-
প্রতিশোধ
আকরাম সাহেবের মন খুব খারাপ। সকাল বেলা রিনি ও রিন্টিকে ডেকে ঈদের কেনাকাটা করার জন্য তিনি দশ হাজার টাকা দিয়েছেন। রিনি ও রিন্টি তারপর থেকে মন খারাপ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই দুর্মুল্যের বাজারে দশ হাজার টাকা কম না। তারপরে যদি কমও হয় তারা কেন এতো ইনসেনসেটিভ ব্যবহার করে বাবাকে তা বুঝতে দেবে? তিনি দুই মেয়েকে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ান। মেয়েরা সেজন্য কৃতজ্ঞতার লেশমাত্র প্রকাশ করে না। মেয়েদের কথা ভেবে এত কষ্ট করে টাকা জমান। পারতপক্ষে বাইরে এক কাপ চা ও খান না। প্রতিদিন বাসা থেকে রুটি ভাজি নিয়ে অফিসে যান। তার কি একদিন বাইরে বিরিয়ানি খেতে ইচ্ছে করে না। খুব করে কিন্তু মেয়েদের কথা ভেবে তিনি কিছু খান না। তার অবশ্য একটা সুফল আছে ৬০ বছর বয়সেও তার ডায়বেটিস ও ব্লাড প্রেসার নেই। ইদানিং অফিসে সবাই ডায়বেটিস ও ব্লাড প্রেসার নিয়ে কথা বলে। তিনি চুপচাপ শুনে যান।
তার ছোট বেলায় তিনি বছরে একবার ঈদের সময় জামা পেতেন আর স্কুল শুরু হলে বছরের শুরুতে এক জোড়া কেডস। নতুন কেডস ও সক্স বিছানায় নিয়ে ঘুমুতে যেতেন তিনি। এখনো যেন নতুন সক্সের গন্ধ পান তিনি। তার মেয়ে হয়ে রিনি ও রিন্টি কেন এতো ইনসেনসেটিভ আচরণ করে। তারা সারাক্ষণ তাদের বন্ধু ও কাজিনদের সাথে তুলনা করে চলছে। আকরাম সাহেবের শালার ব্যবসা আছে। তার শালীর স্বামী লন্ডন থাকে। তাদের সাথে কেন নিজেদের তুলনা করতে হবে। তারাতো গরিবদের সাথে নিজেদের তুলনা করতে পারে? এসব ভেবে আকরাম সাহেব সারাক্ষণ মনমরা হয়ে রইলেন। তার স্ত্রী ও মেয়েরা সেসব যথারীতি খেয়াল করলো না।
বিকেল বেলা বের হলেন তিনি। দারোয়ানের মেয়ে দুটো বাসার সামনে প্রজাপতির মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। আকরাম সাহেবরা একটি আপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে থাকেন। দারোয়ান ও এই ভবনে থাকে। এজন্য প্রায়ই মেয়ে দুটোর সাথে দেখা হয় আকরাম সাহেবের। আকরাম সাহেব মাঝে মাঝে তাদের চকোলেট কিনে দেন। মেয়ে দুটি আনন্দের সাথে তার দেয়া চকোলেট নেয়। আজও তিনি তাদের সাথে কথা বললেন। মেয়ে দুটোর সাথে কথা বলে তার মেজাজ ভালো হতে লাগলো। আনন্দে তিনি নিউ মার্কেটের দিকে হাটতে লাগলেন।
নিউ মার্কেটে উদ্দেশ্যহীন ভাবে হাটতে হাটতে মেয়ে দুটোর জন্য সস্তায় দুটি ফ্রক কিনলেন। বড় মেয়েটা ফর্সা তার জন্য একটা আকাশী রংয়ের ও একটু কালো ছোট মেয়েটার জন্য সাদা একটা ফ্রক কিনলেন। তিনি একটু সস্তায় কিনলেন ফ্রক দুটি। মনটা খচখচ করে উঠলো। গরিব দারোয়ানের মেয়ে বলে সস্তায় কিনছেন! কেউ না দেখুক আল্লাহতো দেখছেন! যাহোক ফ্রক কিনে একটা রিকশায় উঠতে যাবেন তখন আবার কি ভেবে একটা দোকানে ঢুকে চার পাচটা সিংগারা খেয়ে ফেললেন। মেয়েদের সাথে তার বিদ্রোহ শুরু হয়ে গেছে। বিরিয়ানি খাওয়ার কথা ভাবলেন তিনি। একটা রিকশা নিয়ে তিনি ধানমন্ডি গিয়ে স্টার কাবাবে বিরিয়ানি খেয়ে আরামসে এক কাপ দুধ চা খেলেন। মেয়েদের এক হাত নিতে পেরে তার মন অজানা সুখে ভরে উঠলো।
বাসায় ফিরে দারোয়ানের ঘরে গিয়ে মেয়ে দুটোকে জামার প্যাকেট ধরিয়ে দিতেই তাদের চোখ মুখ আনন্দে ভরে উঠলো। তারা প্যাকেট খুলে জামাও দেখলো না কিন্তু তাদের খুশি দেখে কে। মেয়েদের মা পিয়াজ, কাচা মরিচ আর সরিষার তেল দিয়ে মুড়ি দিল। একটু পরে এক কাপ লেবু চা নিয়ে এলো। চা আর মুড়ি খেতে ভীষণ ভালো লাগলো আকরাম সাহেবের। সাধারণের মধ্যে অসাধারণ লুকিয়ে আছে। এতোদিন কেন অন্ধ হয়েছিলেন তাই ভাবলেন তিনি। আকরাম সাহেব দারোয়ানের ঘরে অনেক্ষণ কাটিয়ে মুচকি মুচকি হাসতে হাসতে বাসায় ফিরলেন। নিজের মেয়েদের উপর খুব প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে ভেবে আনন্দে তিনি টিভি খুলে বিরক্তিকর সব নিউজ দেখতে লাগলেন।
1 Comment
Friends
Rokter Sagor
@roktersagor
Promit Chowdhury
@promitchowdhury
Mahmudul Hasan
@mahmudulhasan1
Emran Hasan Najmul
@emranhasannajmul
Arif
@arif1
Dipankar Shuva
@dipu42dramagmail-com
Maizbhandari Sufi Academy
@maizbhandarisufiacademy
Sharmin
@sharmin1
Zahidul Islam Roni
@roni03


প্রায়ই বাবাদের আত্মত্যাগ সন্তানদের চোখে পরে না। বাবা-মা তাদেরো নিজস্ব ইচ্ছা-অনিচ্ছা থাকে যেটা আমরা সন্তানেরা ভুলে যাই