্য ই ব্যবহার করতে পারেন।খুব খুশী হবো, তবে শর্ত হলো- গল্পটা পড়ার সুযোগ করে দিবেন।

      • হ্যাঁ নিশ্চয়ই ! অনেক ধন্যবাদ প্রিয় লেখিয়ে !

    • ছোটবেলার কী যে দারুণ সব স্মৃতি জমা হয়ে থাকে মনের কোণায়

Friends

Profile Photo
naznin shamim
@nazninshamim
Profile Photo
Md Mofiz
@mdmofiz
Profile Photo
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat
Profile Photo
wajibad
@wajibad
Profile Photo
MAHAJABIN AFROZE
@mahajabinafroze
Profile Photo
Intisar Jabed
@intisarjabed
Profile Photo
মেঘ
@megh
Skip to toolbar