Profile Photo

রাহেনা বেগমOffline

  • Rahena-Begum
  • Profile picture of রাহেনা বেগম

    রাহেনা বেগম

    1 year, 9 months ago

    গতকাল অফিস শেষে লেকপাড় দিয়ে হেঁটে বাসায় ফিরছি।দূর থেকে দেখলাম, কয়েকজন ছেলে (রোটারি জ্যাকেট পরা) বন্যাত্বদের জন্য সাহায্য তুলছে। ভাবলাম ওদেরকে কিছু দেওয়া উচিৎ (আমার ছোট পুত্র , রেড ক্রিসেন্ট এর হয়ে এই কাজ করছে।আর বড় পুত্র..! থাক তার কথা)।
    আমাকে দেখে ছেলেরা এগিয়ে আসলো এবং সালাম দিলো আন্টি বলে। মনে মনে বেশ খুশী হলাম(আমি আন্টির বয়স পেরিয়ে এসেছি অনেক অনেক আগেই।)
    আমি হেসে বললাম – আমার ছেলেও রেড ক্রিসেন্ট এর হয়ে কাজ করছে।
    সালাম দেওয়া ছেলেটা বললো – আমি রেহানের বন্ধু আন্টি।
    আর রেহান যে কাজ করেছে এবং এখনো করছে, তা বলার মতো না আন্টি। আমার চোখ ভিজে এলো(বয়স জনিত কারণে )।
    বললাম- বাবা , লেখা পড়ার খবর কি? তোমার বন্ধুতো লেখা পড়া একদম ছেড়ে ই দিয়েছে। অনেক তো হলো, এখন বাকী কাজগুলো বড়দের হাতে ছেড়ে দিয়ে তোমরা টেবিলে ফিরে আসো। আমারতো মনে হয় রেহান পাশ করতে পারবেনা।
    ও বললো- নাহ্ আন্টি, এত মানুষের দোয়া আছে না, ওর জন্য? দেখিয়েন ও ঠিকই পাস করবে।(মনে মনে বললাম- প্রশ্নের উত্তর এ তোমার বন্ধু লেখে দিবে, ওমুক, ওমুকের দোয়া)
    গত কয়েক দিন আগে রাতে খাওয়ার টেবিলে বড়পুত্র তার খালামনিকে বলছিলো- খালামনি, একরুমের একটি বাড়ি ভাড়া পাওয়া যাবে নাকি দেখো তো?
    মনে মনে ভাবলাম- পড়ার কথা বলি জন্য মনে হয়, একরুমের বাসা খুঁজে বেড়াচ্ছে।
    পরে বললো- আহত এক স্টুডেন্ট প্রাইভেট এক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে, আরো অনেক দিন সময় লাগবে। এতে করে খরচ বেড়ে যাচ্ছে, তাই সেই আহত ছাত্রের জন্য একরুমের বাসা খুঁজছে।(বর্তমানে পুত্র হাসপালগুলোতে কাজ করছে।)
    রেহানের স্যারের সাথে কথা হলো, তিনি বললেন- রেহানতো কিচ্ছু পড়াশোনা করছে না।ওতো নেশায়( আন্দোল এবং আন্দোলন পরবর্তী )পরে গেছে।
    যাক ফিরে আসি ওর বন্ধুর কথায়। বন্ধুকে বললাম- তুমি আমাকে চিনলে কেমন করে?( সে রেহানের কলেজের নাহ)
    বললো- আপনাকে চিনবো না আন্টি?( যেন সে মনে মনে বলছে- আপনি হলেন- হেলিকপ্টার মম,
    Helicopter parenting is when parents are over-involved in their child’s life, many times as a way to protect their child.)

    বিঃদ্রঃ আমার সন্তানদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- দেশের জন্য এখন তোমাদের প্রধান কাজ হলো লেখা পড়া করা।
    দেশের এই উপকারটুকু খুবই প্রয়োজন। শিক্ষিত , সুনাগরিক না হলে তোমরা কখনো দেশের উপকারে আসতে পারবে না, বরং দেশের বোঝা হয়ে থাকবে।
    তাই দোয়ায় কিন্তু কোন কাজ হবে না, যদি না লেখা পড়া করো।
    আল্লাহ তোমাদের হেদায়েত দান করুণ , আমিন।
    বিঃদ্রঃ এর বিঃদ্রঃ আমি “হেলিকপ্টার মম ”
    না।যদি হতাম তাহলে কখনো যেতে দিতাম না, প্রয়োজন এ ঘুমের..
    মিশিয়ে দিতাম, দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতাম।
    ২৯/০৮/২৪

    4
    5 Comments
Skip to toolbar